ঈদের খাবার দেশে দেশে

‘ঈদ’ আর সেমাই নাহলে কি চলে, কল্পনাই করা যায় না। ইদানীং অনেক খাবার যোগ হয়েছে কিন্তু সেমায়ের কদর বেড়েছে বৈ কমেনি। কিন্তু সব দেশেই কি সেমাই চলে? আসুন দেখে আসি কোন দেশের ঈদ এর প্রধান মেনু কি?

ভারতের সাথে আমাদের খাবারের বেশ মিল আছে। ওদের প্রধান মেনু ‘লাচ্ছা’ বা ‘লাচ্ছি’ যাই বলি না কেন মূল কথা ওই সেমাই।

পাকিস্থানিদের কাছে ঈদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী খাবার হচ্ছে ‘শের কোর্মা’ (sheer korma)। এই শের কোর্মা প্রস্তুত করা হয় দুধ, চিনি, পনির ও শুকনো খেজুর দিয়ে। পাকিস্থান ছাড়াও ভারতও এই খাবার চলে।


‘ঈদ’ আর সেমাই নাহলে কি চলে, কল্পনাই করা যায় না। ইদানীং অনেক খাবার যোগ হয়েছে কিন্তু সেমায়ের কদর বেড়েছে বৈ কমেনি। কিন্তু সব দেশেই কি সেমাই চলে? আসুন দেখে আসি কোন দেশের ঈদ এর প্রধান মেনু কি?

ভারতের সাথে আমাদের খাবারের বেশ মিল আছে। ওদের প্রধান মেনু ‘লাচ্ছা’ বা ‘লাচ্ছি’ যাই বলি না কেন মূল কথা ওই সেমাই।

পাকিস্থানিদের কাছে ঈদের প্রধান ঐতিহ্যবাহী খাবার হচ্ছে ‘শের কোর্মা’ (sheer korma)। এই শের কোর্মা প্রস্তুত করা হয় দুধ, চিনি, পনির ও শুকনো খেজুর দিয়ে। পাকিস্থান ছাড়াও ভারতও এই খাবার চলে।

সৌদি আরবীয়রা কোন নির্দিষ্ট মেনু না বেছে বড় আকারে বিভিন্ন ধরণের খাবার ঈদের দিন পছন্দ করে। অবশ্যই সেখানে মাংস জাতীয় খাবারের প্রাধান্য বেশি।

আফগানরা আবার খাওয়ার ব্যাপারে বেশ পোক্ত। তাদের তালিকা বেশ দীর্ঘ যেমন- জিলাবি, শর-নাকদ, কেক-ওয়া-কলচা। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন জিলাবি আর জিলাপি একই জিনিস। শর-নাকদ খাবার টা কাজু বাদামের তৈরি মিষ্টি জাতীয় খাবার। তিন নাম্বার টা এক প্রকার কেক।

দেখে আসি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কি খাবার তৈরি করে। লেবাননিরা কেতুপাত, লেমাং, সায়ুর লদেশ, রেন্দাং ইত্যাদি খেয়ে থাকে। এই খাবার গুলো শুধু লেবানন না ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, ব্রুনাই সহ আশপাশের আরও দেশ গুলোতে ঈদের বিশেষ খাবার হিসেবে খাওয়া হয়। কেতুপাত হচ্ছে পাম অথবা নারকেলের পাতা দিয়ে বোনা মুঠো আকৃতির ঝুড়িতে রান্না করা সাদা ভাত। এটা তাদের বিশেষ পবিত্র খাবার হিসাবে গণ্য করা হয়। ‘কেতুপাতের’ সাথে থাকে ‘রেন্দাং’ অথবা ‘সাতায়’ এগুলো হচ্ছে মসলাযুক্ত প্রস্তুতকৃত মাংস। সোজা কথায় মিলালে আমাদের দেশের গরু বা খাসির রেজালার মত খাবার।

সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়শিয়ানরা একই জাতীয়ও খাবার খেলেও মালয়রা স্পেশাল আরও একটি খাবার আয়োজন করে থাকে ‘কুইহ-মুইহ’ (kuih-muih)। এই ‘কুইহ-মুইহ’ ডিশ টা বিভিন্ন ধরণের শুকনো মিষ্টির সমাহার।

ঘুড়ে আসি আফ্রিকার দিক থেকে। তিউনিসিয়ার অধিবাসিরা ঈদের দিন বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন দের বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার উপহার হিসাবে দিয়ে থাকে যেমন- বাকলাওয়া (Baklawa), কা’ক (ka’ak) ইত্যাদি। খাবার দুটোই আটা, চিনি বা মধু, বাদাম দিয়ে তৈরি মিষ্টি বহুল। বাকলাওয়া’র সাথে আমাদের ‘বাকরখানির’ মিল আছে কিনা তা ঠিক বলতে পারছিনা।

মিশরীয় দের প্রচিলত মেনুর সাথে থাকে খাক (kahk)। এটা বহুল জনপ্রিয় এবং অবশ্য থাকা ঈদের প্রধান খাবার।

সুদান, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার ঈদ উৎসবের প্রধান তালিকায় থাকে কা’ক (ka’ak)। অঞ্চলভেদে উচ্চারণে কিছু পার্থক্য আছে।

সোমালিয়া অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হতে পারে কিন্তু ঈদ আনন্দে তাদের কমতি নেই। তাদের স্পেশাল ডিশ xalva বা halva বা হালুয়া। হালুয়া কত রকম কি এটা নিশ্চয় আমাদের নতুন করে পরিচয় দেয়ার কিছু নাই।

ফিজিতে ঈদ উপলক্ষে মিষ্টি নুডলস, মুরগি ছাড়াও ভারতীয় খাবারের প্রাধান্য রয়েছে।

মৌরিতানিয়া’র মুসলমানেরা ঈদে ‘বিরিয়ানি’ বেশি পছন্দ করে।

ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকাতে যে যে দেশ দেশ থেকে আগত সেই খাবার তৈরির চেষ্টা করে পাশাপাশি চকলেট, কুকি জাতীয়ও খাবার প্রচুর চলে।

দেশ, মহাদেশ ভেদে খাবারের ভিন্নতা থাকলেও সবাইকে সাথে নিয়ে আনন্দ উপভোগ করার যে প্রয়াস সেটা একই রকম।

৮ thoughts on “ঈদের খাবার দেশে দেশে

    1. ভাই ক্ষুদা নিবৃত করতে পারবনা।
      ভাই ক্ষুদা নিবৃত করতে পারবনা। কিন্তু বর্ধিত করার জন্য খাবারের কিছু ছবি পোস্ট করতে পারব। :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

  1. ভাই,
    ভাল হয়েছে…নতুন কিছু

    ভাই,
    ভাল হয়েছে…নতুন কিছু জানলাম…
    কিন্তু,আপনি পর পর দুটো লিখা খাবারের উপর লিখলেন…
    মনে হচ্ছে,
    খাওয়া-দাওয়া বিষয়টা আপনার কাছে বেশ ভালো লাগার বিষয়।
    আপনার মতন মানুশকেই ঈদে দাওয়াত খাইয়ে মজা,যারা খেতে পছন্দ করেন আরকি…
    যাইহোক,ভাই…
    ঈদ মোবারাক…:)

  2. ধন্যবাদ যে আপনি আমার আগের
    ধন্যবাদ যে আপনি আমার আগের লেখটাও পড়েছেন। আগেরটার সাথে রাজনীতি আর এটার সাথে সম্প্রীতি।
    আর হ্যাঁ খানা-পিনা কে না পছন্দ করে।
    আর দাওয়াত দেন দেইখেন মিস করমু না।
    ঈদ মোবারক।
    :চা: :চা: :চা:
    :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *