ধর্ম যেন মানুষ মাপার নিক্তি না হয় …… সংগৃহীত একটা পোষ্ট

আগুনের ধর্ম কী ?

বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান-হিন্দু না মুসলমান ? আগুন পোড়ায় । চারদিক থেকে পোড়ায় । এটাই তার ধর্ম । আগুন থেকে সতর্ক হওয়া তাই বাঞ্চনীয় । ধর্মের আগুন যখন বৌদ্ধের ঘর পোড়ায়, মন্দির পোড়ায়, মুসলমানের আনন্দে বিগলিত হবার কিছু নেই । মুসলমানের মসজিদে যদি আগুন দেয়া হয়, মুসলমানের বাড়িতে যদি আগুন দেয়া হয়, মুসলমানের অনুভূতি কী হবে ? সেই অনুভব -উপলব্ধি অন্যের বেলায়, অন্য ধর্মালম্বির বেলাতে জাগ্রত থাকা কল্যাণকর । নইলে ধর্মের আগুনে পুড়ে যাবে সমাজ এবং মানুষ ।


আগুনের ধর্ম কী ?

বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান-হিন্দু না মুসলমান ? আগুন পোড়ায় । চারদিক থেকে পোড়ায় । এটাই তার ধর্ম । আগুন থেকে সতর্ক হওয়া তাই বাঞ্চনীয় । ধর্মের আগুন যখন বৌদ্ধের ঘর পোড়ায়, মন্দির পোড়ায়, মুসলমানের আনন্দে বিগলিত হবার কিছু নেই । মুসলমানের মসজিদে যদি আগুন দেয়া হয়, মুসলমানের বাড়িতে যদি আগুন দেয়া হয়, মুসলমানের অনুভূতি কী হবে ? সেই অনুভব -উপলব্ধি অন্যের বেলায়, অন্য ধর্মালম্বির বেলাতে জাগ্রত থাকা কল্যাণকর । নইলে ধর্মের আগুনে পুড়ে যাবে সমাজ এবং মানুষ ।

মানুষের প্রথম পরিচয়-মানুষ, ধর্ম নয় । মানুষের পরিচয়ে মানুষ সেরা, ধর্মীয় পরিচয়ে না । কোন ধর্মই অন্য ধর্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে উস্কানী দেয় না । বরং মানবসেবাই ধর্ম বলে বিবেচিত হয় । সংখ্যালঘু মানুষের সহায় হবার শিক্ষা ইসলাম দেয় । মদীনার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রাসুল (সঃ) নিশ্চিত করেছিলেন ।

রামুতে বৌদ্ধ মন্দির এবং ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে , ভাংচুর হয়েছে । যেইসব মুসলমান নামধারী সন্ত্রাসীরা এই অপকর্ম করেছে, তাদের ইসলামী জ্ঞান শূন্য বলেই রাতভর এরকম বর্বরতা চালাতে পেরেছে তারা । বোধকরি , পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কয় রাকাত-এরকম প্রশ্ন করলে, আঙ্গুলের কর গুণে হিসেব কষতে বসতে হবে এইসব অপরাধী মুসলমানদের !

তো এই বর্বরতার পেছনের কারণটি কী ? উত্তম বড়ুয়া নামের একজনের ফেইসবুক একাউন্টে কুরান অবমাননাকর ছবি প্রকাশিত হয়েছে বলে শোনা যায় । তবে, এরকমও জানা যাচ্ছে যে, ছবির উৎস উত্তম কুমার না । উৎস ভিন দেশ । উত্তম কুমারকে ট্যাগ করা হয়েছে । আচ্ছা, যদি ধরে নেয়া যায় যে, ছবিটি উত্তম কুমারই তৈরি করেছেন এবং প্রকাশ করেছেন, তাহলেও কী এই বর্বরতা আর নৃশংসতাকে সমর্থন করতে পারে, মুসলমানরা ?

উত্তম কুমার তেমন কিছু করে থাকলে, তদন্ত হবে, দেশের আইনে তার বিচার হবে -এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া । সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে না গিয়ে রাতভর একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির এবং ৩০টির মত বাড়িঘর পুড়িয়ে লুটপাট করাতে আর যাই থাক-বিন্দুমাত্র ইসলাম নাই, এই কথা হলপ করে বলতে পারি । স্বয়ং রাসুল (সঃ) নানাভাবে নিপীড়িত হয়েছেন, নামাজের সেজদায় গেছেন, পিঠের উপর ময়লা-আবর্জনার স্তুপ তুলে দিয়েছে তাঁর নিজের গোত্রের মানুষরা-দাঁড়াতে কষ্ট হয়েছে তাঁর ,তিনি তাঁদের ধ্বংসের জন্যও কখনও দোয়া করেননি , হেদায়েত প্রার্থনা করেছেন । অন্য ধর্মালম্বির প্রতি মুসলমানের ব্যবহার এতোটাই বিনম্র হবে, যা দেখে ভিন্ন ধর্মালম্বি আকৃষ্ট হয়–এই শিক্ষা দিয়েছেন তিনি । আজকের নামধারী উগ্র মুসলমানদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখে কোন বিধর্মী ইসলামে আকৃষ্ট হওয়াতো দূরে থাক, বরং মুসলমানের ছায়াকেও ঘৃণা করবে ।
বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মালম্বির সংখ্যা যদি ২০% ও হতো, তাহলে ভয়াবহ দাঙ্গা লেগে যেতে পারতো আজ । এজন্য সংখ্যাগুরু মুসলমানই দায়ী থাকতো । প্রতিবেশী যদি দুর্বলও হয়, তার ঘর পুড়িয়ে সুখে থাকার চিন্তা আদতে বোকাটে লোকের পক্ষেই সম্ভব ।

প্রশাসন ছিলো নির্বিকার । রামুর পরে পটিয়াতেও একই ঘটনা ঘটেছে । প্রশাসন যথেষ্ট কার্যকরী ভূমীকা নিলে এরকম ঘটতো না । সংখ্যাগুরুরাই প্রশাসনের কলকাঠি নাড়ে–সব দেশেই একই চিত্র ! তাহলে আর রোহিঙ্গা হত্যার প্রতিবাদ করি কেন আমরা ? ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমান নিপীড়িত হলে এই দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে কোন মুখে ? প্রতিজন নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান রাস্ট্রের দায়িত্ব । অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে, কেউ কখনই এরকম অপকর্ম করতে সাহস করবে না আর , এরকম নজির তৈরি হোক ! এই ইস্যুতে রাজনীতি অনেক হবে আমরা জানি, সঙ্গে কাজের কাজও কিছু হোক ।

মানুষের ভেতরের পশুরা না, মানবিকবোধ সমৃদ্ধ মানুষগুলো জেগে থাকুক, বেঁচে থাকুক । মুসলমানের না, মানুষের দেশ হোক-বাংলাদেশ ।

কাটেসী ঃ আবদুর রাজ্জাক শিপন

১৫ thoughts on “ধর্ম যেন মানুষ মাপার নিক্তি না হয় …… সংগৃহীত একটা পোষ্ট

  1. খুব ভালো লিখেছেন…
    “মানুষের

    খুব ভালো লিখেছেন…
    “মানুষের ভেতরের পশুরা না, মানবিকবোধ সমৃদ্ধ মানুষগুলো জেগে থাকুক, বেঁচে থাকুক ।মুসলমানের না, মানুষের দেশ হোক-বাংলাদেশ । ”
    আপনার সাথে সম্পুর্ণ একমত পোষণ করছি…

  2. অন্য ধর্মালম্বির প্রতি
    অন্য ধর্মালম্বির প্রতি মুসলমানের ব্যবহার এতোটাই বিনম্র হবে, যা দেখে ভিন্ন ধর্মালম্বি আকৃষ্ট হয়-

    সহমত ।

    1. ধর্ম যার যার দেশ সবার।
      আমি এই

      ধর্ম যার যার দেশ সবার।
      আমি এই কথাই বিশ্বাসী। আমি অন্য ধর্মকে নিয়ে কোন কথা বলি না, বলতে চাইও না কারন অন্য ধর্ম সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না আর জানলে যে কথা বলতে হবে তা আমি মানি না।

  3. স্বয়ং রাসুল (সঃ) নানাভাবে

    স্বয়ং রাসুল (সঃ) নানাভাবে নিপীড়িত হয়েছেন, নামাজের সেজদায় গেছেন, পিঠের উপর ময়লা-আবর্জনার স্তুপ তুলে দিয়েছে তাঁর নিজের গোত্রের মানুষরা-দাঁড়াতে কষ্ট হয়েছে তাঁর ,তিনি তাঁদের ধ্বংসের জন্যও কখনও দোয়া করেননি , হেদায়েত প্রার্থনা করেছেন । অন্য ধর্মালম্বির প্রতি মুসলমানের ব্যবহার এতোটাই বিনম্র হবে, যা দেখে ভিন্ন ধর্মালম্বি আকৃষ্ট হয়–এই শিক্ষা দিয়েছেন তিনি ।

    যারা এই কথা যেনেও অন্য ধর্মের প্রতি সহিংসতা প্রকাশ করে, তারা আর যাই হোক, মুসলিম না।

  4. আমি অন্য ধর্মকে সম্মান জানাই।
    আমি অন্য ধর্মকে সম্মান জানাই। আমার ধর্মকে কেউ যদি অশালীন ভাষায় গালি গালাজ করলে যে আমি তার ধর্মকেও যে গালি গালাজ করব তা না। আমি তো কুকুর না, আমি মানুষ। অনেক এ আছে যারা শুধু ধর্মকে নিয়ে থাকে, ধর্ম নিয়ে কথাবার্তা বলে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মকে ইস্যু করে বিভিন্ন কারণ দেখাই আমার তাতে মানা নাই। তার ধর্ম সে তার নিজের মত পালন করুক শুধু একটা কথা বলতে চাই অন্য ধর্মকে যাতে গালি গালাজ না করে, পিট পিছনে যাতে কোনো কথা না বলে।

  5. ইসলাম অর্থ শান্তি অর্থাৎ
    ইসলাম অর্থ শান্তি অর্থাৎ ইসলাম ধর্ম মানেই শান্তির ধর্ম। অথচ কিছু ইসলাম লেবাসী মুর্খ ইসলামের নামে অশান্তির বীজ বপন করে যাচ্ছে। প্রথমে এদেরকেই ইসলাম শিক্ষা দিতে হবে…

    1. সেই লেবাসী মূর্খ যদি কোন
      সেই লেবাসী মূর্খ যদি কোন সমাজের মাথা হয় তাহলে তার কথা তো কেউ না মেনে পারবে না তাই বলে ওই সব লেবাসী মূর্খের কথা শুনতে হবে ? এই অশান্তির বীজ যে এখন বপন করতে আছে কিন্তু কেউ কোনো কথা বলে না এর বিরুদ্ধে , সবাই চুপচাপ শুনতে থাকে আর নীরবে দেখতে থাকে 🙁 🙁

  6. মানুষের ভেতরের পশুরা না,
    মানুষের ভেতরের পশুরা না, মানবিকবোধ সমৃদ্ধ মানুষগুলো জেগে থাকুক, বেঁচে থাকুক । মুসলমানের না, মানুষের দেশ হোক-বাংলাদেশ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *