হিমু!

–অই, নাম কি তর?
-জ্বি, হিমু।
–ভাল নাম ক ব্যাটা!
-ভাল নাম হিমালয়, খারাপ নাম হিমু।
–ফাইজলামি করস?
-জ্বি
–এই ল্যাম্পপোস্ট এর নিচে দাড়ায়া উপ্রের দিকে তাকাই হা কইরা আছস ক্যান?
-জ্বি, ঢাকা শহরে এখন আর জোছনা নাই, তাই জোছনার প্রক্সি দেয়ার জন্য ল্যাম্পপোষ্টের আলো খাচ্ছি। আপনি খাবেন? খুব মজা। আলসার যায় গা।
–আবার ফাইজলামি করস? থাব্রায়া চাপাটি ফাডায়া দিমু। চিনস আমারে?
-জ্বি চিনি, আপনি হলেন রহমত খাঁ। নাইট ডিউটিতে আছেন। ভাবি ভাল আছে?
রহমত খাঁ এই পর্যায়ে ঘাবড়ে গেলেন। তার মনে নেই যে তার বুক পকেটে নেম ট্যাগ লাগানো। তিনি মিন মিন করে বললেন-


–অই, নাম কি তর?
-জ্বি, হিমু।
–ভাল নাম ক ব্যাটা!
-ভাল নাম হিমালয়, খারাপ নাম হিমু।
–ফাইজলামি করস?
-জ্বি
–এই ল্যাম্পপোস্ট এর নিচে দাড়ায়া উপ্রের দিকে তাকাই হা কইরা আছস ক্যান?
-জ্বি, ঢাকা শহরে এখন আর জোছনা নাই, তাই জোছনার প্রক্সি দেয়ার জন্য ল্যাম্পপোষ্টের আলো খাচ্ছি। আপনি খাবেন? খুব মজা। আলসার যায় গা।
–আবার ফাইজলামি করস? থাব্রায়া চাপাটি ফাডায়া দিমু। চিনস আমারে?
-জ্বি চিনি, আপনি হলেন রহমত খাঁ। নাইট ডিউটিতে আছেন। ভাবি ভাল আছে?
রহমত খাঁ এই পর্যায়ে ঘাবড়ে গেলেন। তার মনে নেই যে তার বুক পকেটে নেম ট্যাগ লাগানো। তিনি মিন মিন করে বললেন-

–সত্যি করে বল তুই কে? গাঞ্জা টাঞ্জা খাইসস? নাকি ট্যাবলেট?
-জ্বি, ব্রাউন শুগার। নিউ মাল। গাজার মতই কিন্তু নেশা বেশী হয়। আপনাকে একটা বানিয়ে দেই? খাবেন? ভাবী কিছু মনে করবে না। আগের অভ্যাসটাও একটু চাংগা হয়ে যাবে আপনার। দিব?

এই পর্যায়ে রহমত খাঁ সম্পূর্ন ঘাবড়ে গেলেন। আশে পাশে তাকালেন। নিশ্চই কোন গ্যাং এর মেম্বার। মাথায় উস্ক-খুস্ক চুল, রোদে পোড়া চেহারা, গায়ে হলুদ পাঞ্জাবি, পায়ের তলায় ছিড়ে ফালি ফালি হওয়া প্যান্ট। একেবারে জঘন্য অবস্থা। তার উপর এখন দুই পাটি হলুদ দাত বের করে হাসছে। তিনি অনেক কিলার কে দেখেছেন, সম্পূর্ন এইরকম না হলেও প্রায় এমনি। তিনি ঠিক করলেন আর দাড়াবেন না। হাটা দিলেন। একটু পর দেখলেন ছেলেটা তার পিছে পিছে আসছে। তার ভয় সিমানা ছাড়াল। তিনি আইতুল কুরসি পড়তে লাগলেন।

আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলহাইয়ুল কাইয়ূম!

এর পর আর তিনি মনে করতে পারছেন না। অনেক চেস্টা করলেন। মনে পড়ল। আবার পড়া শুরু করলনে। একপর্যায়ে তা জিকিরে রূপ নিল।
অপর দিকে হিমু মন খুলে মজা নিচ্ছে। অপরকে ভড়কে দেয়ার মজাই আলাদা। তা যদি হয় কোন কনস্টেবল তাহলে তো কথাই নেই। এরা হল বেড়াল টাইপ। বাঘের মাসি হলেও বাঘের মত সাহস নেই। খালি মিউ মিউ করে। বেশী করে ঘুষের আভাস পেলে।

কিছুক্ষন পর রহম খাঁ আরো কয়েকজন টহলরত কনস্টেবলকে দেখে সাহস ফিরে পেলেন। পিছনে ফিরে দেখলেন ছেলেটা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে এবং তার পাশে একটা কুকুর দাড়ান। তিনি ধরেই নিলেন যে ছেলেটা ভুত । আইতুল কুরসির বদৌলতে বেচে গেছেন। কালকেই হুজুরের কাছে যেতে হবে, পানি পড়া আর তাবিজ নিতে হবে। আছর কাটবে। বাসার কাছেই একজন থাকেন। বিড়াট বড় হুজুর। অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিই তাঁর কাছে আসেন। ভাবতে ভাবতেই রহমত খাঁ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।
হিমু তখন তার পাশে দাড়ান কুকুরের দিকে তাকিয়ে কথা বলছে।

-কিরে? কি খবর?
-ঘাউ, ঘাউ। এবারে কুকুর লেজ নাড়তে শুরু করল। কিন্তু তার চেহারায় উদাসতা। লেজ নাড়া কুকুর ভাল না। পিছু ছাড়ে না।
-কিরে? চেহারা উদাস কেন? ক্ষুদা লেগেছে?
-কুঁই, কুঁই।
-জোছনা খাবি?
-ঘাউ
হিমু আবার হাটতে শুরু করেছে। সেই ল্যাম্পপোস্টের নিচে গিয়ে দাড়াবে। ল্যাম্পপোস্টের আলো খাবে। শহরে জোছনার বড়ই অভাব।

১৪ thoughts on “হিমু!

  1. আগে পড়েছি পড়েছি মনে
    আগে পড়েছি পড়েছি মনে হচ্ছে…
    আমার ভুল হলে বলতে হয় আপনার লিখা অনেকটা অরিজিনাল লাগতেছে!!!

    1. না ভাই। হুমায়ূন স্যারের লেখা
      না ভাই। হুমায়ূন স্যারের লেখা কপি করে দেয়ার সাহস আমার হয় নাঈ। তিনি যে পর্যায়ের লেখক, সে পর্যায়ের লেখক আমি না। এইটা হুমায়ূন স্যার লিখলে আরো ভাল হত। শুধু তার তৈরি শ্রেষ্ঠ চরিত্র নিয়ে লেখার সাহস করেছি। বেশী কিছু না। ভাল লাগলেই ভাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *