মুখের পানে চাহিনু অনিমেষে; বাজিল বুকে সুখের মত ব্যাথা

প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র। উত্তেজনায় গলা শুকিয়ে যাচ্ছে বারবার। হাত পা কাপছে। আসলে সিনেমা-নাটকে দেখলেও আর গল্প-উপন্যাসে পড়লেও তার নিজের জীবনেও এমন টা করবে ভাবে নি সে কখনো। এই তো কিছু দিন আগেই কি সুন্দর সাধাসিধে জীবন ছিল তার। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ভার্সিটি, তারপর আড্ডা, ফেসবুক, বন্ধু , মারলবোরো আর অনিন্দিতা এই নিয়েই বেশ কাটছিল তার জীবন।

প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র। উত্তেজনায় গলা শুকিয়ে যাচ্ছে বারবার। হাত পা কাপছে। আসলে সিনেমা-নাটকে দেখলেও আর গল্প-উপন্যাসে পড়লেও তার নিজের জীবনেও এমন টা করবে ভাবে নি সে কখনো। এই তো কিছু দিন আগেই কি সুন্দর সাধাসিধে জীবন ছিল তার। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ভার্সিটি, তারপর আড্ডা, ফেসবুক, বন্ধু , মারলবোরো আর অনিন্দিতা এই নিয়েই বেশ কাটছিল তার জীবন।

অনিন্দিতা, হ্যা এই মেয়েটার জন্যই আজকে সে দাঁড়িয়ে আছে বাস স্ট্যান্ডে। অপেক্ষা করছে তার। এই মেয়েটা এসে আস্তে আস্তে জীবনের সব কিছুই বদলে দিল তার। প্রথমে বন্ধু থাকলেও পরে আর থাকতে পারেনি বন্ধুত্তের গণ্ডীতে। বিকালে বি এফ সি তে মুখোমুখি বসে বলেই দিল শুভ্র, “আমি তোমাকে খুব পছন্দ করি।দেখলেই ভালবাসতে ইচ্ছে করে তোমাকে খুব।ভালবাসতে দিবে তোমাকে?”

এই কথা শুনে অনিন্দিতা যখন চোখ ঘুরিয়ে তার দিকে তাকাল, শুভ্রর গলা থেকে যেন আর এক টুকরো চিকেন নামবে না । খালি সে বিড়বিড় করে আবৃত্তি করল

প্রহর শেশের আলোয় রাঙ্গা সেদিন চৈত্র মাস
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ

এরপর কি হল কেউ জানে না। হঠাৎ কিছুদিন পর দেখা গেল দু জনে চুটিয়ে প্রেম করে যাচ্ছে। মেয়েটা আস্তে আস্তে শুভ্রর জীবনটাই পাল্টে দিল। বড়ই আনন্দে কাটছিল দিনগুলো।

কিন্তু হঠাৎ বাধ সাধল অনিন্দিতার ক্যানাডা ফেরত কাজিন। সে তাকে বিয়ে করার জন্য পাগল প্রায়। কিন্তু অনিন্দিতা তাকে একদমই পছন্দ করেনা। অনিন্দিতার বাবার শুধু একটা কথা, “কোন এক্সকিউজ শুনব না। তোমার যদি অন্য কোন ছেলেকে পছন্দ হয় তাহলে আমার সামনে নিয়ে এস। নাহলে এর সাথেই তোমার বিয়ে।”

অনেক কিছু বলার পরও শুভ্র সাহসে কুলাতে পারেনি। সময়ের পর সময় চেয়ে যাচ্ছে। শেষমেশ তার উপর মোটামটি রাগ করেই বিয়েতে মোট দিয়ে দেয় অনিন্দিতা

এরপর বাকিটুকু ইতিহাস। বিয়ের আগের দিন সকালে শুভ্র সাহস করে অনিন্দিতা কে ফোন করে। জনায় তার পরিকল্পনা, তার ভালোবাসার কথা।

– তুমি পারবে তো সব ম্যানেজ করতে?
-হ্যা আমি জানি আমি পারব

ব্যাস শুধু এইটুকু শুনেই অনিন্দিতা সব ছেড়ে শুধু একটা চিঠি লিখে চলে আসতে রাজি হয় শুভ্রর সাথে। উদ্দেশ্য বিয়ে, অতঃপর বাবা মার সামনে আত্মসমরপন, গন্তব্য শুভ্রর খালার বাসা সিলেট। শুভ্র জানে তার খালা সব ঠিক ই সাম্লে নিবে

ওই তো দেখা যাচ্ছে অনিন্দিতা। বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করে দেখে শুভ্র। তাড়াহুড়ো করে পাশে এসে বসল মেয়েটা। বাস ছাড়ার কিছুক্ষণের মদ্ধেই ঘুমিয়ে পড়ল ক্লান্ত মেয়েটা। কে জানে হয়ত সারা আরাত ঘুমাতেই পারে নি সে। শুভ্র হাসি মুখে তাকিয়ে আছে অনিন্দিতার মুখের দিকে। কি শান্ত, কোমল আর নিষ্পাপ চেহারা। সে ভাবতেই অবাক হয়ে যাচ্ছে যে অবশেষে সে তাকে আপন করে পেয়েই যাচ্ছে। যতবার তার মুখের দিকে তাকাচ্ছে ততবারই বুকের ভেতর টা কেন জানি মোচড় দিয়ে উঠছে। শুভ্র মনে মনে ভাবতে লাগে , “আচ্ছা, এত সুখ কেন তার মনে? এটাই কি ভালবাসা?”

আবার মনে মনে গুন গুণ করে আবৃত্তি করে উঠল সে

মুখের পানে চাহিনু অনিমেষে
বাজিল বুকে সুখের মত ব্যাথা

১১ thoughts on “মুখের পানে চাহিনু অনিমেষে; বাজিল বুকে সুখের মত ব্যাথা

  1. কি যেন খুজার চেষ্টা করছিলাম
    কি যেন খুজার চেষ্টা করছিলাম গল্পটার মধ্যে শেষ লাইন পর্যন্ত খুজে গিয়েছি কিন্তু দুঃখের বিষয় গল্প টা হৃদয় ছুতে পারে নি। কেমন যেন অপূর্নতা।

  2. পাবলিক আজকাল গল্পে শুধু
    পাবলিক আজকাল গল্পে শুধু টুইস্ট খোঁজে। আমার কাছে সাদাসিধে গল্পও খুব ভালো লাগে যদি গল্পের ভাষা সুন্দর হয়। এইটা মোটামুটি ভালো হয়েছে।

    1. এই গল্প টায় মনে হল শুরু আর
      এই গল্প টায় মনে হল শুরু আর শেষ টা দেয়া। পরিক্ষার খাতায় শুরু আর শেষের টা দিয়ে মাঝখানের টুকি ছাত্র রা ফাকি দেয় এমন ই মনে হল

        1. আহ! একদম আমার মত অবস্থা লিখতে
          আহ! একদম আমার মত অবস্থা লিখতে বসলেই বলে খেতে আয়, অথবা এই টা কর ওটা কর, আর আজ বলেছে বাজারে যেতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *