আমার বর্ষারানী (পর্ব- ৩)

নির্জন বাড়িটিতে চারপাশের নির্জনতা যেন গ্রাস করেছে আমাদের ।বাইরে প্রবল বর্ষণ চলছে । নি:শব্দ আমরা ঝুঁকে আছি একটা ল্যপটপের স্ক্রীনে । যেখানে নরপশু গোলাম আজমের রায়ের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতিবাদ । এই আপোষের রায়ে মন ভীষণ খারাপ । কি মনে করে জানি আমি ওর কোমর জড়িয়ে ধরতে গেলাম । ও ফোঁস করে উঠল !
-ছাড় আমাকে ধরবি না
-কেন বাপু কি করলাম ?
-আমি বাপু না ।
-আচ্ছা মানলাম । মুডটা একটু কেমন যেন….
-তুই আমাকে নিয়ে কিছু লিখিস না….? গাল ফুলিয়ে বলল আমার বর্ষারানী ।


নির্জন বাড়িটিতে চারপাশের নির্জনতা যেন গ্রাস করেছে আমাদের ।বাইরে প্রবল বর্ষণ চলছে । নি:শব্দ আমরা ঝুঁকে আছি একটা ল্যপটপের স্ক্রীনে । যেখানে নরপশু গোলাম আজমের রায়ের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রতিবাদ । এই আপোষের রায়ে মন ভীষণ খারাপ । কি মনে করে জানি আমি ওর কোমর জড়িয়ে ধরতে গেলাম । ও ফোঁস করে উঠল !
-ছাড় আমাকে ধরবি না
-কেন বাপু কি করলাম ?
-আমি বাপু না ।
-আচ্ছা মানলাম । মুডটা একটু কেমন যেন….
-তুই আমাকে নিয়ে কিছু লিখিস না….? গাল ফুলিয়ে বলল আমার বর্ষারানী ।

সাথে সাথে ওকে নিয়ে লেখা কয়টি কবিতা দেখিয়ে বললাম এগুলো কি হে?
-এগুলো পুরাতন । তুই আমাকে বোকা ভাবিস !
-আহা সোনা ! এখন দেশের যা অবস্থা তাতে প্রেমিকাকে নিয়ে লেখা আসে বল ?
-তবে কি লেখা আসে শুনি ? এই যে ব্লগের ছাইপাশগুলো ?
-ওগুলো মোটেই ছাইপাশ নয় ম্যাডাম,প্রতিবাদ ।
ও আরো কঠিন কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল । চোখে মুখে ভয়ের রেখা ফুটে উঠল । আস্তে আস্তে বলল -এসব আর লিখিস না সোনা । তোকে মেরে ফেলবে ওরা ।
-তোর মত একটা দজ্জাল বউ থাকতে আমাকে ওরা মারতে পারবে বুঝি ?
-ফাইজলামি করিস না ।
-আমি ফাজলামি করছি না ।
-তোকে মেরে ফেললে আমি কোথায় যাব?
-কোথায় যাবি মানে ? এই দেশেই থাকবি । দেশের জন্য লড়বি ।

ও কিছু বলল না ।চোখ দিয়ে জল পড়ছে অবিরল । আমার বিপ্লবী কথাবার্তা ওর কাছে এখন মূল্যহীন । আমার ফাজলামোতে ও হাসছে না , রাগ করছে না ,মারতে আসছে না । সে এখন ভালবাসার মহাসমূদ্রের একক অধীশ্বর । আমি সেই বিপুল ঢেউয়ের উচ্ছাসে হাবুডুবু খেতে খেতে ওকে কাছে টেনে নিলাম । বুকে চেপে ধরে বললাম -পারব না সোনা । ওরা মেরে ফেললেও আমি প্রতিবাদ থেকে পিছু হটতে পারব না ।

জানিনা নি:শব্দে কতটা মূহুর্ত , কত মাস নাকি কতটা বছর কেটে গেল । আমাদের ঘিরে শুধু আকাশের প্রবল ক্রন্দন । আর দু:খীনি বাংলা জুড়ে সেই অশ্রুজল ঝড়ে পড়ার শব্দ । হঠাত্‍ ও মুখ তুলল । ঠোঁট ছোঁয়াল আমার কম্পিত ঠোঁটে। দৃঢ় হল আমাদের বাহুবন্ধন । শ্রাবণের বর্ষন বেড়েই চলছে । ঘর আলোকিত করে যাচ্ছে ক্ষণপ্রভা । আস্তে আস্তে ল্যপটপের স্ক্রীনটা অফ হয়ে গেল । আমরা যেন চলে গেলাম বস্তুজগত্‍ থেকে অনেক দূরে….

(্‌এডিটেড রিপোস্ট)

১০ thoughts on “আমার বর্ষারানী (পর্ব- ৩)

    1. চলবে তো বটেই
      চলবে তো বটেই ভাই……………….যদি আপনাদের ভাল লাগে

      আসলে এডিট বলতে লেখার ফর্মটা চেঞ্জ করেছি…………………কিন্তু আগেরটা ডিলিট করতে পারছিনা……..

  1. এই কথা গুলো তাঁরে আমি ১০০ বার
    :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:
    এই কথা গুলো তাঁরে আমি ১০০ বার বলি। কিন্তু আমার গুল্টু আমার কথা শুনে না।
    সব ভয় আমার, তাঁর কোন ভয় নাই।

      1. আমি তাঁকে নিয়ে গর্ব করি।
        আমি তাঁকে নিয়ে গর্ব করি। তাঁর প্রতিবাদের ভাষা আমাকে মুগ্ধ করে। কিন্তু ভয় তো সাবলীল। হারানোর ভয়ের চেয়ে ভয়ঙ্কর ভয় আর কিছু নাই।

  2. ভালোবাসার পিছুটান সবসময়
    ভালোবাসার পিছুটান সবসময় দেশপ্রেমের চাইতে প্রবল। এই মায়ার টান যে উপেক্ষা করতে পারে তারাই সত্যিকারের যোদ্ধা। আমাদের যুদ্ধ সফল হোক সেই সাথে সফল হোক গৃহত্যাগী প্রেমিকের অপরাজেয় ভালোবাসা।

    1. প্রেম, পরিবার আর দেশ । বেছে
      প্রেম, পরিবার আর দেশ । বেছে নেয়াটা বড্ড কঠিন । তবু কিছু পাগল প্রেমিক বেছে নেয় দেশকে । কারণ ওরা জানে দেশ ভাল থাকলে ভাল থাকবে দশকোটি পরিবার…..

      1. সেটাই। দেশপ্রেমে আবেগ নেই।
        সেটাই। দেশপ্রেমে আবেগ নেই। এইজন্যেই জহির রায়হান বলছেন “আমরা লড়ছি সময়ের প্রয়োজনে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *