যে কারণে এ+ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দেয়া অনুচিত

এক সময় এসএসসি আর এইচএসসির মত ‘পাবলিক এক্সাম’ গুলোর ফলাফলের ব্যাপারে ‘পাবলিকের’ তুমুল আগ্রহ ছিল…… নিজের পরিবার বা আত্নীয় স্বজনের মধ্যে কেউ পরীক্ষা দিলে ত কথাই নাই, পাড়া প্রতিবেশি, বন্ধু-বান্ধবের বাইচ্চা-কাইচ্চা বা মুখ চেনা পরিচিতদের মধ্যে কেউ পরীক্ষা দিল কি না , সে সব ব্যাপারে ও নিয়মিত খোজ খবর রাখা হত ….. ফলাফল ঘোষনার পর এক যোগে শুরু হৈত তুলনা মুলক ফলাফল বিশ্লেষন- দেইখছস ঐ পুলায় কি ব্রিলিয়ান্ট , অথচ চেহারা ছবি আর ভাব সাব পুরাই বলদের মতন…..কিংবা “হালার লক্ষন টা দেখছস নি ! এহ কি ভাব তার, একবারে স্ট্যান্ড কৈরা ত্বরাবে, অথচ মুর্খ চোদা মেট্রিক/ ইন্টার টাও পাশ কর্তেয়ারে নাই”, ইত্যাদি ইত্যাদি ……….



এক সময় এসএসসি আর এইচএসসির মত ‘পাবলিক এক্সাম’ গুলোর ফলাফলের ব্যাপারে ‘পাবলিকের’ তুমুল আগ্রহ ছিল…… নিজের পরিবার বা আত্নীয় স্বজনের মধ্যে কেউ পরীক্ষা দিলে ত কথাই নাই, পাড়া প্রতিবেশি, বন্ধু-বান্ধবের বাইচ্চা-কাইচ্চা বা মুখ চেনা পরিচিতদের মধ্যে কেউ পরীক্ষা দিল কি না , সে সব ব্যাপারে ও নিয়মিত খোজ খবর রাখা হত ….. ফলাফল ঘোষনার পর এক যোগে শুরু হৈত তুলনা মুলক ফলাফল বিশ্লেষন- দেইখছস ঐ পুলায় কি ব্রিলিয়ান্ট , অথচ চেহারা ছবি আর ভাব সাব পুরাই বলদের মতন…..কিংবা “হালার লক্ষন টা দেখছস নি ! এহ কি ভাব তার, একবারে স্ট্যান্ড কৈরা ত্বরাবে, অথচ মুর্খ চোদা মেট্রিক/ ইন্টার টাও পাশ কর্তেয়ারে নাই”, ইত্যাদি ইত্যাদি ……….

বাঙ্গালী অতীথি পরায়ন বা উদার মানসিকতা সম্পন্ন হিসাবে সর্বজন বিদিত হলেও, শিক্ষকদের বেলায় এই ফর্মুলা প্রযোজ্য হত না, বরং নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কৃপনতা ছিল প্রায় কিংবদন্তি সমতুল্য , ফলাফল স্বরুপ ফেলের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হত …… তখন পাশের হার থাকত ২৫% থেকে ৩০% !! সুতরাং পাশ করাটাও বেশ টাফ ছিল আর স্ট্যান্ড করলে ত কথাই নাই ! মানবিক, বিজ্ঞান আর বানিজ্য – প্রতি শিক্ষা বোর্ডে ২০+২০+২০=৬০ জন করে স্ট্যান্ড করত আর এক মাসের জন্য হয়ে যেত মেগা স্টার ! ……. আর এই স্ট্যান্ড তথা দুঃসাধ্য সাধন করা করা ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সরকারি এবং বেসর্কারী ভাবে ব্যাপক সংবর্ধনার এন্তেজাম করা হত , এটা অবশ্যই তার প্রাপ্য সন্মান, সারা দেশের গুটি কয়েক একস্ট্রা অর্ডিনারি পাবলিকের মধ্যে সে ও একজন !!

কিন্তু ইদানীং পাশের হার নিয়মিত ভাবে ৮০%-৯০% এক্সিড করে আর এ+ পায় লাখে লাখে ( এবার এস এস সিতে ৯০%, এ+ ১ লাখের বেশি আর ৭৪% এইচ এসসিতে , এ+ ৫৮ হাজার)… সেরা রেজাল্ট করা এই লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রীদের কে এখনো সরকার, প্রথম আলো বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলো আগের মতই সংবর্ধনা দিয়ে যাচ্ছে বিরামহীনভাবে !! কুনো মানে আছে এইটার !!!

আমি মনে করি এ জমানায় এ+ অর্জন তেমন একটা কঠিন কাজ না, কিন্তু এর চেয়ে ঢের বেশি চ্যালেঞ্জিং কাজ ফেল করা, এ যুগে ফেল করা ছাত্র-ছাত্রিরা সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়, মাত্র ১০%-২০% মহা সৌভাগ্যবান ব্যাক্তি ফেল করার মহান গৌরব অর্জন করার কৃতিত্ব দেখাতে পারে ….. মোদ্দা কথা, এ এক মহা দুঃসাধ্য কর্ম, এই দুঃসাধ্য কর্ম যারা অনায়াসেই সাধন কর্তে পারে তারাই তো প্রকৃত কৃতি সন্তান !!

এ+ এর এই বাম্পার ফলনের জমানায় লাখ লাখ পুলা-পাইন যখন এ+ পায়, তখন আর এই ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্টের গুরুত্ব তেমন একটা থাকে না, সেই সাথে পাবলিকের ও তেমন একটা আগ্রহ থাকে না । আর যারা সংবর্ধনা পায় , তুলনামুলক ভাবে তাদের কাছে ও হয়ত এই জিনিসের কদর তেমন একটা থাকে না …. “সেরা ১০০ জনের মধ্যে ১ জন” আর “সেরা ১ লাখের মধ্যে ১ জন” – এই দুইটার মধ্যে বিস্তর ব্যাবধান, সবাই ‘১০০ জনের ১ জন হতে চায় ; ‘১ লাখের ১ জন’ হতে বেশির ভাগেরই তেমন একটা ভাল না লাগারই কথা …

সুতরাং, সরকারী/বেসরকারি সকল প্রকারের সংবর্ধনা পার্টিদেরর প্রতি সবিনয় দৃস্টি আকর্ষন পুর্বক বলতে চাই, এই লক্ষাধিক এ+ ওয়ালাদের সংবর্ধনা দেয়ার চেয়ে সংখ্যা লঘু ফেল্টুশ সম্প্রদায় কে সংবর্ধনা দিন, জাতি তাদের এই অসাধ্য সাধনের ইতিহাস সবিস্তারে জানতে আগ্রহী –>
ফেলের পেছনে কার  অনুপ্রেরনা ছিল? আপ্নার এই বিষেষ কৃতিত্ব আপ্নি কাকে ডেডিকেট কর্তে চান ? কিংবা এই ফলাফল অর্জনের নেপথ্যে প্রেম-প্রীতি-ভালবাসা টাইপের ব্যাপার স্যাপার গুলো কোন গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছে কি না তার এই অবিন্মরনীয় ফলাফলে অর্জনের ক্ষেত্রে , ইত্যাদি ইত্যাদি সহ তাদের সমস্ত  বিষয়েই পাবলিকের ব্যাপক কৌতুহল আছে ….. এ  যুগে মুলত তারাই হচ্ছেন রিয়েল হিরু , আর এ+ ওয়ালা কিংবা বাকিরা সবাই জিরু  ….

সুতরাং সরকারি-বেসরকারি সংবর্ধনা বা গনসংবর্ধনা যা’ই দেয়া হোক না কেন ,  তা যেন অসাধ্য সাধনকারী “নিখিল বাংলা ফেল্টু সংঘের” এই সব নব্য ফেলুদা’দের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়, এক মাত্র তারাই এই সন্মাননার যথা যোগ্য দাবিদার……

২৩ thoughts on “যে কারণে এ+ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দেয়া অনুচিত

  1. আমার বোন জিপিএ ৫ পেয়েছে আজ।
    আমার বোন জিপিএ ৫ পেয়েছে আজ। আমি চাই তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হোক।বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলে দেওয়া হোক বৃত্তি যদি তার রেজাল্টে কুলোয়।গ্রেডিং সিস্টেমর কারণে সংবর্ধনাবঞ্চিত হওয়া উচিত নয়।

    1. মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, পাভেল
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, পাভেল ভাই, সেই সাথে এ+ পাওয়ায় আপনার ছোটবোন কে অভিনন্দন ….. আসলে এটা আসলে ফান করে লিখা ….

  2. ব্যাপারটা ফান হিসেবে নিলাম।
    ব্যাপারটা ফান হিসেবে নিলাম। যদিও আপনার ফান করার ধরনটা ভালো লাগল না। ফেল করলে সে কি আর মানুষ থাকে না। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার দরকার নাই তো।

  3. প্লাস প্রাপ্তদের সংখ্যা বেশির
    প্লাস প্রাপ্তদের সংখ্যা বেশির হওয়ার কারনে গুরুত্ব কমে গেলেও কৃতিত্ব কমে যাবে এমন কোন কথা নেই ।আর সংবর্ধনা হল একটি অনুপ্রেরনা বা উৎসাহ মাত্র যা কৃতিদের অবশ্যই প্রাপ্য এবং প্রয়োজনীয়।

    1. কি আর করা, আপনার মত জ্ঞানীরা
      কি আর করা, আপনার মত জ্ঞানীরা যেহেতু আমার মত নাদানের ব্লগ পড়ে ,সেহেতু জ্ঞানীর মত পোস্ট না দিয়া উপায় আছে !!! আছে না অনেকেই – যারা আদতে কাক, কিন্তু ভাব সাব পুরাই কোকিলের মত !! আমি ও সেই শ্রেণির কোকিল, আশে পাশে “কাক প্রজাতির কোকিলের” আধিক্য দেখে , আমি ও এই বেশ ধরার চেষ্টায় নিমগ্ন আছি ! কথায় আছে না সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস ……

  4. লেখাটায় আপনি ভালো একটা
    লেখাটায় আপনি ভালো একটা টপিকসের উপরেই শুরু করেছিলেন কিন্তু শেষটা সেভাবে হলো না। আপনি গ্রেডিং পদ্ধতি এবং এই পদ্ধতি প্রবর্তনের আগের ফলাফলের মধ্যে ডিফারেন্স নিয়ে শুরু করেছিলেন। এই বিষয়টায় আমিও একমত। কিন্তু এ্যারাউন্ড ৬০ হাজার ছাত্র ছাত্রী যারা জিপিএ ফাইভ পেয়েছে তাদেরকে মেধাবী তো বলতেই হবে।

    1. উবশ্যই তারা মেধাবী , আমার
      উবশ্যই তারা মেধাবী , আমার দ্বীমত নাই , কিন্তু এ লিখাটা মজার জন্য লিখছি , সিরিয়াসলি নেবেন না আশা করি

  5. ওরেব্বাপ! এখানেতো দেখি সব
    ওরেব্বাপ! এখানেতো দেখি সব সিরিয়াস মানুষের আনাগোনা! সবকিছুকে যখন সিরিয়াসলি নিবেন তাইলে ফানকেও সিরিয়াসলি নেন।

    বন্ধুকে যখন বলেন “তুই মর” তখন কি মনে করে বলেন? এভাবে সবাই ফান না বুঝে আজাইরা সিরিয়াসগিরি দেখাইলেতো প্রব্লেম। নয়তো পরেরবার যখন বলবেন “মাইরালা আম্রে মাইরালা” তার আগে রুমের দরজা ভালোমত আটকে নিবেন। কারণ বিপদের হাত পা নাই। আর ফান না বুঝা মানুষের ঘিলু নাই।

    1. হাহাহাহাহা মামা তুই আসলেই
      হাহাহাহাহা মামা তুই আসলেই একটা জিনিয়াস……… অনেকেই আছে, যাদের তোর চেয়েও বয়স অনেক বেশি; কিন্তু ৮ বছরের ব্রেন নিয়া ঘোরে, তাদের অবশ্য ৮০ বছরে বয়সেও হবে না ব্রেন ম্যাচুরড হবে না …… আসলে পাবলিক না পৈড়া বা না বুইঝা সমালোচনায় মত্ত হয়, তখন মেজাজ খারাপ করা ছাড়া আর কিচ্ছু করার থাকে………BTW Thanx mama 🙂

  6. নেই নাই,সিরিয়াসলি নেই নাই,তবে
    নেই নাই,সিরিয়াসলি নেই নাই,তবে আপনি এই সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণটা প্রত্যেক মন্তব্যের শেষে না দিয়ে একবারে পোস্টেই দিয়ে দিলে ভাল হত

      1. হাহাহাহাহ মামা ডায়ালগ অভ দ্য
        হাহাহাহাহ মামা ডায়ালগ অভ দ্য ইয়ার 😀 😀 😀 😀 :ভেংচি: :ভেংচি: :ভেংচি: :ভেংচি: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    1. হয়ত হৈত , তবে বোহেমিয়ান টিউন
      হয়ত হৈত , তবে বোহেমিয়ান টিউন যে কমেন্ট টা করছে আমিও সে রকম কিছু ভাইবা আর একবারে পোষ্ট করলাম না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *