কল্কি মোহাম্মদে উম্মাদের মিথ্যাচার

ড. জাকির নায়েকের প্রায় আলোচনায় দেখা যায় যে সে মোহম্মদকে কল্কি অবতার বলে সম্মোধন করে প্রচার করছে। আর আমাদের মানুষগুলো তো শুনে শুনে বিশ্বাস করায় অভ্যস্ত সেটা কি ই বা হিন্দু কি ই বা মুসলিম। হুজুর বলেছে বা কোনো ধর্ম বিশারদ বলেছে তার মানে সেটাই সঠিক। কেউ কোনোদিন জানতেও চেষ্টা করেনি যে হুজুর বা ধর্মীয় পন্ডিত যে কথাটা বলেছে সেটা আদৌ সঠিক কিনা কিংবা কোনো ধর্মীয় গ্রন্থে আছে কিনা, কোনোদিন ধর্মীয় গ্রন্থের পাতাখুলেও সেটা বিচার করতে যাবে না৷

আচ্ছা জাকির নায়েক যে আলোচনা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে থাকে কেউ কি কখনো সেই রেফারেন্সগুলো ধর্মীয় গ্রন্থে খুঁজে দেখেছেন যে সে রেফারেন্স গুলো দিচ্ছে সেটা আদৌ সত্য কিনা৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তর হবে না। কারণ ঐ যে আগেই বলেছি আমরা শুনে বিশ্বাসে অভ্যস্ত বেশি। জাকির নায়েকের এই মোহম্মদকে কল্কি রূপে প্রচার করার উদ্দেশ্য হচ্ছে সহজ সরল হিন্দুদের মানসিকভাবে ঘায়েল করে ধর্মান্তরিত করা।

মোহম্মদকে কল্কি বলে প্রচার করা বর্তমান সময়ে একটা দারুণ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে কিছু জাকির নায়েক ভক্ত মুমিন মুমিনারা। উপমহাদেশে জাকের নায়েক ভক্ত মুমিন মুমিনার সংস্থা নেহাত কম না। এই যে মুমিন মুমিনারা জাকির নায়েকের মিথ্যাচারে উদ্ধুদ্ধ হয়ে মোহাম্মদকে কল্কি অবতার বলে হিন্দুদের কাছে প্রচার করছে তারা কি এটা জানে তারা তাদের নিজের অজান্তেই শিরক করে চলেছে যেটা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরাণ অনুসারে মহা পাপ। তাদের কোরাণ এটাও বলেছে যদি কোনো মুমুন গুণাহ করে সেটার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন, আল্লাহর সাথে শিরক করা আল্লাহ কখনই ক্ষমা করবেন না।

ইসলাম ধর্মে, শির্ক (বিকল্প প্রতিবর্ণীকরণ: শিরক, শির্ক) (আরবি: شرك‎‎ širk) পৌত্তলিকতা বা বহুঈশ্বরবাদ চর্চা করার পাপকে বুঝায় অর্থাৎ শির্‌ক হল আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করা বা তার উপাসনা করা। শাব্দিকভাবে এর দ্বারা এক বা একাধিক কোন কিছুকে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ও কর্তৃত্বের অংশীদার সাব্যস্ত করাকে বুঝায়। এটি তাওহীদের পরিপন্থী একটি বিষয়। ইসলামে শির্ক হল একটি অমার্জনীয় অপরাধ যদি না মৃত্যু নিকটবর্তী হবার পূর্বে আল্লাহর নিকট এই অপরাধের জন্যে ক্ষমা চেয়ে না নেয়া হয়। ইসলামের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসারে, আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা না চাইলেও মৃত্যুর পর নিজের বিচার অনুসারে তার ইবাদতকারীদের যে কোন ভুল ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু শিরকের অপরাধী দুনিয়াতে ক্ষমা না চাইলে কখনোই ক্ষমা করবেন না।

আল্লাহ তাওআলা শির্কের বিপরীত তাওহীদের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন এভাবে,

বলঃ তিনিই আল্লাহ। একক/অদ্বিতীয়।

আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারও সন্তান নন, এবং তাঁর সমতুল্য কেহই নেই। সূরা ইখলাস।

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا (48)

নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরিক তথা অংশীদার সাব্যস্ত করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল আল্লাহর সাথে, সে যেন আল্লাহকে অপবাদ দিলো।

( সূরা নিসা; আয়াতঃ৪৮)

وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آَمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آَمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آَخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ (72)

তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিময়-তনয় মসীহ (ঈসা)-ই আল্লাহ; অথচ মসীহ বলেন, হে বনি ইসরাঈল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমার পালন কর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। আর অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৭২)

উপরোক্ত সূরা এবং আয়াতগুলো পড়লেই তাদের আল্লাহ শিরকের উপর কতটা কঠোরতা আরোপ করছে।

তাহলে এই যে জাকির নায়েকের অন্ধ ভক্ত মুমিনরা মোহাম্মদকে কল্কি অবতার বানিয়ে জাকির নায়েকের কথা মতো হিন্দুদের কাছে প্রচার করছে এটাতে তো তারা প্রতিনিয়ত শিরক করে যাচ্ছে। আর সেই শিরকের প্রধান প্রোমোটার হচ্ছেন জাকির নায়েক নিজেই। যেখানে সূরা নিসার ৪৮ নং আয়াতে বলা আছে আল্লাহর সাথে অন্য কারো অংশীদার করা ঘোর পাপ এবং অন্যায় যার কোনো ক্ষমা নেই। তাহলে মোহাম্মদকে কল্কিরূপে প্রচার করে কি মোহাম্মদকে আল্লাহর সাথে অংশীদারীত্ব করা হচ্ছে নয় কি।

মোহাম্মদকে বলা হয়ে থাকে আল্লাহর প্রেরিত দূত বা বার্তাবহক৷ যিনি আল্লাহর বাণী প্রচার করতে পৃথিবীতে এসেছেন মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী৷ কিন্তু হিন্দুদের যে কল্কি অবতারের কথা বলা হয়, হিন্দুরা সেই কল্কি অবতারকে ভগবান রূপে মানেন। তারা বিশ্বাস করেন কল্কি অবতার রূপে তাদের ভগবান পৃথিবীতে আসবেন এবং তাদের সকল পাপ থেকে, অন্যায়, অত্যাচার থেকে মুক্ত করবেন৷ তাছাড়া হিন্দুদের যত অবতারের কথা শোনা যায় তারা সেই সকল অবতারকেই ভগবান রূপে পূজা করেন। আর মুমিন ভাই ও বোনেরা এটাও জানেন হিন্দুরা যেটাকে ভগবান বলে সেটা কোনো ধর্ম প্রচারক বা ঈশ্বর প্রদত্ত দূত নয়। তারা সেটাকে ভগবান বা সৃষ্টি কর্তা রূপেই মানে। আর মুসলমানরা হিন্দুদের এই সকল কিছুকে শিরক বলে অ্যাখ্যা দিয়ে থাকে। তাহলে মোহাম্মদ কে এই যে কল্কি অবতার বলে, যেটা হিন্দুদের কাছে ভগবান বলে পূজিত, প্রচার করে সেটা হলো বড় শিরক। তাহলে জাকির নায়েকের এই মিথ্যা প্রচারণা সেটাকে আবার তার অন্ধ ভক্তরা খুব সোরগোলে প্রচার করছেন৷

অনেক হিন্দুই যারা ধর্ম বিষয়ে অবগত না তাদের কাছে এসব উদ্ভট কথা বার্তা বলে সহজ সরল হিন্দুগুলোকে বিভ্রান্তিতে ফেলছেন। মুমিনদের এমন একটা অবস্থা যেমন তেমনভাবে হোক তাদের মোহাম্মদকে এবং কোরাণকে মানুষের উপর চাপিয়ে দিতেই হবে সেটা যেভাবেই হোক। এক্ষেত্রে অনেক মুমিন বলতে পারেন যেহেতু জাকির নায়েক বলেছে মোহাম্মদ কল্কি অবতার তার মানে অবতার মানেই হচ্ছে আল্লাহর প্রেরিত দূত। সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী অবতার কোনো আল্লাহ প্রেরিত দূত কিংবা বার্তাবাহক না, সনাতন ধর্ম অনুসারে অবতার মানে হচ্ছে স্বং ঈশ্বর বা ভগবান বা সৃষ্টিকর্তা।  এক্ষেত্রে দেখুন হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থগুলো কি বলছে অবতার সম্পর্কে।

শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় শ্রীকৃষ্ণ ( দ্বাপর যুগের অবতার বলে থাকে অনেক হিন্দু) বলেছেনঃ

“যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥ পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশয় চ দুষ্কৃতাং। ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে॥

যদা যদা হি (যখন যখনই)- ধর্মস্য (ধর্মের)- গ্লানিঃ (গ্লানি)- ভবতি (হয়); অভ্যুত্থানম্ (অভ্যুত্থান ঘটে)- অধর্মস্য (অধর্মের); [ তখনি] ভারত (হে ভরতবংশী অর্জুন)- অহং ( আমি) তত্ (সেই/ স্বীয়)- আত্মানং ( আত্মাকে/ পরমাত্মা)- সৃজামি ( সৃজন করি~ স্বীয় মায়াবলে)।

সাধুনাং (সাধুদের)- পরিত্রাণায় (পরিত্রাণ হেতু), চ (এবং) দুষ্কৃতাং (দুষ্কৃতীকারীদের) বিনাশায় (বিনাশ নিমিত্ত); ধর্মসংস্থাপনার্থায় (ধর্ম সংস্থাপনের জন্য)- যুগে যুগে (যুগে যুগে) সম্ভবামি (অবতীর্ণ হই~ লীলা শরীর বিগ্রহ করি এই তাত্পর্য)॥

“যখনই ধর্মের গ্লানি হয়, অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে তখনই হে ভরতবংশী (অর্জুন), পাপীদের পরিত্রাণ এবং দুষ্কৃতীদের বিনাশ করে ধর্মসংস্থাপন করার জন্য আমি [স্বীয় পরমাত্মাকে মায়া দ্বারা সৃজন করি] যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।”

মুমিনরা খুব ভালোভাবেই জানেন তাদের নবীকে আল্লাহর সাথে তুলনা করা মানে মহা শিরক, তারপরেও জাকির নায়েকের কথা শুনে হিন্দুদেরকে মানসিক ভাবে ঘায়েল করতে এবং বিভ্রান্তি করতে মোহাম্মদকে কল্কি অবতার বলে প্রচার করে। বলে হিন্দুদের কল্কি অবতারই হলো তাদের মোহাম্মদ। উপরে তো শুধুমাত্র গীতার একটা শ্লোক উল্লেখ করলাম যেখানে বলা বলা হয়েছে ভগবান বা সৃষ্টিকর্তা অবতার রূপে স্বং নিজে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। এবার চলুন হিন্দুদের পুরাণ, কল্কিপুরাণ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ কল্কি অবতার এবং অবতার সম্পর্কে কি বলে।

সনাতন ধর্মের পুরান সমূহের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ যে পুরান যাকে মহাপুরান বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে সেই শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরানের দ্বাদশ স্কন্ধের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৬ নং শ্লোকে বলা হয়েছে-

ইত্থং কলৌ গতপ্রায়ে জনেষু খরধর্মিষু।
ধর্মত্রাণায় সত্ত্বেন ভগবানতরিষ্যতি।।
( শ্রীমদ্ভাগবত- ১২/২/১৬)

এইভাবে কলিযুগ গত প্রায় হলে মানুষজন যখন গর্ধবসম স্বভাব বিশিষ্ট হয়ে উঠবে তখন ধর্মকে ত্রাণ করার উদ্দেশ্যে সত্ত্বগুণ ধারণ করে ভগবান অবতীর্ণ হবেন।

চরাচরগুরোরবিষ্ণোরীশ্বরস্যাখিলাত্মন।
ধর্মাত্রানায় সাধুনাং জন্ম কর্মাপনুত্তয়ে।।

সম্ভল গ্রামমুখস্য ব্রাহ্মনস্য মহাত্মনঃ।
ভবনে বিষ্ণুযশসঃ কল্কিঃ প্রাদুর্ভাবিষ্যতি।।
( শ্রীমদ্ভাগবত – ১২/২/১৭-১৮)

সমস্ত চরাচরের গুরু তথা অখিল জীবের ঈশ্বর ধর্মকে রক্ষা করার নিমিত্তে সাধুদেরকে জন্ম কর্ম বন্ধন থেকে ত্রাণ করার উদ্দেশ্যে সম্ভল গ্রামে বিষ্ণুযশ নামক অবতার এক মুখ্য ব্রাহ্মণ ভবনে কল্কি রূপে আবির্ভূত হবেন।

অশ্বমাসুগারুহ্য দেবদত্তং জগতপতিঃ।
অসিনাসাধুদমষ্টৈশ্বর্যগুনান্বিতঃ।।
( শ্রীমদ্ভাগবত- ১২/২/১৯)

অষ্টসিদ্ধি ঐশ্বর্যে গুণান্বিত সেই জগৎপতি দেবদত্ত নামক দ্রুতগামী অশ্বের উপর আসীন থেকে তরবারি হস্তে অসাধুদের দমন করবেন।

এই শ্লোক টা দেখে মনে হতে পারে যে এটা তো মোহাম্মদের চরিত্রের সাথে মিলে কিন্তু হিন্দুরা নিজেদের বুদ্ধি ও মস্তিষ্কটাকে একটুও কাজে খাটায় না। হিন্দুরা এটাও বুঝতে পারে না যে মুসলমানদের কাছে সৃষ্টিকর্তা এবং মোহাম্মদ এক জিনিস না দুইটা আলাদা আলাদা স্বত্বা।

আর মুসলমানদের কাছে নবী বা আল্লাহর প্রেরিত দূতকে আল্লাহ ভাবা মানে মহা শিরক।

মুমিনদের কোরানে কিংবা হাদিস শরীফের কোথায় কিন্তু মোহম্মদকে কল্কি রূপে সম্মোধন করা হয় নি। কিন্তু হিন্দুদের কাছে বা সনাতন ধর্ম অনুসারে অবতার, ভগবান, সৃষ্টিকর্তা এ সকল কিছুই এক বা সমান। আর উপরোক্ত শ্লোকগুলোতে কোথাও একটিবারের জন্যও বলা হয়নি যে বিষ্ণু, যাকে হিন্দুরা স্বয়ং ভগবান বা পরমব্রহ্ম বলে জানেন, তিনি কাউকে পৃথিবীতে পাঠাবেন তার প্রেরিত দূত হিসেবে কিংবা তার বার্তাবাহক হিসেবে। বরং উপরোক্ত শ্লোকে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে যে স্বয়ং হিন্দুদের বিষ্ণু বা ভগবান নিজেই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হবেন।

এবার আসি এই বিষয়ে কল্কি পুরাণে কি বলা হয়েছে-

ইত্যাশ্বাসকথাঃ কল্কেঃ শ্রুত্বা তৌ মুনিভঃ সহ।
বিস্ময়াবিষ্টরহৃদযৌ মেনাতে হরিমীশ্বরম।।
(কল্কিপুরাণ-৩/৪/৩১)

মরু, দেবাপি মুনিগণ কল্কিদেবের অভয়বাণী শুনে বিস্ময়াবিষ্ট হৃদয়ে নিঃসংশয় রূপে জানলেন যে তিনি স্বয়ং শ্রীহরি তথা ঈশ্বর।

উল্লেখিত শ্লোকে কিন্তু সরাসরি বলে দেয়া হয়েছে যে কল্কি অবতার মানে হচ্ছে স্বং ঈশ্বর  তাহলে যারা মোহাম্মদকে অবতার রূপে প্রচার করছেন তারা কি মোহাম্মদকে ঈশ্বর বানিয়ে তার পূজা শুরু করেছেন।

স ভল্লাটেশ্বরো যোগী জ্ঞাত্বা বিষ্ণুং জগৎপতিম
নিজসেনাগটনঃ পূর্ণো যোদ্ধুকামো হরিং যযৌ।
( কল্কিপুরাণ- ৩/৮/২)

কল্কিকে জগৎপতি শ্রীহরি তথা বিষ্ণুর পূর্ণ অবতার জেনেও মহাযোগী ভল্লাটাধিপতি যুদ্ধ করার মানসে স্বীয় সৈন্যগণের সহিত নির্গত হলেন।

নাথ কান্তং জগন্নাথং সর্ব্বান্তর্যামিনং প্রভুম।
কল্কিং নারায়নং সাক্ষাৎ কথং ত্বং প্রহরিষ্যসি।।

হে প্রাণনাথ কল্কি তো সাক্ষাৎ নারায়ণ, তিনি জগতের নাথ ও সর্বান্তর্যামী প্রভু; তাঁকে আপনি কিভাবে অস্ত্রাঘাত করবেন?

উপরোক্ত শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ এবং কল্কিপুরাণ এর শ্লোকগুলো স্পষ্ট ভাবে প্রমাণ করে যে তাদের কল্কি অবতার ঈশ্বর প্রেরিত কোন দূত কিংবা বার্তাবাহক না। বরং তারা বিশ্বাস করে কল্কি অবতার স্বং তাদের ঈশ্বর। তাহলে যে মুমিনরা তাদের প্রিয় নবীকে হিন্দুদের কল্কি অবতার রূপে প্রচার করছেন তারা কি তাদের প্রিয় নবীকে ঈশ্বর বা আল্লাহ রূপে পূজা করেছেন না তো? আসলে ড. জাকির নায়েক এবং তার অন্ধভক্ত মুমিন মুসলমানরাও এ বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে বুঝে। তারপরেও তারা এটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে হিন্দুদের মানসিকভাবে দুর্বল করে ধর্মান্তরিত করার জন্য। এ কাজগুলো করতে গিয়ে তখন আর তাদের শিরক এর কথা মনে থাকেনা। বর্তমানে মুমিন মুসলমানেরা ইসলাম ধর্মটাকে ধর্ম না একটা সংগঠন বানিয়ে ফেলছে যেটার কাজ হচ্ছে শুধুই সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা। তাইতো চলছে তোর জোর করে যেভাবে হোক অন্য ধর্মের মানুষগুলোকে মুসলিম বানাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *