বিতর্ক এবং আমার সোনালি দিনগুলি

মহাপাপীর মত দাঁড়িয়ে আছি,ভেতর থেকে হাসাহাসির শব্দ আসিতেছে।ত্বাসীন মীম ভাই আসিলেন,দরজা ফাঁক করিবার দরুণ সামান্য কিছু বড় ভাইদের অবয়ব দৃষ্টিগোচর হইলো।হঠাৎ করিয়া প্রশ্ন আসিলো,”বিতর্ক কত প্রকার?”
ততোধিক দ্রুত জবাব দিতে চাহিলাম কিন্তু কোন এক সারমেয় বলিলো দুই প্রকার।পুনরায় “কি?” সূচক প্রশ্ন আসিবার পূর্বেই সে জবাব প্রদান করিল-“বাংলা ও ইংরেজি”
আজ বহু বছর বাদে সেই সারমেয়র নাম স্মৃতির পাতা বহু লবণ,মরিচ সহকারে ঘাঁটিয়াও উদ্ধার করিতে পারি না।ত্বাসীন ভাই কহিলেন,”অন্য ভাষায় বিতর্ক হয় না?”


মহাপাপীর মত দাঁড়িয়ে আছি,ভেতর থেকে হাসাহাসির শব্দ আসিতেছে।ত্বাসীন মীম ভাই আসিলেন,দরজা ফাঁক করিবার দরুণ সামান্য কিছু বড় ভাইদের অবয়ব দৃষ্টিগোচর হইলো।হঠাৎ করিয়া প্রশ্ন আসিলো,”বিতর্ক কত প্রকার?”
ততোধিক দ্রুত জবাব দিতে চাহিলাম কিন্তু কোন এক সারমেয় বলিলো দুই প্রকার।পুনরায় “কি?” সূচক প্রশ্ন আসিবার পূর্বেই সে জবাব প্রদান করিল-“বাংলা ও ইংরেজি”
আজ বহু বছর বাদে সেই সারমেয়র নাম স্মৃতির পাতা বহু লবণ,মরিচ সহকারে ঘাঁটিয়াও উদ্ধার করিতে পারি না।ত্বাসীন ভাই কহিলেন,”অন্য ভাষায় বিতর্ক হয় না?”

নিশ্চুপ একপাল মানুষরূপী ভেড়া দেখিয়া তিনি তৎক্ষনাৎ বুঝিলেন এই ভেড়ার দল খুব বড় জোর টিফিনের মোটা কেকের টুকরা লইয়া লাফাইতে পারে নইলে বেঞ্চের ভাঙা পায়াকে ক্রিকেট ব্যাট হিসেবে ব্যবহার করিতে পারে।তাই অত্যন্ত দয়াপরবশ হইয়া তিনি বলিলেন,”বিতর্ক দুই প্রকার,সনাতনী ও সংসদীয়”

অতঃপর সেইদিন একখানা উপস্থিত বক্তৃতা হইবে বলিয়া জানা গেল।”আমি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ হতভাগা” শীর্ষক উপপাদ্যখানা পুনরায় প্রমাণ করিয়া বিষয় পাইলাম,”যদি লাইগা যায়”। কি বলিলাম জানি না তবে রেজা স্যার বড়ই প্রশংসা করিলেন।কারণ তিনি কেবলমাত্র আমারই বক্তব্যখানা শুনিয়াছিলেন,অন্যদের সময় বাহিরে ছিলেন।

কিছুদিনের মধ্যে অমর্ত্য তরফদার অভিক ওরফে মালুর সহিত একখানা বিতর্কে লিপ্ত হইলাম।নিজের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার প্রমাণ রাখিতে যাইয়া এই বিতর্কেরও বিষয়খানা ভুলিয়া গিয়াছি।এই ছিল জীবনের বিতর্কময় প্রথমদিন!
সকাল সকাল ঘুম ভাঙিয়া গেল।পেটের অন্তরে কেমন যেন চাপ,গলার কাছে চাপা বমনভাব কোন মতে চাপিয়া রাখিয়া গোসল সারিলাম।গরমযন্ত্র দ্বারা চিপিয়া চিপিয়া সাইজে আনয়নকৃত ইউনিফর্ম গায়ে চাপাইলাম।শুক্রবার দিন আমার এহেন বেশ দেখিয়া রাস্তার সকলে তাঁকাইতে লাগিল।যে রূপসী আমাকে কোনদিনই দেখে নাই,সেও আগ্রহভরে দেখিতে লাগিল।

এরূপ অতিপ্রাকৃতিক কর্মের পেছনে কিছুদিন পূর্বের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত।সেদিন সবে প্যাটিসদ্বরা নাস্তা সারা পূর্বক আতিক জাওয়াদ শুভর লাল বর্ণের “সানসী/সি” সাইকেলখানা লইয়া সাগরপাড়া,মঠপুকুর এবং সংলগ্ন এলাকা দাপাইয়া আসিয়াছি।শার্টখনা খুলিয়া কলপাড়ে হাতমুখ ধুঁইতে ব্যস্ত।হঠাৎ তৌহিদুজ্জামান খান হিমেল(গুরু গো,মিস ইউ) ভাই ডাকিলেন।কাছে যাইতেই বলিলেন আগামীতে কি একখানা বিতর্ক প্রতিযোগিতা রহিয়াছে,সেখানে আমাকে যাইতে হবে।আমার খুলির নিচে মগজ জিনিসটা বরাবরই কম,তাই উহার গুরুত্ব বুঝিতে সময় লাগিতে লাগিল।হিমেল ভাই দাঁতে দাঁত চাপিয়া বলিলেন”তুই গোটা স্কুলের হয়ে ডিবেট করবি”

ভাবিয়া কূল পাইলাম না আমি একা কেমনে সামলাইবো?আমি ভাত গলাধঃকরণ করিতে বসিলে ভাত প্লেটের চারিদিকে উপবৃত্ত রচনা করে,শার্ট ইন করিলে মোজা হয় উল্টা আবার মোজা ঠিক থাকিলে অন্তর্বাস পরিতে যাই ভুলিয়া।

ইহার মধ্যে ত্বাসীন ভাই তাহার প্রেসিডেন্চসুলভ গাম্ভর্য লইয়া আসিলেন।জানাইলেন হিমেল,মাসুদ আর উত্তম(কোন এক অধম) প্রতিযোগিতায় যাইবে।মোঃ রেজাউর রহমান খান স্যার নাকি তেমন ইচ্ছাই পোষণ করিয়াছেন।হঠাৎ খটকা লাগিল ইশতিয়াক ভাইয়ের মত বোমারু বিতার্কিক থাকিতে আমার মত বেকুব কেন?উত্তরটা মহাকাশ হইতে ভাসিয়া আসিলো,ছোটদের নাকি সুযোগ দেবার লক্ষ্যে এমনটা ঘটিয়াছে।নিজেকে তখন ছোটদের কাতারে ভাবিতে বড়ই কষ্ট হইলো।তবে মরিচগাছ যতই বড় হোক না কেন তাহা বটগাছের কূল পায় না।প্রিয় পাঠক,কল্পনা করিয়া নেন আমি কতখানি মূর্খ ছিলাম ও আছি।

নাম লেখা হইলো ফর্মে।বিস্ময়ের সহিত দেখিলাম,শিক্ষকসহ তিনজনের নামের পিছে পদবী “খান”।এই সত্য চাপিয়া রাখে,কার সাধ্যি।রেজা স্যার বলিয়াই ফেলিলেন,”এ দেখি হানাদার বাহিনী!”মাসুদ ভাইয়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থী বিশেষভাবে।ওই ঘটনার পর হইতে আমি সকল জায়গায় “রায়হানুল মাসুদ খান” লিখিতাম।খানে খানে খুনাখুনি!

রোদেলা সকাল,বি বি হিন্দু একাডেমীতে গা গরম করিতেছি।স্ক্রীপ্ট মুখস্থ প্রায়,কিন্তু বিষয় ভুলিয়া যাই বারবার।পিএনের বিতার্কিকদের দেখিয়া মনে হইলো ইহাদের ভাবের জন্যই দু’খানা ট্রফি বরাদ্দ।একজন একজন করিয়া এদিক ওদিক হইতে তিনজনের নামই জানিয়া ফেলিলাম,”প্রমা,স্বচ্ছ,সুমাইয়া”!কিন্তু কে কোনজন তা তখন বলিতে বলিলে আমাদের অবস্হা হইত অনেকটা আবুল মাল আব্দুল মুহিতের মত,তিন-চার হাজার কোটি টাকা কোন টাকাই না!কেন যে এই বয়সে রাজশাহীর ছেলেদের আকাশী রঙের প্রতি এত টান থাকিয়া থাকে?কেন রে বাছা??গাঢ় নীল,সবুজ চোখে পড়ে না?নাকি সাময়িক কালার ব্লাইণ্ড হয়ে যায় ওই বয়সে?সেলুকাস!কি বিচিত্র এই দেশ!তবে দু’দুটো তাগড়া সিনিয়র ব্যাচেলর সাথে লইয়া অন্যদিকে তাঁকাইবার সাহস হয় নাই।তবু তাঁকাইয়াছিলাম,দ্বিতীয়দিনে।সে কাহিনী পরে,ওসব জানার এত আগ্রহের হেতু কি হে?

যাক,”সুশিক্ষা দুর্নীতি রোধের একমাত্র উপায়” বিষয়ে প্রথম আন্ত-স্কুল বিতর্ক করিলাম।শ্রোতা তিনজন:রেজা স্যার,ওয়ালীউল্লাহ সুহাস ও আশফিকুর রহমান(দুইজনই বন্ধু)।

৬ thoughts on “বিতর্ক এবং আমার সোনালি দিনগুলি

  1. কি বলিলাম জানি না তবে রেজা

    কি বলিলাম জানি না তবে রেজা স্যার বড়ই প্রশংসা করিলেন।কারণ তিনি কেবলমাত্র আমারই বক্তব্যখানা শুনিয়াছিলেন,অন্যদের সময় বাহিরে ছিলেন।

    ভাবিয়া কূল পাইলাম না আমি একা কেমনে সামলাইবো?আমি ভাত গলাধঃকরণ করিতে বসিলে ভাত প্লেটের চারিদিকে উপবৃত্ত রচনা করে,শার্ট ইন করিলে মোজা হয় উল্টা আবার মোজা ঠিক থাকিলে অন্তর্বাস পরিতে যাই ভুলিয়া।

    চরম মজা পাইলাম। বিশেষ করিয়া উপরের বিশেষ ভাবে চিহ্নিত অংশগুলি পড়িয়া হাসিতে হাসিতে পড়িয়া গেলাম। :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    আপনার লেখা বোধ হয় এই প্রথম পড়লাম। প্রথম লেখাতেই বাজিমাত। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. বুঝিতে চেস্টা করিয়া দেখিলাম,
    বুঝিতে চেস্টা করিয়া দেখিলাম, গলাধঃকরণ করা ছাড়া উপায় আর নাই। মাতা কহিল, ও ন্যাটা, কি করছিস? মাতার মুখমন্ডলের দিকে তাকাইয়া কিঞ্চিত পরিমান ঈদের চাদের মত বাকা হাসি দিয়া কহিলাম –

    এত আগ্রহের হেতু কি হে?

    ভালই লাগিল ভায়া!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *