নারীর মন এবং রহস্য (তিন—শেষ)

তিন.

আপনি যখন তাকে পেতে চান, তখন সেও জানতে চায় আপনি তাকে কতখানি মূল্যবান মনে করেন। সে আসলে যত বায়নাই ধরুক, তেমন কিছু চায় না, চায় অঙ্গীকার এবং সহনশীলতা। নারীর বায়না মেনে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ তার বায়নার সবচেয়ে ভালো দিক এই যে, আপনি বিরক্ত না হয়ে তাকে যত প্রশ্রয় দেবেন, তত তার সান্নিধ্যে বেশি আনন্দ পাবেন। আপনি চান তাকে। সে চায় অন্য কিছু পাবার প্রতিজ্ঞা। তাকে এই প্রতিজ্ঞা করতে গিয়েই আপনার মনে খেসারতের উপযুক্ত বদলা উসুল করে নেয়ার আশা জাগবে। আর এই উসুলই হবে তাকে বেশি করে কাছে পাওয়া। অর্থাৎ আপনার স্বভাবের মধ্যেও বিদ্রোহ জেগে উঠবে—তোমার এত বায়নাই যখন সহ্য করেছি, তাহলে পাওনাটাও উসুল করে নেব। ফলে প্রেম হবে আরো ঘন।



তিন.

আপনি যখন তাকে পেতে চান, তখন সেও জানতে চায় আপনি তাকে কতখানি মূল্যবান মনে করেন। সে আসলে যত বায়নাই ধরুক, তেমন কিছু চায় না, চায় অঙ্গীকার এবং সহনশীলতা। নারীর বায়না মেনে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ তার বায়নার সবচেয়ে ভালো দিক এই যে, আপনি বিরক্ত না হয়ে তাকে যত প্রশ্রয় দেবেন, তত তার সান্নিধ্যে বেশি আনন্দ পাবেন। আপনি চান তাকে। সে চায় অন্য কিছু পাবার প্রতিজ্ঞা। তাকে এই প্রতিজ্ঞা করতে গিয়েই আপনার মনে খেসারতের উপযুক্ত বদলা উসুল করে নেয়ার আশা জাগবে। আর এই উসুলই হবে তাকে বেশি করে কাছে পাওয়া। অর্থাৎ আপনার স্বভাবের মধ্যেও বিদ্রোহ জেগে উঠবে—তোমার এত বায়নাই যখন সহ্য করেছি, তাহলে পাওনাটাও উসুল করে নেব। ফলে প্রেম হবে আরো ঘন।

স্ত্রীকে নিয়ে মার্কেটে গিয়েছেন নিশ্চয়ই। লক্ষ্য করেছেন কি তিনি সব জিনিসপত্রের দাম কত কম বলেন? এমনকি পাঁচ টাকার জন্যেও তিনি একটা শখের জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকেন। দুই টাকা কমানোর জন্য দোকানীর সাথে কত দরকষাকষি করেন।
বলুন তো কেন এটা করেন? কারণ জানার চেষ্টা করেননি কখনও। কারণ আপনি চিরকাল আপনার যুক্তিকেই তাঁর ওপর চাপিয়েছেন। নারীর কৃপণতার কারণ কৃপণতা নয়—মূল্য। সে নিজেকে বেশি মূল্যবান হিসেবে দেখতে চায়।

সুন্দর ররমণী দেখলে পুরুষের কলিজা ছিড়ে আসে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, পুরোপুরি স্বাভাবিক। কিন্তু কেন?
নারী পুরুষের জন্য মধু। নারী তা জেনে-বুঝেও নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখতে চায়, শুধু এটুকু দেখার জন্য যে তার পেছনে পুরুষ কতটা ছোটে, পুরুষের অস্থিরতা দেখার জন্যে। এটাকে অনেকে নারীর ‘ছলনা’ বলেন। কিন্তু শুধু নারী নয়, সব জীবকুলের মেয়েদের স্বভাবেই এই ‘ছলনা’র মেকানিজম ঢুকানো আছে। মুরগী যত বেশি আত্নরক্ষার্থে দূরে পালাতে থাকে, তত তার নিজের আত্নসম্মানবোধ বেড়ে যায় বলে সে নিজেও বেশি উত্তেজিত এবং মিলন-উপযুক্ত হয় এবং মোরগও তত জেদী হতে হতে আত্নপ্রত্যয়ী এবং উত্তেজিত হয়। এতে উভয়েরই লাভ। সুতরাং স্ত্রীকে ছলনা করার সুযোগ দিন। তারপর তার ছলনার মধ্যে ঢুকে পরুন।

স্ত্রীর মুখখানা মোলায়েম করে ধরে খুব কাছাকাছি ব্যক্তিগত আয়নার মত তার দিকে তাকিয়ে দেখেছেন কখনও—কিছু দেখা যায় কি না?
তার ঠোঁটে-মুখে-চোখে চুম্বন করে দ্বিতীয়বার কি তাকিয়ে দেখেছেন তার মুখের রং পাল্টে যায় কি না?
তার শরীর নিয়ে যতটুকু মাতামাতি করেছেন, তা করেছেন শারীরিক চাহিদার লোভে।
তার চোখের মধ্য দিয়ে সরাসরি তার হৃদয়ের দিকে তাকিয়েছেন কখনও?
স্ত্রীকে নিবিড় আলিঙ্গনে বাহুবদ্ধ করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে কখনও কি খুঁজেছেন তার মধ্যে আপনার ভেতরটা প্রকাশিত রয়েছে কি না?
ভেবেছেন কি—যে সাদা বাহু কোমল দেহ মধুময় বুক আপনাকে প্রগাঢ় উষ্ণতায় চারদিকে চাদরের মতো ঘিরে রেখেছে, তা আসলে আপনারই জৈবিক আমিত্বের বহিঃপ্রকাশ?
এখন আপনারই যে অংশ আর ভেতরে নেই, বাইরে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে, তাকে আপনি বাইরে দেখে চিনতে পেরেছেন, আবারও বুকের সাথে চেপে পাঁজরের সাথে মিশিয়ে ফেলতে চাচ্ছেন। সে তো ভিন্ন ডাইমেনশনে আপনারই স্বরূপ। আপনি তার ছোট-খাট বায়না সহ্য করতে পারেন না—এর মানেই হলো আপনি নিজেকে অস্বীকার করেন, নিজেরই ভেতরটাকে অস্বীকার করেন।
এ কারণে নারী-নির্যাতনকারী এবং নারী-বিদ্বেষী কোনোদিন নিজেকে আনন্দিত হিসেবে খুঁজে পায়নি এবং পাবেও না।
আপনার ভেতরটা ছিল সুধাময়—সুধা বাইরে বের হলে সেখানে সৃষ্টি হলো ক্ষুধা। আপনি তৃষ্ণার্ত হলেই সুধা তার সার্থকতা খুঁজে পায়। কাজী নজরুল ইসলাম যথার্থই বলেছিলেন—”নর দিল ক্ষুধা নারী দিল সুধা…”।

শেষ

২৫ thoughts on “নারীর মন এবং রহস্য (তিন—শেষ)

    1. বই, নিজের এবং আরো অনেকের
      বই, নিজের এবং আরো অনেকের বাস্তব অভিজ্ঞাতর সংমিশ্রণে লেখা। 🙂

      অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন ভাই।

    1. ডাঃ আতিক ভাই,
      কয়েকটা ইমো

      ডাঃ আতিক ভাই,

      🙂 কয়েকটা ইমো ছাড়া আমার একদমই ধারণা নাই।
      কিসের ইমো দিছেন আমি কিন্তু বুঝিনাই 🙂

          1. না রে ভাই, আমি বুদ্ধিজীবী নই।
            না রে ভাই, আমি বুদ্ধিজীবী নই। নিতান্তই সাধারণ পাঠক। আপনার প্রথম পোস্টে আমার মন্তব্য কি একটু রুড হয়ে গেছিলো? স্যরি, আমি আসলে ওইভাবে বলতে চাইনি। :দেখুমনা:

          2. আপনি আসলেই ভালো লেখেন। ইটস
            🙂 আপনি আসলেই ভালো লেখেন। ইটস ওকে :)বন্ধুত্বের শুরুটা তর্ক-বিতর্কে হলে পোক্ত হয়…:)

  1. নারীর মন বোঝা কোন দায় না।
    নারীর মন বোঝা কোন দায় না। তারা স্বাভাবিক। কিন্তু নিজেরাই প্যাঁচ লাগাইসেন।
    মতান্তরে- বুদ্ধিকম হইলে কে কিভাবে চিন্তা করে তা বুঝবা কেমনে চান্দু!! মেয়েদের তো দোষ দিয়ে লাভ নাই।

    1. রাইন,
      নারীর মনকে আমি

      রাইন,

      নারীর মনকে আমি স্বাভাবিক ভাবেই দেখি। আমার পোষ্টেও এমনটাই বোঝানো হয়েছে। আমরা পুরুষরাই নারীর মন বোঝার চেষ্টা করি না বা করতে চাই না।

  2. জ্যাকি বাবাজী,
    নারীর মনকে খুব

    জ্যাকি বাবাজী,
    নারীর মনকে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। আমরা পুরুষরাই নারীর মন বুঝতে চাই না। আপনার লেখা পড়ে মনে হলো, সংসার শুরুতে যদি আপনার এই লেখাটা পাইতাম, তাইলে জীবনে কোনো দিন আপনার চাচীর সাথে ভুল বোঝাবুঝি হইতো না।
    ধন্যবাদ বাবাজী।

    1. গেদু চাচা,
      ভালো লাগলো। আমার

      গেদু চাচা,

      ভালো লাগলো। আমার এই পোষ্টের উদ্দেশ্যও তাই—যে কোন পুরুষ নারীদের এ রহস্যগুলো যেন বুঝতে পারে এবং অশান্তি দূর করতে পারে।
      যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন যেন চাচীর সাথে আর ভুল বোঝাবুঝি না হয় এমনটাই আশা করব। 🙂

      ধন্যবাদ চাচা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *