আমরা এতিম

আমরা এতিম।কোন দিক দিয়ে?আমরা রাজনৈতিক অভিভাবকের দিক থেকে এতিম।এখন মানুষের জন্য রাজনীতি করে এমন দল খুব কম।ব্যক্তি থাকতে পারে,যেমন,মতিয়া চৌধুরী,কিন্তু কোন দল এখন জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।সবাই রাজনীতি করে ক্ষমতার জন্য,অর্থের জন্য।দুর্নীতির কথা যদি বাদও দেই,দুই দলই কম বেশি দুর্নীতি করে,চেতনাগত দিক দিয়েও আমরা এতিম।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের চেতনা পুরোপুরিভাবে কোন দলই ধারণ করে না।
বিএনপির কথা যদি ধরি,তারা জামাতকে আঁকড়ে ধরে বসে আছে।বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাদের উদাসীনতা সেখানেই প্রকাশ্য।তাদের কাছে জনগণের চাওয়ার মূল্য নাই।

আমরা এতিম।কোন দিক দিয়ে?আমরা রাজনৈতিক অভিভাবকের দিক থেকে এতিম।এখন মানুষের জন্য রাজনীতি করে এমন দল খুব কম।ব্যক্তি থাকতে পারে,যেমন,মতিয়া চৌধুরী,কিন্তু কোন দল এখন জনগণের জন্য রাজনীতি করে না।সবাই রাজনীতি করে ক্ষমতার জন্য,অর্থের জন্য।দুর্নীতির কথা যদি বাদও দেই,দুই দলই কম বেশি দুর্নীতি করে,চেতনাগত দিক দিয়েও আমরা এতিম।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের চেতনা পুরোপুরিভাবে কোন দলই ধারণ করে না।
বিএনপির কথা যদি ধরি,তারা জামাতকে আঁকড়ে ধরে বসে আছে।বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাদের উদাসীনতা সেখানেই প্রকাশ্য।তাদের কাছে জনগণের চাওয়ার মূল্য নাই।
আর আওয়ামী লীগ।এই দলটা রাজাকারদের বিচার করছে,তাদের অবশ্যই প্রশংসা প্রাপ্য এবং তারা অবশ্যই বিএনপি অপেক্ষা অনেকগুণ ভালো।কিন্তু তারা কি আসলেই মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেন?তাহলে এত দিনে জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া অন্তত শুরু হত।অন্তত কয়েকজন রাজাকারদের বিচারকাজ সম্পন্ন হত।মেনে নিলাম,ট্রাইব্যুনালের রায়ে সরকারের কোন প্রকার হস্তক্ষেপ নাই।তবুও কথা থেকে যায়।ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি শুরু থেকেই বলে আসছে যে,ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন,বিচার তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য।কিন্তু সে ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি!ফলে,আমরা কি দেখতে পাই?দেখতে পাই,সরকার তার শেষ বছরে এসে পড়েছে এবং কোন রাজাকারের রায়ই এখনও পর্যন্ত কার্যকর হয় নি।নির্বাচনে কোন দল জিতবে,কোন দল হারবে,তা বলা যায় না।আওয়ামী লীগের হেরে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে।অক্টোবরের মধ্যে শুধুমাত্র কাদের মোল্লা ছাড়া আর কারো রায় কার্যকর করা আদৌ সম্ভব?সাইদির আপিল শুনানি শুরুই হবে ১৭ সেপ্টেম্বর আর কামরুজ্জামানের আপীলের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর।তার মানে,এই দুই আসামীর রায় কার্যকর করা প্রায় অসম্ভব!তারপর রয়েছে,গোলাম আযমের রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়া।সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের “সন্তুষ্টি” প্রকাশ সরকার এই মামলায় আপিল করবে কি না,সেই ব্যাপারে যথেষ্ট প্রশ্ন তোলে।আইনমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর মতে কেউ এই রাজাকারদের বের করতে পারবে না,ক্ষমা করতে পারবে না।এই বিষয়ে তারা খুব আত্নবিশ্বাসী,কিন্তু তারা ভুলে যান,বাংলাদেশের রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই।জিয়া এসে যেমন সব রাজাকারের মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন,তেমনটা আবার হতে পারে,যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির “সাধারণ ক্ষমা”-র বিধান রহিত করা না হলে!যুদ্ধাপরাধীরা কোন ক্ষমার যোগ্য নয়।সরকারেরই বা এই বিধান লোপ করতে এত দ্বিধা কেন?তারা কেন এই সুযোগ রাখছেন রাজাকারদের জন্য?কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাঁধা ঠিক কোথায়?এই দ্বিধা কি আমেরিকান অ্যাম্বেসিতে বৈঠকের ফলাফল?

এসব গেল বিচারের ভেতরের কথা।এবার একটু অন্যান্য ব্যাপারে আসি।গণজাগরণ মঞ্চের ৬ দফার এক আপীলের সুযোগ ছাড়া আর কোনটা বাস্তবায়ন হয় নাই বা তার সম্ভাবনাও নাই।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,“ইসলামী ব্যাংক,সবার ব্যাংক!”জামাত নিষিদ্ধ দূর অস্ত।বরং সরকার জামাতের সাথে বৈঠকেও বসে!সালমান এফ রহমানের সাকার পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেওয়ার কথা ছিল,সম্ভবত শেষ মুহূর্তে তার সুমতি হওয়ায় আর সাক্ষ্য দেন নাই!

তাহলে,দেখা যাচ্ছে,এত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশের বিরোধিতাকারী রাজাকারেরা,যারা জঘন্য ঘৃণ্য অপরাধ করেছিল ’৭১-এ,পাঁচ বছর সময় পেয়েও তাদের বিচার শেষ করতে পারবে না আওয়ামী লীগ,নিষিদ্ধ করবে না জামাতকে,জঙ্গিবাদের মূলকে এই দেশ থেকে নির্মূল করবে না।তারা আবার মানুষের কাছে এই ইস্যু সামনে নিয়ে ভোট চাইবে।তাদের কাছে এই বিচার নির্বাচন জেতার একটা কৌশল।তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করলেও তাদের কাছে নির্বাচনে জয় আরও বেশি গুরুত্ব পায়।তাদের কাছে শহীদদের স্বজনদের কান্নার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়।এইরকম সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরও আওয়ামী লীগ সুযোগটা কাজে লাগাল না।দেশের কলঙ্ক মোচন এই পাঁচ বছরেও তারা সম্পন্ন করল না।আমাদের অপেক্ষা তাই আরও বাড়বে।কবে শেষ হবে,তা জানি না।তাই,আমরা এতিম।আমাদের কেউ নাই!
এত বড় একটা সুযোগ আওয়ামী লীগ হাতছাড়া করার ফল পরবর্তীতে ভোগ করবে কি না,তাও বলা কঠিন।জামাত এই বিচারের কথা কখনোই ভুলবে না।তাই আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার বিপদ ভবিষ্যতে শুধুই বাড়বে!২১ আগস্ট আবার ফিরে আসাও অসম্ভব কিছু নয়।

১১ thoughts on “আমরা এতিম

  1. আওয়ামী লীগ নিজেও ডুবছে,
    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
    আওয়ামী লীগ নিজেও ডুবছে, আমাদেরও ডুবাইছে।

  2. আওয়ামীলীগ যতটুকু আমাদের ক্ষতি
    আওয়ামীলীগ যতটুকু আমাদের ক্ষতি করেছে তার চেয়েও বেশী ক্ষতি করেছে অপপ্রচার.. সুতরাং অপপ্রচার রোধ করা জরুরী……

    1. কথা সত্য।সেক্ষেত্রেও আওয়ামী
      কথা সত্য।সেক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগ দায় এড়াতে পারে না।আওয়ামী লীগের এসব অপপ্রচার খণ্ডনে কাজ করা দরকার ছিল,বরং সিটি নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে,এই অপপ্রচার খণ্ডনে তারা পুরো ব্যর্থ।তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বর ফলে প্রচারণার মাধ্যমে অপপ্রচার তারা দূর করতে পারে নাই।

  3. বিচার বিশ্লেষণ করলে অনেক
    বিচার বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছুই বের হয়ে আসবে যদিও সাধারন মানুষের মাঝে আওয়ামীলীগ আর সেই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামীলীগ নাই দিন বদলাই গেছে আওয়ামীলীগ ও বদলাই গেছে ……

    1. জীবন সুন্দর হইতে পারে,কিন্তু
      জীবন সুন্দর হইতে পারে,কিন্তু রাজাকারদের দম্ভ আবার দেখলে বুকের মাঝে একটা চিনচিনে ব্যাথা হতে বাধ্য!

  4. আওয়ামীলীগ আর বিএনপি’র বড় দোষ
    আওয়ামীলীগ আর বিএনপি’র বড় দোষ হলো তারা ক্ষমতায় থাকলে ভূলে যায় আবার কখনও বিরোধী দলে যেতে হতে পারে ! ক্ষমতায় যাওয়ার সময় ভোটারদের কি বলে ভোট নিয়েছেন সেটা তো সর্ব প্রথমে ভূলে যায়। ক্ষমতায় থাকলে যেকোন দলের জনপ্রিয়তা কমে যায় সেটা তারা বুঝতেই চায় না। তারা নিজেদের উন্নয়নের প্রচারটাও করতে ভূলে যায় ! নিজেদের ভূল মানতেই চায়না ফলে পাবলিক পরবর্তী নির্বাচনে তাদের মনের মধ্যে পুষে রাখা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ফলে তখন আর কিছু করণীয় থাকে না…..

    1. সবই ক্ষমতার মোহ!তবে এখন তারা
      সবই ক্ষমতার মোহ!তবে এখন তারা উন্নয়ন প্রচারে মন দিয়েছে।শেষ রক্ষা হয় কি না,দেখা যাক!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *