প্রজেক্টঃ নতুন জামা সফল। নতুন জামা পড়ে ঈদ করবে দুই শতাধিক পথশিশু। (একটি জীবন্ত গল্প)

পৃথিবীতে যুদ্ধ শেষ, বন্ধ সৈনিকের রক্ত ঢালাঃ
ভেবেছ তোমার জয়, তোমার প্রাপ্য এ জয়মালা;
জানো না এখানে যুদ্ধ- শুরু দিনবদলের পালা।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য


পৃথিবীতে যুদ্ধ শেষ, বন্ধ সৈনিকের রক্ত ঢালাঃ
ভেবেছ তোমার জয়, তোমার প্রাপ্য এ জয়মালা;
জানো না এখানে যুদ্ধ- শুরু দিনবদলের পালা।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য

খুব সাধারণ একটা চিন্তা। ঈদে সবাই নতুন জামা-কাপড় কিনে। একদল হতভাগা আছে, এদের হয় বাবা সংসার ছেড়ে চলে গেছেন, নয়তো মা মারা গেছেন। এরা রাস্তায় বোতল কুড়ায়, শপিং মলের সামনে দাঁড়ায় ভিক্ষা করে। ঈদের নতুন জামা এদের জন্য স্বপ্নের খুব কাছাকাছি। আমরা যারা একটু কষ্ট করতে পারি এদের জন্য পথশিশুদের এই স্বপ্নটা পূরণ করা খুব একটা কঠিন নয়।
তো!! শুধু চিন্তা করে বসে থাকলে হবে?? কাজ শুরু করে দাও। দিলাম।
স্পৃহা আমাদের বন্ধুদের একটা সংগঠন। এই ব্যানারে একটা ইভেন্ট খোলার পরপরই রংপুরের আরও পাচটি সংগঠন যোগ দিয়ে দিল আমাদের সাথে। স্পর্শ, VBD, NCTF, নামহীন এবং টোকাই। এই সঙ্গগঠনের সবাই স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী।
এরপর শুরু ফান্ড কালেকশন। এইটা সবচেয়ে কঠিন কাজ। ছোট ছোট অপরিচিত সংগঠনগুলোকে টাকা দেয়ার লোক খুব কম। তাই প্ল্যান করা হলো সবার আগে পরিচিত আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এদের কাছ থেকেই ফান্ড কালেকশন শুরু হবে। তাই হলো। আমি শুরু করলাম ফেবুতে প্রচারণা, বড়ভাই, বন্ধুবান্ধবদের বলা। চাচাত ছোট বোনটি তার বৃত্তির টাকা থেকে দিল পঞ্চাশ টাকা, পরিচিত বড়ভাই দিল দশ হাজার টাকা, এক বন্ধু তার আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে কালেকশন করল সাড়ে পাচ হাজার টাকা, ফেবুতে অনেকে বিশ্বাস করে আমাদের বিকাশে টাকা পাঠালো। এভাবেই। বিভিন্ন সংগঠনের ভলান্টিয়াররা দিল নিজ নিজ পকেট থেকে। সবাই সবার মত করে চেষ্টা করল। এভাবেই।
এভাবেই আমরা পারলাম দুইশ নতুন জামা দেয়ার মত ফান্ড রেইজ করতে।
রংপুরের সুপার মার্কেট, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানী মোড়, শাপলা, লালবাগ, সিটি বাজার, সুরভী উদ্যান, পার্কের মোড়, শালবন, সরকারি কলেজের মোড়, জর্জ কোট এলাকায় তিনদিন ঘুরে যাদের নতুন জামা দেয়া হবে তাদের মাঝে নম্বর কার্ড (টোকেন) দিয়ে দেয়া হলো। সবাইকে বলা হলো রোববার, ৪ তারিখ, সকাল ১০ টায় টাউন হলের মাঠে। এলেই নতুন জামা পাবা।

রোববার একঘন্টা আগেই সবাই আসতে শুরু করল। কারও আর সয়না। কেউ যে আবার কাজ ফেলে এসেছে। যাই হোক, একদম অনাড়ম্বর একটা কার্যসূচীর মধ্য দিয়ে দু’শ পথশিশুর হাতে তুলে দেয়া হলো ঈদের নতুন জামা। পুরো টাউন হল চত্বর ছিল আনন্দমুখর। আনন্দের মাত্রা একগুণ বাড়াতে ভলান্টিয়ার মেয়েরা বেশ বড়সড় একটা মেহেদী উৎসবই করে ফেলল। সকল পথশিশুদের হাতে নতুন জামার একটা লাও ব্যাগের সাথে সাথে মেহেদী দিয়ে হাতও রাঙিয়ে দেয়া হলো।


এক ঘন্টা আগে থেকেই রংপুরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে টাউন হল চত্বরে ভীর জমায়।
সবার মুখে একই প্রশ্ন… নতুন জামা দিবেন কখন??????
ও ভাইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইই……


ভলান্টিয়ার কার্ড রেডি তো!! ভলান্টিয়াররা সব কই!!! ফাকিবাজের দল


দুইশ জনকে তো একেবারে দেওন যায় না। বিশৃংখলার সীমা থাকবে না। তাই তিন সারি করানো হলো।


কে কত আগে যেতে পারে… ঘাড়ের উপর লাইন…


নতুন জামা উপহার দেয়া স্টার্ট। এরে দিয়েই শুরু… —


চলছে.


সে হেভভি খুসি


লাইনে দাঁড়ায় থাকতে থাকতে অনেকের পিপাসা পেয়ে গেল!! বেরোজদারের দল। পানি খাওয়ালো এই মেয়েটি। সে অনেক খাটছে অবশ্য..


ব্যাগ তো পাইছি। এবার কোনদিক দিয়ে পলাই????


যারা আগে ভাগে জামা পেয়ে গেল তারা ছায়ায় বসে পর্যালোচনা শুরু করল কার জামা কত বেশি ভালো হলো!!


সে একা একা দেখছে পছন্দ হইছে তো!! সাইজ ঠিক আছে তো!!


নাহ, ঠিকই আছে। এবার প্যাকেটে ভইরা ফেলি। অন্য কেউ দেখে ফেলতে পারে।


সবাইকে বলা হইছিল প্যাকেট নিয়েই যেন চলে না যায়। একটা গ্রুপ ছবি তোলা হবে। কিন্তু যারা আগে পেয়েছে তারা এতক্ষণ বসে বসে কি করবে!! শুরু হলো তাদের হাতে মেহেদি লাগানো। এই ব্যাপারটা মেয়েরাই সামলালো…


নকশা…!!!


শেষ পর্যায়ে…


প্যাকেট নিয়ে সবাই জড়ো হচ্ছে … একসাথে…


দৌড়া… দৌড়া… তাড়াতাড়ি নিয়ে নে… তোর নতুন জামা…


আরে কি মজা রে…


এদিকে মেহেদী লাগানোও চলছিল… ছেলেমেয়ে সবাই. :বিষয়ডাকী:


হিপহিপ হুররে… :নিষ্পাপ:


শেষ কাজ…
মুড়ি ভাজ…

এসো ছবি তুলি — 😀


ভলান্টিয়ার টিম..

এখন হয়তো এভাবে সংগঠিত হবার সময় নেই। আগামীকালই ঈদ। আসুন একদম নিজের অবস্থান থেকে যে যেভাবে পারি সেভাবে ঈদটাকে সবার জন্য সমান আনন্দের করে তুলি।

৮ thoughts on “প্রজেক্টঃ নতুন জামা সফল। নতুন জামা পড়ে ঈদ করবে দুই শতাধিক পথশিশু। (একটি জীবন্ত গল্প)

  1. স্যালুট আপনাদেরকে।
    সবার মাঝে

    স্যালুট আপনাদেরকে।

    সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক ঈদের আনন্দ ।ঈদ মোবারক ।

  2. ভাই অসাধারন কাজ করেছেন
    ভাই অসাধারন কাজ করেছেন অসাধারন অসাধারন …… ছবি গুলো দেখে কি যে ভালো লাগলো ভাই বলে বুঝাতে পারবোনা …… :bow: আপনাদের …………ঈদ মোবারক

  3. অন্যের জন্য কিছু করতে পারার
    অন্যের জন্য কিছু করতে পারার মাঝে যে কি একটা আনন্দ আছে তা খুব কম মানুষের বুঝতে পারে। আমি গত কাল এক গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়েছি তার এখন নতুন। ছোট একটি দল। কিন্তু এর মধ্যেই দুইটি ইভেন্ট করে ফেলেছে তারা।

    আপনাদের কে :salute: :salute: :salute:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *