হারিয়ে গেল আরেকটি সোনার টুকরা বাঙ্গালি- কন্ঠযোদ্ধা বেলাল মোহাম্মদ


পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চিরতরের জন্য চলে গেলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক ও কন্ঠযোদ্ধা বেলাল মোহাম্মদ। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় তিনি মারা গেছেন।

অনেক দিন ধরেই কিডনীসহ নানা রকম বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জনবিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কবি বেলাল মোহাম্মদ।



পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চিরতরের জন্য চলে গেলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক ও কন্ঠযোদ্ধা বেলাল মোহাম্মদ। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় তিনি মারা গেছেন।

অনেক দিন ধরেই কিডনীসহ নানা রকম বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জনবিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কবি বেলাল মোহাম্মদ।

তবে গত সপ্তাহে হঠাৎ করে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অনেক সময় বিছানা থেকে উঠতে পারতেন না। খাওয়া-দাওয়া করতে পারতেন না। কিন্তু সমস্যা বোঝা যাচ্ছিল না। চিকিৎসকরাও তার রোগ ধরতে পারছিলেন না।
সোমবার দুপুরে তিনি তার বন্ধু শেখ হাফিজুর রহমানের বাসায় ছিলেন।

পরে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে বিকেল ৪টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

কিন্তু রাত ১০ টার পর থেকে বেলাল মোহাম্মদ আর চোখ খুলেন নি। কোন সাড়াও পাচ্ছিলেননা ডাক্তাররা। ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

এসময় ডাক্তাররা রোগীর আত্মীয়দের জানান, রোগীর কিডনি কাজ করছে না। সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না অন্যান্য অঙ্গও।
অবশেষে, সব চেষ্টাকে হার মানিয়ে চিরমুক্তির পথেই রওনা দিলেন সংগ্রামী এই কবি-সংগঠক। পৃথিবীতে রেখে গেলেন বর্ণাঢ্য কর্মমুখর এক জীবন, ফেলে গেলেন কাছের-দূরের অগণিত মানুষের ভালবাসা।

মঙ্গলবার ভোর ৪টায় মৃত্যবরণ করেছেন বেলাল মোহাম্মদ। তার এক নিকটাত্মীয়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তরা ১৪ নম্বর সেকটর জামে মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরদেহ বারডেম হাসপাতালে রাখা হবে।

বুধবার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পরবর্তীতে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে তার দ্বিতীয় জানাজা।

এক নজরে বেলাল মোহাম্মদ

বেলাল মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর গ্রামে জন্ম নেন। তার মায়ের নাম মাহমুদা খানম এবং বাবার নাম মৌলভী মোহাম্মদ ইয়াকুব।

তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম চট্টগ্রাম কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি দৈনিক আজাদীতে উপ-সম্পাদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ওই বছরই রেডিও পাকিস্তান চট্টগ্রাম কেন্দ্রে স্ত্রিপ্ট রাইটার হিসেবে যোগ দেন। তিনি স্বাধীনতা বিষয়ক বেশ কিছু কবিতা লিখেছেন।

২৬শে মার্চ ১৯৭১ সালে ৭টা ৪০ মিনিটে বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাসেম সন্দ্বীপ, আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং কবি আব্দুস সালামসহ আরো কয়েকজন মিলে প্রথম কালুরঘাট বেতার স্টেশনে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার নামে বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৭৩ সালে স্ত্রীর মৃত্যুর পর এক মাত্র সন্তান আনন্দকে নিয়েই ছিল তার জীবন। সেই আনন্দ যখন ১৯৯৮ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান, তখন থেকেই ভীষন একলা হয়ে পড়েন।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য রাষ্ট্র বেলাল মোহাম্মদকে ২০১০ সালে স্বাধীনতা পদকে সম্মানীত করে।

৮ thoughts on “হারিয়ে গেল আরেকটি সোনার টুকরা বাঙ্গালি- কন্ঠযোদ্ধা বেলাল মোহাম্মদ

  1. আমার মাতৃভূমি সন্দ্বীপের যে
    আমার মাতৃভূমি সন্দ্বীপের যে কইজন সূর্য সন্তানকে নিয়ে গর্ব করত তাঁর মধ্যে তিনি ছিলেন বাতিঘরের মত… বেলাল ভাই তোমার মত সূর্য সন্তানদের হারিয়ে আজ দেশ গভীর শোকে শোকাহত… তোমায় সালাম বীর কণ্ঠযোদ্ধা :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    লিমন ভাই ধন্যবাদ এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্বাচনের জন্যে :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    1. সময়টা বড় অসময় হয়ে দেখা
      সময়টা বড় অসময় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিগত এক বছরে আমরা হারিয়ে ফেলেছি অনেক সূর্য সন্তানদের।
      আপনাকেও ধন্যবাদ লেখার গুরুত্ব মূল্যায়নের জন্য…

  2. একটি স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার
    একটি স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দেয়ার অবদানের জন্য একজন বাঙালী হিসেবে এই কন্ঠ যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উনার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

  3. শিরোনামে ‘গেল’ শব্দটির জায়গায়
    শিরোনামে ‘গেল’ শব্দটির জায়গায় ‘গেলেন’ লিখলে আরো ভাল দেখাতো।

    সম্ভবত বেশ তাড়াহুড়ার কারনে হয়েছে।পুনরায় সম্পাদন করার অনুরোধ ।

  4. সোনার মানুষগুলো দ্রুত চলে
    সোনার মানুষগুলো দ্রুত চলে যাচ্ছেন, আর গুয়াজমের মতো শুকুনের পাল ৯১ বছরেও রাক্ষসের খানা খায়। ভালো মানুষ বেশীদিন বাঁচেন না এটা কি আসলেই সত্যি? :মনখারাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *