প্রতীক্ষার দিন রাত্রি

আলোর নাচন আমার বিছানার শরীর জুড়ে। আধিপত্যের লড়াই ঘুমন্ত শরীরের কাপড়ের সাথে; কি করে শাড়ির ফাঁক- ফোঁকর গলে ঢুকে যাওয়া যায় শরীরের ভাজে ভাজে। চুমুতে চুমুতে লাল করে দেবার নেশায় মত্ত ঘুমে বিভোর শান্ত নিরহ অধর জুড়ে উন্মাতাল হয়ে ছুটাছুটি।


আলোর নাচন আমার বিছানার শরীর জুড়ে। আধিপত্যের লড়াই ঘুমন্ত শরীরের কাপড়ের সাথে; কি করে শাড়ির ফাঁক- ফোঁকর গলে ঢুকে যাওয়া যায় শরীরের ভাজে ভাজে। চুমুতে চুমুতে লাল করে দেবার নেশায় মত্ত ঘুমে বিভোর শান্ত নিরহ অধর জুড়ে উন্মাতাল হয়ে ছুটাছুটি।

বিভাবরী’র আলোর সাথে স্বপ্নের মাখামাখি। নিশি ভোরের আলোর সাথে আমার ভাব একটু বেশী। সুরের মূর্ছনায় ঘুম ভেঙেও চোখ বন্ধ বিবশ আমি। কোন পাখি গায় সেটা জানার আগ্রহ যেমন পুড়ায় তেমনি সুর কেটে যাওয়ার ভয়ে পড়ে থাকি বিছানা কামড়ায়ে। মাঝে মাঝে আবছা আলো হতেই উঠে যাই বিছানা থেকে। সুর গুনগুন করে মাথায় তবে একাগ্রতা শুধু সুরে আটকায়ে থাকে না। সেদিন দেখি সুরকার’কে, দেখি আড়মোড় ভাঙ্গা ভোমর’কে; প্রস্তুতি চলছে ফুল সাথে প্রেম লীলার। কুসুম বনে আধো-ফুতন্ত কলি যৌবনের উত্তেজনায় বিভোর, গতকালের ফোটা ফুলের বার্ধক্যের আতংকে কিছুটা মলিন। ঘাসের বুকে শিশিরের ফিসফিসানি; আশু বিরহের ভয়ে ক্রন্দনরত ঘাস। বার বার প্রতিজ্ঞা চলছে শিশিরের- আমি আসবো বিশ্বাস কর ঘাস আমি আসবো, এই বেয়াদপ সূর্য যতটা দ্রুত আমাকে শুষে নিবে ঠিক তারও চেয়ে প্রবাল গতিতে আমি ফিরেফিরে আসব তোমার বুকে-সিক্ত করবো ভালবেসে। লাল রশ্মি আস্তে আস্তে আগুন রঙের হয়ে আসে; রূপ নেয় দিনে। ঘাস লতা পাতার বুকে হাত বুলাই পরম মমতায়। বার বার ফিস ফিস করে কানে কানে বলে যাই আমি তোমাদের সন্তান। ওরা নিরব নিশ্চুপ- অভিমানে তলিয়ে যাই। তবু মনে মনে এই ভেবে সুখ পাই- না তো বলে নাই। আমার সান্তনা হয়ে উঠে তাদের স্পর্শের সুখ। বেলা বাড়ে; শেষ হয় প্রথম প্রহর। মিথ্যে বসতির মায়ায় ফিরে আসি বন্দীশালায়।

আশা বাড়ে অন্ধকারের; রাতের বুকে ভর করে গ্রাস করবে পৃথিবীর অন্য পাশ কে ও। আপেক্ষ বাড়ে কেনো এক সাথে গিলে খেতে পারে না পুরা পৃথিবী! আমার আত্মার আত্মিয়দের অন্ধকারের বিদগ্ধ সৌন্দর্যের কাছে নিয়ে যায় গোধূলি। নদী পাড়ে সূর্য-আমি মুখোমুখি, বিদায়ের ব্যথায় বিবর্ণ বেলা ভুমিতে সে।

অন্ধকারের হাতে সপে দেয় রাত আমায়। অন্ধকারের আলো চোখে ধাঁধাঁ লাগে, শিউলি ঝড়ে পড়ে সন্তর্পণে, জেগে থাকা ঝিঁঝিঁ ডেকে যায় অবিশ্রান্ত,একলা ডাহুক কাঁদে, নিশাচর শিয়াল গায়ের গন্ধে জানান দেয় সেও আছে আমার সাথে, পেঁচা হুতুম হুতুম করে কি যে বলে বুঝিনা, আমি নির্বিকার চেয়ে থাকি অনিমেষ নয়নে আধারের পানে নিশি ভোরের। সন্ধ্যার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে শুরু হয়ে আগামীকালের প্রতীক্ষা। ভোরের আলোর সাথে হাত ধরে আসে রাতের অপেক্ষা। অপেক্ষায় ঠেলাগাড়ি ঠেলতে ঠেলতে চলে যায় জীবন।

১৪ thoughts on “প্রতীক্ষার দিন রাত্রি

  1. সকালে বেলা উঠেই আপনার পোস্ট
    সকালে বেলা উঠেই আপনার পোস্ট পড়েছি মোবাইলে থাকায় মন্তব্য দিতে পারি নি তাই এখন দিলাম

    অনেক ভাল লিখেছেন শব্দের চমৎকার ব্যবহার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *