ভর্তি যুদ্ধ।ধ্বংসের পথে আগামী প্রজন্ম। -মাস্টারদা শুভ্র

ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতা যারা করছেন তারা কিসের ভিত্তিতে করছেন, তার কারন গুলো জানতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব। আজকের এই লিখায় যে বিষয় গুলো তুলে ধরেছেন তা হল,
১। ব্যয় বহুল,
২। কোচিং নির্ভর,
৩। পরীক্ষা দিয়ে ই তো ভর্তি যোগ্যতা অর্জন করে, আবার কেন পরীক্ষা।
আগের ফলের ভিত্তিতে ই ভর্তি হউক। কথা গুলো খারাপ না, কিন্তু এতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পড়া শুনা নিয়ে যে ওনাদের কোন ধারনা নাই, তাদের ছেলে মেয়ে বা আত্মীয় সব্জনের ছেলে মেয়েরা ও শিক্ষা বোর্ডে র অধিনে পরীক্ষা দেয় না তা ই প্রতিয়মান হয়।

ভর্তি পরীক্ষার বিরোধিতা যারা করছেন তারা কিসের ভিত্তিতে করছেন, তার কারন গুলো জানতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব। আজকের এই লিখায় যে বিষয় গুলো তুলে ধরেছেন তা হল,
১। ব্যয় বহুল,
২। কোচিং নির্ভর,
৩। পরীক্ষা দিয়ে ই তো ভর্তি যোগ্যতা অর্জন করে, আবার কেন পরীক্ষা।
আগের ফলের ভিত্তিতে ই ভর্তি হউক। কথা গুলো খারাপ না, কিন্তু এতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পড়া শুনা নিয়ে যে ওনাদের কোন ধারনা নাই, তাদের ছেলে মেয়ে বা আত্মীয় সব্জনের ছেলে মেয়েরা ও শিক্ষা বোর্ডে র অধিনে পরীক্ষা দেয় না তা ই প্রতিয়মান হয়।
ভর্তি পরীক্ষা ব্যয় বহুল- ঠিক ই আছে; এর সমাধান ও তো আছে। সম্মিলিত পরীক্ষা নিলে ই হয়। এতোগুলো মেডিকেল কলেজ এক সাথে নিতে পারলে, ইন্ডিয়ার মতো এতো বিশাল দেশে এক সাথে পরীক্ষা হতে পারলে, বিসিএস পরীক্ষা হতে পারলে, GRE, GMAT পারলে ওরা কেন পারবে না, এটা তো ডিজিটাল যুগ। সম্মিলিত পরিক্ষায় খরচ, ভোগান্তি, এবং কোচিং ব্যবসা সব ই কমে যাবে।
এখন আসি পরীক্ষা দিয়ে ই তো যোগ্যতা অর্জন করে এই জায়গায়ঃ আসলে ই কি এই পরীক্ষার ফল ভর্তি যোগ্যতা নির্ধারণ করে? তাহলে ৫ বা ৫+ ছেলে মেয়েরা কিভাবে পাশ নাম্বার পায় না ভর্তি পরিক্ষায়!!! ৫ এর নিচে পাওয়া ছেলেমেয়ে অনেকে ই ভর্তি পরীক্ষায় ভালকরে, এমন কি এস এস সি, এইচ এসসি তে অনেকের চেয়ে কম নম্বর পেয়ে ও। এই বিষয় গুলো কি আমাদের প্রধান মন্ত্রী কি ভেবে এই্ মন্তব্য করেছেন?? আমার মনে হয় না।
আমাদের ছেলে মেয়েরা সাজেশন বেস পড়া শুনা করেন, বিষয়ের ২৫% জেনে A+ পেয়ে চলে আসেন। বাকি ৩ মাসে ৭৫ % বই পড়েশেষ করতে পারেননা। তাই আবার ও সোজা রাস্তা বের করতে কোচিং এ যান। যারা কোচিং করে উপকৃত হন তাদের সবাই বই খুব ভাল করে পড়েছেন আগে ই, বা ঐ ৩ মাসে জানজীবন লাগিয়ে পড়েছেন। এর বাইরে ভর্তি সাফল্যে কোন কাহিনী নেই। যারা ৩ মাসে পেরে উঠেন না, তারা পরের বছর দেন আস্তে ধিরে পড়া শুনা করেন, ভর্তি যুদ্ধে টিকে যান। আমাদের ভর্তি পরীক্ষার মান ভাল। এর জন্য কোচিং লাগে না, বই ঠিক ঠাক পড়া থকলে হয়ে যায়। এই বইটা ই তারা পড়ে না।
এর জন্য দায়ী কে? ভর্তি পরীক্ষা না আমাদের SSC HSC এর পড়া শুনা, পরীক্ষা পদ্ধতি, খাতা যাচাই পদ্ধতি।যেই খামতি গুলো এসে ধরা পড়ছে ভর্তি পরীক্ষায়। গোঁড়ার এর খামতি দূর না করে, ভর্তি পরীক্ষা কে খারাপ বলেন যারা তারা আমাদের ২৫% পড়ে CGPA -5 পাওয়া ছেলে মেয়েদের মতো ই হয়ে গেলেন। আমাদেরসরকার কি চান, আমাদের ছেলে মেয়েরা ২৫% বই পড়ে ৫ এর বন্যা ভেসে যাবেন এবং উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন। এই সব ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কি করতে হয় এবং তারা ঐ খানে গিয়ে কেমন করেন, তা আরেক কাহিনী। সেটা ও মনে হয় না শিক্ষা মন্ত্রণালয় ধারনা রাখেন। সেই কাহিনী আরেক দিন শুনাব পরিসংখ্যান সহ।
আমাদের কে SSC, HSC তে এমন ভাবে প্রশ্ন করতে হবে, যাতে পাশ করতে হলে ও তাদের পুরা বই পড়তে হয়। নবম-দশম শ্রেণী এবং পরীক্ষা প্রস্তুতি মিলিয়ে পায় ২.৫ বছর। আর HSC তে পরীক্ষা সহ পান পায় ১.৫ বছর, যা তাদের বই শেষ করার জন্য খুব কম সময়। এই চার বছর সময় কে সিলেবাস অনুসারে বণ্টন করে দেয়া উচিত। প্রতিটা স্কুল-কলেজে বই শেষ করা বাধ্যতা মূলক করতে হবে। পরীক্ষার প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রশ্ন পদ্ধতির অসাধারন নামকরণ না করে, একই রকম প্রশ্ন পদ্ধতি যাতে প্রতি বছর না থাকে সেই দিকে নজর দিতে হবে। দরকার হবে প্রশ্নে অপশন দেয়া বাদ দিতে হবে। যা প্রশ্ন হবে সব গুলোর উত্তর দিতে হবে। বিষয় টা যাতে এমন না হয়, এই বছর এই আসলো আগামিতে এইটা আসবে না, বা এই অধ্যায় পড়লাম, পরের টা না পড়লে ও সব উত্তর করে আসতে পারব, এই বিষয় গুলো যেন মাথায় না থাকে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের।বই পড়ে যাতে প্রশ্নের উত্তর দিতেহয়, বড় বড় প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করে যাতে ভাল ফল না করা যায়।
যারা খাতা কাটবেন তাদের প্রতি বোর্ডের ইন্সট্রাকশন ও যেন এখনকার মতো আজিব না হয়। এখন যেমন বলে দেয়া হয়, বেশি বেশি পাশ করাতেহবে। ৭০ পাইলে যাতে ৮০ দেয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকে। নিজের মতো করে লিখলে যাতে ছেলে মেয়েরা নাম্বার বেশি পায়। এখন যেমন ভাল ভাল শিক্ষকদের নোট মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়ে আসে ভাল নাম্বার নিয়ে আসে। কিন্তু এই নোট কোন ভাবে ই ঐ ছেলে মেয়ের নিজস্ব মেধার প্রকাশ না। কিন্তু যেই শিক্ষার্থী নিজে বুঝে নিজের মতামত লিখল, সে তার লেভেল এ তার মেধার প্রকাশ করল, তার চেয়ে উপরের লেভেল এর কারো মেধা মুখস্থকরে প্রকাশ করল না। এই সততার মুল্যায়ন করতে হবে। এতে ছেলে মেয়েরা উতসাহ নিয়ে পড়া শুনা করবেএবং জানার জন্য পড়বে।
এতো সব কিছু বাদ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাদ দেয়া টা হবে মস্ত বড় ভুল। এখন জাতি ২৫% সিলেবাস জানাঅসংখ্য ৫ পাওয়া ছেলে মেয়ে পায়, ভর্তি পরীক্ষা তুলে দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১% A পাওয়া ছেলে মেয়ে পাওয়া যাবে না। ২৫% পাশ করার মতো ছেলে মেয়ে পাওয়া যাবে না। ৭৫% ছেলে মেয়ের ৫ বছর ব্যপি সরকার খরচ বহন করবে যারা কোন যোগ্যতা ই রাখে না গ্র্যাজুয়েট হবার। এই ছেলে মেয়েরা ই আবার আমাদের দেশে চাকরিতে ঢুকবে, শিক্ষায় ঢুকবে। তারা পরবর্তী প্রজন্মকে কি শিখাবে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার মনে হতে পারে, বাইরের বিশ্বে ভর্তি পরীক্ষা নেই, তারা কি মেধাবি না?!! কথা টা আক্ষরিক ভাবে সত্য হয়তো, কিন্তু পুরো সত্য না। তাদের ভর্তিতে আগের পরীক্ষার ফল এর সাথে পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে ২-৩ টি recommendation letter এবং SAT (Scholastic Assessment Test) এর ফল দিতে হয়, যার ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নেন কাকে ভর্তি করা যাবে। SAT এর ফলাফল ই বলে দেয় শিক্ষার্থী স্কুল বা কলেজে কেম্ন পড়া শুনা করে এসেছে, বা সে কতটা জানে। এটা ও এক ধরনের ভর্তি পরীক্ষা, যা সমগ্র পৃথিবীর ছেলে মেয়ে দিতে পারে। এর নম্বর ভাল হলে এবং সাথে ভাল grad থাকলে আপনি ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারবেন, যা অনেকটা সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের এককভর্তি পরীক্ষার সামিল।
এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য ভাল হবে। অন্তত পরবর্তী ৫০ বছর ভাল ফল দিবে। SAT ১৯০২ সালে শুরু হয়েছে, এখন ও চলছে। এমন দীর্ঘ মেয়াদি চিন্তা ভাবনা আমরা হয়তো শিক্ষা ক্ষেত্রে করতে পারি।

৬ thoughts on “ভর্তি যুদ্ধ।ধ্বংসের পথে আগামী প্রজন্ম। -মাস্টারদা শুভ্র

  1. বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু
    বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু আপনি লেখায় তালগোল পাকিয়ে দিয়েছেন ………ভাব সম্প্রসারণ করতে গিয়ে ভাবার্থ বুঝতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে ………আরো সহজ সরল ভাষা হলে মনে হয় বুঝতে সুবিধা হত …… ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সবার মেধা যাচাই করা যায় বলে মনে করিনা কারণ শুধুমাত্র একটা পেপার দিয়ে পড়ালেখার গুরুত্ব বুঝা সম্ভব না এরপর ও গতানুগতিক অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা অনেক কষ্টসাধ্য………

  2. যে দিকেই যান সবদিকেই সমান
    যে দিকেই যান সবদিকেই সমান ।সবদিকেই কিছু না কিছু অসঙ্গতি ও ভেজাল আছে।তবে আপনার মত আমিও ভর্তি পরীক্ষার পক্ষপাতী ।কেননা মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষকদের খামখেয়ালী ও পক্ষপাতিত্বের কারনে অনেক আবাল ও এপ্লাস পেয়ে যায় ।এসব আবাল বা ছাগু যদি AVOBE রেজাল্টের ওপর ভিত্তি করে বুয়েট বা এই ধরনের মান সম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্টানে চান্স পায় তবে এসব প্রতিষ্টানের জন্য সুনাম ধরে রাখা কষ্টকর হবে।প্রকৃত মেধাবীদের স্থলে দেশ ভরে যাবে ম্যা-ধাবীরা ।

  3. আরও কিছু বিষয় আসলে ভাল হত
    আরও কিছু বিষয় আসলে ভাল হত যেমন গ্রামের স্কুলের শিক্ষার মান আর শহরের স্কুলের মান, শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ ইত্যাদি। আমিও আপনার সাথে একমত আমাদের এখনও ভর্তি পরীক্ষার দরকার আছে। আর হ্যাঁ অবশ্যই সিলেবাস, সময় বিষয় গুলো নিয়ে কাজ করার দরকার আছে।
    ভাল একটা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। ভাষা আরও একটু সাবলীল হলে ভাল লাগতো।

  4. লেখকের সাথে শতভাগ একমত হয়ে
    লেখকের সাথে শতভাগ একমত হয়ে বলছি, ভর্তি পরীক্ষা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অবশ্যম্ভাবী একটি বিষয়। কারণ দেশের শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি যা তা অবস্থা ! ডনেশন ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হয় বলে আমার জানা নাই। তবে বিসিএস এর মাধ্যমে শুধুমাত্র গুটি কয়েক সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ করা হয় তাও প্রশ্ন সাপেক্ষ। আমার জানা মতে অনেক ভাল ভাল স্টুডেন্ট এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল করতে পারেনি। অথচ যারা অন্যের দেখা-দেখি করে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে বলে শুনেছি তাদের অনেকেই ভাল ফলাফল করেছে। তাহলে কি দাঁড়ালো ? যদি রেজাল্টের ভিত্তিতে ভর্তি করা হয় তাহলে কারা ভর্তি হতে পারবেন? বিষয়টি ভাবা উচিত না ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *