আমার বর্ষারানী (পর্ব – ৪)

অত:পর রাত্রি শেষ হয়ে ভোরের আলো ফুটল । বাহিরের ও ভেতরের ঝড় বৃষ্টি থেমে গেছে । জানালার পর্দা ভেদ করে ভোরের মৃদু আলোর উঁকিঝুঁকি । সেই আলোয় দেখলাম আমার বর্ষারানী বাচ্চাদের মত গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে । জানালার পর্দার নড়াচড়ার সুযোগে ভোরের আলো এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে ওর কপোল । খুব হিংসে হল আলোর প্রতি । আলতো করে হাত রাখলাম ওর মাথায় । হাতের আঙ্গুলগুলো বিলি কেটে যেতে লাগল ওর এলোমেলো চুলে । ও চোখ মেলল । বললাম ওঠ সোনা , সকাল হয়ে গেছে । ও আমার হাত চেপে ধরে বলল
-আর একটু ।


অত:পর রাত্রি শেষ হয়ে ভোরের আলো ফুটল । বাহিরের ও ভেতরের ঝড় বৃষ্টি থেমে গেছে । জানালার পর্দা ভেদ করে ভোরের মৃদু আলোর উঁকিঝুঁকি । সেই আলোয় দেখলাম আমার বর্ষারানী বাচ্চাদের মত গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে । জানালার পর্দার নড়াচড়ার সুযোগে ভোরের আলো এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে ওর কপোল । খুব হিংসে হল আলোর প্রতি । আলতো করে হাত রাখলাম ওর মাথায় । হাতের আঙ্গুলগুলো বিলি কেটে যেতে লাগল ওর এলোমেলো চুলে । ও চোখ মেলল । বললাম ওঠ সোনা , সকাল হয়ে গেছে । ও আমার হাত চেপে ধরে বলল
-আর একটু ।

পাগলীর কান্ড দেখে বাধ্য হয়ে শুয়ে পড়লাম আবার । আমার উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য ছয় ফুট লম্বা এই জলজ্যন্ত আমি কে সে কোলবালিশে পরিণত করল । আমি বললাম
-ওরে ঘুমকাতুরে মেয়ে এত ঘুমাস কেন ?
জবাব এল না । সে নিদ্রাদেবীর কাছে সঁপে দিয়েছে আপনাকে । সেলফোনটা নিয়ে অভ্যাসমত রবীন্দ্রসঙ্গীত চালিয়ে দিলাম। হালকা আওয়াজে বাজতে লাগল “ আনন্দলোকে…মঙ্গলালোকে…”। এখন আর উঠতে ইচ্ছে করছে না। রবিবাবু পারেনও মানুষকে পাগল করতে! আমার অনেক কাজ যে বাকী । ওকে পৌছে দিব ওর মেসে । তারপর অফিসের কাজটি সেরে যেতে হবে হরতালবিরোধী মিছিলে । আজ মুজাহিদের রায় । সেই কুখ্যাত রাজাকার মুজাহিদ যে দম্ভ করে বলেছিল কিসের যুদ্ধাপরাধী ! জানি আজ তার দম্ভের সাময়িক পতন হবে । সরকার এই রায়ে সমতা বিধান করবে । তবু আজ মিছিল হবে গো আজমের ফাঁসির দাবীতেই । কিন্তু আমার বর্ষারানীর সকাল হয়নি এখনো । আমি ওর নিষ্পাপ মুখটির দিকে তাকিয়ে আছি । ফ্যানের বাতাসে চুলগুলি উড়ে উড়ে পড়ছে ওর মুখে । জানিনা কেন এতটা মায়াভরা ওর মুখটি । যে মায়ার জালে বন্দী হয়ে দাসে পরিণত হতে পারে যে কেউ । কিন্তু আমি বড্ড পাষাণ । আমায় টানে পিচগলা রাজপথ ।
-কয়টা বাজে রে ?
আমি বললাম -পৌনে আটটা । কতক্ষণ ঘুমিয়েছিস কুম্ভকর্ণ কোথাকার ! ওঠ
ও আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে বসে । বলে
-তুই এত আদর করলে আমার তো ঘুম আসে ।
-আর আদর করব না । ধরে মার দিব ।
-দিস । তুই মারলেও আমার ভাল লাগে । এখন কোথায় মরতে যাবি বল ?
-তোকে তোর খাঁচায় পৌছে দিয়ে আমি যাব মিছিলে ।
-তুই আবার মিছিলে যাবি ?
-কেন নয় ম্যডাম ?
-যা মর গিয়ে ।
-মরলে তুই আরেকটার সাথে প্রেম করবি ।
-বালের গপ্প । বলেই লাফ দিয়ে নেমে পড়ে বিছানা থেকে । হনহন করে বাথরুম থেকে এসে রেডি হয়ে দাঁড়ায় । আমি বলি -বাহ: বিউটিফুল ।
-আমি চললাম ।
-দাঁড়ান দাঁড়ান ম্যডাম এক মিনিট ।
বলেই আমি দ্রুত রেডি হয়ে নিই । বের হবার আগে ওকে জড়িয়ে ধরে বলি
-তোকে অনেক ভালবাসি সোনা।
ও হুটোপটি করে হাত ছাড়িয়ে নেয়। তারপর হাঁটতে থাকে। তারপর রিক্সায় ওর মেস পর্যন্ত একটি কথাও বলেনি আমার সাথে। আমিও আর উল্টোপাল্টা কিছু বলে ওকে রাগিয়ে দিইনি। জানি এই রাগ রাত্রি পর্যন্ত চলবে। তারপর এমনিতেই গলে যাবে অভিমানের বরফ। ওকে বিদায় দিয়ে অফিসের কাজে যাই। ফিরে দেখি মিছিলের প্রস্তুতি চলছে। অনেক লোক জমায়েত হয়েছে। আর তাদের মাঝে একজন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমার বর্ষারানী। আমি কাছে যেতেই ও লাজুক হেসে আমার হাত ধরল। মিছিল শুরু হয়ে গেল। হাতে হাত রেখে গর্জে উঠলাম আমরা।

৪ thoughts on “আমার বর্ষারানী (পর্ব – ৪)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *