কাঁকড়া হিন্দুদের সমাচার

কাঁকড়ার জাতি,কাঁকড়া তো সবাই চিনেন আশা করি। একসাথে অনেকগুলো কাঁকড়া একটি পাত্রে রেখে দিবেন পাত্রটি উন্মুক্ত করেই রেখে দিবেন।  দেখবেন দীর্ঘসময় কিংবা ২৪ ঘন্টা রেখেদিলেও সেই পাত্রটি থেকে by chance দু একটি কাঁকড়া উঠে এদিক সেদিক হতে পারে কিন্তু অধিকাংশ কাঁকড়া পাত্রটির ভিতরেই থাকবে। কারণ কি জানেন একটি কাঁকড়া যখন আস্তে আস্তে বেঁয়ে উপরের দিকে উঠে পাত্রটি থেকে বের হতে যায় ঠিক তখনই নিচ থেকে আরেকটি কাঁকড়া টেনে ধরে নিচে নামিয়ে নিয়ে দেয়। ব্যপারটি হলো এরকম যে আমি নিচে পড়ে থাকবো আর তুই উপড়ে ওঠে চলে যাবি তা কি করে হয়।

Likewise হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষগুলোর মধ্যেও এরকম কাঁকড়া মনোবৃত্তি কাজ করে যে একটা হিন্দু পরিবার ভালো থাকলে সেই পরিবারটি কেন ভালো আছে সেটার উৎস খুঁজতে শুরু করে এমনভাবে শুরু করে যেন ভারতের RAW এর এজেন্টদারি শুরু করেছে। এরপর সেই পরিবার যাতে ভালো থাকতে না পারে তার জন্য কুটকৌশল খুঁজবে। যদি সুযোগ পায় তাহলে বিপদে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করবে না। আর যদি অনেক প্রচেষ্টার পরেও ভালো থাকা পরিবারটির কোন ক্ষতি করতে না পারে তাহলে শুরু করবে কুৎসা রটানো। মনে মনে তৈরী করবে হিংসার বিষবাষ্প।

আসুন এই বিষয়ে একটা গল্প শুনে নেয়া যাক৷ একটি এলাকায় পাশাপাশি দুটি হিন্দু পরিবার বাস করে অনেক দিন যাবত। সেই এলাকায় মোটামুটি ৪০ টি পরিবার বসবাস করে। সেই ৪০টি পরিবারের মধ্যে মাত্র ২টি হিন্দু পরিবার ছিলো। যাই হোক পরিবার ২টির মধ্যে একটি হলো পাল বাড়ি আরেকটি হলো যুগি বাড়ি। কি অদ্ভুত ব্যপার হ্যাঁ নাপিত,ধোপা,কাহেস্ত,কামার এইগুলো দিয়েও মানুষ বিবেচনা করা হয়। বিবেচনা করা হয় জাতপাতের।

তো সেই পাল বাড়ির দুটো ছেলে খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করতে থাকে। আর যুগি বাড়ির ৩ ছেলে এরা লেখাপড়ার প্রতি তেমন একটা মনোযোগী ছিলেন না। সবসময় আড্ডা, জুয়াখেলা ইত্যাদি ইত্যাদি করে জীবনটা আরাম উল্লাসে কাটিয়ে দিতো। আর পাল বাড়ির ছেলে দুটো কোনো কাঙ্খিত লক্ষ্য বা নিজেদের অবস্থান কিংবা সমাজ বা জাতিকে কিছু দেবার জন্য শত বাঁধা বিপত্তির মধ্য দিয়েও পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু পাশের বাড়ির যুগী হিন্দু পরিবারের সেই ৩ ছেলের যিনি মা, তিনি সবসময় পাল বাড়ির সেই দুই ছেলের নামে কুৎসা রটিয়ে বেড়াতো যে ঐ পাল বাড়ির ছেলে ২টির মাথামোটা তাদের দিয়ে পড়ালেখা হবে না। তাদের মা বাবা অহেতুক টাকা পয়সা নষ্ট করছে। যাইহোক মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাল বাড়ির বড় ছেলেটি খুব ভালো রেজাল্ট করেই উত্তীর্ণ হয়ে গেল।

এইবার পাশের যুগী বাড়ির সেই কাকিমা একটু সামান্য লজ্জাবোধ করছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার শুরু করেছে আরে মাধ্যমিক পাশ করেছে তো কি হয়েছে।  উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পার হতে পারবে না। কিন্তু এবারও সেই পাল বাড়ির বড় ছেলে খুব ভালোভাবেই উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পার হয়ে গেলো। আর ততদিনে সেই ছেলেটির ছোট ভাইটিও মাধ্যমিক পাশ করে ফেলে।

এবার পাশের বাড়ির সেই কাকিমা এবার বলে বেড়াচ্ছেন মানুষের কাছে। আরে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করছে তো কি হয়েছে অনার্স-মাস্টার্স এইগুলো ঢের কঠিন এইগুলো ঐ ছেলের দ্বারা সম্ভব না। তো সেই পাল বাড়ির ছেলেটিও নাছোড়বান্দ  সে ধীরে ধীরে ঠিকই এবার অনার্স-মাস্টার্স সব গন্ডি পার করে ফেলছে। এবার মনে হচ্ছিল সেই পাশের বাসার কাকিমার একটু মুখে কলুপ পড়বে।  কিন্তু দেখছি না সে বরাবরের মতই রয়ে গেছে। এবার বলতেছে আরে পড়ালেখা শেষ করছে তো কি হইছে ভালো চাকরি পেয়ে দেখাক।

ছেলেটি এবার কঠিন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ চাকরির বাজার বিসিএস দিয়ে প্রথম

শ্রেণীর চাকরি লুফে নিলো। এবার কিন্তু পাশের বাসার কাকিমার মুখ বন্ধ হবার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে চলেছ। কিন্তু না কাকিমাও হাল ছাড়ার মানুষ না তাকে যেভাবেই হোক কোনো না কোনো উপায় জিততেই হবে। এবার বলতেছে আরে চাকরি পেয়েছে তো কি হয়েছে ভালো বউ পাবে না। ছেলেটা কিছুদিন পর একটা সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করে বাড়ির বউ করে নিয়ে আসে। এবার পাশের বাড়ির কাকিমার মুখে একেবারে চুনকালি মেখে পড়লো।

তারপরেও সেই কাকিমা দমে যাওয়ার পাত্রী না। এবার বলে বেড়াচ্ছে বাজা মানে বন্ধ্যা মেয়ে বিয়ে করছে বাচ্চা হবে না। কিন্তু ঠিক ১-১.৫ বছরের মাথায় সেই ছেলেটির সুন্দর ফুটেফুটে একটি বাচ্চাও হলো। আর ঐদিকে সেই ছেলেটির ছোটভাইও ততদিনে অনার্স-মাস্টার্সের গন্ডি পাড় করে ফেলেছেন। আর পাশের বাড়ির ৩ ছেলে এখনো এলাকায় রাজনৈতিক নেতাদের পিছনে ঘুরে আর সন্ধ্যার পর এসে এলাকার চায়ের দোকানে আড্ডা জমায়। আর সেই কাকিমা সর্বশেষ বলে বেড়াচ্ছে ঐগুলো পাল বাড়ির ছেলেদের ভাগ্যে লেখা ছিলো তাই সবকিছু হয়েছে।

তো যুগি বাড়ির সেই কাকিমা যদি এরকম হিংসা না ছড়িয়ে নিজের ছেলেগুলোর প্রতি নজর দিতো তাহলে তাদের ছেলেগুলোও কিন্তু ভালো কিছু করতে পারতো। অথবা সেই কাকিমার কিন্তু একটা গর্বের জায়গা তৈরী হয়েছিলো যে তার প্রতিবেশী কেউ একজন ভালো কিছু করেছে। যাইহোক এটাই হচ্ছে হিন্দুদের পরিস্থিতি যেটা স্মরণাতীত কাল থেকে আজ অবধি চলে  আসছে৷ আপনাদের কাছে এটা নেহাত একটা গল্প হতে পারে কিন্তু এটাই হিন্দুদের পরিস্থিতি৷ একটা হিন্দু পরিবার আরেকটা হিন্দু পরিবারকে প্রতিবেশী ভাবতে পারে না। একজন হিন্দু আরেকজন হিন্দুকে মানুষ ভাবতে পারে না। একজন হিন্দু নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে উপরের দিকে উঠতে চাইলে কাঁকড়ার মত টেনে ধরে নিচে নামানোর চেষ্টা চালায়। আবার পাশের বাড়ির কোনো একজন হিন্দু বিপদে পড়লে সহোযোগীতা তো দূরে থাক সহানুভূতি টুকুও দেখাবে না। বরংচো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে আনন্দে উল্লাসিত হবে সেটা মনে মনে হোক কিংবা প্রকাশ্যে।

আপনারা বলতে পারেন যে আপনি একটা গল্পের মাধ্যমে পুরো সমগ্র হিন্দু জাতিকে measurement করছেন। আমি বলছি সব হিন্দুই যে সমান মানসিকতার সেটা সঠিক নয়। কিন্তু অধিকাংশ হিন্দুরাই একই মনোবৃত্তিসম্পন্ন৷ All hindus are not same classes but most of those are doing same thing. সবার উচিত এইসব কাঁকড়া প্রবৃত্তির মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে সমাজে একসাথে সুশৃঙ্খলভাবে বসবাস করা। একজন প্রতিবেশী আরেকজন প্রতিবেশীর প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচারণ করা। জাতপাত,ধর্ম,বর্ণ সবকিছু ভুলে সকলে একসাথে মিলে দেশ ও জাতির জন্য ভালো কিছু করা।

হিন্দু, মুসলিম,বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, উচ্চবর্ণ, নিম্নবর্ণ এইসব দূরে ঠেলে ইনোভেটিভ চিন্তার মাধ্যমে সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আজকে চীন এইসব ধর্মীয় কুসংস্কারের উর্ধ্বে উঠে এসে বিশ্বের মধ্যে নয়া অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজদেরকে আর্বিভূত করেছে। আজকে ইসরায়েলের মত এত ছোট একটি দেশ প্রযুক্তির দিক থেকে নিজেদেরকে কোথায় নিয়ে গেছে। চিন্তা করার সময় এসে গেছে এইসব জাতপাত,ধর্ম, বর্ণ নিয়ে আমরা পড়ে থাকবো নাকি উদ্ভাবনী শক্তির দিকে নিজেদের অগ্রসর করবো।

পরিশেষে বলতে চাই মানুষ হইয়া মানুষ চিনতে হইবে।

মানুষ হইয়া যদি মানুষই না চিনিলাম, তাহলে কেমন মানুষই বা হইলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *