ধার্মিকরাও যখন নাস্তিক

আমরা নাস্তিক বলতে সাধারণত বুঝি যারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সর্ম্পকে বিশ্বাস করে না বা ধর্মের কোন কিছুর উপর যাদের বিশ্বাস নেই কিংবা যারা ধর্ম মানতে নারাজ সেইসব ব্যক্তিদের।

প্রকৃতপক্ষে এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটা ব্যক্তিই কোনো না কোনোভাবে নাস্তিক্যবাদ নিজের অজান্তেই ধারণ করছেন। এবং প্রত্যেকটা ধার্মিকই নাস্তিকতার সাথে সম্পৃক্ত।

প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরাই ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী। কিন্তু এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাসকে বিশ্বাস করে না। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের সৃষ্টি কর্তাকে বিশ্বাস করে না। তাহলে আলাদা আলাদা সৃষ্টি কর্তা রয়েছে।

ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি হচ্ছে নামাজ পড়া, রোজা রাখা, জাকাত দেয়া এবং হজ্ব পালন করা৷ কিন্তু এই যে কথিত মুসলমান যারা আছেন যারা পারিবারিক সূত্রে বা মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করার প্রেক্ষিতে নিজেদের সাচ্চা মুসলমান বলে দাবি করে তারা কি ধর্মের এইসব বিধি বিধান সঠিকভাবে মেনে চলেন কি। চলেন না৷ তারপর তো ধর্মের আরো কত কঠোর বিধিনিষেধ রয়েই গেছে সেদিকে আর না যাই। এই সব কথিত নামধারী হুজুগে মুসলমানরাই যখন শুনবে তাদের ধর্ম নিয়ে কেউ সমালোচনা করেছে ঠিক তখনই তারা অন্ধের মত সেই ব্যক্তিকে মারার জন্য লাফিয়ে পড়বে।

এইবার আসি হিন্দুদের কথায়। হিন্দুদের মূল পূজা-পার্বণ এবং বৈদিক অনুশাসন মেনে চলাই হচ্ছে মূল ভিত্তি। কিন্তু হিন্দুদের অধিকাংশ এক কথায় বলা যায় ৬০-৭০% মানুষ তারা নিজেদের ধর্ম সম্পর্কেই অবগতই না। এমনও রয়েছে যারা জীবনের শেষ পর্যায় গিয়েও নিজ ধর্ম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না। অনেক হিন্দুই আছে যারা মাসে কিংবা বছরে একবার ঠিক পর্যন্ত মন্দিরে যায় কিনা সন্দেহ। আবার এইসব ধর্মান্ধ গোষ্ঠীই হিন্দুত্ববাদী বলে লাফিয়ে পড়বে মারামারি করার জন্য। অবশ্য বাংলাদেশী হিন্দুত্ববাদীরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে সাংঘর্ষিকতায় যাওয়ার মত অবস্থানে নেই। কিন্তু মনে মনে হিংসা-বিদ্বেষে এরা সবার শীর্ষে। বস্তুত হিন্দুদের মধ্যে এক হিন্দুই আরেক হিন্দুর বিশ্বাসকে বিশ্বাস করে না। এমনিতেই তাদের মধ্যে ৩৩ কোটি দেবদেবী থাকার কথার প্রচলন রয়েছে। তাহলে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক। আর এক মতের মানুষ ভিন্ন মতের মানুষের বিশ্বাসকে বিশ্বাস করবে না এটাই স্বাভাবিক।

অন্যান্য ধর্মের অবস্থা ঠিক একই রকম। মুসলিমরা যেমন হিন্দুদের বিশ্বাসকে তুচ্ছ মনে করে নিজেদের বিশ্বাসকে সত্য বলে মনে করে। ঠিক তেমনি হিন্দুরাও মুসলিমদের বিশ্বাসকে তুচ্ছ মনে করে নিজেদের বিশ্বাসটাকে সদা সত্য বলে মনে করে। পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ধর্ম আছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষই নিজেদের বিশ্বাসকে সত্য বলে মনে করে এবং অন্যদেরটা মিথ্যা বলে মনে করে। তাহলে সাড়ে ৪ হাজার ধর্মের জন্যই আলাদা আলাদা ঈশ্বর। আলাদা আলাদা সৃষ্টিকর্তা। যেহেতু তারা নিজ বিশ্বাসের বাহিরে অন্য বিশ্বাসের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে বিশ্বাস করতে চায় না। আর এই সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করাটাই হচ্ছে নাস্তিকতা। তাই ধার্মিকরা নিজেদের অজান্তেই ভিতরে ভিতরে নাস্তিকতা পালন করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *