চন্দ্রনাথে শিবরাত্রি

শিব/ মহেশ্বর/ নটরাজ/ কৈলাসপতি/ মহাদেব ইত্যাদি ইত্যাদি এরকম অনেক নামে এই ব্যক্তিটিকে ডাকা হয়। হিন্দুদের সনাতন ধর্মের ত্রিবিধ শক্তির একটি শক্তি বলা হয় এই শিবকে।

ত্রিবিধ শক্তি মানে হচ্ছে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বর এই তিন শক্তি মিলে তাদের একক শক্তি ওঁ।  যেটা বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়। ও+উ+ম= ও মানে হচ্ছে ব্রহ্মা,  উ মানে হচ্ছে= বিষ্ণু, ম মানে হচ্ছে শিব। ব্রহ্মা কে তারা বলে সৃষ্টি কর্তা,  বিষ্ণুকে বলে থাকে পালনকর্তা এবং শিবকে বলে থাকে সংহার বা ধ্বংস কর্তা। এদিকে দেখা যাচ্ছে ব্রহ্মাকে এই পার্থিব জগতের সৃষ্টির প্রথম জীবও বলা হয়ে থাকে যার মাধ্যমে নাকি পৃথিবীর সকল জীব সৃষ্টি হয়েছে।  যাক রূপক কথাগুলো কিন্তু আমাদের কল্পনার জগতকে প্রশস্ত করতে খুব ভালোভাবেই সহায়তা করে।

এবার আসি শিবের কথায়, শিবরাত্রি হচ্ছে হিন্দু শৈব সম্প্রদায়ের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এই মহাশিবরাত্রি ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয়। মহাশিবরাত্রি হল হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেব ‘শিবের মহা রাত্রি’।

ব্রতের আগের দিন ভক্তগণ নিরামিষ আহার করে। রাতে বিছানায় না শুয়ে মাটিতে শোয়া হয়। ব্রতের দিন তারা উপবাসী থাকে। তারপর রাত্রিবেলা চার প্রহরে শিবলিঙ্গকে দুধ, দই, ঘৃত, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো হয়। তারপর বেলপাতা, নীলকন্ঠ ফুল, ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা প্রভৃতি ফুল দিয়ে পূজা করা হয়। আর  ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ এই মহামন্ত্র জপ করা হয় । সেদিন রাত্রি জাগরণ করা হয় ও শিবের ব্রতকথা, মন্ত্র আরাধণা করা হয়।

ভারতবর্ষের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ তথা সমস্ত শিবমন্দিরে এই পূজা চলে, তান্ত্রিকেরাও এইদিন সিদ্ধিলাভের জন্য বিশেষ সাধনা করে। মহাশিবরাত্রি সাধারণত ইংরেজী মাসের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ এ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শিব লিঙ্গ কেন পূজা করা হয়, ওটা লিঙ্গ আকৃতির কিনা কিংবা পুলিঙ্গ অথবা স্ত্রী লিঙ্গ সে বিষয়ে যাচ্ছি না৷ কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে ঐ পাথরের লিঙ্গকে সন্তুষ্ট করার জন্য সেটার মাথায় দুধ ঢালতে কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠতে হবে।

আমরা সবাই বাংলাদেশে অবস্থিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড় সম্পর্কে অবগত আছি৷ এই চন্দ্রনাথ পাহাড়কে হিন্দুরা তাদের একটি পূণ্যভূমি বা তীর্থস্থান মনে করে। প্রতিবছর শিব চতুর্দশীকে কেন্দ্র করে এখানে বিশাল মেলার আয়োজন হয়। দেশের দূর দূরান্ত থেকে এমনকি দেশের বাহিরে থেকে মানুষ ছুটে আসে শুধু মাত্র পাহাড়ের চূড়ায় উঠে শিবের মাথায় দূধ আর ডাবের জল ঢেলে তাকে তুষ্ট করার জন্য।

এই শিবচতুর্দশীর ব্রত পালণ করতে বেশীরভাগ কুমারী মেয়েদেরকেই দেখা যায়। মানে হচ্ছে শিবের সাথে একটা ব্যবসায়িক চুক্তি শিবের নামে একটাদিন কষ্ট করে না খেয়ে পূজা দিবে, শিবের মাথায় জল আর দুধ ঢালবে আর অমনি শিব ঠাঁকুর খুশি হয়ে তার মত একজন বর সেইসব মেয়েদের কপালে জুটিয়ে দিবে৷ মূলত শিবের মত একজন বর পাওয়ার উদ্দেশ্যেই বেশিরভাগ মেয়েরা এই ব্রত পালণ করে থাকে। আচ্ছা মেয়েরা কেন শিবের মতই বর পেতে চায়। শিব তো পাগলের মত ছিলো যেটার বর্ণনা আমরা শাস্ত্রে পাই। শিব নাকি নেশা জাতীয় কিসব খেতো যেটা আমাদের দেশে গাঁজা বলে থাকে। তারপর শিব ঠাঁকুর নাকি বাঘের চামড়া পড়ে থাকে। সবসময় শশ্মানে পড়ে থাকে এবং গায়ে সর্বদা ছাঁই মেখে রাখে। রাতের বেলা শশ্মানে পড়ে থাকতো আর দিনের বেলা হলে বেশ্যালয়ে যেত। শিব ছিলো প্রচন্ড নারী লিপ্সু এবং কামাতুর।

তাহলে মেয়েরা এরকম একটা বর প্রাপ্তির আশায় কেন ভক্তিভরে ঐ পাথুরে লিঙ্গের পূজা করে। যাই হোক কোনো না কোনো একটা ভালো গুন তো শিবের অবশ্যই আছে যার কারণে মেয়েরা এই পাগলা দেবতার পূজা করে। আর সেটা হলো শিব নাকি পার্বতিকে প্রচন্ডভাবে ভালোবাসতো আর সেটাই কুমারি মেয়েদের বেশি আকর্ষণ করে যার কারণে তারা আকুল হয়ে শিবের পূজা করতে থাকে৷ শিবের প্রেমের কথা বলতে বলতে আমি চন্দ্রনাথকে ভুলে গেলাম।

হিন্দুদের সেই পুণ্যভূমি চন্দ্রনাথে যাওয়ার আমারও একটু সুযোগ হয়েছিলো। এই তো কিছুদিন আগে শিব চতুর্দশীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র বড় ভাইয়ের সাথে গিয়েছিলাম৷ সেই ভাই আবার খুব ধার্মিক। উনি আবার এক ধার্মিক পরিবারের বাসায় টিউশন পড়াতেন। মূলত সেই বাসা থেকে ওনাকে ইনভাইট করা হয়েছিল চন্দ্রনাথে যাওয়ার জন্য। অবশ্য ওনাদের একজন মেম্বার কম ছিলো তাই আমার সেই পরিচিত ধার্মিক ভাইটি আমাকে সাথে নিয়ে নিলো। আমারও অনেক দিনের শখ ছিলো চন্দ্রনাথ পাহাড় ঘোরার৷ সুতরাং সুযোগটা আর হাত ছাড়া করলাম না৷

রাত ১০ টার দিকে কুমিল্লা চকবাজার থেকে মাইক্রোবাসে করে রওনা দিলাম আমরা টোটাল গাড়ির ড্রাইভার সহ ৮ জন ছিলাম। সীতাকুণ্ড গিয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ১২ টা বেজে গেলো। তো ওখানে গিয়ে স্নান করতে হয়। তো পাহাড়ে আহরণের আগে সবাই পাহাড়ের শুরুতে একটা জলাশয় আছে সেটাতে স্নান করে পবিত্র হয়ে নেয়। নারী পুরুষ সবাই একই জলাশয়ে স্নান করে নেয়। এত মানুষ একসাথে জলাশয়ে স্নান করার ফলে কাদা এবং পানি মিশ্রিত হয়ে কর্দমাক্ত পানি হয়ে যায়। আর মানুষ তৃপ্তি নিয়েই দেখি সেই অপরিচ্ছন্ন কর্দমাক্ত জলাশয়ে জোর গলায় ওঁ নমঃ শিবায় বলে চিল্লাচ্ছে আর ডুব দিয়ে স্নান সেরে নিচ্ছে। আমি রীতিমতো অবাক হচ্ছিলাম ঐসকল মানুষগুলোর অন্ধত্ব ভক্তি দেখে।

আমি কোনো রকম একটা মিনারেল ওয়াটার কিনে একটু হাত পা ধুয়ে নিয়েছিলাম তা না হলে আমার সাথের মানুষগুলো আবার মনঃক্ষুণ্ন হতো।

অতঃপর রাত ১ টার দিকে শুরু করলাম দুর্গম পাহাড়ে যাত্রা উদ্দেশ্য চন্দ্রনাথের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠবো। আর আমার সাথে যারা ছিলো তাদের উদ্দেশ্য ছিলো যে শিবের মাথায় যেভাবেই হোক দুধ আর ডাবের জল ঢালবেই। এই দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে উঠতে আশে পাশের টিলাগুলোতে অনেক মন্দির পড়ে বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীর মূর্তি স্থাপিত মন্দির দেখা যায়। যাইহোক আমি তো আমার আপন গতিতে উপরের দিকে উঠে চলছি আমার সাথে সাথে সেই বড় ভাইয়ের টিউশনির বাসার দুই মেয়ে এবং তার আপন বোন আগে আগে চলে এসেছে। আর আমার সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র বড় ভাইটি ওনার টিউশনির বাসার কাকা কাকিমাকে নিয়ে রীতিমতো বিপাকেই পড়ে গিয়েছিলো। কারণ উনারা ছিলেন হার্টের রোগী। তাই আমার সেই সিনিয়র বড় ভাইটি তাদের হাতে ধরে ধরে উপরের দিকে নিয়ে আসতেছিলেন।

প্রায় এক ঘন্টা দুর্গম পাহাড়ের পথ বেয়ে অনেকটা উপড়ে উঠে গেলাম। উঠতে উঠতে অনেক ঘটনাই দেখলাম কেউ কেউ তো কিছু দূর ওঠার পর  আর সামনে এগোয় নি৷ অনেককে দেখলাম, কি উপরে মরার জন্য উঠতেছো, এসব বলতে বলতে নেমে যেতে দেখলাম। যাক তাও একটা জিনিস চিন্তা করলাম ঐসব মানুষগুলো পাথরের শিব লিঙ্গকে খুশি করার চাইতে নিজের জীবনটাকে গুরুত্ব দিয়ে কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে নিচে চলে যাচ্ছে।

যাইহোক গুটি গুটি পায়ে অনেকদূর উঠে গেলাম। কেমন রাস্তাগুলো কেমন যেন সরু হয়ে যাচ্ছে। আর সিড়িগুলোও অস্পষ্ট। মাঝে মাঝে তো সিঁড়ি খুজেই পাওয়া যাচ্ছিলো না। জাস্ট তখন ওখানকার ম্যানেজমেন্ট কমিটির উপর ঘৃণা আসে যে চন্দ্রনাথের ঐ শিব চতুর্দশীকে কেন্দ্র করে যে পরিমান ডোনেশন ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। তা দিয়ে ওরকম ১০ টা পাহাড়ের শ্বেত পাথর দিয়ে সিড়ি করা যেত পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পর্যন্ত। কিন্তু ওখানকার পূজা কমিটি তো এটাকে ব্যবসায় রূপান্তর করেছে৷ প্রতিবছর শিবচতুর্দশীকে ঘিরে তাদের রমরমা ব্যবসা।

তারা যদি ডোনেশনের ১ ভাগও ঠিকমতো ব্যবহার করতো চন্দ্রনাথের উন্নয়নের পিছনে তাহলে তীর্থ যাত্রায় আসা ভক্তদের এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না। যাইহোক রাত তখন ৩টা হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হলো সাথে সাখে বিদ্যুৎ চলে গেলো। সে এক ভীষণ ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ এমন একটা জায়গায় গিয়ে আটকা পড়লাম যেখানে রাস্তাটা একদম সরু হয়ে গেছে। কোনো রকম একটু পা স্লিপ কাটলে সোজা গিয়ে একদম পাহাড়ের খাদে।

আর সাথে নিশ্চিত মৃত্যু। যাইহোক বৃষ্টি হলে পাহাড়ের শক্ত মাটিগুলো ঢিলা হয়ে যায়৷ আর খাড়া পাহড়ের মাটিতে পা আটকিয়ে রাখা কষ্ট হয়ে যায়। আর শিবচতুর্দশীর ঐ অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পুণ্যর্জনের জন্য ছুটে চলে ঐ দুর্গম পাহাড়ে। তারা মনে করে ঐদিনটাতে শিবের মাথায় মানে পাহড়ের চূড়ায় অবস্থিত পাথরের মাথায় জল ঢালতে পারলেই পুণ্য অর্জন হবে৷

শিব পুরাণে বলা হয়ে থাকে যে যত্র জীব তত্র শিব। শিব যদি সর্বত্রই হয়ে থাকে তাহলে ঐ পাহাড়ের চূড়ায় কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হবে৷ ঘরে বসে শিবের মাথায় জল ঢাললেই তো শিবের খুশি হবার কথা। নাকি শিব পুরাণের যত্রজীব  জীব তত্র শিবের মন্ত্র ওটা পৌরাণিক গল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মানুষের এই গোঁড়ামির শেষ কোথায় যে শিবকে খুশি করতে ঐ পাহাড়ের চূড়াই উঠেই শিবের মাথায় পানি ঢালতে হবে তাহলে শিব বেশি খুশি হবে।

যাইহোক যেই মুহুর্তে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল আর বিদ্যুৎ চলে গেলো তখন ম্যানেজমেন্ট কমিটির স্বেচ্ছাসেবক দলের ছেলেগুলো সামনের দিকে আর মানুষগুলোকে এগুতে দিলো না। মোটামুটি একটা টিলার উপরে গিয়ে প্রায় হাজারখানেক মানুষ আটকা পড়লো। আর মানুষগুলো চিল্লাপাল্লা শুরু করলো৷ এমনিতেই ঐ দুর্বিষহ মুহুর্তে মানুষগুলো হাহাকার করতে ছিলো। তার মধ্যে কিছু উন্মাদ ধর্মান্ধ জোরে জোরে চিল্লাতে ছিলো জয় শিব শম্ভু, ভোলে নাথ কি ইত্যাদি ইত্যাদি।  চারদিকে একটা হট্টগোল। আমার তো রীতিমতো ভয়েই ধরে গেছিলো। যে হারে বৃষ্টি শুরু হয়েছিলো পা স্লিপ কেটে না গিয়ে খাদে পড়ি। অ্যাডভেঞ্চারগিরি দেখাতে এসে না মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে যেতে হয়৷

আমার মনে হচ্ছিলো তখন যে আসলে অনেক আগেই নেমে যাওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু সাথে তো তিনটি মেয়ে যদি নেমে যাই মেয়েগুলো আবার না কাপুরষ ভাবে। হা হা হা একটু খুনসটি করলাম। সাহস নিয়ে তাই এগিয়ে উঠে উপরে এসে ছিলাম। যাইহোক যে টিলায় আটকা পড়েছিলাম সে টিলায় একটা গাছের গুড়ি ধরে ঝুলে থাকলাম সকাল হবার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত।  কারণ সকাল হবার আগে আর তারা কোনো মানুষকেই সামনে এগোতে দিবে না। আর আমার সাথে মেয়ে তিনটেও গাছের গুড়ি ধরে কোনো রকম ঝুলে থাকলো। আর আমার সিনিয়র সেই বড় ভাইটি ও তার সেই টিউশনের বাসার কাকা কাকিমাকে নিয়ে আমাদের থেকে একটু নিচে অবস্থান করছিলো৷

আমার পাশে এক বুড়ি ঠাকুমাও ছিলো। গাছের গুড়ি ধরে৷ আমি সেই বুড়ি ঠাকুমাকে একটু প্রশ্ন টশ্ন জিজ্ঞেস করছিলাম৷ যে ঠাকুমা তোমার এই বুড়ি বয়সে শিবের মাথায় জল ঢালতে হবে কেন৷ তাও এত কষ্ট করে ঐ উপড়ে উঠছো। সে উল্টো আমারে কতকিছু বুঝাই দিলো। তার ইস্টামিনা দেখে আমি রীতিমতো ভয় পেয়েই গেছিলাম। বলতেছিলো এতো চন্দ্রনাথ এরকম আরো দশটা পাহাড়ও যদি আমার বাইতে হতো তাহলেও উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতাম। আর এতো চন্দ্রনাথ। আর বেশি ক্ষণ বাইতে হবে না।  খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। অথচ তখনও চন্দ্রনাথের গন্তব্যস্থান ঢের দূরে।

যাইহোক সকাল হলো।  মানুষগুলো আবার উপরের দিকে উঠতে শুরু করলো। ঠিক সকাল ৮ টার দিকে চন্দ্রনাথের যেই পাহাড় সেটাতে পৌঁছে গেলাম। আর চন্দ্রনাথের ঠিক আগের যে পাহাড় সেটাকে বলা হয় সীতার কুন্ড। মানে রামায়ণের যে সীতা।  সে নাকি ঐ জায়গায় স্নান করতো। দেখা যায় ওখানে ছোট একটা দেয়াল দিয়ে বেড়িগেট দিয়ে রেখেছে। মানুষ আবার সেটাকে মোমবাতি আগরবাতি দিয়ে পূজা টূজা করছিলো। আমার সাথে যারা ছিলো তারাও প্রণাম ট্রনাম করলো। আর আমি সেই ফাঁকে কয়েকটা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যের ফটো তুলে নিলাম, সাথে কয়েকটা সেলফি। পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য খুব দারুণ ভাবে উপলব্ধি করা যায়।

যাইহোক চন্দ্রনাথের পাহাড়টাতে এসে আমি এবং আমার সেই সিনিয়র বড় ভাই আর ওনার টিউশনির বাসার কাকা কাকিমা সবাই এসে একসাথে মিলিত হলাম৷ ওনারা পূজা সেরে নিচ্ছে৷ আর আমি ঝপাঝপ কতগুলো ছবি তুলে নিলাম৷ আর ঐ পাহাড়টাতে মানুষের এত ভিড়। একটা পাথরের শিবলিঙ্গের উপর জল ঢালার জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়তেছিলো। এবার নামার পালা পাহাড় থেকে। চন্দ্রনাথে উঠার জন্য একটা পথ নামার জন্য আরেকটা পথ। তো এবার নামা শুরু করলাম।

চন্দ্রনাথের নামার সময় ঠিক নিচের পাহাড়ে আবার চান্দের গাড়ি এটা পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহি গাড়ি। সেই গাড়ি বাই রাস্তা ইকু পার্ক হয়ে নিচে নেমে যায়।  যদিও ভাড়া একটু বেশি। আমি আর দেরী করলাম না। তড়িঘড়ি করে সেই গাড়িতে করে নিচে নেমে গেলাম। আর আমার সাথের ধার্মিকগুলো ধার্মিক গিরি দেখাতে গিয়ে সেই খাড়া ঢাল রাস্তা দিয়েই নেমে আসছে। তাদের আসতে আসতে দুপুর ১ টা বেজে গেছে। অতঃপর আবার কুমিল্লা ব্যাক করলাম। একটা জিনিস শুধু চিন্তা করলাম সামান্য একটা অদৃশ্য পুণ্য প্রাপ্তির আশায় মানুষ জীবনটাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *