পথশিশুদের পুনর্বাসন ভাবনা

আজ আলোকিত বাংলাদেশ নামক এক পত্রিকায় ‘চাই পথশিশুদের জন্য আলাদা নীতিমালা’ নামের একটা শিরোনাম দেখে প্রতিবেদনটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম।পড়ে ভালো লাগলো।৬জুলাই দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের কার্যালয়ে আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘বাংলাদেশের পথশিশু ও তাদের পুনর্বাসন ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা।এই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার কর্তাস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ।তারা জানিয়েছে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কথা এবং পথশিশুদের পুনবার্সনে কী করণীয়।পথশিশুদের পরিসংখ্যানের দিক থেকে মতবিরোধ আছে।ধারণা করা হয় ১৩ লাখের বেশী পথশিশু রয়েছে।কিন্তু সরকার এই পরিসংখ্যানে অঞ্জ।যাই হোক এই পথশিশুরা কিন্তু নানাভাবে অবহেলিত।আমরা জানি যে আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত।এই ১৩লাখ শিশু থেকে যে আমরা ভবিষ্যতে ভালো কিছু পাবনা তা বলা যায়না।হয়তো তাদের মাঝ হতেই আমরা পেতে পারি একজন ভালো কবি,রাজনীতিবিদ,শিল্পী,দৌড়বিদ কিংবা আরো কিছু।কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই পথশিশুদের দ্বারাই সংগঠিত হয় বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম।এজন্য দায়ী কারা?অবশ্যই পথশিশুরা না।আজকের দিনে দেখা যায় মাদকব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছে এই কোমলমতি শিশুদের এবংকি এই শিশুরা নিজেরাও আসক্ত হয়ে পড়ছে মাদকে।এছাড়া আছে শিশুপাচার।এদের মধ্যে অনেকেই হয় ধর্ষিত।যা আমাদের অবগতির বাইরে।অনেক কোমলমতি মেয়েশিশুর স্থান হয় গণিকালয়ে।এরা তো জানে না যৌনাঙ্খা কী?এরা জানে ক্ষুধা কী?আর এই দুমুঠো খাবারের লোভ দেখিয়ে কুচক্রী মানুষেরা বিক্রি করে দেয় এদের।এছাড়া ছেলেরা ১৩/১৪ বছর পেরোলেই জড়িয়ে পড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে।রাজনৈতিক দলেরা পর্যন্ত এদের ব্যবহার করে।সেদিন আমি নিজে একটি ছেলেকে দেখে চমকে গিয়েছি।চা স্টলে চা খাচ্ছিলাম সেই চা স্টলের টি বয়টিকে খুব মিষ্টি লাগলো তাই চাওয়ালাকে বললাম,ছেলেটিতো বেশ।তখন চাওয়ালা বলল,”আরে ভাই কইয়েন না।এইডা হইল বদের হাড্ডি।হারামজাদার ঘটনা শুনলে আপনে আচানক হইয়া যাবেন।হেদিন এই পোলায় আমারে কয় কী জানেন?কয় যে,’ওস্তাদ স্টিক খাবেন?আমি ২টা খাইছি আপনের লেইগা একটা নিয়া আইছি’।বুঝেন তাইলে”।আমি তো শুনে হতবাক এই ছোট্ট ছেলে যার বয়স খুব জোর ৮/৯ হবে সে কিনা গাঁজা খায়?আমি বিস্মিত হলাম।সরকার সব শিশুকেই এক মানদন্ডে দেখে কিন্তু তা ঠিক না।সরকারের উচিত এই পথশিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল রকম ব্যবস্থা নেয়া।সরকার মসজিদ মন্দির নির্মাণে বিপুল টাকা ব্যয় করছে।মসজিদ,যেখানে মানুষ কিছু সময়ের জন্য প্রার্থনা করতে যায় সেখানে এসি লাগানোর জন্য আলাদা টাকা বরাদ্দ থাকে।আমি অবাক হই যেখানে এতগুলো পথশিশু অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটায় সেখানে কীভাবে মানুষ ১৫/২০ মিনিট প্রার্থনা করার স্থানে আরাম আয়েশের জন্য এসি লাগায়?যাই হোক সরকারের উচিত এই পথশিশুদের সম্পর্কে সচেতন হওয়া।এদের সঠিক পরিসংখ্যান বের করা।জন্মনিবন্ধন করা।সরকারের হয়তো একার পক্ষে সব করা সম্ভব না সেক্ষেত্রে যে সংস্থাগুলো পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে সরকার তাদের পাশে দাড়াতে পারে।আর যে সংস্থাগুলো পথশিশুদের নিয়ে কাজ করছে তাদের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।সবকটি সংস্থা এবং সরকার যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করে তবে এই সমস্যাটা দূর যেতে পারে।তারা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করে এবং এই পথশিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং শিক্ষা,চিকিত্‍সা,খাদ্য,বস্ত্র ইত্যাদির ব্যবস্থা করে তাহলে এই পথশিশুদের মাঝ থেকেও আমরা পাব অনেক ভালো কিছু।তাদের উচিত এই পথশিশুদের সাবলম্বী বয়স হবার আগ পর্যন্ত এদের সাহায্য করা।আমাদেরও এই পথশিশুদের জন্য করণীয় অনেক কিছুই আছে।আমাদেরও এদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।কিন্তু সর্বপ্রথম সচেতন হতে হবে সরকারকে।

৯ thoughts on “পথশিশুদের পুনর্বাসন ভাবনা

  1. ভাল বিষয়ে আলোকপাত করেছেন
    ভাল বিষয়ে আলোকপাত করেছেন ।পথশিশুদের জন্য অবশ্যই আমাদের কিছু করা উচিৎ ।

  2. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কোন
    জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কোন বিকল্প নেই। আমাদের সম্পদ ও সামর্থ্য সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে সবার জন্য ভালো কিছু করা সত্যিই দুষ্কর। চীনের মতো এক সন্তান নীতিতে যাওয়া উচিৎ।

  3. সহমত পোষণ করছি।কিন্তু মানুষের
    সহমত পোষণ করছি।কিন্তু মানুষের যে খাইয়া দাইয়া কাজ নাই।তারা পুত্রসন্তান পাবার জন্য উঠে পড়ে লাগে

  4. আর অবশ্যই স্বাবলম্বি হবার পর
    আর অবশ্যই স্বাবলম্বি হবার পর বিয়ে করা উচিত।নিজেদের চরিত্রটাও দেখার বিষয়।

  5. এ কথাটা ঠিক আছে।কিন্তু আমি
    এ কথাটা ঠিক আছে।কিন্তু আমি অনেক দেখেছি শিক্ষিতরাও জনসংখ্যার ব্যাপারে সচেতন না।পুত্র সন্তান কামনায় শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই একরকম।আমার নিজের চাচাত ভাইই উত্‍কৃষ্ট উদাহরণ।আমার চাচাত ভাই এবং ভাবী দুজনই কলেজের প্রভাষক।কিন্তু আমার ভাবী এবার দিয়ে ৩য় বার কনসিভ করেছেন।আগের দুই সন্তানই মেয়ে।তাহলে এদের কীভাবে বুঝাবেন?মূল কথা জনসচেতনতা তৈরী করতে হবে।আর এখন যে পথশিশুরা আছে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।আমরা নিজেরাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে উদ্যোগী হতে পারি।

  6. পথশিশুদের জ্ন্য নীতিমালা করে
    পথশিশুদের জ্ন্য নীতিমালা করে কোন লাভ নাই। কারণ এদেশে অনেক নীতিমালা বা আইন-কানুন আছে যার কোন প্রয়োগ নাই। প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। দেশ ও জনগণের অপ্রয়োজনে অনেক প্রকল্প হাতে নেয়া হয় যার অনেকগুলিই লুটপাট হয়ে যায়। অথচ এসব পথ শিশুদের পুনর্বাসনে বাস্তব ভিত্তিক কোন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়না। শুধু কিছু এনজিও নানারুপ জরিপ পরিচালনা করেই ক্ষান্ত হয়ে যান। সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন অবস্থান থেকে এদের জন্য বিশেষ কিছু করতে দেখা যায় না। এসব পথ শিশুদের পুনর্বাসনে কিছু করার জন্য সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে।

Leave a Reply to মুকুল Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *