আত্মহনন!

রাকিব সেভেন ও ক্লক ব্লেডের ধারালো প্রান্তের দিকে তাকাল। খুব চক চক করছে। মনে হচ্ছে কেউ এই মাত্র চুনি পাথর দিয়ে পলিশ করে রেখেছে। আজ রাকিবের জন্য বেশী খুশির দিন নয়। আজ হচ্ছে রাকিবের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন। আজ রাকিবের ভবিষ্যৎ নির্ণিত হবার কথা। হয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সে তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় পাস করেনি। সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষায় খারাপ করেছে। নিজের প্রতি তার প্রচণ্ড ঘিন্না হচ্ছে। পিতা-মাতার প্রিয় মুখের দিকে তাকাতে কষ্ট হচ্ছে। যদিও আজমল সাহেব এখনো তাকে কিছু বলেন নি। তার মাতা নজিফুন্নেসাও কিছু বলেন নি। তিনি তার মত রান্নাঘরে মনের সুখে গুন গুন করছেন আর রান্না করছেন। তার প্রতি রাকিবের ফলাফলের কোন প্রভাব পড়েনি। রাকিব ব্লেডের প্রান্তটা তার হাতের কব্জিতে বসালো। শেষ একটা কাজ বাকী আছে। এক টানেই কাজটা শেষ হয়ে যাবে। প্রত্যেকটা ইন্দ্রিয় অবশ হয়ে আসতে শুরু করল তার।
—রাকিব! এই রাকিব!
রাকিবের প্রত্যেকটা ইন্দ্রিয় আবার সচল হতে শুরু করেছে। সে বোঝার চেস্টা করল ডাকটা কার। ডাকের সাথে এক ধরনের গম গম আওয়াজ। মনে হচ্ছে বড় কোন হলরুমের শেষ প্রান্ত হতে আওয়াজটা আসছে। রাকিব ফাঁকা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চারিদিকে তাকাল। খেয়াল করল আস্তে আস্তে একটা বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে তার সামনে। একজন এগিয়ে আসছে এর পর তার আর কিছু মনে নেই।
দুই দিন পর। রাকিব বসে আছে তার পিতা আজমল সাহেব এর সামনে। আজমল সাহেবের হাতে একটা জলন্ত সিগারেট। তার পিছনে দেয়ালে ‘ঝুলছে দা লাস্ট সাপার’ পেইন্টিং টি। রাকিব মনে করার চেস্টা করছে এই পেইন্টিং কবে ঐ দেয়ালে স্থান পেল। রাকিব মনে করতে পারল না। স্মৃতি অনেক ঝাপসা হয়ে এসেছে। আজমল সাহেব তার হাতের সিগারেটে আরেকটা টান দিলেন এবং খুব কায়দা করে ধোয়া ছাড়লেন যাতে রাকিবের কাছে ধোয়া যেতে না পারে। তার পর খুব কায়দা করে হাতের আড়ালে সিগারেটটাও লুকিয়ে ফেললেন। রাকিবের হতাস দৃষ্টি খুঁজে চলছে সিগারেটের জ্বলন্ত শিখা।
—তুমি ভাল আছে?
—জ্বি
—এখনো কি মরতে ইচ্ছে করছে?
—জ্বি না।
—তখন মরতে ইচ্ছে করছিল কেন?
—জানিনা
—এখন করছে না কেন?
—জানি না।
—তুমি কি জানো এই রেজাল্টের পর তোমার ভবিষ্যৎ কত করুণ হতে চলেছে?
—জ্বি।
—আমার হাতের দিকে তাকিয়ে আছ কেন? গত দুই দিন সিগারেট খেতে পারো নি বলে কি কষ্ট হচ্ছে? খাবে? , বলেই আজমল সাহেব হাতের আড়াল থেকে সিগারেট বের করে ছেলের দিকে এগিয়ে দিলেন। রাকিব মাথা নিচু করে বসে রইল।
—কি খাবে না?
—আমি সিগারেট খাইনা।
—কি খাও? পুরিয়া? , রাকিব আহত দৃষ্টিতে তার পিতার দিকে তাকাল। খেয়াল করল তার মা দরজাল আড়ালে খুব কায়দা করে লুকিয়ে আছেন। ছেলের সাথে থাকার বৃথা চেস্টা।
—জ্বি না। আমি নেশা করি না।
—গুড। আই বিলিভ ইউ। শোন, সোফার টেবিলের ড্রয়ারে দুইটা শিশি আছে। দুইটাতেই আছে ফিনাইল। খেয়ে মরতে পার। আর তা না হলে বল ফাঁসির দড়ি এনে দেই। খুব কায়দা করে দড়ি বানাতে হয়। শুধু ঝুলে পড়লেই হয় না। এমন ভাবে দড়ি বানাতে হয় যাতে করে ঘাড়ের হাড় ভেঙ্গে যায়। জানো তো?
—জ্বি।
—জ্বি জ্বি করবা না। মনে হচ্ছে ছাগলে ম্যা ম্যা করছে। কোনটা করবা?
—মরার ইচ্ছা নাই।
—তোমারে আমার দরকার নাই। সো ইউ হ্যাভ টুঁ ডু ইট। ডু অর ডাই বলে একটা কথা আছে না? করো নাহয় মরো।

রাকিব কিছুই বললনা। টপ করে এক ফোটা জল মাটিতে পড়ল।
—কানবা না। আহ্লাদ আমার ভাল্লাগে না। যে ছেলে এক রেজাল্টের জন্য তার বাপ-মারে ছাইড়া মরতে চায়, তারে আমার দরকার নাই। মরবি? বল শুয়োরের বাচ্চা! মরবি?
—না, রাকিব ফুপিয়ে উঠল।
—চোখের সামনে থেকে যা।

রাকিব তার ঘরে চলে গেল। ঘন্টা খানেক পর রাকিবের পিতা তার ছেলের রুমে গেলে। জিজ্ঞাসা করলেন-
—আইসক্রিম খাবি?
—হু।
—চল যাই।

তার পরের দৃশ্য অপূর্ব। রাকিব তার পিতার সাথে হাসতে হাসতে চকোলেট বার আইসক্রিম খাচ্ছে!

মৃত্যুর উর্দ্ধে কিছু নাই। কিন্তু এই পৃথিবীতে আপনাকে যারা জন্মদান করেছেন, তাদের মুখের উপর ধুলা ছুড়ে দিয়ে নিজের জীবন নেয়ের অধিকার আপনার নাই। সব কিছু যথা সময়ে আসে। মৃত্যুও। কিন্তু যখন নিজ হাতে নিজের মৃত্যু ডেকে আনবেন বুঝে নিবেন এখন সেই সময় না। পৃথিবী আপনার জন্য আরো সুন্দর কিছু নিয়ে অপেক্ষা করছে। শুধু মাত্র সেই সুন্দর কিছু আপনাকে নিজ দায়িত্বে খুঁজে নিতে হবে। খুঁজে নিন।

১১ thoughts on “আত্মহনন!

  1. কিছুটা অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য ও
    কিছুটা অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য ও বাস্তবতা বিবর্জিত মনে হলো ।শব্দ চয়ন, বাক্যগঠন ও বাক্যের ধারবাহিকতা কিন্তু মন্দ নয় ।

    আরো ভাল লিখা প্রত্যাশা করি ।

  2. আমার কাছে তেমন একটা অদ্ভুত
    আমার কাছে তেমন একটা অদ্ভুত লাগেনি। বাবা মা যদি এমন হত তাহলে খুব এলটা খারাপ হত বলে মনে হয়না।

  3. ভালো লেগেছে। খারাপ করা
    ভালো লেগেছে। খারাপ করা এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জন্য কার্যকরী বলে মনে হলো।

Leave a Reply to শুভ্রজিৎ বড়ুয়া Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *