বৃষ্টির কুয়াশায় মোড়া সন্ধ্যা

জানি আমার জন্য কোথাও কেউ নেই। অবুঝ মন বোঝে না তো যতই তারে বোঝাই। চষে বেড়ায় শহরের অলি-গলি, দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত, পৃথিবীর এ কোণ থেকে ও কোণে। ঘূর্ণি বাতাসের ফাঁদে পড়ে দেবীর পূজারী কেউ কেউ ছুয়ে যায় জুলফি। মন ময়ূরী পেখম মেলে নেচে ওঠে এলো বুঝি কেউ মোর দ্বারে। চোখ ভুলে যায় বাঁধা, স্বপ্ন আঁকে জল রঙে। চাই না কেউ পুজার থালা সাজাক আমায় দেবী ভেবে। পূজারীর ভালবাসায় দেবতারাও হিংসুক হয়ে উঠুক। সত্যি বলছি চাই না, এসবের কিছুই আমার চাই না। মানুষ আমি- চাই; রক্তে মাংসের কেউ হোক জীবনের বেলা ভুমির সুখ দুঃখে সাথী। শুধু চাই কেউ থাকুক পাশে ভালবেসে। বার বার ভুল করি। ভালবাসা ভেবে মরীচিকাকে আগলে ধরি। আলেয়ার মায়ায় চোখের দুকূল ভেসে যায়। মানবী আমি কখনো দেবী হয়ে উঠি না; কোনো পূজারীর পুজায়। ঘূর্ণির টানে পূজারিরা সরে সরে যায়, যেতে যেতে মিলে যায় তাদের মন্দিরে। ভুল পথে পড়ে থাকে ভুল করে ছুয়ে দেওয়া মৃত মানবী।

বুক জুড়ে ঢেউ ওঠে। আনন্দ উচ্ছ্বাস এর কল্লোল নয়, ব্যথার ঢেউ উন্মাতাল হয়ে ওঠে। হৃদয়ের কুল ভেঙে হয় না চুরমার, একটু একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়। পোড়া মন ব্যথার আঘাতে কেনো একবারে ভেঙে-গুড়িয়ে ধুলায় মিলিয়ে যাও না? বারে বারে কয়লায় কেরসিন ঢেলে আগুন ধরায়ে খেলা দেখো। কেনো? কোন সে পাপের শাস্তি? নীরবে নিভৃতে যত্নে আমাকে পুড়াও। মানুষ আমি;কোন দেবী নয়- এই কি আমার অপরাধ!

কয়লায় কেরসিন দিয়ে কতবার পুড়াবে, হৃদয়ের কতটা পাড় তুমি ক্ষয়ে দিবে? দাও। দিতে দিতে তুমি ক্লান্ত হয়ে যাবে। আমি ক্লান্ত হবো না। প্রতিবার সাদর আমন্ত্রণে দুহাত বাড়িয়ে বরণ মালা পড়িয়ে আসন পেতে দিবো মনের অন্দর মহলে। কান্না ভালবাসে আমায়;আমি ভালবাসি কান্না। বুকের আগল খুলে কেঁদে নেশায় ডুবে যাবো। তুমি জানো না আমি কষ্ট বিলাসি! কষ্টে আমার নেশা হয়। কোন এক সন্ধ্যার আগে আগে মেঘ কাঁদবে আমার জন্য; বৃষ্টি আসবে আমায় ভিজাতে। ভিজবো আমি, ভিজবে কৃষ্ণচূড়া, কদম, জারুল, শিউলি, বুকুল, বাবুই, একলা কাক, ধান শালিক, বুনো হাঁস সাথে ভিজবে খেয়াক শিয়াল তুমুল সে বর্ষণে। ধোয়া উড়বে মাটি থেকে। বৃষ্টির কুয়াশায় সন্ধ্যা নামবে বাঁশ ঝাড়ে। সোঁদা মাটির গন্ধে মাতাল হবে জ্যোৎস্না। আজীবনের অভ্যস বশে; জোনাকি আলো জ্বেল কি জানি কি খুঁজবে। শুধু খুঁজে পাবে না কাঁচপোকা সেকা দিতে আমায়।

১২ thoughts on “বৃষ্টির কুয়াশায় মোড়া সন্ধ্যা

  1. ইদানিং আপনার গদ্যে কাব্যভাব
    ইদানিং আপনার গদ্যে কাব্যভাব প্রবল। ভালো লাগছে পড়তে। উপমাগুলো সুন্দর। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    আপনি বারবার আপনার লেখার সমালোচনা করতে বলেন। ধরে নিচ্ছি, লেখার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে বলেন। ভুল খুঁজে না পেলে কি ধরিয়ে দেওয়া যায়?
    এই লেখায় একটা শব্দ বেমানান লাগল

    কয়লায় কেরসিন দিয়ে কতবার পুড়াবে, হৃদয়ের কতটা পাড় তুমি ক্ষয়ে দিবে? দেও

    এখানে “দেও” শব্দটি মানাচ্ছে না। “দাও” কিংবা “দিও” লিখলে ভালো লাগত পড়তে।

    1. আমি মহা খুশি হলাম আজ। ঠিক করে
      :থাম্বসআপ:
      আমি মহা খুশি হলাম আজ। ঠিক করে দিয়েছি। এই ভুল ধরিয়ে দেওয়ার ধারাটা অব্যাহত থাকবে আশা করি…

  2. বিভা নামটা আসল হলে বলতে চাই
    বিভা নামটা আসল হলে বলতে চাই আমার বোন কাল্পনিক ভাবে তার নাম বিভা রেখেছে। শব্দ চয়ন ভাল লেগেছে। :চশমুদ্দিন:

    1. আমার হয়ে একটু টাইপ করে দিলে
      আমার হয়ে একটু টাইপ করে দিলে প্রতিদিন একটা না দুইটা পোষ্ট দিবো… আমি টাইপে স্লো… :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *