পরীক্ষার হলে কিছু ঘটনা ঘটে…

— প্রশ্নপত্র দেয়ার পরে যখন দেখি খুবই কঠিন প্রশ্ন হইছে তখন সান্তনা খুজি প্রশ্নটা মনে হয় “খ” সেট। হতাশ হই যখন দেখি না প্রশ্ন “ক” সেটই হয়েছে, তাও মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝি না।

— পরীক্ষার হলে মেজাজ খারাপ হয় যখন দেখি ব্যখ্যা কোনভাবেই পনের লাইনের বেশি লিখতে পারছি না, অথচ যে সারাংশ তিন-চার লাইনে বুঝিয়ে শেষ করার কথা সেটা পনের লাইনেও সম্পূর্ন বোঝানো যাচ্ছে না।


— প্রশ্নপত্র দেয়ার পরে যখন দেখি খুবই কঠিন প্রশ্ন হইছে তখন সান্তনা খুজি প্রশ্নটা মনে হয় “খ” সেট। হতাশ হই যখন দেখি না প্রশ্ন “ক” সেটই হয়েছে, তাও মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝি না।

— পরীক্ষার হলে মেজাজ খারাপ হয় যখন দেখি ব্যখ্যা কোনভাবেই পনের লাইনের বেশি লিখতে পারছি না, অথচ যে সারাংশ তিন-চার লাইনে বুঝিয়ে শেষ করার কথা সেটা পনের লাইনেও সম্পূর্ন বোঝানো যাচ্ছে না।

— কিছুই না পেরে সামনের জনেরটা দেখার আশায় তাকিয়ে যদি দেখি সেই পরিক্ষার্থী আমার থেকে খাটো তাহলে চিন্তা করি আরেকটু খাট হইল না ক্যন, তাইলে তো ঘাড়ের ওপর দিয়া দেখা যাইত। যদি দেখি সামনের পরীক্ষার্থী আমার থেকে লম্বা তাহলে চিন্তা করি আরেকটু লম্বা হইল না ক্যন, তাইলে তো ওর হাতের নিচ দিয়ে তাকিয়ে দেখা যেত।

— প্রশ্নপত্র পড়তে পড়তে একদম নিচে চলে গিয়েও দু-চারটা উত্তর জানা প্রশ্ন খুজে পাই না। তখন অনেক আশা নিয়ে অপর পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখার চেষ্টা করি সেখানে কোন উত্তর জানা প্রশ্ন আছে কিনা। অবাক হয়ে লক্ষ্য করি সেখানে কিছু লেখা নাই, পুরা ফাকা। তখন ভাবি মনে হয় আমার প্রশ্নের ওপাশে ছাপা পড়েনি। হতাশ হই যখন পাশের জনের প্রশ্নটা চেক করে জানতে পারি প্রশ্ন আমার ঠিকই আছে, ঐ এক পৃষ্ঠাতেই সব শেষ।

— পরীক্ষাটাকে তখন একটা ভন্ডামি মনে হয়, যখন প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী কুবের মাঝির চরিত্র বিশ্লেষন করতে হয়, যে কিনা শালীর সাথে প্রেম করা একজন লুচ্ছা। ভাল নম্বর পাওয়ার জন্য চরিত্র বিশ্লেষন করে এই লুচ্ছাকেও একটা প্রথম শ্রেনির চরিত্রবানে পরিনত করতে হয়।

— বাংলা বইয়ে সবসময়েই সুকান্ত, নজরুল আর অন্য কোন একজন কবির লেখা মিলিয়ে মোটামুটি তিনটা বিদ্রোহী টাইপ কবিতা থাকেই। এই তিনটা কবিতার লাইন একটার সাথে আরেকটা প্রায়ই গুলিয়ে যায়। মেজাজ খারাপ হয়, যখন প্রশ্নে দেয়া ব্যখ্যার লাইন দুইটা একদম সুন্দরভাবে বুঝি এবং খুব সুন্দরভাবে তা ব্যখ্যা করারও ক্ষমতা রাখি, কিন্তু লাইন দুইটা নজরুল, সুকান্ত নাকি শামসুর রহমানের কবিতা দিয়ে আসছে তা হাজার চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না।

— প্রশ্ন কমন পরলে পরীক্ষার হলে মাথার বুদ্ধি আর হাত খুব দ্রুত চলে, কিন্তু প্রশ্ন কমন না পরলে কাধসহ মাথা খুব দ্রুত এদিক-ওদিকে পাশেরজনের দিকে চললেও হাত আর চলেনা। অতিরিক্ত উপসর্গ হিসেবে পা দুখানা অপ্রয়োজনীয়ভাবে নড়তে থাকে।

১৮ thoughts on “পরীক্ষার হলে কিছু ঘটনা ঘটে…

    1. কমনগুলোই তো কম্পাইল করে
      কমনগুলোই তো কম্পাইল করে দিলাম। শিরোনামেই তো লিখেছি, “পরীক্ষার হলে কিছু ঘটনা ঘটে।” সাধারনত বেশিরভাগের ক্ষেত্রে যা ঘটে তাই দিলাম। এক্সেপশনাল আমার ক্ষেত্রে হয়তোবা আলাদা কিছু ঘটেছে, তবে সেটা এখানে তো যোগ করা যায় না। এখানে নতুন কিছুই নেই, তবে পুরানোকে মনে করার একটা চেষ্টা ছিল।

  1. সবার দেখি একই কাহিনী। আমি
    :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: সবার দেখি একই কাহিনী। আমি সবচেয়ে অস্বস্তিতে পড়ি যখন প্রশ্ন কমন পড়ে না, সিট পড়ছে এমন যায়গায় যেখানে থেকে পরীক্ষার হলের গার্ডের সাথে সরাসরি চোখাচোখি হয়ে যায়। ব্যাটা/বেটি ড্যাবড্যাব করে তাকায়ে থাকে, আর আমি যখন কোন প্রশ্নের উত্তর না লিখে চুপচাপ বসে আছি। তখন মুখে খুব সিরিয়াস ভাব ফুটিয়ে হুদাই খাতায় কলম চালানোর অভিনয় করে যাই। :ভেংচি:
    পরীক্ষা নিয়ে আরও অনেক মজার মজার কাহিনী আছে। সেসব এখানে বললে ইজ্জৎ পাংচার হয়ে যাবে। :দেখুমনা:

    1. হা হা হা, কমন পড়ে গেছে তাহলে।
      হা হা হা, কমন পড়ে গেছে তাহলে। আপনার প্রবলেমটাও মনে হয় পরীক্ষার্থীদের জন্য একটা জাতীয় সমস্যা। কিন্তু পয়েন্টটা অল্পের মধ্যে গুছিয়ে লিখতে পারছিলাম না। তাই দেয়ার চিন্তা করেও বাদ দিয়ে দিছিলাম। অল্পের মধ্যে এখানে কিছু পয়েন্ট তুলে দিলাম। শুধুমাত্র মজা করা ছাড়া বিন্দুমাত্র সিরিয়াস হওয়ার চেষ্টাও করি নাই।

      বিদ্রঃ আমার বলা ঘটনা সম্পূর্ন কাকতালীয়, আপনার সাথে মিলে যাওয়ার ব্যপারে আমার কোন দায় নাই। 😀 😀 😀

  2. আমার আরো বড় সমস্যা! প্রশ্ন
    আমার আরো বড় সমস্যা! প্রশ্ন পত্র হাতে নিয়ে দেখি সব পারি!কিন্তু কোনটাই পুরোটা নয়, আংশিক আংশিক ।

    1. এইরকম হইলে তো আমি মহাখুশি।
      এইরকম হইলে তো আমি মহাখুশি। যেটুকু পারি লিখে বাকিটা মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখে দেই। পুরাটা পারলে পেইন। মুখস্ত জিনিস লেখার চেয়ে যন্ত্রনা আর কি আছে? :মাথানষ্ট:

    2. বাংলা ইংলিশে এটা হলে সমস্যা
      বাংলা ইংলিশে এটা হলে সমস্যা হত না। কিন্তু টেকনিক্যল সাবজেক্টে বা ম্যথে এই জিনিস হলে তো প্রবলেম। ওইগুলায় মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখার কোন উপায় নেই তো… :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

      1. ওইসব ক্ষেত্রে বন্ধুরা আছে না?
        ওইসব ক্ষেত্রে বন্ধুরা আছে না? :ভেংচি:

        তোরা ছিলি,তোরা আছিস,
        জানি তোরাই থাকবি।
        বন্ধু বোঝে আমাকে,
        বন্ধু আছে,আর কি লাগে?

        😀 😀 😀 😀 😀 😀 😀

  3. যে বিষয়ের পরীক্ষায় আমি আমার
    যে বিষয়ের পরীক্ষায় আমি আমার সামনের জন ও পিছনের জনকে সাহায্য করি সেই পরীক্ষার খাতায় ওরা আমার থেকে বেশি নাম্বার পায়! :ক্ষেপছি:

      1. আরেকজনেরটা দেখে লিখলে বেশীর
        আরেকজনেরটা দেখে লিখলে বেশীর ভাগ সময় বেশী নাম্বার পাওয়া যায়। কারন আরেকজনেরটা প্লস নিজেরটা দুইটা মিলে প্রশ্নের উত্তর আরও ভালো হয়ে যায়। :জলদস্যু:

  4. কমন না প​ড়লে মুখ চুলকাইতে
    কমন না প​ড়লে মুখ চুলকাইতে চুলকাইতে আড়ে কথা বলি আর গার্ড দেখে ফেললে মাথা চুলকানোর আর নাক চুলকানোর ভান ধরি। অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি, আজ পর্যন্ত কেউ ধরতে পারে নাই।….

      1. অবশ্যই ভাবতেছি নকল করা ও ধরা
        অবশ্যই ভাবতেছি নকল করা ও ধরা না প​ড়ার সহজ পদ্ধতি শিখানোর কোচিং সেন্টার খুলমু। ক্যাডা আসস?????

  5. বিষয় গুলো আসলেই জটিল মাগার এই
    বিষয় গুলো আসলেই জটিল মাগার এই সব বিষয় গুলো না থাকলে পাশের পরীক্ষা দেওয়ার আনন্দ আর পাশের আনন্দ মলিন হয়ে যেতো বলে মনে হয় ………… :মুগ্ধৈছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *