আমার পরী-০৩

-হুড টা তুলে ফেলো ।
শাম্মি কথা টা বলেই মোবাইল টিপতে শুরু করল ।
আমি উল্ট প্রশ্ন করলাম
-কেনো কি হইছে ?
সে শুধু আর একবার বলল
-প্লিজ
আমি আর কোনো কথা বললাম না । কারন তার উপর
আমার কথা চলে না । দিলাম হুড টা টেনে ।
তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই ।



-হুড টা তুলে ফেলো ।
শাম্মি কথা টা বলেই মোবাইল টিপতে শুরু করল ।
আমি উল্ট প্রশ্ন করলাম
-কেনো কি হইছে ?
সে শুধু আর একবার বলল
-প্লিজ
আমি আর কোনো কথা বললাম না । কারন তার উপর
আমার কথা চলে না । দিলাম হুড টা টেনে ।
তার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই ।
মোবাইল টিপতেছে । মনে হয় সাহিনের সাথে চ্যাট
করতেছে । করুক । আমার সাথে যে রিকশায় উঠছে এটাই
আমার জন্য বেশি ।
হটাত রিকশা ওলা কে বলল ।
-থামো থামো ,
-কেনো কি হইছে ???
ফার্মেসীর সামনে কি দরকার বুঝলাম না ।
-কি হইছে ।
-চুপ । রকশায় বসে থাকো ।
-অকে
কি হইছে বুঝা বড়ই মুশকিল । এ মেয়েকে আমি কখনই
বুঝতে পারি নি । হয়ত পারব ও না ।
আমি বললাম
– টাকা লাগবে ।
সে তার পার্স হয়াতিয়ে বলল
-দাও ত
আমি বললাম
-কত ?
বলল
– ৫০/= টাকা দাও ।
আমি ১০০ টাকার একটা নোট বের করে দিলাম ।
সে হাত থেকে নোট টি নিয়ে ফার্মেসীর
দিকে চলে গেলো ।
হাতে সাদা খামে মূড়ানো একটা প্যাকেট ।
আমি কিছুই বুঝলাম । আমি প্রশ্ন করলাম
-তুমি অসুস্থ ?
-নাহ ।
-তাইলে ?
-সরো আমি বসব ।
বলেই আমায় ঠেলে দিলো অন্য পাশে ।
আমি আবার প্রশ্ন করতাম বাট সে আবার মোবাইল
টিপানো শুরু করল ।
রিকশা চলছে । মুটামুটি একটা নির্জন এলাকায়
রিকশা প্রবেশ করল
আমি তার হাতে ধরলাম । কিচ্ছু বলল না ।
অন্য সময় হলে থাপ্পড় দিতে ।
আমি শুধু মুচকি হাসছি মনে মনে চিন্তা করলাম – ভালই ত
অন্যের গার্ল ফ্রেন্ড

হহাহাহাহা ।
হাত ধরায় রাগ করল না । ব্যাপার টা ঠিক বুঝলাম না ।
হটাত সে বলে উঠল
-হুড টা ফেলে দেও ।
-কেনো
-বলছি ফেলতে !!!
-অকে ।
নামিয়ে দিলাম হুড ।
আজ আকাশ মেঘলা । যে কোনো সময় আকাশ
ফূড়ে ব্রিষ্টি আসতে পারে ।
হটাত চলে ও আসল ।
আমি আবার হাত ধরার জন্য চান্স খুজছি । বাট
সে মোবাইল টিপছে । তাই পারছি না । এখন
ব্রিষ্টি আসল তাই তার ফোন টা বেগে ভরে দিলো ।
আমি ও চান্স পেলাম । খপ করে ডান হাত টা ধরে ফেলম
। বাম হতে অই প্যাকেট টা ।
-কি অই টায় ???
-তুমার জন্য একটা গিফট
বলেই এক ভুবন ভুলানো হাসি হাসি শুনে ভুলে গেলাম কোন কথায় ছিলাম ।
ব্রিষ্টি এসেও আসছে না ।
আকাশ প্রচন্ড কালো ।
বাতাস হচ্ছে চারিদিকে । কিন্তু তারপর ও
সে ঘেমে গেছে হটাত করে । কামিজের বিভিন্ন অংশ
ভিজে গেছে । আমি বুঝলাম না । এই বাতাসে ও
সে কেনো এত বিব্রত ।
ব্রিষ্টি শুরু হল । খুব বেশি ।
ড্রাইভার পলিতিন দিতে চাইল বাট সে বলল
-ভিজেই গেছি থাক । লাগবে না ।
সাম্মি আর আমার মাঝে অনেক জিনিস মিল আছে । যেমন
আমি যখন পানি খাই ফোন দিলে দেখি সে ও খাচ্ছে তাই
। আমি ব্রিষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করি সে ও করে ।
সে রাত জাগে ।আমি ও রাত জাগি । আরোও অনেক মিল

ব্রিষ্টি আমাকে পুরো ভিজাবার আগেই সে
ভিজে জব জব । আমি আকস্মিক এক কান্ড করলাম
হাত টা ধরে রেখেই তার কাঁদে মাথা রাখলাম ।
কিছুই বলল না । আমি আজ মনে মনে অবাক হচ্ছি ।
কি হলো এই মেয়ের যার দিকে তাকালেও তার খারাপ
লাগে । আজ তাকে জড়িয়ে ধরলেও মনে হয় কিচ্ছু
বলবে না । রিকশার হুড ফেলা তাই চারিদিক
থেকে লোকজন দেখছে । চিকন ত তাই কাদ
থেকে মাথা টা বার বার সরে যাচ্ছে ।
ওর মুখ বেয়ে ব্রষ্টির জল আমার মাথায় পড়ছে ।
এ যেনো সুখের জল ।
না শোকের ?????
-চলো একটা হোটেলে যাই ।
এরকম কথাবার্তা তার কাছ থেকে কখনই
আশা করি নি তার পর ও বললাম
-কেনো ???
-আমার ইচ্ছা
তার ইচ্ছার উপর আমার কোনো কথা চলে না ।
এক বার বলেছিলো ফোন ধরব না । আমি জিজ্ঞেস
করছিলাম কেনো সে বলল
-আমার ইচ্ছা ।
এটা বললে আমি আর কোনো যুক্তি খুজে পাইনা । কারন
তার ইচ্ছে মানেই আমার ইচ্ছা ।
আমি বললাম কোন টায় যাবা ।
ও বলল
– যেটায় গেলে পরে কোনো ঝামেলা হবে না ।
আমি অবাক দ্রিষ্টিতে ভাবছি এই
কি সে মেয়ে যে আমাকে দিনের পর দিন নাচাইছে এক
মিনিট কথা বলার জন্য ।
আমাদের রিকশা টা একটা হোটলের
সামনে এসে থামলো ।
সে আগে রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে ছাদের
নিচে গেলো । পুরাই ভিজে গেছি দুজন ।
আমি রিসিপ্সনে গিয়ে একটা রুম বোক করলাম বাট
অনেক কষ্ট হলো । শত প্রশ্ন !!!! আমি শেষে উত্তর
দিতে দিতে যখন ক্লান্ত তখন সে পাশে থেকে চিতকার
দিয়ে বলল ,
-আপ্নি রুম না দিলে দিবেন না । এত প্রশ্ন করেন
কেনো ?
রিসিপসনের লোকটা সম্পূর্ন ভিজে যাওয়া একটা মেয়ের
দিকে যেভাবে তাকানো উচিত ঠিক
সে ভাবে তাকালো না । খারাপ দ্রিষ্ট !!!!
লোকটা তাকে উদ্দেশ্য করে বলল
-আপনারা কি হন ??
এই প্রশ্ন করে যেনো বিজয় হয়েছে লোক টার !!!
কিন্তু পাল্টা উত্তর
শুনে বেচারা এক্কেবারে টাস্কি খাইলো । –
আমরা স্বামী স্ত্রী ।
,
রুম এ ঢুকেই ইচ্ছে করছিলো জড়িয়ে ধরি বাট
সে সোজা ওয়াস রুম এ চলে গেলো ।
আমার মন অজানা এক সুখে দোল দিয়ে উঠল ।
ওয়াস রুম থেকে পুরাই ফ্রেস হয়ে বের
হলো যেনো কোনো পরী বের হইছে ।
আগে বললে রাগ করত । এখন বললে ত থাপ্পড় খাবো ।
আমি আমার শার্ট খুলতে লাগলাম বাট সে বলল তুমার
লাজ লজ্জা নাই ???
আমি লজ্জা পেয়ে ওয়াশ রুমে চলে যাচ্ছি আর
সে হোটেলের ফোনটা হাতে নিয়ে কিছু খাবার অর্ডার
করল । যেতে যেতে শুনলাম সব গুলাই আমার পছন্দের
খাবার । আমি ওয়াশ রুমে । হটাত দর্জায় নক হলো ।
আমার অবস্থা খারাপ । আমি বললাম
-কে ??
-গাধা , আমি ।
-ও কি হইছে ???
-তুমার কি কিছু খেতে ইচ্ছে করছে ???
-অর্ডার ত দিলাই ।
–আর কিছু ??
-এক মগ গরম কফি আর মসলা ছাআ মাংশ হলে ভাল হত

-অকে ।
বলেই চলে গেলো ।
আমি খুব খুশি । বুঝতেছি না আমার সাথে আজ এত
ভালো ব্যাবহার কেনো ????
ওয়াস রুম থেকে বের হয়ে দেখি খাবার
থেকে ধুয়া ঊড়ছে আর রুম পুরাই অন্ধকার । শুধু কয়েক
টি মোম বাতি ঝলছে ।
আমি কিছু বলার আগেই
-বলল হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ ,,,,,
আমি হতভম্ভ !!!!!
আবার উইশ করল ,।
আমার খুশিতে চোখে পানি এসে গেলো !!!
এত এত ভালো বন্ধু থাকা সত্যেও এত এত আত্নীয়
স্বজন থাকা সত্যেও কারো তারিখ টা মনে নেই কিন্তু
জানুয়ারির ১২ তারিখ এই পাগলি টা ঠিকই মনে রাখছে ।
শুধু মনে রাখে নি । অনেক বড় আয়োজনও করে ফেলছে ।
আমি তখন ই বুঝলাম এই মেয়ের বয় ফ্রেন্ড থাকুক ।
বিয়ে করুক যাই করুক । আমি ছাড়ছি না তাতে । আমার
জিবনের অংশ তাকে বানাতেই হবে ,
সত্যি ই মিত্যুই তাকে আমার কাছ থেকে মুক্ত
করতে পারে ।
খাওয়া শুরু করলাম । সব খাওয়া শেষ হওয়ার পর কফি পট
থেকে ঢাকনা সরিয়ে আমায় গরম কফির মগ টা দিলো ।
আমি মগ নেওয়ার সময় তার হাতের স্পর্শ খুব উপভোগ
করলাম । সে একটু লজ্জা পেয়ে হাত সরিয়ে নিলো ।
আমি কফি খুব বেশি খাই তাই এর সব রকম গন্ধই
চিনি বাট আজকের কফির গন্ধের মত কুনোদিন খাই নাই
আমি চুমুক দেয়ার আগে তার চুখে চুখ রাখলাম ।
ও আজ খুব খুশি ।
আমি আর কফির গব্ধ নিয়ে ভাবলাম না ।
আমি জানি
কফির গন্ধ এ রকম কেনো আমি জানি ।
আমি দেখিনি সে ফার্মেসী থেকে কি কিনেছে !!
বাট ফার্মেসীর লোক টা আমার চিনা জানা ।
ও যখন ওয়াস রুমে ছিলো তখন লোকটা ফোন
দিয়ে বলেছিলো
শাহান
-তুমার সাথের মেয়েটা কে ।
আমি বললাম
-কেনো ?
-না আমার দোকান থেকে একটু আগে পটাশিয়াম
সায়ানাইড কিনে নিছে ।
আমি তখনও কাপে চুমুক দেই নি ।
সাম্মির চুখের দিকে তাকালাম । সে যেন আপ্রান
চেষ্টা করছে আমি এই কফি খাই ।
আমি না খেলে অনেক দু:খ পাবে । ও হয়ত
জিবনে হারে নি কখন ও । কিন্তু এখন যদি আমি না খাই
তাইলে মনে হয় সে তার প্লান বাস্তব করতে পারবে না ।
সে আমার সব । দিলাম চুমুক ।
তার মুখ খুশিতে উজ্জল হয়ে গেলো । আমি এটাই
দেখতে চাই । তার সুখি মুখ ।
আবার চুমুক দিলাম । সে আমার পাশে এসে বসল । আমার
ঠুটে কিস করল ।
-যাও সোনা ঘুমিয়ে পড় ।
আমার সব কিছু অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে । তার পরও ভাল
লাগল তার ফার্মেসী থেকে কিনা গিফট । আমি বললাম —
অকে ,আমার একটা শেষ ইচ্ছা রাখবে ???
-কি ?
আমি ধরা ধরা গলায় বললাম । যাবার আগে অই
পটাশিয়াম সায়ানাইডের শিশি টা আমার হাতে দিয়ে যাও ।
ও তাই করল ।
-আর কিছু ???
-আমি বললাম তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলে যাও
নাইলে সবাই বুঝবে তুমি কিছু করেছে ।
সে বলল
-সো সুইট ভাইয়া !!! অকে বিদায় ।
আমি খুব খুশি । কারন ওর গিফট বলে কথা !!!
সম্পুর্ন টা এক ডুকে গিলে ফেললাম ।
পেটের ভিতরের সব জ্বলে ছারখার হচ্ছে আর
আমি একটা কাগজে কষ্ট করে কাঁপা হাতে লিখলাম ।
আমার মিত্যুর জন্য কেউ দায়ী না ।
আমি আত্নহত্যা করেছি ।

১২ thoughts on “আমার পরী-০৩

  1. কী পড়িলাম…।।
    আমার কাছে ভালো

    :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে:
    কী পড়িলাম…।।
    আমার কাছে ভালো লেগেছে ভীষণ,
    এমন উন্মাদের মতই তাঁকে ভালোবাসি বলে…

  2. আমি চুমুক দেয়ার আগে তার চুখে

    আমি চুমুক দেয়ার আগে তার চুখে চুখ রাখলাম ।

    এই লাইন পড়ার পড় মরে যেতে ইচ্ছা করতেছে। :মাথাঠুকি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *