ইরাকে আটকে থাকা ১৬০ বাংলাদেশী মৃত্যুর প্রহর গুনছে, কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি

আমার মা হার্টের রোগী, আমার কথা চিন্তা করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তিনি এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন, জানিনা আমার মা কখন মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়েন, ভাই আমি কিচ্ছু চাইনা শুধু মারা যাওয়ার আগে আমার মায়ের মুখ দেখতে চাই। বাড়িতে বউ আর ২ সন্তান না খেয়ে আছে, আমি জেলে আটকা আছি একথা আমার সন্তানরা জানে না, তারা বলে বাবা আমরা ঠিকঠাক মত খাবার পাচ্ছিনা, তুমি টাকা পাঠাও না কেন, মা পাশের বাড়ির চাচাদের বাসায় কাজ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাবা তুমি বিদেশ থাকার দরকার নেই, দেশে চলে আস।

আমার মা হার্টের রোগী, আমার কথা চিন্তা করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তিনি এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন, জানিনা আমার মা কখন মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়েন, ভাই আমি কিচ্ছু চাইনা শুধু মারা যাওয়ার আগে আমার মায়ের মুখ দেখতে চাই। বাড়িতে বউ আর ২ সন্তান না খেয়ে আছে, আমি জেলে আটকা আছি একথা আমার সন্তানরা জানে না, তারা বলে বাবা আমরা ঠিকঠাক মত খাবার পাচ্ছিনা, তুমি টাকা পাঠাও না কেন, মা পাশের বাড়ির চাচাদের বাসায় কাজ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাবা তুমি বিদেশ থাকার দরকার নেই, দেশে চলে আস।

ওরা (কারাগার কতৃপক্ষ) আমাদের ঠিকমত খাবার দেয় না, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের একরকম না খাইয়ে রেখেছে। অস্বাস্থকর পরিবেশ আর ঠিকঠাক মত খাবার না পেয়ে আমাদের সাথের কয়েকজন অসুস্থ হয়েছিল, তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে, বাকিরা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, তাদের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করার মত কেউ নেই। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ব, আমরা মারা যাব ! মৃত্যুর আগে আমাদের রক্ষা করুন, আমাদের বাঁচাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে বলুন।

ভাই দয়া করে আমার মৃত্যুযাত্রী মা আর সন্তানদের প্রতি করুনা করুন। আমরা বাঁচতে চাই, আমরা সরকারের সহায়তা চাই।

কান্নাজড়িত কন্ঠে এমন করুন ভাবে নিজেদের অবস্থার বর্ণনা করছিলেন, ইরাকের কুর্দিস্তানের কুখ্যাত সুলাইমানিয়া জেলে আটকে থাকা রেজাউল করিম।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সচ্চল জীবনযাপনের আশায় ভিনদেশে পাড়ি দেন রেজাউল করিম। আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে সংগ্রহ করা সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচ করে দুবাই যান তিনি, দুবাই থেকে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে দালালচক্র তাকে ইরানে স্থানান্তর করে, ইরানে অস্থিরতা দেখা দিলে ইরাকে আনা হয় তাকে, কিন্তু অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ইরাক কতৃপক্ষ তাকে গ্রেফতার করে কুর্দিস্তানের কুখ্যাত সুলাইমানিয়া জেলে প্রেরণ করে। শুধু রেজাউল করিম নন এরকম পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে ১৬০ জন জন বাংলাদেশী সুলাইমানিয়া জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

আটকে থাকা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইরাকের জেলে আটকে থাকা ১৬০ বাংলাদেশিদের সবাই রোজা রাখেন, তাদেরকে সেহেরীর জন্য দুটি রুটি আর ইফতারে ১ গ্লাস পানি আর একটি খবুজ (স্থানীয় রুটি) দেওয়া হয়, খাবারের অভাব আর অস্বাস্থকর পরিবেশে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কারাগার কতৃপক্ষ অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যাপারে কোন ধরনের সহায়তা করছে না, গত কয়েকদিন আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া এক বাংলাদেশী চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। কতৃপক্ষের অবহেলা আর বিনা চিকিৎসায় বাকিরাও ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার সাজা শেষ হওয়া ৭ বাংলাদেশীকে সে দেশের আদালতের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার পর তাদের কোথায় নিয়ে গেছে কেউ জানেনা, তবে জেলে থাকা রেজাউল জানান, যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয় তাদের পুশব্যাক করার উদ্দেশ্যে ইরান সীমন্তবর্তী জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসা হয়। (কথিত আছে ছেড়ে দেযা হয়না আসলে দুর্ণিতিগ্রস্থ পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়) ইরান সীমান্তবর্তী জঙ্গলে মাফিয়া চক্রের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন, তাদের হাতে ধরা পড়লে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করতে বাধ্য করে, অনেকে মোটা অংকের মুক্তিপনের বিনিময়ে ফেরত আসতে পারে, অনেককে আবার হত্যা করে মাফিয়া চক্রের সদস্যরা। মাফিয়াদের হাত থেকে বেঁচে আসতে পারলে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ইরান কতৃপক্ষের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘ মেয়াদের সাস্তির মুখুমখি হতে হয়, আর যারা মাফিয়া এবং ইরান সীমান্তরক্ষীদের হাত থেকে বেঁচে ইরানে প্রবেশ করতে পারেন, তাদেরকে ভয়াবহ ফেরারী জীবনের মুখোমুখি হতে হয়।

এত ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার পরও বন্দীরা বাংলাদেশ কতৃপক্ষের কাছ থেকে কোন ধরনের সহায়তা পাচ্ছেন না, ইরাকে নিযুক্ত বাংলাদেশী হাইকমিশনের কতিপয় সদস্য বন্দীদের সাথে অতীতে দু-এক বার দেখা করে তাদের খোঁজ – খবর নিলেও, বর্তমানে ফোন দিয়েও কোন ধরনের সাড়া পাওয়া যায়না, ১০০ টা কলের মধ্যে দু একটা রিসিভ করলেও “বড় স্যার বাহিরে আছেন, স্যার মিটিংয়ে আছেন“ ইত্যাদি অযুহাতে বন্দীদের এড়িয়ে চলেন দুতাবাসের সদস্যরা।

আর বিদেশের কারাগারে বাংলাদেশী নাগরিক আটকা পড়লে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা যারা করতে পারবে / করার কথা, সেই পররাষ্ট মন্ত্রনালয় দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের স্বায়ত্বশাসিত কুর্দিস্তান এলাকার কুখ্যাত সুলাইমানিয়া কারাগারে আটকে থাকা ১৬০ বাংলাদেশীর ব্যাপারে কোন তথ্যই জানত না।

এদিকে প্রথম সাত জনের পর আরও দুইজনকে মুক্ত করে ইরানে পুশব্যাক করার নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের আদালত, হয়ত আর দু – একদিনের মধ্যে মুক্ত হওয়া আরও দুই ব্যাক্তিকে ইরানে পুশব্যাক করবে কতৃপক্ষ। বার বার অনোরোধ করার পরও মুক্ত হওয়া বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন না ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশী দুতাবাসের কর্মকর্তারা, আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে অনোরোধ করলে এক এক জন একেক ধরনের উত্তর দিচ্ছেন, কেউ বলছেন এরা বাংলাদেশী কিনা তা যাছাই করে ব্যাবস্থা নেয়া হবে, কেউ বলছেন এ বিষয়ে এখন কোন কথা বলা যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি।

একদিকে পরিবার পরিজনের চাপ, অকারনে আটকে থাকা এবং নিজ দেশ থেকে কোন ধরনের সহায়তা না পাওয়ার দুশ্চিন্তা আর অন্যদিকে খাবারের অভাব আর দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থকর পরিবেশে বসবাস, সবমিলিয়ে ভয়াবহ এক দুর্বিষহ পরিবেশে জীবন-যাপন করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বন্দীরা। কতৃপক্ষের অবহেলা আর চিকিৎসার অভাবে অসুস্থ বন্দীরা আস্তে আস্তে মৃত্যুর ধিকে ধাবিত হচ্ছেন।

আর যাদের সাজা শেষ হচ্ছে, তারা আরও বেশি ভয়ানক এবং বিভিষিকাময় পরিস্থিতির সম্মুখিন হয়ে মাফিয়া গ্রুপের সাথে মিলে নানান ধরনের অপকর্ম করতে বাধ্য হচ্ছেন, অথবা মাফিয়া গ্রুপের হাতে প্রাণ হারাচ্ছেন। অতি সৌভাগ্যবানরা ( জানিনা সৌভাগ্যবান বলা যায় কিনা ) কারাগারে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু এবং মাফিয়া গ্রুপের হাত থেকে বেঁচে গিয়ে আবারও হয়ত ইরানের কোন কারাগারে আটকা পড়বেন অথবা দুর্বিষহ এক ফেরারী জীবনের সম্মুখিন হবেন।

হাতে সময় অনেক কম, অলরেডি ৭ জনকে পুশব্যাক করার লক্ষে ইরান সীমন্তবর্তী জঙ্গলে রেখে আসা হয়েছে ( হয়ত ইরাকি পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে মাফিয়াদের হাতে বিক্রি করে দিযেছে ), তারা বর্তমানে নিখোঁজ। আরও দুই জনকে পুশব্যাক করার নির্দেশ দিয়েছে ইরাকের আদালত। খুব শীঘ্রই সকল বাংলাদেশীর সাজা মওকুফ হয়ে যাবে ( সাজা মওকুফ হওয়া মানেই ইরান সীমন্তবর্তী জঙ্গলে রেখে আসা ), তখন হয়ত এসব বাংলাদেশদেশীদের কোন হদিস পাওয়া যাবে না, এমনকি তাদের ব্যাপারে ইরাক কতৃপক্ষের দৃস্টি আকর্ষন করেও কোন ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে না।

তার আগেই এসব বন্দীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কতৃপক্ষের দৃস্টি আকর্ষন করছি। মানবতার খাতিরে ইরাকের কারাগারে আটকে থাকা ১৬০ বাংলাদেশীকে দেশে ফিরেয়ে আনার আহব্বান জানাচ্ছি। ইরাকে আটকে থেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে থাকা ১৬০ জন বন্দী এবং তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এসব বন্দীদের ফিরিয়ে আনতে যথাশীঘ্র পদক্ষেপ নেয়ার আন্তরিক অনুরোধ জানচ্ছি।

আশা করি মাননীয় রাষ্টযন্ত্র এ ব্যাপারে যথোপক্ষযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, আশা করি মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ার আগেই ১৬০ জন বাংলাদেশীকে দেশে ফিরিয়ে আনবেন।

তথ্যসুত্র :
ইরাকে ১৬০ বাংলাদেশী বন্দী : মন্ত্রী কিছুই বলতে পারবেন না ইরাক সরকারকে

ইরাকের কারাগারে ১৬৫ বাংলাদেশী

ইরাকের জেলে বাংলাদেশী বন্দীদের আর্তনাদ : খবর জানাতে নারাজ জেলার

ইরাকের কারাগারে ১৬০ বাংলাদেশীর খবর জানে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

১৯ thoughts on “ইরাকে আটকে থাকা ১৬০ বাংলাদেশী মৃত্যুর প্রহর গুনছে, কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি

  1. শুধুমাত্র ইরাক নয়,
    শুধুমাত্র ইরাক নয়, মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্বের অনেক দেশের জেলে বহু বাংলাদেশী বৈধ অবৈধভাবে আটকে আছেন ।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশের এসব ভাগ্যহীন শ্রমজীবি মানুষগুলির ব্যাপারে সরকার খুবই উদাসীন।বিদেশী মিশনে কর্মরত অফিসাররা এদের উপকার তো দুরের কথা ঘুষ বা টুপাইস ছাড়া তারা কথাই বলতে চায়না।

    যাইহোক, প্রয়োজনীয় একটা বিষয়ে আলোকপাত করেছেন ।আমি মনে করি, আমরা সোচ্চার হলে কতৃপক্ষের হয়তো টনক নড়তে পারে ।

  2. আমাদের দেশের মানুষ সবচেয়ে
    আমাদের দেশের মানুষ সবচেয়ে সস্তা। তাই কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রবাসী বাংলাদেশীদের নাম শুধু শোনা যায় দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান বর্ননা করার সময়, এরপর ওরা শুধুই কিছু সংখ্যা, মানুষ নয়। :মাথাঠুকি:

  3. আশা করবো বিষয়টি কর্তৃপক্ষের
    আশা করবো বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে বা ইতোমধ্যে চলে আসছে। যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অনুরোধ রইলো কর্তৃপক্ষের কাছে…

      1. এই বিষয়টা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম
        এই বিষয়টা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম যেমন ফেসবুক অথবা ব্লগে এবং ইত্যাদির মত বড় কোন মাধ্যমে বিশদ আকারে প্রচার করা সম্ভব হলে হয়তো উনাদের ভাগ্য পরিবর্তন হতে পারে…………………

  4. বিদেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়া
    বিদেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়া মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়া কোথায়? বিষয়টি ওনার নজরে এখনও আসে নাই? নাই যদি আসে তাহলে কেন আমাদের টাকা ব্যয় করে বিদেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়ছেন?

  5. বাংলাদেশী দ্রুতাবাস গুলো ঠিক
    বাংলাদেশী দ্রুতাবাস গুলো ঠিক ভাবে কাজ করলে এই ঘটনা গুলো অনেক কম ঘটত। কি আর বলব।

    1. বিদেশে বাংলাদেশী দুতাবাসের
      বিদেশে বাংলাদেশী দুতাবাসের কাজ কি হয় কেউ কি বলতে পারবেন? যদি নাই হবে তাহলে জনগণের টাকা খরচ করে এইসব আমড়া কাঠের ঢেঁকী পোষার মানে কি?

    2. “যে দেশে উপাসনালয়ে মানুষের
      “যে দেশে উপাসনালয়ে মানুষের উপস্থিতি বেশি, সে দেশে দুর্নীতিও বেশি।”

      বাস্তব কথা।

  6. উনাকে রাখা হয়েছে ঠোঁট বেঁকিয়ে
    উনাকে রাখা হয়েছে ঠোঁট বেঁকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে কথার ফুলঝুড়ি ফোটানোর জন্য! উনার কি এসব নজরে আসবে? নজরে যখন আসবে তখন আর সময় থাকবে না… শুধু মনে মনে গান গাবে সময় থাকতে সাধন হলো না….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *