বৃদ্ধাশ্রম

আজ ঈদ। সকাল থেকেই বৃদ্ধাশ্রমটা সেজেছে নতুনভাবে। নতুন কাপড় পড়ে কুশল বিনিময় করছেন সব বৃদ্ধরা। কারো কারো ছেলেমেয়ে নাতিপুতি এসেছে তাদেরসাথে ঈদ করার জন্য। আর কেউ কেউ নিজেদের মধ্যেই ঈদ পালন করছে।

রফিক সাহেব উদাসভাবে বসে আছেন। তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন আজ থেকে ১০ বছর আগে। কোন কিছু না জানিয়েই পাড়ি দিয়েছে না ফেরার দেশে। একটা মাত্র ছেলে, আবিদ। ঢাকা থাকে। ভালো একটা অফিসে চাকরী করে। বেতনও ভালো। ছোট একটা ছেলে আছে তার। নাম নাহিদ। দাদুকে বড্ড বেশী ভালোবাসে। আবিদের বউটাও অনেক ভালো। শ্বশুড়কে অনেক সম্মান করে।


আজ ঈদ। সকাল থেকেই বৃদ্ধাশ্রমটা সেজেছে নতুনভাবে। নতুন কাপড় পড়ে কুশল বিনিময় করছেন সব বৃদ্ধরা। কারো কারো ছেলেমেয়ে নাতিপুতি এসেছে তাদেরসাথে ঈদ করার জন্য। আর কেউ কেউ নিজেদের মধ্যেই ঈদ পালন করছে।

রফিক সাহেব উদাসভাবে বসে আছেন। তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন আজ থেকে ১০ বছর আগে। কোন কিছু না জানিয়েই পাড়ি দিয়েছে না ফেরার দেশে। একটা মাত্র ছেলে, আবিদ। ঢাকা থাকে। ভালো একটা অফিসে চাকরী করে। বেতনও ভালো। ছোট একটা ছেলে আছে তার। নাম নাহিদ। দাদুকে বড্ড বেশী ভালোবাসে। আবিদের বউটাও অনেক ভালো। শ্বশুড়কে অনেক সম্মান করে।

রফিক সাহেব বৃদ্ধাশ্রমে থেকেছেন নিজ ইচ্ছাতেই। ছেলেটা অনেক জোর করেছিল তাদের সাথে থাকার জন্য। রফিক সাহেব একা মানুষ। তাই তাদের আর সমস্যা করতে চাননি। সমবয়সী মানুষগুলোর সাথে থাকার জন্য এখানেই থেকে গেছেন। বাবাকে দেখার জন্য নাহিদকে নিয়ে মাসে ২-৩ বার এখানে আসে। পুত্রবধু আসার সময় তার জন্য ভালো খাবার রান্না করে আনে।

আজ ফরিদ সাহেব একলা বসে পুরানো স্মৃতি রোমন্থন করছেন। এইতো সেইদিন নিজের পরিবারের সাথে ঈদ করেছেন। ছেলেটার নতুন জামা কেনার বায়্না, স্ত্রীর নতুন শাড়ী কেনার আবদার, ঈদের দিন সকালে মসজিদ থেকে আসার পর তার স্ত্রীরহাতের সেই সেমাই, ভোলার মত নয়। আজ ছেলেটাও অনেক বড় হয়েছে। বিয়ে করেছে। ছেলে হয়েছে। দিন তো এখন তাদেরই।

হঠাৎ দাদু ডাকে চমকে উঠলেন ফরিদ সাহেব। ঘাড় ফিরিয়ে দেখলেন তার দাদুভাই নাহিদ। দৌড়ে এসে বুকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। পিছনে তার ছেলে আর ছেলের বউ। ঈদের নতুন জামা কাপড় পড়ে এসেছে। ছেলের বউ তার জন্য সেমাই রান্না করে এনেছে। ছেলে এসে বাবার হাতে পাঞ্জাবীটা এনে দিয়ে বললো পড়ে আসতে। ফরিদ সাহেব পাঞ্জাবী পড়ে এসে দেখলেন ছেলের বউ সবার জন্য সেমাই নিয়ে বসে আছে। সবাই একসাথে সেমাই খেতে বসলো। নাহিদ দাদুর কোলে বসেই সেমাই খাচ্ছে। ফরিদ সাহেবের চোখটা হঠাৎ পানিতে ভরে উঠলো। তার পাশে অনুভব করতে লাগলেন তার স্ত্রীর অদৃশ্য অস্তিত্ব। আরে, জীবনতো আজ এখানেই। পৃথিবীর সমস্ত সুখ যেন আজ সবার মাঝখানেই এসে ঠাঁই করে নিয়েছে।

৭ thoughts on “বৃদ্ধাশ্রম

  1. আমার মনে হয় আপনি বৃদ্ধাশ্রমের
    আমার মনে হয় আপনি বৃদ্ধাশ্রমের প্রকৃত চেহারা তুলে ধরেননি বা তুলতে চাননি ।যাইহোক, আপনার লিখাটি কিন্তু চমৎকার হয়েছে ।সর্বোপরি ভাল লেগেছে ।

  2. নচিকেতার সেই বৃদ্ধাশ্রম
    নচিকেতার সেই বৃদ্ধাশ্রম গানটার কথা মনে পড়ে গেল।
    আপনার লিখায় বৃদ্ধাশ্রমে থাকার কষ্টের কথা উঠে আসেনি।
    বাস্তবের আবিদ এবং আবিদের বউয়েরা এমন কি আসলেই হয়??
    লিখাটি পড়ে মনে হল আবিদের বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে তাঁরা অনেক খুশি। মাঝে মধ্যে ওখানে যায় পিকনিক করার জন্যে। বাস্তবে পিকনিক করার জন্যে গেলেও অনেক ভালো হত। কিন্তু বাস্তবতা তো অনেক নিষ্ঠুর কথা বলে।

    বাবা মায়েরা কত কষ্ট করে তাঁদের ছেলে মেয়েকে মানুষ করে তুলে। সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করে দেন। আর বৃদ্ধ বয়সে সেইসব ছেলে মেয়েদের কাছে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পান না। কি নিষ্ঠুর পৃথিবী, আর কি নিষ্ঠুর আমাদের মায়ার বাঁধন!

  3. সবাইকেই ধন্যবাদ। আমি আসলে
    সবাইকেই ধন্যবাদ। আমি আসলে গল্পটাকে কষ্টদায়ক করে তুলতে চাইনি। চেয়েছি ভালবাসার মাধ্যমেই গল্পটা শেষ হোক।

Leave a Reply to রায় Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *