তুমি, আমি আর ইগো


দেবযানী শিমুলের সাথেই পড়ে। একই ক্লাসে, এক ব্যাচে। যদিও দুজনের বিভিন্ন বিষয়ে মিল আছে, কিন্ত দুজন দুজনকে একেবারেই দেখতে পারে না। বন্ধুবান্ধবরা জানে তাদের ব্যাপারটা। তাই আলাদা আলাদাভাবে দুইজনকেই পছন্দ করলেও, তারা যখন সামনা সামনি পড়ে, কেউ সামনে পড়তে চায় না।




দেবযানী শিমুলের সাথেই পড়ে। একই ক্লাসে, এক ব্যাচে। যদিও দুজনের বিভিন্ন বিষয়ে মিল আছে, কিন্ত দুজন দুজনকে একেবারেই দেখতে পারে না। বন্ধুবান্ধবরা জানে তাদের ব্যাপারটা। তাই আলাদা আলাদাভাবে দুইজনকেই পছন্দ করলেও, তারা যখন সামনা সামনি পড়ে, কেউ সামনে পড়তে চায় না।

সেদিনও দুইজন করিডরে সামনাসামনি পড়ে গিয়েছিল। আশেপাশে চার-পাঁচজনের হাতে একবারে উঠে এল তিন আঙ্গুল। স্যালুটের মত সবাই সবাইকে দেখাতে লাগল তিন আঙ্গুল।… তিন আঙ্গুল মানে তিন নাম্বার সতর্ক সংকেত। দুই সেকেন্ডে করিডর ফাঁকা।

“শিমুল”, দেবযানী তার দু’হাত ভাঁজ করে দাঁড়াল। মাথাটা একটু হেলানো, যেন ছোবল মারতে উদ্যত।
“দেবযানী”, শিমুলেরও দু’হাত ভাঁজ হয়ে গেল। মাথাটা একটু কাত, বাঁকা চোখে দেখছে ওকে।
“ভালো হয়ে যাও শিমুল, ভালো হইতে পয়সা লাগে না” ।
“হেহ, এক নানী আরেক নানীরে বলে দাদী”।

এইবার বিষম খেল দেবযানী,
“নিজেকে কী মনে কর? ওই চেহারায় পরী জুটবে তোমার কপালে?”
“পরী না জুটুক, পেত্নী জুটবে না”।

আশেপাশে দেখে একটা জুতা খুলে হাতে নিচ্ছিল দেবযানী, আর শিমুল মনে মনে ভাবছিল দৌড় দেবে, নাকি দাঁড়িয়ে দেবযানীর হাতটা ধরবে…

ঠিক সেসময় ফ্যাকাল্টির টিচার সামনে এসে পড়ায় কথার লড়াই আর বেশিদূর এগোতে পারল না। জনশ্রুতি আছে দুজন একদা দুজনকে পছন্দ করত। কিন্ত শিমুল দেবযানীর কাছের বান্ধবী নাবিলার সাথে ফ্লারট করে এস এম এস পাঠিয়ে ধরা খায়। এরপর থেকেই এই অবস্থা।

সেদিন দুজন আর লাগতে না পারলেও ছুটির সময় একসাথেই নামছিল সিঁড়ি দিয়ে। দুজন তাদের গ্রুপ নিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিল। এমন কেউকেটা ভাব, যেন কেউ কাউকে চেনেই না।

কলেজ থেকে বের হয়ে শিমুল এগলো নিউমার্কেটের দিকে। দেবযানীর বাসাও এদিকেই। হঠাৎ শুনলো মেয়েলি চিৎকার। রাস্তার দিকে তাকিয়ে দেখে এক্সিডেন্ট করেছে একজন। সে আর কেউ নয়, দেবযানী।
তাড়াতাড়ি রাস্তার মাঝে ছুটে গেল শিমুল। পায়ে আঘাত পেয়েছে দেবযানী। রক্ত বেরোচ্ছে দরদর করে। এক ঝটকায় তাকে কোলে তুলে নিল। একদৌড়ে নিয়ে গেল কাছের ল্যাবএইড হসপিটালে। সারাদিন সারারাত ছিল সেখানে। জ্ঞানহীন দেবযানী কিছুই জানলো না।

পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছিল তার। তিনদিন রেস্টে থাকবার পর কলেজে এসে জানতে পারে সব। শিমুলের কাছে যায়,
– শিমুল।
– দেবযানী।
– আমি স্যরি। তোমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি।
– কী যে বল, আমি ভালো ছেলে। ভালো হয়ে গেছি। তুমি আমার থেকে দূরে থাকো।

কাঁদতে কাঁদতে চলে যাচ্ছিল দেবযানী। তাকে পেছন থেকে হঠাৎ ডাকে শিমুল। এটা দেখ। মোবাইলে একটা এস এম এস দেখায়-
” শিমুল, দেবযানীর সাথে একটু ফান করব। আমাকে একটা এস এম এস পাঠা এমন তুই যেন আমার সাথে প্রেম করিস – নাবিলা”।
মোবাইলটা হাতে নিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো দেবযানী।
প্রেম হারালে ভোলা যায়, বন্ধু হারালে ভোলা যায় না। তাই তিন বছরের বিদ্বেষ আঙ্গুলের তুড়িতে তৈরি করেছিল নাবিলা। আর ইগোইস্টিক দুজন আজও সেই বেড়াজালে বন্দী।

১৫ thoughts on “তুমি, আমি আর ইগো

  1. প্রেম হারালে ভোলা যায়, বন্ধু

    প্রেম হারালে ভোলা যায়, বন্ধু হারালে ভোলা যায় না।

    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ফুল:

  2. আপনার মুল উদ্দেশ্য কি ছিল এই
    আপনার মুল উদ্দেশ্য কি ছিল এই কথা টা বোঝানো ? –

    প্রেম হারালে ভোলা যায়, বন্ধু হারালে ভোলা যায় না।

  3. ১। গল্পের গভীরতা আনতে চাইনি,
    ১। গল্পের গভীরতা আনতে চাইনি, নিছক টিনএজারদের জন্যে লেখা।
    ২। মাত্রার বেশি সিনেমাটিক হয়েছে শেষের অংশটা, স্বীকার করি। 🙂
    ৩। আসলে গল্পটা কিছু সত্য ঘটনার আদলেই লেখা । সত্য ঘটনায় মেয়েটির হাত চুড়ি দিয়ে কেটে যায়। -_-
    ৪। লেখার সময় আমি প্রচন্ড অসুস্থ ছিলাম, এবং এখনো আছি।
    ৫। লেখাটা দেবার পেছনে কারণটা হল জাস্ট অতি অনিয়মিত হতে পারি সেরে না ওঠা পর্যন্ত, সেটা হতে চাচ্ছি না।

  4. সুন্দর লিখেছেন। বাসের কথা
    সুন্দর লিখেছেন। বাসের কথা লিখতেই বুঝেছিলাম এক্সিডেন্ট হবে তাই হল। কিন্তু এর পরের টুকু অনবদ্য।

    তাহলে রাশি বচন বাদ দিয়ে সাহিত্য
    চালিয়ে যান গুরু চালিয়ে যান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *