আমার “মৃত্যু”

একান্তই ব্যাক্তিগত মনোভাবঃ
সেদিন হঠৎ এক বন্ধু বলল যে,আমাদের এক বান্ধবীকে আমরা আর কোনদিন দেখব না ।আমাদের পৃথিবীতে সে আর নেই ।আমাদের কাছে আজ সে মৃত ।কথাটা শুনে আমি বিষণ্ণ হলাম ।প্রতিবারই বিষণ্ণ হই।যেকোন বিচ্ছেদই আমাকে বিষণ্ণ করে।আমি যখনই নিজ বাড়ি,বাবা-মা,বোন কিংবা বাল্য-বন্ধুদের ছেড়ে মেস লাইফ এ যাই প্রতিবারই বিষণ্ণ হই।কিন্তু কোনদিন বা কখনোই সেই আবেগ বা বিশন্নতাকে কাউকে বুঝতে দেই নি।যাই হোক,ওই সময় অন্য এক বন্ধু বলে উঠল,কী যা তা বলছিস?সেই বান্ধবী তো মারা যায় নি।কেবল আমাদের কলেজ থেকে চলে গেছে।এই কথাটি শুনে আমার হঠৎ-ই মনে হল মৃত্যু জিনিসটা কী?



একান্তই ব্যাক্তিগত মনোভাবঃ
সেদিন হঠৎ এক বন্ধু বলল যে,আমাদের এক বান্ধবীকে আমরা আর কোনদিন দেখব না ।আমাদের পৃথিবীতে সে আর নেই ।আমাদের কাছে আজ সে মৃত ।কথাটা শুনে আমি বিষণ্ণ হলাম ।প্রতিবারই বিষণ্ণ হই।যেকোন বিচ্ছেদই আমাকে বিষণ্ণ করে।আমি যখনই নিজ বাড়ি,বাবা-মা,বোন কিংবা বাল্য-বন্ধুদের ছেড়ে মেস লাইফ এ যাই প্রতিবারই বিষণ্ণ হই।কিন্তু কোনদিন বা কখনোই সেই আবেগ বা বিশন্নতাকে কাউকে বুঝতে দেই নি।যাই হোক,ওই সময় অন্য এক বন্ধু বলে উঠল,কী যা তা বলছিস?সেই বান্ধবী তো মারা যায় নি।কেবল আমাদের কলেজ থেকে চলে গেছে।এই কথাটি শুনে আমার হঠৎ-ই মনে হল মৃত্যু জিনিসটা কী?এটা কি কোন ভয়াবহ ব্যাপার? মৃত্যু কী শুধু শারীরিক ভাবেই হয়?নাকি অন্য কোন ভাবে?মানসিক ভাবেও কী মৃত্যু সম্ভব?কিংবা স্মৃতির মৃত্যু?যত কিছুই হোক না কেন, মৃত্যু যত ভাবেই হক না কেন সেটা তেমন কোন বড় ব্যাপার না।হুমায়ূন আজাদ স্যার যেমন বলেছেন-জীবনটা তাৎপর্যহীন। মৃত্যুও তেমন।কিন্তু তবুও জীবনটা আদ্ভুত সুন্দর।প্রচন্ড উপভোগের।হয়তো এই জীবনটা আমি নাও পেতে পারতাম যদি আমার মা-বাবার মিলন না হত।যদি তিনশ বিলিওন শুক্রাণুর সাথে রেস করে ডিম্বাণুর সাথে মিলিত না হতাম তাহলে হয়তো আর এই জীবনটা পেতাম না।যেহেতু জীবনটা পেয়েছিই সেহেতু উপভোগ করাই প্রধান কর্তব্য।এই সুন্দর জীবনকে,পৃথিবীকে,জ্ঞানকে,নক্ষত্রকে,মেঘকে, বৃষ্টিকে,বিশাল সমুদ্রকে,ছোট্ট নদীটিকে,সবুজকে কিংবা অগোছালো টেবিলটিকে ,কংক্রিট দেয়াল,নাগরিক কোলাহল সবকিছুকেই উপভোগ করা উচিত।জন্মের আগে যেমন কিছু ছিল না মৃত্যুর পরেও কিছু নেই।তাই মৃত্যুকে ভয় পাওয়ারও কিছু নেই।যদি জন্মই না হত তবে মৃত্যুর কোনকিছুই থাকতো না। জন্মের মতন মৃত্যুও একটি নিত্য- নৈমিত্তিক ঘটনা, প্রাকৃতিক ঘটনা ।জানি,আমার মৃত্যুতে কারো কিছুই যাবে-আসবে না। জীবনের আগেও যেমন কিছু যায়-আসে নি।শুধু আমার পরিবার,হয়তো প্রিয়তমা,কয়েকটি বন্ধু কিছুদিন বা মাস বা বছর মৃত্যুর শোকে বিষণ্ণ হয়ে পড়বে; কাঁদবে।কিন্তু তারপর সময়ের স্রোতে সব ভেসে যাবে। স্মৃতিগুলো ধূসর হয়ে যাবে।তাই জীবনকে যেমন ভয় করি না মৃত্যুকেও ভয় করি না। জীবনকে মেনে নিয়েছি।উপভোগ করছি। মৃত্যুকেও মেনে নেব।উপভোগ করব।

৯ thoughts on “আমার “মৃত্যু”

  1. আমার মনে হয় আপনি সম্পুর্ন ভুল
    আমার মনে হয় আপনি সম্পুর্ন ভুল ও ভ্রান্ত ধারনার উপর ভিত্তি করেই কথাগুলো বলছেন।

    মৃত্যুকে আপনি কেন কেউই মেনে নেয়নি আর নেবেও না।তবে মৃত্যুকে মেনে নিতে হয়, হবেই।

    স্বেচ্চায় মানা আর বাধ্য হয়ে মেনে নেয়ার মাঝে কিন্তু বিস্তর ফারাক!

  2. মৃত্যু নিয়ে আমরা আসলে খুব
    মৃত্যু নিয়ে আমরা আসলে খুব বেশী গভীরে চিন্তা করিনা। তবে মৃত্যু এমন এক ব্যাপার যা সবাইকেই বরণ করে নিতে হবে। মানুষের মৃত্যু আছে, কিন্তু সে বেঁচে থাকে তার কর্মে।

  3. ভাই আমার যে রকম মনে হয় সেরকম
    ভাই আমার যে রকম মনে হয় সেরকম ই আমি লিখেছি। আমাকে যদি কেউ এসে বলে যে একটা পিল খেলে বা ইঞ্জেক্সন নিলেই বা অন্য কোন ভাবে আমি অমরত্ব লাভ করতে পারব তা আমি করব না। কারন প্রকৃতি আমায় যতটুকু সময় দিয়েছে ততটুকু পর্যাপ্ত উপভোগের জন্য।

  4. আমি অবশ্যই অমরত্ব পেতে চাইবো
    আমি অবশ্যই অমরত্ব পেতে চাইবো না। হয়তো আরো দুটো দিন বেশি বাঁচতে চাইবো। কিন্তু অমরত্ব পেতে চাইবো না কিছুতেই। জীবন আর মৃত্যু ঝিনুকের দুই ঢাকনার মত। জীবন যেহেতু পেয়েছি মৃত্যুকে মেনে নিতেই হবে। কিন্তু তাই বলে এখন নয়। ঘুমিয়ে পড়ার আগে আরো কিছুদূর যেতে চাই।

  5. মৃত্যুর চেয়ে সুন্দর জিনিস
    মৃত্যুর চেয়ে সুন্দর জিনিস পৃথিবীতে আর নেই। যখন কেউ মারা যাবে প্রথমে কষ্ট লাগবে। তার কয়েক ঘন্টা পর যখন মৃত ব্যক্তির মুখের দিয়ে তাকাবেন, তখন খেয়াল করে দেখবেন যে মৃতের চেহারা অনেক উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তখন আপনি যে প্রশান্তি অনুভব করবেন, সেটা আর সারা জীবন পাবেন না। আলাদা আলাদা মৃত্যুর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা প্রশান্তি।

  6. ভাই মৃত্যু সুন্দর কিনা
    ভাই মৃত্যু সুন্দর কিনা জানিনা।তবে জীবনটা খুব সুন্দর।আমি মৃত্যু নিয়ে লিখছি বলেই যে মৃত্যুকে সুন্দর বলব তা না।কারন জীবনটা পেয়েছি এটাকে সুন্দর লাগে যদিও জীবনের অনেক ব্যর্থতা,গ্লানিই আছে যা অসুন্দর।মৃত্যু মানেই তো সমাপ্তি আর সমাপ্তি কখনো সুখ দেয়না।তবু মেনে নিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *