আমার পরী-০৪

-হ্যালো আস্লামালিকুম
-দুর ও !! আমি ।
-জ্বি আমি কে ?
-তুমি কে মানে ?
-বলছিলাম আপ্নি কে ? আমি । আমি তুমার স্বামী !!
বলেই অট্ট হাসি তে ফেঁটে পড়লাম ।
ওপাশ থেকে উত্তর এলো
-আর হাসা লাগবে না । চিনছি আপ্নাকে ,,
আমি বললাম
-জানু কি করো ?



-হ্যালো আস্লামালিকুম
-দুর ও !! আমি ।
-জ্বি আমি কে ?
-তুমি কে মানে ?
-বলছিলাম আপ্নি কে ? আমি । আমি তুমার স্বামী !!
বলেই অট্ট হাসি তে ফেঁটে পড়লাম ।
ওপাশ থেকে উত্তর এলো
-আর হাসা লাগবে না । চিনছি আপ্নাকে ,,
আমি বললাম
-জানু কি করো ?
-চুপ ।
-কেনো ?
-এই রকম অসভ্যের মত কথা বলবে না !
আমি বললাম
-হায়রে আমার সভ্য বউ !! আর আধা ঘন্টা মাত্র আসছি আমি ।
সে একটু বিচলিত হয়েই প্রশ্ন করল
-এত তাড়াতাড়ি আজ !
-কি আর করা ঘরে এইরাম পরী থাকলে কি বাহিরে থাকা যায় ?
বউ মনে হয় চাচ্ছে না এই সময় বাসায় যাই ,
আমি বললাম
-অফফফ রে ।
-কি হইছে ?
-আমার একটা জরুরি কাজ পড়ে গেলো আসতে আসতে আরোও দুই ঘন্টা লাগবে ।
তার পরের কথাবার্তা শুনে মনে হলো খুব খুশি । আমি ও খুশি । কারন আমি চাই তার স্বাধীনতা । মুখে তাকে যে স্বাধীনতা দিছি বাস্তবে ও তা দিতে চাই । কিন্তু !!
এক জায়গায় ই বাধা !!!
আমি বাসি তাকে বাট সে বাসে আরেকজন কে !! ফেবুর প্রেম যে এইরকম হয় তা তারে দেখা বুঝা যায় ! অল টাইম ফেবু তে কার সাথে যে কি করে আল্লাহই জানে কেননা আমি তার ফ্রেন্ড লিস্টেই নেই । যে আইডির ফ্রেন্ড লিস্ট এ আছি সেটাতে বেশ ঢুকেই না । আমি ভাবছি কি করা যায় আধা ঘন্টা বলেছিলাম যখন তখনই তর সইছিলো না আর এখন ত বলছি দুই ঘন্টা ! কি করা যায় এই নিয়ে যখন চিন্তা করছি ঠিক তখন ই মনে হলো একটু ফেবু চালিয়ে সময় টা পাস করে নেই । কয়েক দিন যাবত একটা মেয়ের সাথে কথা বলছি মেয়ে টার কথা বার্তায় বুঝা যায় পুরাই পাকনা বাট অনেক ছোট । ফেবুতে এক পার্টি আছেই যারা লাইন মারার জন্য উদগ্রিব হয়ে থাকে , লাইন একটা না তিন চারটা মারে আর অই যারা ফাঁসে তারা তাদের ফ্লেক্সি করে । লাইন মারতে মারতে এমন ও আছে যে তারা ফিজিকেল রিলেসনের দিকে ধাবিত হয় । তেমনি একজনের ফাঁদে আমার বউ ও পা দিয়েছে । যাই হোক আমি ফেবুতে লগইন করেই দেখি অই মেয়েটার কয়েক টি মেসাজ !
আমি ব্যাক করা শুরু করলাম
-হ্যা ভাল ।
-কি করেন ?
-না এই ত বসলাম মাত্র, ইউ ?
-আমি আপনার অপেহ্মা করছি !
-কি ?
-না মানে আপনার টেক্সটের অপেহ্মা করছি ।
-ও ! তা কি খবর তুমার ।
-জ্বি ভাল ।
আর কিছু কথা বলার পাচ্ছি না , আর ফেবু ও ভাল্লাগতেছে না । বের হবো এমন সময় দেখি আরেকটা টেক্সট !
-আচ্ছা আপ্নি আমায় কত দিন ধরে চেনেন ?
-চিনি ত ! কেনো ?
-আগে বলেন ?
-এই হবে ৫-৬ মাস !
-হু
-হু কি ?
-আমায় বিয়ে করবেন ! আমি ত টাসকিত ! বলে কি । বেয়াদবির ও সীমা থাকা উচিত ! আমি বললাম
-গুড জোক । আমার কারো সাথে এফেয়ার আছে । হা হা হা !!!
হাসিটা দিয়ে কথাটা হালকা করতে চাইছিলাম । কিন্তু উল্ট বলল
-আমার ও ত এফেয়ার আছে !
পুরাই স্থম্ভিত হয়ে গেলাম এই মেয়ে বলে কি । আজ থেকে ছয় সাত মাস আগে একটা রিকু এসেছিলো । তারপর কথা বলে বলে আজকে ভালো সম্পর্ক । মেয়েটার কথা অনেক বার শুনলেই মনে হইছে যে প্রেম ট্রেম করতে চায় । আর আজ ডাইরেক্ট এত বড় কথা !!
আমি বললাম
-আমি এখন গেলাম,
এই মেয়ের সাথে কথা বলে লাভ নাই ।
,
ঘরে ঢুকেই বুঝতে পারলাম যে বউ খুব খোশ মেজাজে আছে !!
মনে হচ্ছে আজ প্রচুর কথা হইছে তার অইটার সাথে । আমি তেমন ভ্রুহ্মেপ না করেই গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। বললাম
-কি করো জানু
বলেই বুঝলাম অনেক বড় ভুল করে ফেলছি । হাত তুলল মারতে আর আমি প্রচন্ড ভয়ে হেসে দিলাম । মারল না ।
-জানু ফানু কথা গুলা তুমার গার্ল ফ্রেন্ডদের বলিও আমাকে না ।
-ফানু কই বললাম ?
-চুপ !
আমি বললাম
– চুপ বলিনি ত !বলেছি “জানু” !
এই কথা শোনার পর এমন চাহুনি দিলো আমার দিকে আমি শুধু ভাবতে লাগলাম এ কি সত্যিই আমার !! এই রকম বিতর্কে যখন সে হার মানে তখন পুরাই রক্ত মাথায় উঠে যায় । আজ তেমন না হলে ও আমি বুঝেছি আমার ভাগ্যে আজ খারাবি আছে । তার কাছে ভালো সাঝার জন্য বললাম
-ঘরে কি কাপড় চোপড় আছে !!
-কেনো থাকবে না ?
-না মানে ধুয়ে দেয়ার জন্য ।
এটা শুনে কোনো কথা বলল না । আমি আমার দ্বিতীয় চাল চাললাম
-আচ্ছা শপিং এ চলো। অনেক মজা হবে ।
কথা টা বলেই বুঝলাম আরে এ মেয়ে কে আমি একি বললাম তার ত শপিং ভালোই লাগে না । দোকানির সাথে দরদাম করা এসব নাকি তার ভাল্লাগে না । এ একটা ভালো গুণ ! আমার বউ বলে কথা স্পেসাল হবেই ত ।
আমি দেখলাম শপিং এর কথায় কোনো কাজ ই হলো না !
এবার লাস্ট ঢিল মারব ।
বিসমিল্লাহ বলেই কথা টা শুরু করলাম
-চলো রকশায় ঘুরি ।
কথাটা শুনেই আমার দিকে তথহ্মনাত তাকালো !
-কোথায় যাবা ?
এমন প্রশ্নে আমার ভাগ্য যেনো খুলল !
আমি তাড়াতাড়ি তার পাশে গিয়ে বসলাম তার হাত দুটু ধরে বললাম
-কোথাও যাবো না শুধু রিকশা দিয়ে ঘুরব ।
এমন কথায় যেনো সে খুব মজা পেলো । আমার হাত ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলো বলল
-এই ড্রেস থাকবে নাকি চেঞ্জ করব ?
আমি বললাম
– থাকুক ।
-নাহ মন থেকে বলো ।
-পিঙ্ক কালার অইটা হলে ভাল হয় ।
চলে গেলো অন্য রুমে । বিদ্যুত গতিতে ড্রেস চেঞ্জ করে আসলো ।
-আইএম রেডি
-চলো ।
আমি বললাম
-তুমার ফোন কোথায় । -রেখে আসছি ।
আমি বুঝলাম না এই মেয়ের ত ফোন ছাড়া চলেই না । তাহলে কেমনে এখন ফোন ছাড়া আসল ??
আমি আর কিছু বলতে গেলাম না পাছে যদি আবার মন খারাপ হয়ে যায় ।
সে আমার হাতে ধরেছে । মনে হয় মনের অজান্তেই ধরেছে । কেননা আমার সংস্পর্শ তার ভাল লাগে না । আমি রিকশার ডান পাশে বসেছি । অনেক টা চেপে বসেছি । কিন্তু ও শুধু আমার দিকে চাপছে । আমি বুঝলাম দুষ্টুমির মতলব কারন এ মেয়ে অনেক চিকন তারপর ও যেনো তার অইপাশে যায়গা হচ্ছে না । রিকশাওলা একটু পর পর জিজ্ঞেস করছে
-কই যামু ?
আর সে সেইম উত্তর দিচ্ছে
-যেখানে ইচ্ছা ।
তার উত্তর শুনে রিকশাওলা বার বার ই বিরক্তি প্রকাশ করছে আর আমি এদিকে তার হাত চেপে বসে আছি ।
-মামা !!!
বলেই চিতকার দিলো সে ।
আমি বুঝে ফেলেছি কি হইছে ।
দুই হাত দিয়ে তার মুখ ঢেকে দিলাম। সে আমার হাত তার মুখ থেকে সরাতে চাচ্ছে বাট আমি ধরে আছি একপর্যায়ে না পেরে আমায় খুব জোরে এক থাপ্পড় মারল !
আমি ছেড়ে দিলাম তার মুখ থেকে হাত !
আমি তাকে তার মামার হাত থেকে বাঁচালাম মানে তার মামা দেখে ফেলছিলেন একটুর জন্য আর সে আমায় থাপ্পড় দিলো !
আমি মুখ সর্বচ্চ গোমড়া করে অন্য দিকে চেয়ে রইলাম । সে ধমক দিয়ে বলল
-কি হইছে ?
আমি কথা বললাম না ।
আবার বলল
-গর্দভের মত মুখ চেপে ধরছিলা কেনো !
আমি বুঝলাম যে এই মেয়ে হয়ত জানেই না যে তার মামা তাকে দেখছিলেন । কিন্তু তাইলে মামা বলে চিতকার দিলো কেনো ? আমি বুঝলাম কোনো কিছু গন্ডোগোল করে ফেলছি । আমি বললাম
-তুমি না মামা বলে চিতকার দিলা ?
-কই ?
-এইত একটু আগে ।
– আরে আমি ফুচকার দোকান দেখে বলেছিলাম মামা ফুচকা !! মানে আমি খাবো !! আমার মামা আছে নাকি ?
হ্যা ঠিক কথাই ত তাদের মামা নেই .
আমি পুরাই লুল হয়ে গেলাম । এই মেয়ের কাছে যতই ভালো সাজতে চাই ততই উল্ট টা হয় । আমার এমন পরাজয়ে বা লজ্জায় সে খুব মজা পাচ্ছে । আমি যেনো তার পাশে পাথর হয়ে বসে আছি । সে বলল
-জনাব মামা খাবেন ?
আমি আর কোনো কথা বলছি না রিকশা চলছে আর এখন তার পাওয়ার চালানো র সময় তাই আমি চুপ ।
কিন্তু হটাত এমন এক কান্ড করল যাতে আমি কেনো দুনিয়ার তামাম পুরুষ জগতের মন ভালো হতে এক সেগেন্ডের ও কম সময় লাগবে ।
আমাকে বলল
-কানে কানে একটা কথা বলব,,,
আমি এমনি তেই কাচুমোচু হয়ে বসে আছি তার উপর কানে কানে কথা ! আমি ভয় পাচ্ছি আবার জানি কি লজ্জায় ফেলে !
আমি বলল
-বলো ,,
সে বলল
-কান কাছে আনো
আমি একটু বাম পাশে ঝুকলাম । সে তার ঠুট দুটো আমার কানের কাছে এনে বলল
-আমি তুমাকে যা বলতে চাই তা হল …………
কানের কাছে মুখ এনে বসে আছে কিন্তু শুধুই কথা প্যাচাচ্ছে ।
কি জন্য এত দেরী করছে বুঝলাম না ।
আর কানেই বা কেনো এটা বলতে হবে ? কিন্তু যখন বুঝলাম তখন আমি যেনো জিবন্ত মুর্তি হয়ে গেলাম ২ সেগেন্ডের জন্য । হটাত রিকশার একটা চকা রাস্তার গর্তে পড়ে ঝাকি খেলো আর তাতেই ঘটল ঘটনা । তার গোলাপ রাঙ্গা মিষ্টি ঠুট দুটু আমার গালে সেটে গেলো আমি তখন ই বুঝলাম যে কথাটা ঠিক “গার্ল ফ্রেন্ড হীন জিবন ঘাস বিহীন গরুর মত ।
সে স্বাভাবিক হয়ে গেলো কিন্তু আমি পারলাম না । আমি তার দিকে তাকালাম । মিটিমিটি মিষ্টি করে হাসছে । হ্যা । তারমানে অই গর্ত টা শুধু একটা কারন মাত্র । হ্যা । ভালো লাগল অনেক তার হাত টা ধরলাম । তার দিকে চেয়ে আছি স-পলক । এত মিষ্টি একটা মেয়ে কে নিয়ে রিকশায় ঘুরছি । ভাবতেই কি যেনো শিহরন এলো ।
আমার তাকানো দেখে হেসে আমায় প্রশ্ন করল -কি দেখো ?
আমি তার উত্তর না দিয়ে উল্ট প্রশ্ন করলাম -চুলে কোন সেম্পু ইউজ করো ?
-কেনো ???
-না মানে । এত সুন্দর চুল ত তাই ।
এখন আর আমার কোনো উত্তর দিলো না ।
অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ল ।
আর আমি গাদার মত সেই হাসি গিলে খাচ্ছি ।
মজা পাচ্ছি । উপভোগ করছি ।
জীবন মোর স্বার্থক স্বজনী তোমার পানে চেয়ে ,,
এ জিবন যেনো শেষ হয় মোর তুমার ই গান গেয়ে ।

৭ thoughts on “আমার পরী-০৪

  1. “গার্ল ফ্রেন্ড হীন
    জিবন ঘাস

    “গার্ল ফ্রেন্ড হীন
    জিবন ঘাস বিহীন গরুর মত ”

    নারীদের তো খাদ্য না বানিয়ে ফেলছেন, শফিহুজুর এর ভক্ত মনেহয় আপ্নে। হুজুর রে আমার সালাম দিয়েন.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *