পটলের মিষ্টান্ন খান এবং দলে দলে পটল তুলুন

বাঙ্গালির খাদ্যাভাস তথা খাদ্য বিলাস কে ডেডিকেট(!) করে বেগম রোকেয়ার লিখা “রসনা বিলাস” নামক একটা প্রবন্ধ সিলেবাসে থাকায় পড়তে বাধ্য হৈছিলাম …. সেই প্রবন্ধে প্রচুর রাগ ক্ষোভ এবং আফসোস সহযোগে বাঙ্গালির রসনা প্রীতির ১৪*২=২৮ গুষ্টি উদ্ধার করছিলেন এই মহীয়সী আলোর দিশারি …. তখন এই প্রবন্ধের শানে-নযুল ঠিকমত অনুধাবন কররে না পারলেও, এখন একেবারে তর্জমা – তফসির সহ বুঝতেছি…..

হায়, বেগম রোকেয়া বেচে থাকলে এই উত্তরাধুনিক জমানায় বাঙ্গালীর রন্ধন শৈলীর তেলেসমাতি দেখে রাগে দুঃখে নিজের আখেরি খানা হিসাবে নির্ঘাত সুইসাইড খাইতেন !!

বাঙ্গালির খাদ্যাভাস তথা খাদ্য বিলাস কে ডেডিকেট(!) করে বেগম রোকেয়ার লিখা “রসনা বিলাস” নামক একটা প্রবন্ধ সিলেবাসে থাকায় পড়তে বাধ্য হৈছিলাম …. সেই প্রবন্ধে প্রচুর রাগ ক্ষোভ এবং আফসোস সহযোগে বাঙ্গালির রসনা প্রীতির ১৪*২=২৮ গুষ্টি উদ্ধার করছিলেন এই মহীয়সী আলোর দিশারি …. তখন এই প্রবন্ধের শানে-নযুল ঠিকমত অনুধাবন কররে না পারলেও, এখন একেবারে তর্জমা – তফসির সহ বুঝতেছি…..

হায়, বেগম রোকেয়া বেচে থাকলে এই উত্তরাধুনিক জমানায় বাঙ্গালীর রন্ধন শৈলীর তেলেসমাতি দেখে রাগে দুঃখে নিজের আখেরি খানা হিসাবে নির্ঘাত সুইসাইড খাইতেন !!
এটা ছাড়া আসলে তার আর কিচ্ছু খাওয়ার নাই….. অবশ্য সুইসাইড খাওয়ার আগে খাদ্য দ্রব্যের বিদঘুটে সব নাম শুইনা হার্ট অ্যাটাক করার সম্ভাবনা ও প্রায় শতভাগ, সেক্ষেত্রে অবশ্য কষ্ট করে তাকে আর “সুইসাইড নামক মহা পাপ” খাইতে হৈত না … !!!!
আশা করি এ ব্যাপারে আপ্নি ও আমার সাথে দ্বীমত পোষন করবেন না, যখন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত ঈদের স্পেশাল রেসিপি গুলোর আজগুবি সব নাম ধারাবাহিক ভাবে আবিস্কার করতে থাকবেন ….

আজ প্রথম আলোতে কিছু আজগুবি খানা-পিনার রেসিপি এবং সেগুলোর ততোধিক বিদঘুটে নামের সাথে পরিচিত হয়ে কৃতার্থ হৈলাম, আমি চাই আপ্নারা ও দলে দলে কৃতার্থ হউন ….প্রসঙ্গত এই রমজানে কেবল মাত্র খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেই সংযম প্রদশন করলেই চলবে না ,বরং খাওয়া দাওয়া সংক্রান্ত আলাপ আলোচনা ও কঠোর সংযম পালন করা উচিত , তাই আর বিস্তারিত আলোচনায় গেলাম না ,কেবল একটা আইটেমের ব্যাপারেই বলি-

প্রঃআঃ’য় প্রকাশিত “ভিন্ন স্বাদে মিস্টিমুখ” শিরোনামে এবারের ঈদে রিলিজড হওয়া সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ আইটেমের রেসিপি দেয়া হৈছে, যার নাম “ক্ষীরসা পটল” !!!

কি ইনোভেটিভ নাম !!! নাম শুনেই বোঝা যায় ইহা পটল নামক তরকারির সাথে ক্ষীর আর চিনির সিরকা জাতীয় মিষ্টি কিছুর সংমিশ্রন বা শংকরায়নের মাধ্যমে সৃষ্ট একপ্রকার হাইব্রিড খাদ্য দ্রব্য !!!! এই আনকমন আইটেম টা এবারের ঈদে বাসায় আসা অতিথিদের পরিবেশন করে চমকে দিন এবং নিশ্চিত থাকুন এই জিনিস তারা আগে কখনোই খান নাই …. সুতরাং আপ্নার সৌজন্যে জীবনে প্রথম বারের মত এই জিনিস “চোখে” দেখা এবং “চেখে” দেখার ‘বিরল সুযোগ’ পাওয়ায় কৃতজ্ঞত স্বরুপ সারা জীবন আপ্নার নাম নিজের মনের ফ্রেমে গেথে রাখতে বাধ্য হবে ……

তবে পরিবেশনের সময় খুউব খিয়াল, পটলের মিষ্টান্ন খাওয়ার সাথে সাথে অতিথি যাতে “পটল না তোলেন” সে ব্যাপারে কঠোর নজর্দারির ব্যাবস্থা রাখতে হবে…..

খানা-পিনার নামকরন বা রন্ধন শৈলীর ক্ষেত্রে বাঙ্গালী যে পরিমান ক্রিয়েটিভিটির পরিচয় প্রতিঃনিয়ত দিয়ে যাচ্ছে, তার এক হাজার ভাগের এক ভাগ ও যদি কনস্ট্রাক্টিভ কোন গবেষনায় ব্যাবহার করত, তাইলে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ধুরন্ধর এবং ক্রিয়েটিভ জাতি হিসাবে পরিচিত চীন এদ্দিনে বাংলাদেশ রে “প্রযুক্তির আব্বা” টাইটেলে ভুষিত কৈরা নির্ঘাত চিরন্তন মুরিদ হিসাবে আত্নপ্রকাশ করত !!! আপ্নেই চিন্তা করেন, ‘পটলের মিস্টান্ন’ তৈরির রেসিপি দুরে থাক, পটল রে মিষ্টান্ন হিসাবে খাওয়ার কথা ভাবার মত এত বিপুল কল্পনা শক্তি যে চাইনিজদের নাই , এ ব্যাপারে আমি শত ভাগ নিশ্চিত !!

আসলে বেগম রোকেয়া মরিয়া গিয়া বাচিয়া গেলেন !! নৈলে তিনি যে মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ ছিলেন, তাতে এই একবিংশ শতাব্দির অত্যাধুনিক খানা-পিনার আইটেম, সেগুলোর নামকরণ এবং রন্ধন শৈলি পেপার বা টিভিতে দেখতে দেখতেই দৈনিক অন্তত ১০ বার করে মরতে হৈত তাকে …

১২ thoughts on “পটলের মিষ্টান্ন খান এবং দলে দলে পটল তুলুন

  1. সাবধান আমি একজন ভোজনরসিক
    সাবধান আমি একজন ভোজনরসিক মানুষ। আর যাই হোক খাওয়া নিয়ে কিছু বলবেন না কষ্ট পাই আর হজমে সমস্যা হ​য়। :খাড়া: :দীর্ঘশ্বাস: :কথাইবলমুনা:

  2. প্রঃ আঃ এর এই ক্যারিশ্মাটিক
    প্রঃ আঃ এর এই ক্যারিশ্মাটিক রেচিপি (!) দেইখা ভাবছিলাম আমিও কিছু লিখব। এই যেমন- কোয়েল এর ডিমের পোলাউ, ঝাল সেমাই। যাইহোক, আপনার লেখা পড়ে শান্তি পাইলাম।

    1. হাহাহাহাহা নারে ভাই,
      হাহাহাহাহা নারে ভাই, রান্না-বান্না/ আপ্যায়নের ডিপার্ট্মেন্ট টা আমি দেখি না 😀 :ভেংচি: আমি কেবল একটা কাজই পারি , সেটা হচ্ছে মিস্টি কথায় চিড়া ভেজনো, সেটাই করি কেবল …..

  3. আমি ভোজন রসিক মানুষ কিন্তু
    আমি ভোজন রসিক মানুষ কিন্তু রান্না বিষয়ক কিছুই মাথায় আসেনা সত্যি বলতে আমি রান্না বষয়ে অজ্ঞ…… :লইজ্জালাগে:

    1. হাহাহা ব্যাপার না, আপ্নি
      হাহাহা ব্যাপার না, আপ্নি সহজেই মাস্টার শেফ হতে পারবেন , কারণ বিশেষ ভাবে অজ্ঞদেরই সাধারণত “বিশেষজ্ঞ” হিসাবে পরিগনিত হয় :ভেংচি: :ভেংচি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *