ধর্ষিত ‘তিথি’ ও একটি প্রশ্ন

তিথি–আমি আপনার ছোট বোনের সমান হব, আমাকে ছেড়ে দেন। আমাকে বাসায় যাইতে দেন। আমাকে এইরম কইরেন না। আমার বয়সটাও এত বেশী না। আমি অনেক ছোট একটা মেয়ে।
ধর্ষক—তুই বোনের নাম নিস না, আমার মায়ের নামও নিস না, তাইলে তোরে মাইরা ফেলব আমরা।
তিথি—আমাকে এত কষ্ট না দিয়ে আপনি এক কাজ করেন, আমাকে মাইরা ফেলেন। গলায় চিপে দিয়া মাইরা ফেলেন।
ধর্ষক—না, তোরে তো মারলে ‘Enjoy’ কইরা মজা পাব না। জিন্দা মানুষের সাথে মজা করার মাঝে আর মরা মানুষের সাথে মজা নাই।

তিথি–আমি আপনার ছোট বোনের সমান হব, আমাকে ছেড়ে দেন। আমাকে বাসায় যাইতে দেন। আমাকে এইরম কইরেন না। আমার বয়সটাও এত বেশী না। আমি অনেক ছোট একটা মেয়ে।
ধর্ষক—তুই বোনের নাম নিস না, আমার মায়ের নামও নিস না, তাইলে তোরে মাইরা ফেলব আমরা।
তিথি—আমাকে এত কষ্ট না দিয়ে আপনি এক কাজ করেন, আমাকে মাইরা ফেলেন। গলায় চিপে দিয়া মাইরা ফেলেন।
ধর্ষক—না, তোরে তো মারলে ‘Enjoy’ কইরা মজা পাব না। জিন্দা মানুষের সাথে মজা করার মাঝে আর মরা মানুষের সাথে মজা নাই।

কথা গুলো অবলীলায় বলে দিয়েছে তিথি। হ্যাঁ কিছুক্ষন কেঁদেছেও। কিন্তু তার দু ফোটা জলে কিই বা আসে যায়? শরীর থেকে লবনের পরিমান কমে যাবে এর বেশী কিছু না। কথা গুলো শুনে আমার হাত কেপেছিল। লিখছি, এখনো কাপছে। এর বেশী কিছু হয় না। আমার বোন আছে। তার গলার আওয়াজ যখন আমি ত্তিথির স্থানে রাখলাম তখন আমার ‘অনুভুতিহীন আবেগ’ নামক অবস্থা হয়েছিল। কিছুক্ষন আমার বোনের হাসি খুশি চেহারার দিকে তাকিয়ে চিন্তা করেছিলাম তার চিৎকার। সহ্য করার মত না সে চিৎকার। এই ঘটনার পর তিথির ধর্ষক‘দের’ মধ্যে দুই জনকে আটক করা হয়। তাও তারা এখন জামিনে ঘুরে বেরাচ্ছে। সবাই এখন বসে তালি বাজান। আপনাদের একেকজনের একেকটা গ্যাং! আমি একটা গ্যাং এর আশা রাখি “RP Gang” রেপিস্ট পুন্দক গ্যাং।
প্রথম ব্যাচের কাছে ধর্ষিত হবার পর তিথিকে যে চরে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে এক মাঝি আরো তিন জনকে নিয়ে আসে। তার পর তিথির বক্তব্য—

সেই মাঝি আরো তিনজন লোক নিয়ে আসে। সেখানে দুইজন ছিল আমার বাবার বয়সী আর একজন ছিল আমার বড় ভাইয়ের চেয়েও বড়। সেখানে যে ফার্স্ট লোকটা সে আমাকে মেয়ে ডাকে। বলে ‘তুমি আমার মেয়ের সমান’ । যখন আমাকে মেয়ে ডাকে তখন মনে হইল কি যে, যাক উপর থেইকা একটা ‘ফেরেস্তা’ নিচে নামসে। এবার আমি বাঁচব। যেমনেই হোক আমি বাঁচব। সে আমাকে কিছু করবে না। বাবা কি কখনো মেয়ের সাথে কিছু করতে পারে? কখনই করতে পারে না। সে আমাকে মেয়ে ডাকসে, That means সে আমাকে বাচাবে। কিন্তু সে বাবা যে নরপিচাশের মত কিছু করতে পারে, কোন আমি কল্পনাও করতে পারি নাই। ঐ বাবাও আমার সাথে একি কাজ করে। আরেক জন লোক ছিল। সে আমাকে বোন ডাকে। নিজের মা’র পেটের বোন। সেও আমার সাথে একই কাজ করে। আরেকজন লোক ছিল সেও একই কাজ করে।

বাবা কি কখনো মেয়ের সাথে কিছু করতে পারে? কখনই পারে না। ভাইও পারে না। মায়ের পেটের ভাইওনা। নারী লোভ এমনি একটা জিনিস যেটা বাপকে পিচাশ বানাতও সক্ষম হল। আমি আমার পিতার দিকে তাকিয়ে ভাবি, যে, আমার পিতা কি এরকম? আমি কারো ভাই। আমি কি এরকম? হয়তোবা না। আপনিও কারো ভাই, কারো পিতা আপনার বিবকে কি বলে? সেটা জানার ইচ্ছা আমার মাঝে নাই। কিছু সপ্তাহ আগে চট্টগ্রামে ধর্ষনের বিরুদ্ধে এক মানব বন্ধনে মাত্র এসেছিল ৩৫ জন মানুষ। মানুষের বিবেক সম্পর্কে ধারনা আমার হয়ে গেছে।
এখন প্রশ্ন করতে চাই সেই সব সুশীলদের, যারা হাজার-লক্ষ্যাধিক মানুষ নিয়ে এক-একটা ইভেন্ট করেন। “আপনারা কই? বিবেক কি এখন আর কাজ করছে না? কোথায় সেই গালভরা নামের এক এক জন দেশপ্রেমিক ব্লগার? যারা একাত্তরের ধর্ষিতাদের পক্ষে অনেক কাজ করে গেছেন? অনেক আন্দোলন করেছেন? কোথায় সে সকল নারীবাদী রা? যারা টেলিভিশনে শুধু বয়ান দিয়ে গেছেন? আপনাদের কি একটু সময়ও নেই, এই মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর?”
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তোবা আমি আর পাব না। আমার দরকার নেই। আমার একটি প্রশ্নের উত্তর যানা চাই। যেটা করেছিলেন তিথির বড় বোন। কেঁদে কেঁদে তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন-

আমাদের সমাজে কি কোন বিবেকবান মানুষ নাই? দেশপ্রেমিক মানুষ নাই? আমি বড় ক্লান্ত হয়ে গেছি এই মামলা লড়তে লড়তে! Please Help Me.

মানুষ আজ আর মানুষ নেই
তারা চোখ বিহীন কুকুর।

২৬ thoughts on “ধর্ষিত ‘তিথি’ ও একটি প্রশ্ন

  1. তিথির সম্পূর্ণ ঘটনা শুনতে
    তিথির সম্পূর্ণ ঘটনা শুনতে ডাউনলোড করে নিন, জাহা বলিব সত্য বলিব’র তিথির পর্ব টি।
    ফিউশান বিডি থেকে

    অথবা ABC Radio’র অফিশিয়াল সাইট হতে

  2. আমরা সবাই ই কোন না কোন ভাবে
    আমরা সবাই ই কোন না কোন ভাবে ধর্ষক! কেউ ধর্ষন করে, কেউ ধর্ষনকে সমর্থন দিয়ে, কেউ ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে, কেউ ধর্ষনবিরোধী আইনের বিরুধীতা করে, কেউ ধর্ষন বিষয়ে মৌন থেকে….,,,,!
    যেখানে সবাই ধর্ষক সেখানে তিথিদের কথা কে বলবে?

    তিথিরা স্বশক্তিতে বাচুক নয়তো নষ্ট জীবনের কাছে হার মেনে আত্মহুতি দিক! এটাই ভাল!

    1. আর আমরা আমাদের চোখ দিয়ে
      আর আমরা আমাদের চোখ দিয়ে রাস্তা ঘাটে প্রতিনিয়ত ধর্ষন করছি এই বোনদের সেই কথা টা মিস করলেন।

      1. মিস করে গেছি। মাথা কাজ করছিল
        মিস করে গেছি। মাথা কাজ করছিল না। যা মনে এসেছে তার অনেক সংযত একটু রূপ প্রকাশ করেছি।

  3. কোন সমস্যার সমাধান মৃত্যু হতে
    কোন সমস্যার সমাধান মৃত্যু হতে পারে না। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান আমার জানা নেই। আমরা আন্দোলন করি, ব্যর্থ হই; কখনো কখনো সফল হই। আর সফল হওয়ার পর আমাদের মনে থাকে না আমরা কেন আন্দোলন করেছিলাম।

  4. মৃত্যু সমস্যার সমাধান না।
    মৃত্যু সমস্যার সমাধান না। মৃত্যু হল জীবন্ত ‘সুশীল সমাজ’ এর উপর ঘৃণা নিয়ে সরে যাওয়া। এই সুশীলরাই ধর্ষিতার হয়ে কথা বলবে কিন্তু একটা ধর্ষিতার সাথে কারো বিয়ে হলে ছেলেটিকে নাক সিটকাবে। তাহলে ধর্ষিতা বোনটি কোথায় যাবে? পরলোক গমন ছাড়া তার সামনে আমরা কী আর কোনো পথ খোলা রেখেছি????

    1. খোলা রাখিনি। কিন্তু চেস্টা
      খোলা রাখিনি। কিন্তু চেস্টা করতে হবে তার জন্য নতুন পথ তৈরি করে দেয়ার জন্য। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় বলে একটা কথা আছে না?

  5. ঘটনাটা সত্যি অনেক খারাপ
    ঘটনাটা সত্যি অনেক খারাপ লেগেছে শুনে আমি নিজেই ঐ পর্বটা ডাউনলোড করে শুনেছি মেয়েটার যথেষ্ট দোষ আছে হয়তো ওর এই করুন পরিণতি দেখে অনেকেই খুশি হয়েছে যাদের সাথে ও খারাপ ব্যবহার করেছে কিন্তু একটা মেয়ের সবচেয়ে বড় জিনিস ইজ্জত আজ সেইটুকু তার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে কিছু মানুষ্রপী কুত্তা আর সেই কুত্তাগুলোরে জামিন পেয়েও গেলো হুমকি ও দিচ্ছে আর তিথির বোন বলেছে উনারা নাকি বাসা ও পরিবর্তন করে ফেলবে !! বাসা পরিবর্তন করলে কি ওরা বেঁচে যাবে মনে হয়না ।। আর যে লোকটা নিজের মেয়ে বলে ধর্ষণ করে উনি কি মানুষ ?? জানিনা এর শেষ কোথায় শুধু জানি তিথির এই লজ্জার ভার আমাদের পুরা জাতির এর কষ্টের ভার হয়তো তার একার……

    1. তিথির দোষ যা ছিল, সেটার
      তিথির দোষ যা ছিল, সেটার ভিত্তিতে ৯-১০ জনের কাছে টানা রেপ হওয়া একটু বেশীই হয়ে যায়। যারা বলে যে, তিথির সাথে ঠিক কাজই হয়েছে, তাদের বিবেক যে কোন পর্যায়ের তা আমার যানা নেই। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যাদের চিন্তাধারা এক্কেবারে নি,নপর্যায়ের। তাদের ইচ্ছা করলেও টেনে তোলা যাবে না।

  6. এখন প্রশ্ন করতে চাই সেই সব

    এখন প্রশ্ন করতে চাই সেই সব সুশীলদের, যারা হাজার-লক্ষ্যাধিক মানুষ নিয়ে এক-একটা ইভেন্ট করেন। “আপনারা কই? বিবেক কি এখন আর কাজ করছে না? কোথায় সেই গালভরা নামের এক এক জন দেশপ্রেমিক ব্লগার? যারা একাত্তরের ধর্ষিতাদের পক্ষে অনেক কাজ করে গেছেন? অনেক আন্দোলন করেছেন? কোথায় সে সকল নারীবাদী রা? যারা টেলিভিশনে শুধু বয়ান দিয়ে গেছেন? আপনাদের কি একটু সময়ও নেই, এই মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর?”

    ভাই ফেসবুকে সবাই গোয়িং দিতে পারে কারণ সেটা ভার্চাল লাইফ। কিন্তু বাস্তবে কাউকে পাওয়া যায় না।
    আসলে আমাদের সংস্কৃতি টাই এমন আমরা কি আমাদের পরিবারের সামনে বলতে পারি বাবা আজ এই মেয়েটা ধর্ষিত হয়েছে এর ধর্ষণ কারীর বিচারের দায়িত্ব আমাদের। চলো আমরা যাই। এগুলো তো বলিই না বরং আমরা লুকিয়েও যদি কিছু করি বাসায় উল্টো কথা শুনতে হয় তাই অনেকেই আসে না।

    আর আমি এই ধর্ষনের বিরুদ্ধে সবসময়ই কথা বলে গিয়েছি। কিন্তু সারা পাইনি কারো। পূর্নিমা যখন ধর্ষিত হল তখন এমন এক মানব বন্ধনের ডাক দেয়া হয় আমি সেটা ইস্টিশনেও তুলে ধরেছিলাম কিন্তু লোক হল হাতে গোনা কয়েক জন।

    এদের কি করা উচিত বলেন। পুরুষাং কাটলে সে শুধু সেক্স থেকে বিরত থাকবে কিন্তু অন্যরা জানবে না সে ধর্ষক এমন এক ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে এদের দেখেই সবাই বুঝতে পারে এরা ধর্ষক। তিলে তিলে মরবে তারা

  7. পাশের দেশ ভারতে ধর্ষনের
    পাশের দেশ ভারতে ধর্ষনের বিরুদ্ধে এতো বড় আন্দোলন হয়ে গেলো, আমরা সেটা থেকেও শিক্ষা নিলাম না। :মাথাঠুকি:

  8. আসলে মানুষের মধ্যে যে কিভাবে
    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: আসলে মানুষের মধ্যে যে কিভাবে মনুষ্যত্ব না থেকে পারে সেটা দেখেচ নিয়েছি। শিক্ষা এরা নিতে পারে না কখনই। :মাথাঠুকি:

  9. আমি বিষ্মিত,স্তব্ধ।আসলে এই
    আমি বিষ্মিত,স্তব্ধ।আসলে এই ধর্ষণের বিরুদ্ধে কাজ করতে হলে গোড়া থেকে শুরু করা উচিত।আর আমি মনে করি গোড়াটা হল বিবেককে জাগ্রত করে তোলা।এবং ধর্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা ।

    1. সেটা ঠিক। বন্ধুরা মিলে ঘুরতে
      সেটা ঠিক। বন্ধুরা মিলে ঘুরতে গেলেও ভয় করে। যদি কেউ কিছু করে ফেলে! এই ভয় সব সময় কাজ করে।

  10. অবস্থা এখন সমাজের এত খারাপ যে
    অবস্থা এখন সমাজের এত খারাপ যে রাস্তায় বের হতেও ভ​য় করে। মানুষএর থেকে খারাপ প্রানী এই বিশ্বজগতে নাই কথাটা বারবার মনে প​ড়ে।

  11. অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে নতুন
    অপরাধীদের শাস্তি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।তবে তিথিকে যেন এই ঘটনার বেদনা বয়ে বেড়াতে না হয়।তিথি তুমি জীবনে অনেক বড় কিছু হও।বড় কিছু হতে না পারলেও মানুষ যেন তোমাকে তাদের লোক ভেবে তোমার নামকে গৌরবান্বিত করে তোলে।ওই মুহূর্তগুলোকে ভোলানোর জন্য তোমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের যা যা কিছু করা দরকার তারা যেন তা-ই করে।

Leave a Reply to দুরন্ত জয় Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *