ওয়াজের নামে ধর্ম ব্যবসা

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ব্যবসা হয়ে উঠেছে ওয়াজ ব্যবসা। ওয়াজ ব্যবসায়ীদের ওয়াজ ব্যবসা এতটাই রমরমা হয়ে উঠেছে যে যেটা হয়তবা শেয়ার মার্কেটের শেয়ারের ব্যবসাকেও হার মানাবে। যে হুজুরের গলায় জোর যত বেশী সেই হুজুরের ওয়াজের মার্কেটের গরম তত বেশী। দেশে ওয়াজের নামে এই ব্যবসা মাঠ-ঘাট ছাড়িয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কেউ কেউ মাঠে চলা ওয়াজ ভিডিও করে সেটা ইউটিউবে চ্যানেল খুলে সেখানে আপলোড করে টাকা কামানোর ধান্ধা করে চলছে। যুগের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে এসব হুজুররাও আপডেট হচ্ছে তাদের ইনকামের পথটাও আপডেট করছে।

শীতের মৌসুম আসলেই দেশে ওয়াজের হিড়িক পড়ে যায়। জমে ওঠে ওয়াজের রমরমা ব্যবসা।  এক একটা ওয়াজে বয়ান দিতে গিয়ে হুজুররা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাদিয়া নিয়ে থাকে। যারা হাদিয়া মানে বুঝেন না তাদের উদ্দেশ্যে বলি এটা হচ্ছে মুখ বেচা পারিশ্রমিক। অনেক হুজুরের বাজেট আরো অনেক বেশি। যে হুজুর ওয়াজের মধ্যে মাঝে মাঝে হিন্দি গান বাংলা গানের সুর তুলতে পারে, যে হুজুর ওয়াজের বয়ানের মধ্যে নারীদের নিয়ে বিদ্রুপ করতে পারবে, যে হুজুর ওয়াজের বয়ানে রাজনৈতিক বক্তৃতা দিতে পারবে, রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কটাক্ষ করতে পারবে, যে হুজুর দেশ নিয়ে কটাক্ষ করতে পারবে, যে হুজুর সংখ্যালঘুদের দেবদেবী নিয়ে কটাক্ষ করতে পারবে, সংখ্যালঘুদের হাসি ঠাট্টা করতে পারবে সেই সব হুজুরদের ওয়াজের মার্কেটে জনপ্রিয়তা বেশি। আর যেই হুজুরের জনপ্রিয়তা যত বেশী সেই হুজুরের ওয়াজের রেটের বাজেট তত বেশী।

আর হুজুররা ওয়াজে এসব বয়ান দিবেই বা না কেন কেননা মানুষ ধর্মের কথার চাইতে এসব কথা শুনে বেশী আনন্দ পায়, আর তাই হুজুররাও তাদের ওয়াজের মার্কেট টিকিয়ে রাখতে দেশবিরোধী, নারী বিরোধী, সংখ্যালঘু বিদ্রুপমূলক বয়ান দিয়ে বেড়ায়৷ মূলত এসব হুজুররা ধর্ম প্রচারের জন্য ওয়াজ করে না , ওয়াজ করে পেট চালানোর জন্য। আর এসকল হুজুররা ওয়াজ ব্যবসা করবেই বা না কেন, তাদের তো আর এসব ওয়াজে বয়ান দেয়া ছাড়া আর অন্য কোনো যোগ্যতা নেই। তারা তাদের জীবনে কোনো কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে নি কিংবা সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করে নি যেটা দিয়ে তারা একটা চাকরি বাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করবে। তারা তাদের পুরো শিক্ষাজীবনটা ঐ গদবাধা কোরান এবং হাদিস শেখার পিছনেই ব্যয় করে ফেলে তাই তারা তাদের শিক্ষা জীবন শেষে হয় বেঁছে নিতে হয় কোনো মসজিদের ইমামতি না হলে হতে হয় ওয়াজ ব্যবসায়ি।

তবে ওয়াজ ব্যবসা একটু প্রতিযোগিতামূলক। কেননা ওয়াজ ব্যবসা জমানোর জন্য গলায় একটু জোর বেশী থাকতে হয়, হাস্য রসাত্মক অনেক কথা জানতে হয়, হালকা কিছু অভিনয় জানতে হয়। অবশ্য এই কোয়ালিটিগুলো সব হুজুরের হয়ে ওঠে না। যার মধ্যে এসব কোয়ালিটিগুলো গ্রো করে সেই ভালো ওয়াজি বক্তা হয়ে ওঠে৷ আর ভালো ওয়াজি বক্তা মানেই বেশি বেশি ইনকাম।

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের মুসলমানরা একটু বেশিই ধর্মভীরু যেটাকে এক কথায় অন্ধভক্তই বলা যায়৷ তা না হলে হুজুরদের এসব অশ্লীল ওয়াজ শুনেও এদের পিছনে টাকা ঢালতেছে আর সেই টাকা দিয়ে হুজুররা মোদ মাস্তি করে বেড়াচ্ছে। আবার ওয়াজের স্টেজে উঠে আপনাকেই ওয়াজের বয়ানে গালি দিচ্ছে, আপনার মা বোনকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করছে,আসলে হুজুররা ধর্মের বয়ান টেনে তো গালি দেয় তাই মানুষ বুঝেও যেন বুঝতে চায় না। আরেক দিকে হুজুর মানুষ খুবই সম্মানিত ব্যক্তি তার উপর যদি হয় জনপ্রিয় বক্তা তাহলে তো সারছে তাই চাইলেও কিছু বলতে পারে না।

অথচ বাংলাদেশের এই মানুষগুলো একটু সচেতন হতো, একটু যদি তাদের বিবেক বুদ্ধিকে কাজে লাগাতো যে তারা যে ওয়াজের পিছনে টাকা ঢালতেছে সে ওয়াজ শুনে তারা কি শিক্ষা অর্জন করতেছে, হিংসা,ঘৃণা, বিদ্বেষ ব্যতিত কোনো কিছুই প্রচার করছে না ঐসব তথা কথিত হুজুররা। মানুষ যদি ঐসব তথাকথিত হুজুরদের বিরুদ্ধে সচ্চার হতো তাহলে তাদের ওয়াজ ব্যবসা বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *