সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বা সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া

সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি, সার্কের সকল সদস্যদেশের সমন্বিত সহযোগিতায় স্থাপিত একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় । ২০০৫ সালে ১৩ তম সার্ক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সার্ক সদস্য দেশের শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ব মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পেশ করেন । এরপর ১৪ তম সার্ক সম্মেলনে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে আন্ত-সরকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় । সেখানে আরও ঠিক করা হয় – এই বিশ্ববিদ্যালয় ভারতে প্রতিষ্ঠিত হবে । এর অন্যতম কারন এই যে ভারত সরকার এর জন্য ১০০ একর জায়গা আর খরচের প্রায় ৭৯ ভাগ বহন করবে । সেই সাথে ভারত থেকে মোট শিক্ষার্থী ৫০ ভাগের বেশী হতে পারবে না । বাকী ৫০ ভাগ শিক্ষার্থী নেয়া হবে সার্কের অপর ৭ সদস্য দেশগুলো থেকে । এসব নানান নিয়ম কানুন মেনে ২০১০ সালের আগস্ট মাসে ইকনমিক্স আর কম্পিউটার সাইন্স, এই দুই বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমীক যাত্রা শুরু করে এখন পর্যন্ত Biotechnology, Computer Science, Computer Applications, Development Economics, Law, Sociology, International Relations and Applied Mathematics মোট ৮ বিষয়ে মাস্টার্স অ্যান্ড পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু হয়েছে । মূল ক্যাম্পাস যেহেতু এখনো আণ্ডার কন্সট্রাকশন, তাই ২০১০ থেকে দিল্লীর চাণক্যপুরীতে অবস্থিত আকবর ভবনকে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যাবহার করা হচ্ছে । আপাতত অনার্স প্রোগ্রাম চালু হয় নি, তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে পার হওয়ার পর চালু হবে এবং সেই সাথে ৮ সার্ক দেশে পর্যায়ক্রমে ৮ টি স্টাডি সেন্টার গড়ে তোলা হবে ।

সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি’র পরিচয় হল,এখন তাহলে ভর্তির সকল খুঁটিনাটি ব্যাপার দেখি । প্রতিবছর জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয় । ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট সহ সার্কের ৮ দেশেই রিজিওনাল অফিস + পত্রিকার মাধ্যমে ভর্তির বিজ্ঞাপন দেয়া হয় । বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফি ১০ ইউ এস ডলার বা ৮০০ বাংলাদেশী টাকা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফরম পুরুন করে নির্দিষ্ট তারিখে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় । বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মতোই অনলাইনে ভর্তি ফরম পুরুন করা যায় । আর আপনি চাইলে নির্ধারিত ফরম প্রিন্ট করে হাতে পুরুন করে বাই-পোস্টেও পাঠাতে পারেন । অ্যাডমিশন ফি ১০ ডলার অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অথবা ব্যাংক ড্রাফ্‌ট করে পাঠাতে পারেন ।

কর্তৃপক্ষ দুই ক্যাটাগরিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয় । সামাজিক বিজ্ঞান এর বিষয় সমূহের (সমাজবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি, আইন) জন্য ৩/৪ বছরের অনার্স ডিগ্রীতে ৫০% মার্কস আর বিজ্ঞান এর বিষয় সমূহের (ম্যাথ, কম্পিউটার সাইন্স, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, বায়োটেক) ক্ষেত্রে ৫৫% মার্কস থাকলেই আপনি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য বিবেচিত হবেন । মাস্টার্স কোর্সে প্রতিটা বিভাগে আসন সংখ্যা মাত্র ৩০; কারন বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে পরিচালিত হচ্ছে । স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি সম্পন্ন হলে আসন সংখ্যা এমনিতেই বাড়ানো হবে । এই ৩০ আসনের মধ্যে ১৫ টি আবার শুধুমাত্র ইন্ডিয়ার জন্য বরাদ্দ ।

সে যাই হোক, এবার আসি ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নের ব্যাপারে – মোট ১০০ মার্কস এর পরীক্ষা হয় । সময় ৩ ঘণ্টা । ১০০ মার্কস ভাগ করা থাকে ২ ভাগে – প্রথম ভাগে থাকে ৫০ মার্কসের অবজেক্টিভ, যেখানে আবার ২৫ – ২৫ করে দুটি বিভাগ । একটি দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কিত সাধারণ জ্ঞান আর অপরটি বিষয় ভিত্তিক । আর বাকী ৫০ মার্কস হল লিখিত, যেখানে ৪/৫ টি বর্ণনামূলক প্রশ্নের মধ্য থেকে মাত্র ২ টির উত্তর দিতে হয় । একেকটি উত্তর ১২০০/১৫০০ শব্দের বেশী হওয়া যাবে না । আর লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নগুলো ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিং টাইপ, আবার বিষয়ভিত্তিকও হতে পারে । ভর্তি পরীক্ষা একই দিনে ৮ টি সার্ক দেশে লোকাল টাইম অনুযায়ী একই প্রশ্নের মাধ্যমে নেয়া হয় । বাংলাদেশে পরীক্ষা সেন্টার দুটি । একটি ঢাকার শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, অপরটি চিটাগাং । ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশ থেকে বিষয় অনুযায়ী চান্স প্রাপ্তদের এবং অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করা হয় ।

এবার আসি স্কলারশিপ বিষয়ে – এখানে সবচেয়ে বড় স্কলারশিপ হল প্রেসিডেন্ট স্কলারশিপ । এই স্কলারশিপ প্রাপ্তদের খরচ বলতে ভর্তির সময় ১১ হাজার ইন্ডিয়ান রুপি, যার অর্ধেক পরে ফেরত দেয় + ইন্ডিয়াতে যাতায়াত খরচ + ব্যাক্তিগত খরচ । এই স্কলারশিপ প্রাপ্তদের সুবিধাসমূহ হল – পড়ার কোন খরচ নেই + হোস্টেলে থাকা ফ্রি + খাওয়া বাবদ ৭ হাজার রুপি প্রতিমাস । প্রেসিডেন্ট স্কলারশিপ পাওয়ার শর্ত – ভর্তি পরীক্ষায় আপনার সাবজেক্টে আপনার দেশ থেকে প্রথম হতে হবে + আপনার সাবজেক্টে চান্স প্রাপ্তদের মূল লিস্টের প্রথম ১০ জনের মধ্যে থাকতে হবে । তাহলে আপনি সরাসরি প্রেসিডেন্ট স্কলারশিপ পেয়ে যাবেন । এর বাইরে ভর্তি হয়ে এখানে আসার পর ৪/৫ ক্যাটেগরির স্কলারশিপ আছে । যেগুলতে ১০০%, ৫০%, ২৫% অয়েভার পাওয়া যায় । আসলে এখানে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া সবাই কমবেশি স্কলারশিপের আওতায় পড়াশুনা করে । আর এখানকার পড়াশুনার খরচটা বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ।

৩ thoughts on “সাউথ এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বা সার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া

  1. বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক ছাত্র
    বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক ছাত্র ছাত্রীদের জন্যঅত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পোস্ট ।

    স্টিকি করার আবেদন জানাইলাম ।

  2. স্টুডেন্টদের জন্য দরকারি
    স্টুডেন্টদের জন্য দরকারি পোস্ট। এসব ব্যাপারে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। ভারত, নেপাল এসব দেশের স্টুডেন্টরা এইসব ব্যাপারে খুব খোঁজ খবর রাখে। আমাদেরও এগিয়ে আসা উচিৎ। সুযোগ যখন আছে, সেটা কাজে লাগানো উচিৎ। পোস্টের জন্য ধন্যবাদ পাগলা ভাই। দিল্লীকা লাড্ডু খাইতে কেমন? 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *