ফলাফল জটিলতা : সর্ষে ভূত

অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন দোকানদার।
ইলেকট্রনের দোকানে খালেদা জিয়া আসছেন।
খালেদা কইলেন,”১ লিটার হরতাল দেন।”
ইলেকট্রন কইলেন,” আহা! হরতাল
লিটারে হয়না!”
– তাহলে এক কেজি হরতাল দেন!
– হরতাল তো কেজি তে হয়না! হরতাল দিনে হয়!
– তাহলে ১ দিনের হরতাল দেন?
– শিবির আনছেন?
– না তো!
– আফা! জামায়াত, শিবির বা হেফাজত নিয়া আসেন!
এইসব ছাড়া তো হরতাল হবেনা!
– কেন?
– মূলা ছাড়া হরতাল ক্যামনে দিবেন?
– ও আইচ্ছা! আফনে এক মিনিট খাড়ান, আমি দুই মিনিটের ভিতরে আইতাছি!

অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন দোকানদার।
ইলেকট্রনের দোকানে খালেদা জিয়া আসছেন।
খালেদা কইলেন,”১ লিটার হরতাল দেন।”
ইলেকট্রন কইলেন,” আহা! হরতাল
লিটারে হয়না!”
– তাহলে এক কেজি হরতাল দেন!
– হরতাল তো কেজি তে হয়না! হরতাল দিনে হয়!
– তাহলে ১ দিনের হরতাল দেন?
– শিবির আনছেন?
– না তো!
– আফা! জামায়াত, শিবির বা হেফাজত নিয়া আসেন!
এইসব ছাড়া তো হরতাল হবেনা!
– কেন?
– মূলা ছাড়া হরতাল ক্যামনে দিবেন?
– ও আইচ্ছা! আফনে এক মিনিট খাড়ান, আমি দুই মিনিটের ভিতরে আইতাছি!
খালেদা ম্যাডাম মূলার খোঁজে! কিন্তূ মূলা খুঁজিয়া পান না! অবশেষে পাইলেন! তিনি ঘোষণা দিলেন,”ইমরান এইচ সরকার” নামে ‘এইচ’ আছে, HSC তে ‘এইচ’ আছে। যত নষ্টের গোড়া হল এই ‘এইচ’। যত দিন এই ‘এইচ’ দূর হবেনা, আমরা হরতাল দিমু!”

এইটা একটা মামুলি স্যাটায়ার। hsc তে হরতালের কারণে ঝামেলা গুলো আমার নিজের চোখেই দেখা। এক সাবজেক্টের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে গেছে কিন্তু দিতে হয় অন্য সাবজেক্ট। কিন্তু একই নিয়তি আমরা sec তেও দেখেছি। কিন্তু সেখানে পাসের উল্লাসে সবাই ফেটে পড়েছে। আর অথচ এখন? কী এমন হয়েছে hsc পরীক্ষাতে?
ভাবতেই অবাক লাগে। আমার পাশের ফ্ল্যাটে এক ভাইএর খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। সারাবছর তার বাবা মা বলতো একমাত্র ছেলেকে ডাক্তার বানাবে। কিন্তু আমি নিজেই তাজ্জব হয়ে গেলাম যখন শুনলাম ও সব সাবজেক্টে ‘A+’ কিন্তু কেমেস্ট্রিতে ফেইল!!!! শুনতে কেমন লাগে? যে যাই বলুক এইটা আসলেই সন্দেহ জাগানিয়া। হতে পারে এই পরীক্ষায় রাজনীতির নোংরা খড়গ নেমে এসেছে ছাত্র দের বুকে। কিন্তু প্রশ্ন হল এই ঘটনার তদন্ত কী হবে? আর যদিও বা তদন্ত হয় কোনো কুলকিনার হবে? বাবা মায়ের ভাঙ্গা স্বপ্ন গুলো কে ফিরিয়ে দিবে? এইবার আমার পাঁচ আত্মীয় পরীক্ষা দিয়েছে। সেখানে তিন জন সিউর ‘A+’ পাওয়ার কথা। অথচ সেখানে একজন ‘A’ আর বাকি দুইজন ডাহা ফেইল? হোয়াট দ্য ফাক গোয়িং অন? রাজনীতিতে ছাত্রদের অনেক আগে থেকেই বলির পাঠা করা হচ্ছে। কিন্তু এত বড় পাঁঠা আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি!

প্রতিটা সরকার সবসময় নির্বাচনী মৌসুমে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেয়। কারন শেষ একটি বছরের কিছু চোখ ধাঁধানো সাফল্যই পারে আগের চার বছরের শত শত ব্যর্থতাকে মুছে দিতে। কিন্তু এইবার এমন কেন হল? বলতে লজ্জা হচ্ছে যে যদি আসলেই রাজনীতির কারনে এই দূষিত প্রহসনের রেজাল্ট হয় তাহলে বাংলাদেশে বাস করার যোগ্যতা আমার নেই। আমি অবশ্যই এই দেশের নাগরিকত্ব দ্বিতীয় বারের মত পেতে চাইবো না। আমরা কাপুরুষ নই। দেশের দূর্দিনে দেশের চেতনা বুকে ধারন করে দেশেকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব ও অধিকার দুটাই আমাদের আছে। কিন্তু যে ছাত্ররা একটা দেশের জ্ঞানের মেরুদন্ড সেই ছাত্র দের ঘাড়ে যদি রাজনীতির ব্যালট ভাঙ্গা হয় তাহলে সেই দেশের লড়ার শক্তি কিংবা অধিকার কোনোটাই আমার নেই। আর থাকবেই বা কেন? আমরা ছাত্ররাই ১৯৫২ তে প্রথম সংঘবদ্ধ ভাবে দেখিয়ে দিয়েছি আমরা কী করতে পারি। যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ছাত্রকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতা আমরা দেখেছি। আমি অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করি। অনেক ছাত্রের অবিভাবক বলছেন তারা চ্যালেঞ্জ করবেন। কিন্তু এতে আদৌ কোনো লাভ আছে? লাভ কখনোই হয়নি।

দ্বিতীয় রাজধানী বলে খ্যাত চট্টগ্রামের এই বেহাল দশা কেন? এত আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতিকে পেছনে ফেলে তুলনামূলক সুবিধাবঞ্চিত বোর্ডের সাফল্যের রহস্য কী? তবে কী এই বর্ষে হঠাৎ করে দেশের সব শিক্ষার্থী অমনোযোগী হয়ে গেল? কিন্তু কেন? তাহলে কী তারা ভালোভাবে পরীক্ষা দেয়নি? কেন দিবে না? তবে কী দেশের সব পরীক্ষক হঠাৎ করে ঠিক ভাবে খাতা কাটতে পারলেন না? কিন্তু কেন?

যে যেটাই বলুক। এখানে কিছু না কিছু টুইস্ট আছে। আমার কাছে হয়তো মনে হচ্ছে এইটা রাজনৈতিক নোংরা ঘূর্নাবর্ত কিন্তু হতেও পারে এখানে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িয়ে আছে। স্যামথিং ডেফিনিটলি রঙ। এক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রয়োজনে এই ট্র্যাজেডির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আলাদা বোর্ড গঠন করা হোক। ছাত্ররা ভবিষ্যৎ কান্ডারি। দেশে সবার আগে তাদের স্বার্থ। এই রহস্যের কুলকিনারা চাই। আর নয়তো ছাত্ররাই বেরিয়ে আসবে। আলবত আসবে। না এসে উপায় নেই। এরা কী করবে? যে ছেলেটার সব বিষয়ে এ প্লাস পেয়ে এক বিষয়ে ফেইল করেছে সে কী আবার পরীক্ষা দেবে? কেন দেবে? আর যদি দিতে হয় তাহলে দেবে। কিন্তু তার আগে তদন্ত হওয়া চাই। তথাকথিত আল্টিমেটাম নয়। তদন্তকারীদের নির্মল হৃদয় দিয়ে ঘটনা অনুসন্ধান করতে হবে।

উই শ্যাল ওভারকাম। এভরিথিং উইল বি ওকে ইন দ্য এন্ড। ইফ ইটজ নট ওকে দেন ইটজা নট দ্য এন্ড। স্যামথিং রঙ। উই আর বর্ন টু রেইজ হেল। উই হ্যাভ টু কাম আউট।

১৫ thoughts on “ফলাফল জটিলতা : সর্ষে ভূত

  1. অন্য যেকোন বিভাগ এর তুলনায়
    অন্য যেকোন বিভাগ এর তুলনায় চিটাগাং এ হরতালের পরিমাণ বেশি হয়েছে সবাই জানে কিন্তু এবং এক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে অন্য পরীক্ষা দিতে হয়েছে এইটা একটা বড় সমস্যা হতে পারে ফেল করার ক্ষেত্রে তাই হয়তো চিটাগাং এ রেজাল্ট খারাপ আর আপনার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ অমূলক নয় ……

  2. কিন্তু ঐ যে এক ছাত্রের কথা
    কিন্তু ঐ যে এক ছাত্রের কথা বললাম! কেমেস্ট্রিতে ফেইল বাকী সব সাবজেক্টে এ প্লাস! হাউ ইজ দিজ পসিবল???

  3. আজকাল সবকিছুতেই, এমনকি
    আজকাল সবকিছুতেই, এমনকি রান্নাঘরেও পঁচা রাজনীতির গন্ধ পাওয়া যায় ।রাজনীতির এই নোংরা পক্ষপাতিত্ব আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও গ্রাস করে ফেলেছে ।এ থেকে উত্তরন না ঘটলে মেধাবীদের যায়গায় ম্যা-ধাবী উৎপন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক ।

    1. যা কিছু করার আমাদেরকেই করতে
      যা কিছু করার আমাদেরকেই করতে হবে। শিক্ষার সাথে কোনো কিছুর আপোষ চলতে পারেনা। বরং বাংলাদেশের আমলা তন্ত্রের কোনো এক আবালের চাইতে আমাদের এইট পাস করা একজন ছাত্র আরো হাজার গুন বেশী ট্যালেন্টেড।

      উই হ্যাভ টু ফাইট ব্যাক।

  4. হরতালে বড় ভুমিকা রাখে
    হরতালে বড় ভুমিকা রাখে ছাত্ররাই ! সুতরাং ছাত্রদেরকেই হরতাল সমস্যার সমাধান বের করতে হবে….

    1. হরতাল সমস্যার সমাধান পরেও করা
      হরতাল সমস্যার সমাধান পরেও করা যাবে। আপাতত সরকারের কাছে এই রহস্যের গ্রহণযোগ্য জবাব চাই।

  5. আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ
    আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করলেও কিছু ক্ষেত্রে দ্বিমত থেকেই যাবে। কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আপনার কথাই সঠিক বলে মনে হচ্ছে।

    1. আমি আসলে নিজেও আমার ধারণা
      আমি আসলে নিজেও আমার ধারণা নিয়ে সন্দিহান। কিন্তু এই রেজাল্ট অবশ্যই যে কারো মনেই সন্দেহের উদ্রেক ঘটাতে বাধ্য।

  6. রাজনীতির লাভ লোকসানের হিসাব
    রাজনীতির লাভ লোকসানের হিসাব বড় জটিল। লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর জীবন তাদের স্বার্থের কাছে তুচ্ছ। কার কাছে প্রতিকার চাইবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *