আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতি প্রীতি রোধে করণীয় কী?

দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ থাকার কারণে লেখালেখি থেকে মোটামুটি বিরত ছিলাম। আপাতত একটু সুস্থ বলেই একটু লেখার তাগাদা অনুভব করলাম।
এই যত দিন অসুস্থ ছিলাম আমার অনুভূতি মোটেও সুখকর ছিল না। আর সবচেয়ে অসুখকর অনুভূতি ছিল শুয়ে শুয়ে নির্বাক দর্শক হয়ে ভারতীয় সিরিয়ালের চ্যানেলগুলোর সাথে আপোষ করা!

দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ থাকার কারণে লেখালেখি থেকে মোটামুটি বিরত ছিলাম। আপাতত একটু সুস্থ বলেই একটু লেখার তাগাদা অনুভব করলাম।
এই যত দিন অসুস্থ ছিলাম আমার অনুভূতি মোটেও সুখকর ছিল না। আর সবচেয়ে অসুখকর অনুভূতি ছিল শুয়ে শুয়ে নির্বাক দর্শক হয়ে ভারতীয় সিরিয়ালের চ্যানেলগুলোর সাথে আপোষ করা!
আমি বুঝি না কীভাবে মহিলা-পুরুষ সকলে মিলে খুব আয়েশে এই প্যাঁচাল কাহিনী বিশিষ্ট ভারতীয় সিরিয়াল অবলোকন করে? হোক বাংলা তবুও যে এরমান খুব ভালো তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। একটু বিনোদনের অত্যাচার থেকে বাঁচতে মাঝেমধ্যে গভীর রাতে টিউন করি আমাদের রেডিও চ্যানেলগুলো। গভীর রাতে অর্থহীন আর সুমন ভাইয়ের পুরনো কিছু গান শুনতে পাওয়ার মনবাসনা নিয়ে রেডিও অন করতেই শুনি “মেরি আশিকী আভ তুম হি হো”
এইভাবে বিনোদনের অত্যাচারে জর্জরিত হলে মাথা আর ঠিক থাকে না।
তাই ভারতীয় গাঁজাখুরী সিরিয়ালের আসক্তি থেকে নতুন করে বাঁচার উপায় খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা করতে লাগলাম।
হ্যাঁ মাত্রাতিরিক্ত সিরিয়ালে দেখাও একপ্রকার আসক্তিই বটে।
বাচ্চারা কিছুদিন আগেও ডোরেমন দেখত! খুবই মনোযোগ দিয়ে খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়ে শুধু ডোরেমন দেখত।একসময় দেখতে দেখতে অবস্খা এমন যে বাচ্চারা সব হিন্দি এক্সপার্ট হয়ে গেল! আর এই বাচ্চাদের ডোরেমনীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে শুরু হয়ে গেল বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ব্যবসা. শেষপর্যন্ত এমন ডোরেমনময় অবস্থায় সংসদ ও সরকার একটু নড়েচড়ে উঠলো। অবশেষে সরকারের হস্তক্ষেপে থামলো ডোরমন আসক্তি।
প্রায়ই ঘরে অনেকে ভারতীয় সিরিয়ালের চ্যানেলগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকেন প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ফেলে একেবারে একনাগাড়ে! তাঁরা আওড়াতে থাকেন ৩ তারিখে রাশি ধরা খাবে,৩ তারিখে রাশি ধরা খাবে! কিন্তু এইটা কী জানেন 3 তারিখে আরো কী হবে?
জানার বোধহয় অবকাশও নেই এই গাঁজাখুরী সিরিয়ালের অবাস্তবসম্মত কাহিনীর ভিড়ে।কিছু মানুষ তবুও নিজের দেশের চ্যানেলের অনুষ্ঠানের চেয়ে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানই দেখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
ওদের সারেগামাপা দেখতে ভালো লাগে,আতিফ আসলামকে ভালো লাগে,আশিকী 2 দেখতে ভালো লাগে অথচ আমাদের বাংলাদেশের একটা ব্যান্ডকে দেখলে সোজা কমেন্ট “গান্জাখোর!” আসক্তদের প্রশ্ন করলাম-
-সুমন ভাই কী?
-ডাইলখোর!
-হৃদয়ের কথা ছবিটা কী?
-যা,আশিকী 2 এর সাথে তুলনাই হয়না!
-হেডফোনে কী গান শুনিস? অর্থহীনের নিকৃষ্ট 2 শুনছিস?
-যা ব্যাটা এইসব কী ফালতু গান শুনস! শুনবি “তুই কি শুনতাছস? কানতাসি আমি” এইগান।
ভাই থামেন সবক্ষেত্রেই কেন দেশেরসংস্কৃতিকে এইভাবে নাক কুঁচকে দেখেন? মানলাম আপনার সিরিয়াল,ভারতীয় সংস্কৃতি প্রিয় কিন্তু তাই বলে আপনি আমাদের সংস্কৃতি কে কটাক্ষ করতে পারেন না। এই সংস্কৃতি এত মাগনা না।
ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্তে এই সংস্কৃতি পেয়েছি। অথচ অধিকাংশ ঘরেই আপনারা স্টার জলসা,স্টার প্লাস,জিটিভি,সনি,এমট­িভি দেখেন!
বাচ্চাদের বলেন ডোরেমনে আসক্ত হয়ে হিন্দি শিখেছিস।অথচ ডোরেমনের অবর্তমানে যে আপনি স্টার প্লাস দেখাচ্ছেন ঐখান থেকেকিন্তু বাচ্চারা আরবি শিখছে না। অতএব আপনার বাচ্চার হিন্দি আসক্তির পিছনে আপনারও সিরিয়াল আসক্তি কাজ করে।

একটা জোক-
ডোরেমন বেচারা বাঙালিকে হিন্দি শিখানোর অপবাদ মাথায় নিয়ে ফিরে গেল জাপানে। অথচ ডোরেমন বা ডোরাইমন কিন্তু জাপানী! সুতরাং এককভাবে জাপান বা ডোরেমনকে দোষ দেয়া যায়না। যেহেতু ভারতীয় ডিশ স্যাটেলাইট ব্যবহার করি আমরা তাই ডোরেমন ভারত থেকে হিন্দিতে ট্রান্সলেট হয়েই বাংলাদেশ এসেছিল।
কিন্তু আমরা ডোরেমনকে বাংলায় ডাবিং করতে ব্যর্থ হয়ে সোজা বাচ্চাদের মিথ্যাচারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি।
একটা বাস্তব অভিজ্ঞতা যে বাসায় টিউশনি করতাম ঐ বাসার পাশের কেজি 1 এর মেয়ে ভাঙাভাঙা হিন্দি বলতে পারত।
ডোরেমন বন্ধ হওয়ার পর আমি তাঁর অনুভূতি জানতে চাইলে হিন্দিতে সেঅনর্গল এই ব্যাপারে বলে দিল!
এর কারণ কী জানেন? এখন সে স্টার প্লাস আর সনি দেখে মা-ফুপুদের সাথে,আর দিনে দিনে হিন্দিতে আরো দক্ষ হচ্ছে সে! সুতরাং কাউকে এককভাবে দোষ দেয়া যাচ্ছে না।
মূল প্রসঙ্গ থেকে অনেকটা সরে এসেছি তাই আবার মূল প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলতে চাই সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার জন্য সাংস্কৃতিক বিনোদন অবশ্যই প্রয়োজন তবে সেখানে অবশ্যই নিজস্ব সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিতে হবে। অপসংস্কৃতি বা খারাপটাকে নয়।
তবুও বিশ্বায়নের যুগ;সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান স্বাভাবিক তাই বলে বাইরের সংস্কৃতি থেকে শুধু খারাপ গন্ধটাই গায়ে মাখবেন তা না।মাঝেমধ্যে ভালোটাও মাখুন।
সানি লিয়নের কীর্তির স্বমহিমায় অভিভূত হয়ে তাঁর নামে ঈদ ডিজাইন বের করলেই তো হবেনা! নিজের দেশের তাঁত শিল্পের প্রসারেও তো কিছু করুন পুঁজিপতীরা.
হানি সিংয়ের ব্রিং মি ব্যাক শুনলে ড্যান্স করবেন আর দেশের ব্যান্ডগুলো যখন পল্লীগীতি লোকগীতীগুলো ব্যাক করানোর চেষ্টা করবে তখন বিকৃতি বলবেন কেন? বাপের একসাইজ শার্টতো ফিট না হলে চাপিয়েই পড়তে হবে।
সর্বোপরি যারা সিরিয়াল দেখেন তাঁরা একটু সংযত ভাবে দেখুন আর বাংলাদেশের নাটকগুলোই বেশি দেখুন যেমন আগে বিটিভিতে দেখতেন।
আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলব ঐসব ভারতীয় গাঁজাখুরী সিরিয়ালের চেয়ে আমাদের নাটকগুলো কোন অংশেই কম নয়।

আর রেডিও চ্যানেলগুলোর অতিরিক্ত হিন্দি গান চালানোর প্রবণতা কমানোর জন্য দেখি আমাদের ইভেন্ট কতটুকু সুদূরপ্রসারী হয়।যারা রেডিওতে হিন্দি গানের জন্য অনুরোধ করেন তাঁরাও নিজ দায়িত্বে অনুরোধ করা হতে বিরত থাকুন। হিন্দি গান শুনতে ইচ্ছে করলে মোবাইল বা পিসিতে নিজ দায়িত্বে শুনুন। যেহেতু ভারতীয় কোন রেডিওতে আমাদের বাংলা গানেরও অনুরোধ করা হয়না।
সর্বোপরি দেশে এই আসক্তি রোধে সবাই পারিবারিকভাবে সচেষ্ট হোন।আজ ভারতীয় চ্যানেলের অত্যাচারের বদলে পাকিস্তানি চ্যানেলের অত্যাচার চললে ঠিক একই কথা বলতাম আমি।
অসুস্থ শরীর আর স্বল্পজ্ঞানে অনেক কথা বললাম তাই আমার একক মতের ভিত্তিতে আগ্রাসন রোধে সঠিক করণীয় বলতে পারলাম না।
কারো নিকট সঠিক করণীয় জানা থাকলে অবশ্যই জানাবেন। বাংলা সংস্কৃতিরজয় হোক,বাংলা আমার দীর্ঘজীবী হোক।

১৫ thoughts on “আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতি প্রীতি রোধে করণীয় কী?

  1. ভাই বাংলা গান শুনি বলে
    ভাই বাংলা গান শুনি বলে বন্ধুদের কাছে খ্যত উপাধি পাবার অভিজ্ঞতা আছে আমার আর কি বলব!!!!

    আসলে আমরা আমাদের এই সংস্কৃতির মুল্য দিতে শিখিনি,কেউ শেখায় ও নি।
    তাই দাত থাকিতে দাতের মর্যাদা বুঝতেছি না…

    এখন মায়েরে গল্প বলে না বাচ্চা দের,সোজা কার্টুনের সিডি ছেড়ে দেয়

  2. এটাই সবচেয়ে বড় ভুল!
    এটাই সবচেয়ে বড় ভুল! কান্নাকাটি থামাতে বাচ্চাদের কার্টুনের সামনে বসিয়ে দেয়া.|
    এতে বাচ্চারা কার্টুন ছাড়া কিছুই বুঝে না.টেলিভিশনের সামনে থেকে সরানো যায়না এবং এই বাচ্চাটির মানসিক বিকাশে অনেক বড় সমস্যা হতে পারে :জলদিকর:

    1. হুম ভাই। এই জন্যেই এখন কার
      হুম ভাই। এই জন্যেই এখন কার ছেলে মেয়ে কার্টুন এবং গেম এ আসক্ত
      এখন নতুন এক আসক্তি যুক্ত হয়েছে সেটা ইন্টার নেট

  3. হা হা বিটিভির নির্লজ্জের মত
    হা হা :হাহাপগে: বিটিভির নির্লজ্জের মত তেল মর্দন এখন আর কারো ভাল্লাগেনা :মাথানষ্ট:
    বিটিভিকে যদি প্রশ্ন করেন বিটিভি তুমি কার?
    বিটিভি উত্তর দিবে- যখন যার,তখন তাঁর!

    তবুও আমাদের দেশের বিজ্ঞাপন নির্মাতারা যথেষ্ট মেধার পরিচয় দিচ্ছেন,অন্তত ঐসব এক্স,ফ্যাক্স ডিও স্প্রের বিজ্ঞাপনের চেয়েও ভালো করছে :থাম্বসআপ:

  4. ভারতকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তারা
    ভারতকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। তারা তাদের কাজটা ভালমতো করছে, আমরা করছি না। দর্শককেও আমি দোষ দেই না। মানুষ বিনোদন চায়, সেটা ভারতীয় হোক, কিংবা জাপানী হোক, যেটা দর্শককে টানবে সে সেটাই দেখবে। সবাই সারাদিন বসে বসে নিউজ, টক শো, আর আধা ঘণ্টার নাটকের মাঝে বিশ মিনিটের বিজ্ঞাপন দেখবে এটা ভাবা ভুল। সব চ্যানেলে নিউজ, টক শো কেন দেখাতেই হবে? নিউজের জন্য আলাদা চ্যানেল আছে। টক শো সেখানেই দেখানো যেতে পারে। শুধুমাত্র বিনোদন মূলক চ্যানেল কেন থাকতে পারে না? ভারতের বিনোদন মূলক বেশীর ভাগ চ্যানেলে কোন নিউজ বা টক শো দেখায় না। এই ব্যাপারগুলো যতদিন ঠিক না হবে ততদিন হিন্দির আগ্রাসন ঠেকানো যাবে না। তর্জন গর্জনই সার।

  5. ভালো বলেছেন আতিক ভাই তবে
    ভালো বলেছেন আতিক ভাই তবে ভারতকে এককভাবে দোষারোপ করছি না| আমার মনে হয় আমাদের নাটকগুলোর মান তাঁদের চেয়ে ভালো কিন্তু তবুও আমাদের নাটকের যথাযথ প্রসারে আলাদা কোন একমুখী জেনারেল এন্টারটেইন চ্যানেল নেই! চ্যানেল 9 একমাত্র চব্বিশ ঘন্টার সাধারণ এন্টারটেইন চ্যানেল|
    সব চ্যানেলগুলো এক হাতে দশ কাজ সামলাতে হিমশিম! তাহলে মানুষ এতকিছুর ভিড়ে সঠিক পছন্দের জিনিসটা পাবে কোথায়?
    এরজন্যই আমার মতে সাধারণ বিনোদনের চ্যানেল (সংবাদ,টকশোমুক্ত) বাড়াতে হবে এবং নিজ দেশীয় সংস্কৃতির বহির্বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে :থাম্বসআপ:

  6. গতকালকে সন্ধ্যাতেই আমার সাত
    গতকালকে সন্ধ্যাতেই আমার সাত বছর ব​য়সি চাচাতো বোন আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছিল বাংলা ও কিছু ইংলিশ চ্যানেল দেখার অপরাধে…..সেইসাথে যুক্ত ছিল আমার মা ও ব​ড় বোন। ঘটনার এক পর্যায়ে সেই মেয়ে আমাকে বলে, “তুমি হিন্দি দেখতে পারো না? এত রুচিহীন কেন তুমি!” হিন্দি যে রুচির মাপক তা জানতাম না!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  7. পিচ্চি মেয়েদেরও তাঁদের মায়ের
    পিচ্চি মেয়েদেরও তাঁদের মায়ের বদৌলতে এইসব চ্যানেল দেখে হিন্দি শেখার সৌভাগ্য হচ্ছে!
    এখন থেকে তাহলে পরিমাপের একক যেমন:গ্রাম,কেজি,টন তেমনি ব্যক্তিগত রুচি পরিমাপের একক স্টার জলসা,সনি,স্টার প্লাস!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *