আওয়ামী লীগের হাত ধরেই কি তাহলে দেশ ইসলামি করণ হবে

মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির অগণিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হার না মানা টানা নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটির। আওমী লীগকে যার কারণে স্বাধীনতার ধারক বাহক বলা হয়ে থাকে। আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বাংলাদেশের মানুষ পেয়েছিলো স্বাধীনতার ও সার্বভৌমত্বের স্বাদ। যে আদর্শ ও নীতির উপর ভর করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই মূল স্রোতধারা থেকে বাংলাদেশ আজ অনেকটাই দূরে।

স্বাধীনতার পরেও ঘাতক-দালাল, রাজকার, আলবদর, আল শামস গোষ্ঠী ঘাপটি মেরে ছিলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। স্বাধীনতার পরেও ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসতেছে তারা দেশকে ধ্বংস করার জন্য। ঘাতকরা ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পরে এদেশে প্রত্যক্ষভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। দেশের ভিতর খুন, হত্যা, লুঠ, গুম, সংখ্যালঘুদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা নির্যাতন চালিয়েছিলো বিএনপি জামায়াত পন্থী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। সব ধরনের অন্যায় নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিলো দেশে। এমনকি তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওমী লীগ নামক দলটির অস্তিত্ব মুছে দিতে চেয়েছিলো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বিএনপির সাথে হাতে হাত মিলিয়ে চেষ্টা চালিয়েছিলো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের ইতিহাস, দেশের সংস্কৃতি সবকিছু মুছে ফেলার।

২০০৯ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে৷ ক্ষমতায় এসেই যে এজেন্ডা নিয়ে ক্ষমতায় আসে সেটাকে বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করে৷ এজেন্ডাগুলো হলো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেছেন তাদের ইশতেহার অনুযায়ী। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে কোথায় যেন আটকে গিয়েছিলো।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন  চরমপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীর চাপ, আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সবকিছু মিলিয়ে কেমন যেন আওয়ামী লীগ সরকার একটা কোনঠাসা অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল যুদ্ধপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে।

যখন কাদের মোল্লার বিচারের রায়ে আদালত যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করে তখন এদেশের স্বাধীনতা সপক্ষের শক্তি, তরুণ প্রজন্ম ক্ষোভে ফেঁটে পড়ে। যে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আদালত যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করেছিলো, সেই কাদের মোল্লা ছিলো ৭১র মানবতা বিরোধীদের একজন৷ এমন কোনো নৃশংস কাজ নেই সে না করেছে৷ কাদের মোল্লাকে যদি তার অপরাধের জন্য কয়েকশ বারও ফাঁসিতে ঝুলানো হয় তবুও তার সাজা কম হবে বলে মানুষ মনে করত। কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তির লক্ষ্যে সরোব হয়ে ওঠে এদেশের তরুণ যুব সমাজ, স্বাধীনতা সপক্ষের তরুণ প্রজন্ম মাঠে নামে, আন্দোলনের ঝড় ওঠে তরুণ প্রজন্মের কন্ঠে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার কাদের মোল্লার ফাঁসীর দাবীতে। শাহবাগ চত্বরে ভিড় জমাতে থাকে স্বাধীনতা পক্ষের মানুষগুলো শাহবাগ চত্বর হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ মানুষের মুক্তিযুদ্ধ চত্বর। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে একটি সংগঠনের যার নাম দেয়া হয় গণজাগরণ মঞ্চ।

অবশেষে তরুণদের আন্দোলনের চাপের মুখে পড়ে সরকার কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত করে ফাঁসির রায় কার্যকর করে। সেদিন দেখিয়ে দিয়েছিলো স্বাধীনতা সপক্ষের শক্তি ও তরুণ প্রজন্ম কি করতে পারে। এই তরুণ প্রজন্মের শক্তি যদি একবার সক্রিয় হয় তাহলে কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বাংলার মাটিতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

এরপর একে একে অনেক যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা হয়। এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হয়। কিন্তু এই স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি তারপরেও দমে যায় নি। তারা স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ধুদ্ধ তরুণ প্রজন্মের এই প্রগতিশীলতাকে সহ্য করতে পারে নি। যার কারণে এরা আবার সরব হতে থাকে। এরা নিজেদের আবার জানান দিতে থাকে তারা দমে যায় নি। তাই এই স্বাধীনতা বিরোধীরা বাংলাদেশের ধর্মভীরু মানুষদের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করে।

তারা শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে আন্দোলনকারী সকলকে নাস্তিক অ্যাখ্যা দিয়ে সবার ফাঁসির দাবি তুলে। তারা দাবি তুলে শাহাবাগে আন্দোলনকারী সবাই ইসলামের অবমাননা করেছে ইসলামের নবী নিয়ে কটাক্ষ করেছে।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মহাসমারোহে বিশাল আন্দোলনের ডাক দেয়। একে একে সব ইসলামী চরমপন্থী গোষ্ঠী হেফাজত ইসলাম নামে একটি উগ্রবাদী সংগঠন যেটা কিনা নতুন বোতলে পুরান মদের আমদানি খ্যাত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র রাজাকার-আলবদরদের ন্যায় ছদ্দবেশী একটি সংগঠন। সেই সংগঠনের ব্যানারে মতিঝিল শাপলা চত্বরে এসে বিশাল গণ জমায়েত আন্দোলন গড়ে তুলে উগ্রবাদী গোষ্ঠী।

তারা মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের জোর করে মতিঝিল চত্বরে নিয়ে আসে আন্দোলনের জন্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইসলামিক চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলো ছুটে আসে সেই আন্দোলনে যোগ দিতে। সরকার সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েও রুখতে পারেনি সেদিন এই উগ্রপন্থী গোষ্ঠীদের। তারা ধর্মরক্ষার নামে সরকার পতনের সুপ্ত উদ্দেশ্য নিয়ে সেদিন জমায়েত হয়েছিল মতিঝিল চত্বরে। লক্ষ্য ছিল একটাই সেটা হলো যেকোন উপায়ে সরকার পতনের।

তারা ১৩ দফা দাবি তুলেছিলো সেদিন আন্দোলনে। যে দাবিগুলো সরাসরি দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্য বিরুদ্ধ, সংবিধান ও নারী বিরুদ্ধ। ঐ দাবিগুলোর মধ্যে তাদের অন্যতম দাবী ছিলো শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে আন্দোলনকারী মুক্তমনাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বিচার করার। তাদের ঐ আন্দোলনের মূল শ্লোগান ছিলো কিন্তু এটা ফাঁসি ফাঁসি চাই নাস্তিকদের ফাঁসি চাই। বিএনপি সেদিন এই স্বাধীনতা বিরোধীদের আন্দোলনকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছিলো।  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই উগ্রবাদী হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বারবার অনুরোধ করেছিল নির্দিষ্ট সময় শেষে তারা যেন আন্দোলন সমাপ্ত করে স্থান ত্যাগ করে। কিন্তু এই উগ্রবাদী গোষ্ঠী সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে তারা রাতে সেখানে অবস্থান করার ঘোষণা দেন। সেই রাতে তারা সাধারণ মানুষের দোকান পাট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর, লুঠ ও অগ্নিসংযোগ করে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে সেই রাতে সেখানে তাদের লক্ষ্য সেদিন রাতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করবে।  পরে সরকার বাধ্য হয়ে কোন উপায় না পেয়ে যৌথবাহিনীর প্রযোজনায় অপারেশন চালিয়ে মতিঝিল চত্বর থেকে এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে অপসারণ করে। এক রাতেই এই গোষ্ঠী শাপলা চত্বর থেকে সাফ হয়ে গিয়েছিলো।

তারপরেও স্বাধীনতাবিরোধী এই অপশক্তি থেমে যায়নি। তারা একের পর এক দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বীজ বুনে গেছে৷ কিন্তু হঠাৎ করেই আওয়ামী সরকারকে নতুন এক রূপে আবির্ভূত হতে দেখা গেলো৷ দেশে হঠাৎ করেই নতুন এক দৃশ্যপট দেখা গেলো। আওয়ামী লীগের সাথে এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি হেফাজতে ইসলামের সাথে এক অন্যরকম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সখ্যতা গড়ে ওঠে। ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ ও হেফাজতের সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। হেফাজতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যাওয়া আসা লক্ষ্য করা যায়। স্বং সরকারপ্রধানকেই হেফাজতের কোনো একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। আবার এটাও দেখা যায় ওলামালীগ নামক ভূঁইফোড় সংগঠন জন্ম নেয়। এমন একটা অবস্থা যেন সম্পর্ক তুঙ্গে ছুঁই ছুঁই করছে। আওয়ামী লীগ সরকার তারা নিজেরাও বুঝতে ছিলো না যে তারা দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পোষা শুরু করলো।

বিএনপিকে দমাতে গিয়ে শেষমেশ স্বাধীনতার ধারক-বাহক দলটি স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির সাথেই সখ্যতা গড়ে তুললো। আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতার সুবাদে এবার এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি গোষ্ঠীটি একের পর এক অনৈতিক যত দাবি ছিলো সবগুলো তুলে ধরা শুরু করলো সরকারের নিকট। তাদের এই দাবিগুলো কেমন যেন সরকার নিরদ্বিধায় মেনে নিচ্ছিলো। তা না হলে এদের দাবির জের ধরেই সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা গ্রীক দেবীর মূর্তি সরিয়ে ফেলে। এরপর ফকির লালন শাহের ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলে। একের পর এক এভাবেই সরকার স্বাধীনতা বিরোধীদের অন্যায় দাবীর সাথে আপোষ শুরু করলো। এমনকি সরকার এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে খুশি করতে গিয়ে তাদের দাবির জের ধরে বাংলাদেশের শিক্ষার পাঠ্যসূচিতে বিশাল পরিবর্তন আনলো।

এখন আর ক্লাসের বাংলা বই গুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রবন্ধ, গল্প-উপন্যাস খুঁজে পাওয়া যায় না। পাঠ্যসূচির এই বইগুলোতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে ইসলামিক গল্প কাহিনী, হাদিসের কাহিনী। উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ইসলামের ইতিহাস ও ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়া। সরকার এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে খুশি করতে গিয়ে কম কিছু করেনি। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস কে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষার মান মাস্টার্সের সমান মর্যাদা প্রদান করে। এই দাওরায়ে হাদিস পড়ে একজন শিক্ষার্থী সমাজের কোন সেক্টরে গিয়ে তার এই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারবে  অথচ সাধারণ শিক্ষায় একজন শিক্ষার্থীকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে গিয়ে কত চড়াই-উৎরাই এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

জামায়াত ইসলামের খোলস বদলানো ছদ্দবেশী এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি হেফাজত ইসলামের উত্থানের পর থেকে বাংলাদেশে জিএমবি জঙ্গিগোষ্ঠি একের পর এক টার্গেট করে করে মুক্তমনা ব্লগার দের হত্যা করেছে। মুক্তমনা ব্লগার দের হত্যার ব্যাপারে সরকার বরাবরই রয়ে গেছে নীরব ও উদাসীন। সরকারের নীরব ভূমিকায় এবং উদাসীনতায় জঙ্গিরা আরো অনুপ্রাণিত হয়ে টার্গেট কিলিং মিশন শুরু করেছিলো ব্লগারদের উপর। সরকার মুক্তমনা ব্লগার হত্যার বিষয়ে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি বরং উল্টো প্রগতিশীল লেখক ও মুক্তচিন্তার  মানুষগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের জেলে পাঠানো শুরু করে। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সন্ত্রাসী জঙ্গি গোষ্ঠীর দ্বারা হামলার শিকার হয়ে অনেক প্রগতিশীল লেখক-সাংবাদিককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অনেকেই নীরবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে জীবন রক্ষার তাগিদে।

এই হেফাজত ইসলাম উত্থানের পর থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন যেন অতীতের তুলনায় আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যে সরকারকে বলা হয় সংখ্যালঘুদের রক্ষার ধারক-বাহক, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রক্ষাকারী দল। অথচ তার শাসনামলে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের ভয়াবহতা যেন অতীতের তুলনায় সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। প্রায়শই দেখা যায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সংখ্যালঘুদের উপর সঙ্ঘবদ্ধ বর্বর সাম্প্রদায়িক আক্রমণ ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, নির্যাতন নিপীড়ন, সংখ্যালঘু নারীদের শ্লীলতাহানি। অথচ সরকার এসব বিষয়ে বরাবরই নিরব রয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের শাসনামলে অসংখ্য সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে যার কোনোটারই বিচার হয়নি।

এই সাম্প্রদায়িক মোল্লারা ওয়াজের নামে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেশ বিরোধী বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বেড়ায়। ওয়াজের নামে রাজনৈতিক বক্তৃতা প্রদান করে। মানুষের মাঝে ঘৃণা-বিদ্বেষের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়। অথচ সরকার এদের বিরুদ্ধে বরাবরই নিশ্চুপ রয়ে গেছে। অথচ অনেক সাংবাদিককে সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে গিয়ে মামলা হামলার শিকার হতে হয়েছে। অনেক সংখ্যালঘু ছেলেমেয়েদের নামে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ষড়যন্ত্র করে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হচ্ছে।

সরকারের সাথে এই উগ্রবাদী হেফাজত ইসলামের সাথে কেন এত সখ্যতা। যারা দেশের সংবিধান মানে না, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, যারা দেশের আইন মানতে চায় না, দেশের সংবিধান মানতে চায় না, সেই দেশ বিরোধী সংগঠনের সাথে স্বাধীনতার ধারক-বাহক দলটির কোন সখ্যতার প্রয়োজন আছে কি। নাকি আওয়ামীলীগও চায় দেশটা ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত। বাংলাদেশে ইসলামীক শাসনতন্ত্র চালু হোক আর সেটা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হোক। সেটাই এখন চিন্তার বিষয় যে স্বাধীনতা যুদ্ধের ধারক বাহক দলটিও কি তাহলে ধর্মীয় রাজনীতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সময় থাকতে যদি আওয়ামী লীগ সরকার এই উগ্রপন্থী হেফাজত ইসলামের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে এদের রুখে না দিতে পারে তাহলে একদিন হয়তবা এই হেফাজত ইসলাম দলটি আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব ধরেই টান দিতে শুর করবে। এই উগ্র হেফাজতে ইসলামের মূল উদ্দেশ্য একটাই ধর্মকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *