প্রথম লাউ।

একাত্তরের মার্চের দিকে। এই গ্রামে এখনো চিন্তার হাওয়া লাগে নি। বাচ্চু আর সাজু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আদুবাড়ির কোনায় কি সুন্দর একটা লাউ ধরেছে! বকুল এক পা আগাতে গেল, সাজু ধরে ফেলল।
“যাইস না বকুল থাপ্পড় খাবি, অরা টের পাইয়া যাইব।” বাচ্চু মুচকি হাসে।
মুরগির বাচ্চা তোরা দুইটা, আমি একাই পুরাটা আনতে পারমু দেখ চাইয়া চাইয়া।
সাজু আর বকুল শ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে থাকে। বাচ্চু আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় লাউটির দিকে।………………………………..
দুইঘন্টা পরের কাহিনী। আদুর বৌ তেড়ে আসে মাস্টারবাড়ির দিকে।


একাত্তরের মার্চের দিকে। এই গ্রামে এখনো চিন্তার হাওয়া লাগে নি। বাচ্চু আর সাজু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আদুবাড়ির কোনায় কি সুন্দর একটা লাউ ধরেছে! বকুল এক পা আগাতে গেল, সাজু ধরে ফেলল।
“যাইস না বকুল থাপ্পড় খাবি, অরা টের পাইয়া যাইব।” বাচ্চু মুচকি হাসে।
মুরগির বাচ্চা তোরা দুইটা, আমি একাই পুরাটা আনতে পারমু দেখ চাইয়া চাইয়া।
সাজু আর বকুল শ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে থাকে। বাচ্চু আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় লাউটির দিকে।………………………………..
দুইঘন্টা পরের কাহিনী। আদুর বৌ তেড়ে আসে মাস্টারবাড়ির দিকে।

“ঐ মাহফুজা তোমার বিচ্ছু পোলাগুলারে সামলা। তর বড়ডা আমার এত সাধের পরথম লাউডা ছিড়া লইয়া গেসে।আমার বাড়ি লঙ্গরখানা না, আমার বাগান তোমার গনিমতের মাল না বুজছো?”

মাহফুজা চুপ করে কথা শুনলেন। গালাগালি চিল্লাচিল্লি শেষে আদুর বৌ বাচ্চুর হাতে ধরা লাউটা নিয়ে গটগট করে চলে গেল। এবার মাহফুজা বাচূর ঘাড় ধরে মার শুরু করলেন।
“শুয়োর তুই কেন অগো লাউ চুরি করতি গেলি! আমার না মরা পর্যন্ত শান্তি হয় না?” এমন সময় লতিফ পাটোয়ারি ওরফে মাস্টার সাব ঘরে ধুকলেন। একপাশে ছাতা আর অন্যপাশে বেতটা রেখে বললেন,” অ শিরিনের মা ভর দুপুরে কি শুরু করলা? ছ্যারাগুলারে একটু খেলতি দাও ছ্যারামানুষ অরম একটু করবোই।” এবার জলন্ত আগুনে ঘি পড়লো।

” ঐ বুড়া আটটা জন্ম দিছস আবার আমারে শিখাস পোলাপান ক্যামনে মানুষ করতে হয়? এত বড় একটা মেয়ে ঘরে আসে বিয়া দেওনের কোন খবর নাই তর মাথা আমি হিছা দি ভাঙমু..”
হল্লার মাঝ দিয়ে বাচ্চু ঘর থেকে বের হয়ে পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে আছে। মারের দাগের সাথে তার গালে কান্নার দাগ শুকিয়ে আছে। শিরিন গিয়ে তার পাশে বসলো।” ব্যাথা লাগসে?”.”হুম” ফোঁপানোর আওয়াজ বাচ্চুর মুখে।
“আর কান্দিস না, আমি ঘরের পাশে লাউয়ের বিচি লাগাইসি। কিছুদিনের মধ্যেই লাউ ধরব, তখন পরথম লাউটা তুই ছিড়বি, কিন্তু প্রতিদিন গাছের যত্ন করা লাগবে, বুজছোস?”। বাচ্চু হাসি মুখে মাথা নাড়ায়।…………….
আম্মা ঘরে আছেন? কাচুর শব্দে মাহফুজা ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।
“আরে কাচু তুমি! আসো বাবাজি। পড়াশুনা কেমন চলে?”।
” এইতো ভালই, ঘরে কাউকে দেখিনা যে!” আড় চোখে কাচুর চোখ শিরিনকে খুজতে থাকে।
” হ আর আমি জলজ্যান্ত মানুষ তো গায়েব হয়া গেছি গা।” বিরক্ত চোখে মাস্টার কাচুকে দেখে। কাচুর মনের কথা তিনি বুঝেন। কিন্তু এই ফকির ছেলের সাথে তিনি শিরিনের বিয়ে দিতে রাজি নন। আর গ্রামের মানুষ ই বা কি বলবে। শিরিন আর কাচু একসাথে পড়ে। অবশ্য দেশের এই অবস্থায় পড়াশোনা লাটে উঠেছে। মার্চের ভয়াবহ দিন চলছে, শেখ সাহেব রণহুঙ্কার ঘোষনা করেছেন। কিসের থেকে কি হয় তা বলা যায় না। তিনি সরকারি স্কুলের মাস্টার, এসব দিয়ে তার কি। ঘরে আটটা সন্তান আছে তার পালার। কাচুর প্রতি তাই তার কোন দৃষ্টি নেই।
কাচু বললো,” আচ্ছা আম্মা আমি তাহলে একটু পুকুর ধরে দুইটা মাছ ধরে লই? আপনাগো পাঙ্গাস খলবলাইতে দেখছি কাইল।” মাহফুজা হাসেন,যাও নেও।
কাচু আস্তে করে পুকুর পাড়ে তার জালটা নিয়ে আসে। সে একটু আগে শিরিনকে এখানে বাসন ধুতে দেখেছে। শিরিন তখন ছাই দিয়ে বাসন ধুচ্ছে। কাচু এসে দাড়ায়। শিরিন কেমন আছো? প্রশ্নে সে চমকে যায়।
কাচুকে সে কেন যেন দুই চোখে দেখতে পারে না। তাই বিরক্ত হয়ে বলে,” আবার আসছোস! তোমারে কইসিনা তুমি এইখানে আইবানা!লির্লজ্জ বেহায়া পুরুষলোক।” কাচু হাসে। শিরিন তুমি যাই কও তুমি জানো যে আমি তোমারে বিয়া করবার চাই। আমারে ঠেকান যাইবো না।”শিরিন মুখ উল্টায়।”অ আমার রাজার পুত তুমি করবা আমারে বিয়া। ফকিন্নি কথাকার।” কাচু আবার হাসে। ভাইব না কিছুদিনের মধ্যে আমি বড়লোক হয়ে যামু। তখন দেইখো। কাচু চলে যায়। বিতৃষ্ণায় শিরিনের মুখ কুচকে যায়। সে একদলা থুথু ফেলে আবার বাসন মাজতে থাকে।….

অগাস্টের পহেলা সপ্তাহ। আসাসুনি এখন পাক বাহিনীর দখলে। মাস্টারবাড়ি একটা স্কুলের কোয়ার্টার ছিল তার পাশেই স্কুলের পাশের বড় বিল্ডিংটাতে পাক বাহিনী ক্যাম্প করেছে। কাচু সেখানে রাজাকার এর কাজ করে। মাস্টার সাব তার পরিবার নিয়ে এখনো কোয়ার্টারেই আছে। রাজাকারদের মাঝে কিছু তার ছাত্র আছে, তারা নিশ্চয়তা দিয়েছে তার পরিবারের গায়ে টোকাটি লাগবে না। তিনি যদ্দুর যানেন তার কিছু ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাও হয়েছে।তিনি জানেন এভাবে থাকাটা বিপজ্জনক। কিন্তু তার কিছু করার নেই। সময়মতো পালাননি তিনি, এখন বড় দুটি মেয়ে শিরিন আর নার্গিসকে নিয়ে পালানোর সুযোগ নেই। সবচেয়ে ছোট মিঠু দুধের শিশু।থেকে থেকে কেঁদে ওঠে আর তার মুখ চেপে ধরতে হয়। বাঘের মুখে আছেন তিনি। এখন কাচুই ভরসা। শিরিন আর নার্গিস সহ কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয়না। কিন্তু বাচ্চু আর বাবু ফুসফাস করে বের হয়ে যায়। তাদের জন্য বেশি ভয় লাগে। মাহফুজাও ভয়ে মারেননা পাছে ছেলেগুলো কেঁদে ওঠে। পাকি সাহেবরা কান্নার শব্দ খুব অপছন্দ করেন।এর মাঝে একদিন কাচু এসেছে। সে বারবার চাইছে শিরিনের সাথে তার বিয়েটা হয়ে যাক। কিন্তু শিরিন বারবার না র করছে। মাহফুজা এটা নিয়ে চিন্তিত।কাচুকে চটানো ঠিক হচ্ছে না।এর মাঝেই লাউয়ের গাছটি বেশ বড় হয়েছে। সাবধানে সেখানে মাচা বেধে দিয়েছে শিরিন। গোল গোল লাউও ধরেছে। সেই সময় যত্নের বেশ প্রয়োজন, নাহলে ফল বড় হবার আগেই ঝরে যায়। বাচ্চু এগুলোর জন্য খুব মন লাগিয়ে আছে। কবে বড় হবে আর কবে সে তাদের নিজেদের লাউ ছিড়তে পারবে! ……………..
কাচু সেদিন বাসায় এল। মাস্টার তখন বাসায় নেই। সরকার থেকে হুকুম জারি হয়েছে, প্রতিদিন স্কুলের ঘন্টা বাজিয়ে জানান দিতে হবে যে স্কুল চলছে, ছাত্র আসুক আর না আসুক। সাজু তার সাথে গিয়েছে। বাচ্চু, বকুল আর বাবু পুকুর পাড়ে খেলছে। ওইদিকটা পাক বাহিনীর ক্যাম্প থেকে দেখা যায় না। ঘরে মাহফুজা মিঠুকে নিয়ে ঘুমাচ্ছেন। ঘরে জাগ্রত প্রানী দুইটি ই আছে শিরিন আর নার্গিস। শিরিন ঘরে বসে আছে, নার্গিস মাছ কুটছে। এমন সময় কাচু এসে হঠাত শিরিনের হাত ধরলো। নার্গিস ভয়ে প্রায় চিতকার করে উঠছিল, কাচু এক হাতে শিরিনের মুখ চেপে ধরে আরেক হাতে নার্গিসকে সংকেত দিল চুপ থাকার। নার্গিস ভয়ে কাঠ হয়ে রইল। এর মাঝেই কাচু শিরিনকে টানতে টানতে বের করে নিয়ে গেল। নার্গিস জানালা দিয়ে দেখলো কাচু শিরিনকে স্কুলের পাশের বাংলা ঘরে নিয়ে যেতে।

মাস্টার মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। কাচু এত বড় কান্ড করবে তা তিনি আগে ভাবেননি। মাহফুজা মাথা চাপড়াচ্ছেন। শিরিন এই বাংলো থেকে বের হচ্ছে না। মধ্যরাত হয়ে গেছে। কি হচ্ছে মেয়েটার সাথে ভেবে তিনি ভয়ে পাথর হয়ে গেছেন। নার্গিসের হাত ধরে সবগুলো ছেলে ভয়ে গায়ের সাথে গা লাগিয়ে দাড়িয়ে আছে।..

কাচু ঘরেরে একপাশে বসে আছে। শিরিন অন্যপাশে বসে কাকুতি মিনতি করছে,” কাচু আমারে ছেড়ে দে। এই ঘরে বসায় রেখে তোর কিসু হইব না।রাত হয়ে গেসে রে কাচু আমারে ছেড়ে দে। ” কাচু একবার সেদিকে তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিল। তারপর স্থির হয়ে বসে থাকল। সে জানে, শিরিন তার সাথে পুরো রাত একঘরে ছিল তা ছড়ালে ওর আর শিরিনের বিয়ে হতে বাধ্য। সে অস্ফুট স্বরে বললো যে, শিরিন পানি খাও। শিরিন পানির গ্লাসটাতে থুতু ফেলে বিতৃষ্ণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো।…….
শিরিন সকালে ঘরে ফিরেছে। মাস্টার সাহেব সেদিকে তাকিয়ে বললেন
,”শিরিনের মা বিয়ের আয়োজন করো। বসে থাইকো না। যত তাড়াতাড়ি হয় কাজ সেরে ফেলা ভাল। মানুষের মুখের কথা বাতাসের আগে ছুটে। শিরিন অকস্মাত চিতকার করে ওঠে।” খবরদার ওই কুত্তার বাচ্চারে আমি বিয়া করুম না। আব্বা তুমি ওর নাম মুখে নিবানা। কইলাম তাহলে আমি ফাঁসি লাগামু।” মাস্টার এটা দেখে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন এবং আবিষ্কার করলেন কাচু ঘরের বাইরে দাড়িয়ে আছে। নিশ্চই সে সব শুনেছে। তিনি আতঙ্কিত হয়ে তাকালেন, কাচু তার দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে আছে। ভয়াবহ সেই দৃষ্টি। কিছু না বলে কাচু চলে গেল। কিন্তু কিছুক্ষন পর মাহফুজা ব্যাকুল হয়ে বাবুকে খুজতে লাগলেন।” শিরিনের আব্বা বাবু কই, আমার বাবু কই গেল!!” বাবু কিছুক্ষন আগে পুকুরপাড়ে খেলছিল, এখন সেখানে কতগুলো মাটির ঢেলা পড়ে আছে।মাস্টার ঘরের দাওয়ায় নির্জীব হয়ে বসে রইলেন।…………..
দুসপ্তাহ পরের কথা। বাবুর কোন খোঁজ নেই। কাচুর খোঁজ করার সাহস মাস্টারের নেই বাংলা ঘরে গিয়ে। মাহফুজা মাথা কুটে শুধু শিরিনকে দোষ দেন সারাদিন। শিরিন শুধু ঘরের এককোনে চুপচাপ পড়ে থাকে। কিন্তু ইদানিং মাস্টার বাংলা ঘর থেকে একধরনের জান্তব চিতকার শুনতে পান। সবাই পায়। শিশুকন্ঠে অর্তনাদ, কখনো অস্ফুট কথা,পানি পানি। কে যেন পানির অকুতি করে চেচায়। তারা ভয়ে ঘরে সেধিয়ে থাকেন। সেইদিন রাতে জানালায় টোকার আওয়াজ পাওয়া যায়। শিরিন চুপি চুপি জানালা খোলে। আদু ব্যাপারি দাড়িয়ে আছে। অবাক হওয়ার সময় নেই। আদু মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল। সে এখানে কি করে তা ভাবতেই আদু ফিসফিস করে, শিরিন, আমারে ওরা ধরসিল, আমি পালায় আসছি। একটু পানি দাও। তাড়াতাড়ি শিরিন পানি নিয়ে আসে।
আদু এক নিশ্বাঃসে পানিটুকু শেষ করে। তারপর বলে, শিরিন তোমার ভাই কোথায় আমি জানি। ওরে বাংলা ঘরে একটা ঘরে শিকল দিয়ে আটকাইয়া থুইসে। কাচু রাজাকার ওরে পাগলা কুত্তা দিয়া কামড়াইয়া ঘরে আটকাইয়া রাখসে। পোলাটা সারাদিন পানি পানি কইরা চিল্লায়। আইজ বিকালে ও মইরা গেসে। কুত্তার পাগলামি অর ও হইছিল। যেইডারে কয় জলাতঙ্কার। আমি অনেক কষ্টে পালায় আসছি। কাইল আমরা এইখানে একশন করুম, তোমরা সাবধান থাকবা। আল্লায় তোমার ভাল করুক।” একনাগাড়ে এতগুলো কথা বলে আদু চলে যায়। শিরিন হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে থাকে। আস্তে আস্তে সে দুটো শব্দ উচ্চারন করে, শব্দদুটা বোধহয় জানোয়ারের বাচ্চা।…………………
পরদিন রাত। স্টেনগানের গুলির শব্দ হঠাৎ অন্ধকারের নিস্তব্ধতাকে ছিন্ন করে দেয়। পাক, রাজাকার মিলিত বাহিনীর গুলি আর মুক্তিযোদ্ধাদের গুলির পাল্টাপাল্টি গুলির শব্দ স্কুল প্রাঙ্গনকে কাটাকাটি করছে। রাত ভোর হয়।শিরিন হালকা গোঙানোর শব্দ পায় দরজার বাইরে। সে আস্তে আস্তে দরজা খোলে। দরজায় দু একটি গুলির দাগ লেগে আছে। দু পক্ষই এই বাড়ি বাচিয়ে গুলি করেছে। উঠানে দুই দেহ পড়ে আছে। আদু ব্যাপারির দেহ, সেটি প্রানহীন। আরেকটি কাচুর দেহ, সেটিতে এখনো প্রান আছে। তার দুটি পা উড়ে গেছে। সে হালকা মাথা ঘুরিয়ে শিরিনকে দেখলো।
” শিরিন, পানি।” এ শব্দদুটো উচ্চারন করলো সে।
শিরিন হিসিহিস করে বললো, আমার ভাইও পানি চাইসিল শুয়োর।
কাচু সেইদিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করে ফেলে। ওর চোখ দিয়ে দুফোটা পানি গড়িয়ে পড়েছে। তবে আর নিঃশ্বাস পড়ছে না। শিরিনের পেছনে বাচ্চু বের হয়ে এসেছে।
“আপা দেখ লাউটা কত বড় হয়েছে।” শিরিন আবিষ্কার করলো, কাচুর মৃত্যু হয়েছে লাউক্ষেতের সর্বপ্রথম লাউটার নিচে। কাচুর রক্ত, বোধহয় গুলি খাওয়ার সময়ে ছিটকে এসেছিল, লাউটির গায়ে রক্তের ফোঁটা লেগে আছে। সবুজ, যৌবনে ভরা লাউটির গায়ে রক্তের দাগ, ঠিক যেন বাংলাদেশের পতাকা। বাচ্চু হাত বাড়ালো লাউটা ছিড়বে বলে।

শিরিন ওর হাত সরিয়ে দিল,”ছিহ ওতে রাজাকারের রক্ত, ওতে হাত দিস না।”

৪৮ thoughts on “প্রথম লাউ।

  1. গল্প পছন্দ হয়েছে,লেখার ধরণও
    গল্প পছন্দ হয়েছে,লেখার ধরণও ভাল লেগেছে,কিন্তু রাজাকারের চরিত্র ভাল লাগেনাই,এ এত ভাল কেন?
    আর ছোটভাই কে ধরে নিয়ে যাওয়াটা কেমন একটু বেমানান লেগেছে

      1. মিচকা শ​য়তান কিনা জানিনা। তবে
        মিচকা শ​য়তান কিনা জানিনা। তবে শিরিনের প্রতি ক্ষোভটা সে বাবুর ওপর বাজেভাবে ঝেড়েছে। কিন্তু এটা শিরিনের সাথে করে নাই। মানুষের আবেগ কখন কোনদিকে যায় কেউ জানে না।

    1. জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর দিয়ে
      জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর দিয়ে কাম​ড়িয়ে একটা বাচ্চা ছেলেকে তিলে তিলে মারলো আর আপনার ভাল মনে হল​!!!!!!!

  2. অসাধারন ।আঘাত থাকলেও গল্পটায়
    অসাধারন ।আঘাত থাকলেও গল্পটায় জেতার একটা আনন্দ আছে ।

    ধন্যবাদ লেখককে ।

  3. গল্পের মূল স্পিরিট নিয়ে কোন
    গল্পের মূল স্পিরিট নিয়ে কোন কথা হবে না। এক কথায় চমৎকার। বর্ননাও সাবলীল। কিন্তু শেষে এই লাইনটা একটু বেমানান মনে হচ্ছে-

    সবুজ, যৌবনে ভরা লাউটির গায়ে রক্তের দাগ, ঠিক যেন বাংলাদেশের পতাকা।

    বাংলাদেশের পতাকায় সবুজের মাঝে রক্ত লাল, সেই রক্ত তো রাজাকারের রক্ত না। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত।

    1. এই বিষ​য়টা নিয়ে আপনি ধরায়
      এই বিষ​য়টা নিয়ে আপনি ধরায় খুশি হলাম। আমি জানতাম কেউ ধরবে আর আমি ব্যাখা করার সুযোগ পাব​। ব্যাপারটা হল​- লাউটা একেবারে নতুন।সেটার উপর রাজাকারের রক্ত লেগে আছে, সেখতে বাংলাদেশের পতাকার মত​, তারপর ও শিরিন বললো, লাউটা যেন বাচ্চু না ধরে। জিনিসটা ওর কাছে বিষাক্ত। লাস্টের পুরো অংশটাকে এক করে ধরলে এইটা বোঝা যাবে। কিন্তু এক লাইন হিসেবে ধরলে আপনার গোলমাল মনে হবে। এইটা একটা সমালোচিত প্যাঁচ ছাড়া কিছু না। আর বাংলাদেশের পতাকার মত কথাটার এখানে সিগনিফিকেন্ট মিনিং রাখে নাই। এটা শুধুমাত্র রং এর অবস্থান বোঝাতে ব্যবহার করা হ​য়েছে।বিষ​য়টা বিতর্কিত মনে হলেও আসলে যেটা চেয়েছি সেটা হল​, খটকা লাগায় যেন শেষের অংশটুকু সব্ঐ ভাল করে প​ড়ে তারপর পজিটিভ বিশ্লেষন করে।

      1. ব্যাখ্যা পছন্দ হইছে।
        ব্যাখ্যা পছন্দ হইছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
        আমিও মনে মনে একটা ব্যাখ্যা দাড় করিয়েছিলাম। ওয়েট করছিলাম আপনি কি ব্যাখ্যা দেন সেটা দেখার জন্য। ভালো ভাবেই উৎরে গেছেন। (চামে আপনার পরীক্ষা নিয়া নিলাম 😛 )

          1. ধইন্য ধইন্য…………
            ধইন্য ধইন্য………… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :নৃত্য: :নৃত্য: :লইজ্জালাগে:

  4. আরেক ধরনের চরিত্রের রাজাকারের
    আরেক ধরনের চরিত্রের রাজাকারের সাথে পরিচিত হলাম।
    বদমাইশ রাজাকার।

    উপরের ডাঃ আতিক ভাইয়ের মন্তব্যের সাথে একমত।
    বাংলাদেশের পতাকায় সবুজের মাঝে রক্ত লাল, সেই রক্ত তো রাজাকারের রক্ত না। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত

    1. ব্যাপারটা হল​- লাউটা একেবারে
      ব্যাপারটা হল​- লাউটা একেবারে নতুন।সেটার উপর রাজাকারের রক্ত লেগে আছে, সেখতে বাংলাদেশের পতাকার মত​, তারপর ও শিরিন বললো, লাউটা যেন বাচ্চু না ধরে। জিনিসটা ওর কাছে বিষাক্ত। লাস্টের পুরো অংশটাকে এক করে ধরলে এইটা বোঝা যাবে। কিন্তু এক লাইন হিসেবে ধরলে আপনার গোলমাল মনে হবে। এইটা একটা সমালোচিত প্যাঁচ ছাড়া কিছু না। আর বাংলাদেশের পতাকার মত কথাটার এখানে সিগনিফিকেন্ট মিনিং রাখে নাই। এটা শুধুমাত্র রং এর অবস্থান বোঝাতে ব্যবহার করা হ​য়েছে।বিষ​য়টা বিতর্কিত মনে হলেও আসলে যেটা চেয়েছি সেটা হল​, খটকা লাগায় যেন শেষের অংশটুকু সব্ঐ ভাল করে প​ড়ে তারপর পজিটিভ বিশ্লেষন করে।

  5. “বাচ্চু হাত
    বাড়ালো লাউটা

    “বাচ্চু হাত
    বাড়ালো লাউটা ছিড়বে বলে। শিরিন ওর
    হাত সরিয়ে দিল,”ছিহ ওতে রাজাকারের
    রক্ত, ওতে হাত দিস না।”

    শেষটা অসাধারণ হয়েছে…………..

  6. আপু অনেক ভালো লেগেছে
    একটা

    আপু অনেক ভালো লেগেছে :থাম্বসআপ:
    একটা ডিফারেন্ট সুযোগ সন্ধানী রাজাকার পাওয়া গেল :থাম্বসআপ:

  7. থিম ভালো লেগেছে।
    কিন্তু

    থিম ভালো লেগেছে। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:
    কিন্তু লেখার স্টাইল এমন যে পড়তে অসুবিধা হয়। বিশেষ করে ডায়লগ লেখার ক্ষেত্রে কোন প্যারা দেন নি।
    পুরো গল্পে প্যারার অভাব ছিল ব্যাপক। ডায়লগ দেওয়ার আগে পরে প্যারা করে দিবেন।
    শুভ কামনা…।।

    1. সম​য়ের অভাবের কারনে লেখা শেষে
      সম​য়ের অভাবের কারনে লেখা শেষে কারেকশানগুলো করতে পারিনি। পারবারিক ঝামেলায় আছি। চট করে তাই লিখে পোস্ট করে দিয়েছি। আপনার সমস্যার জন্য দুঃখিত​।

      1. কিছু করতে বলছি না চালিয়ে যান
        কিছু করতে বলছি না চালিয়ে যান হয়তো ভবিষ্যতে এমন কিছু করে ফেলবেন যা সত্যি সাধারনের মাঝে অসাধারন হয়ে থাকবে …………

  8. বাচ্চু হাত বাড়ালো লাউটা ছিড়বে
    বাচ্চু হাত বাড়ালো লাউটা ছিড়বে বলে। শিরিন ওর হাত সরিয়ে দিল,

    “ছিহ ওতে রাজাকারের রক্ত, ওতে হাত দিস না।”

    —এইটাই চেতনা!! ভাল লাগলো… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  9. শিরিন হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে থাকে।

    শিরিন হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে থাকে। আস্তে আস্তে সে দুটো শব্দ উচ্চারন করে, শব্দদুটা বোধহয় জানোয়ারের বাচ্চা।…………………

    রাজাকারদের ক্ষেত্রে ‘জানোয়ার’ শব্দটা মানায় না। মানায় ‘শুয়োর’ শব্দটা। আর

    ছিহ ওতে রাজাকারের রক্ত, ওতে হাত দিস না

    Master Finishing!

        1. হইব না। প্রত্যেকটা চরিত্র
          হইব না। প্রত্যেকটা চরিত্র লেখকের ইচ্ছামত না।আর্, ১৯৭১ সালে বাংলা ভাষায় গালিভান্ডার এত সমৃদ্ধ ছিল না।

          1. ১৯৭১ সালে বাংলা ভাষায়

            ১৯৭১ সালে বাংলা ভাষায় গালিভান্ডার এত সমৃদ্ধ ছিল না।

            :খাইছে:

            শুকর একটা কমন শব্দ । ১৯৭১ এ রাজাকারদের ক্ষেত্রেও অনেক ব্যবহার করা হয়েছে :হাসি:

  10. আমার শুধু পড়তে ভালো লাগে।
    আমার শুধু পড়তে ভালো লাগে। সবাইতো ভালো লিখেন, তাই কমেন্ট করার সাহস পাই না। তবে এই একুশ শতাব্দীতে এমন লেখা! সত্যি চমৎকার।

    1. ধন্যবাদ। মহা খুশি হইছি।ত​য়
      ধন্যবাদ। মহা খুশি হইছি।ত​য় প্রশংসাটা বেশি হ​য়ে গেল​। 😀 😀 😀 😀 😀 😀 :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :খুশি: :খুশি: :খুশি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *