হামিদ মীরের কলাম ও গোলাম আযম প্রসঙ্গে


“রাজাকার বার্তা” হতে কোট করছিঃ
গোলাম আযম, জন্ম ৭, ১৯২২। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী কর্ম-কান্ডের জন্যে যার নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।
১৯৫৪ সালের এপ্রিলে জামায়াতে ইসলামীর মুত্তাফিক। পরবর্তীতে রোকন।
১৯৫৫ সালের জুন মাসে রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী।
পরবর্তীতে পূর্ব-পাকিস্তান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এবং রাজশাহী বিভাগের আমীর।
১৯৫৭ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ব-পাকিস্তান জামায়াতের জেনারেল সেক্রেটারী।


“রাজাকার বার্তা” হতে কোট করছিঃ
গোলাম আযম, জন্ম ৭, ১৯২২। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধী কর্ম-কান্ডের জন্যে যার নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।
১৯৫৪ সালের এপ্রিলে জামায়াতে ইসলামীর মুত্তাফিক। পরবর্তীতে রোকন।
১৯৫৫ সালের জুন মাসে রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী।
পরবর্তীতে পূর্ব-পাকিস্তান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এবং রাজশাহী বিভাগের আমীর।
১৯৫৭ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ব-পাকিস্তান জামায়াতের জেনারেল সেক্রেটারী।
১৯৬৯ সালের শেষদিকে পূর্ব-পাকিস্তান জামায়াতের আমীর। ১৯৭১ পর্যন্ত।
বিভিন্ন বাহিনী যেমন রেজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা এবং সহযোগী।
১৯৭৩ সালের ১৮ এপ্রিল সরকারী এক আদেশে গোলাম আযম এবং আরো ৩৮ জনকে স্বাধীন বাংলাদেশে অনুপোযুক্ত ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের আনুকূল্যে গোলাম আযম পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসে এবং কোন ভিসা ছাড়াই ১৯৭৮-১৯৯৪ বাংলাদেশে বাস করে। বাংলাদেশের নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও সে অবৈধভাবে ১৯৯২-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর আমীরের দায়িত্ব পালন করে।

এবার আসি বর্তমান কালে । কদিন আগে গোলাম আযম নামে এক রাজাকার, যে বাংলাদেশে হাজার হাজার গণহত্যা এবং ধর্ষণের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদদাতা, তাকে সকল অভিযোগ বিবেচনা সাপেক্ষে বয়েসের ভিত্তিতে নব্বই বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুন্যাল।

হামিদ মীর একজন পাকিস্তানী সাংবাদিক, “একাত্তরে ঘটে যাওয়া এদেশের গণহত্যার জন্যে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ”, এরূপ মনোভাবের কারণে এদেশের বিভিন্ন পত্রিকা, বিশেষ করে “প্রথম আলো” তাকে “হিরো” হিসেবে গণ্য করে।
সম্প্রতি পাকিস্তানী পত্রিকা “ডেইলি জং” এ তার একটি কলাম প্রকাশিত হয়েছে। তার লিঙ্ক নিচে দেয়া হল।
হামীদ মীরের উর্দু লেখার অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে নতুনবার্তা ডট কমে। তার লিঙ্কও নিচে দেয়া হল।

এখন, হামীদ মীরের লেখার অনুবাদ থেকে কোট করছিঃ
“জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সহযোগীরাও ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারীদের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ব্যালটের সিদ্ধান্তকে বুলেটে পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এই অপচেষ্টা ফলে পাকিস্তান ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়”।

এখানে স্পষ্ট প্রকাশ পায়, হামীদ মীর এখন পর্যন্ত আসলেই বাংলাদেশকে আলাদা কোন রাষ্ট্র ভাবেন না। তার কাছে এখনো বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ।

আরো কোট করছিঃ
“গোলাম আযম বলেন, তিনি ১৯৭১ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত সেনা অভিযানের কঠোর প্রতিবাদ জানান। কিন্তু ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়, গোলাম আযম পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে মিলে আল বদর প্রতিষ্ঠা করেন এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হত্যা করেন”।

যেই গোলাম আযম স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের বিরোধীতা করেছিলেন, ১২ এপ্রিল ১৯৭১ যে গোলাম আযম শান্তি কমিটির মিছিল শেষে মোনাজাতের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার জন্যে হামিদ মীরের এই লেখা আসলেই হাস্যকর।
এই মোনাজাত সম্পর্কে দৈনিক সংগ্রাম ১৩ এপ্রিল ১৯৭১ এ বলা হয়,
“ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে সত্যিকারের মুসলিম সৈনিক হিসেবে দেশরক্ষার যোগ্যতা অর্জন করে সত্যিকারের মুসলমান ও পাকিস্তানকে চিরদিন ইসলামের আবাসভূমি হিসেবে টিকিয়ে রাখার জন্যে আল্লাহর নিকট দোয়া চায়”।

আমি বাংলাদেশী পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আজকের পাকিস্তানের দিকে তাকালে কী দেখি আমরা, ওসামা বিন লাদেনের মত সন্ত্রাসীকে আশ্রয়দানকারী একদল মানুষ, যারা ধর্মের জন্যে নারী-শিক্ষাকে করে রাখে ঘরের ঘুপচিতে বন্দী। এখনো যেখানে পরকীয়ার শাস্তি গোত্র দ্বারা ধর্ষণ। রাজনীতির কথাতো বাদই দিলাম। যেদেশে নেতারা এখনো সর্বসম্মুখে গুলি খেয়ে মরে, দুর্নীতিবাজ মানুষেরা আজ যে দেশের সর্বোচ্চ স্থানে, সে দেশের নাগরিক হওয়া ঝুকির এবং লজ্জার বৈকি।

হামিদ মীর, আপনার গায়ে পাকিস্তানী বীর্য, আপনার বাবার গায়ে পাকিস্তানী বীর্য, আপনার দাদার গায়ে পাকিস্তানী বীর্য। এমন দেশের নাগরিক হয়ে আপনার নিজের দিকে তাকিয়ে লজ্জা নিবারণের চেষ্টা করুন। আমাদের ইতিহাস আর ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। নিজের ইতিহাস নিয়ে চিন্তা করুন। পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করুন।
ছাগলের মত লেখা লিখে নিজের জ্ঞাতি গোষ্ঠীর প্রতি ভালোবাসার কথা আজ প্রকাশ করে দিয়েছেন। যেটুকু মান সম্মান আছে তাকে বগলের তলায় চেপে রেখে বিদায় নিন। নাহলে সারা পৃথিবীই আপনাকে একসময় ঘৃণা করবে।

১। ডেইলি জংঃ http://jang.com.pk/jang/jul2013-daily/29-07-2013/col2.htm
২। নতুনবার্তায় অনুবাদঃ http://www.natunbarta.com/opinion/2013/07/29/37680/bc3e8c0f6f0809a0c364cdb14dc09fcf

সূত্রঃ
১। রাজাকার বার্তা
২। www.muktodhara.net/goazam.html
৩। গোলাম আযমের আত্মজীবনী- “জীবনে যা দেখলাম”- ৩ খন্ড।
৪। দৈনিক সংগ্রাম
৫। www.nybangla.com/Muktijuddho/G_Azam/Golam-Azam_1971.pdf

১১ thoughts on “হামিদ মীরের কলাম ও গোলাম আযম প্রসঙ্গে

  1. কুত্তার বাচ্চা হামিদ
    কুত্তার বাচ্চা হামিদ মীর!
    কুত্তার বাচ্চা গোলাম!

    এই দুটি বাক্যের বাইরে আর কিছু বলবার শক্তি নাই!

    1. কুকুর খুব বিস্বস্ত প্রানী
      কুকুর খুব বিস্বস্ত প্রানী এদের সাথে কুকুরের তুলনা করে কুকুর কে কটাক্ষ করবেন না

  2. আমাদের শুধু একজন গোলাম আযম

    আমাদের শুধু একজন গোলাম আযম নয়, ওই লাখো বিহারীদের কথাও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতা করেছেন এবং আজও ঢাকায় শরণার্থী ক্যাম্পে পড়ে আছেন। জেনারেল জিয়াউল হক ১১ বছর এবং পারভেজ মুশাররফ নয় বছর পাকিস্তানের ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু তারা পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতাকারী ওই বীরদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি

    এর মানে কি .। আমাদের দেশে আমরা এই জারজদের বংশ দূত কেন রেখে দিয়েছি? এই ঘনবসতি পূর্ণ দেশে এদের রাখার মানে হয় না .।

  3. পাকিস্তান আজীবন পাকিস্তানই
    পাকিস্তান আজীবন পাকিস্তানই থাকবে । যেভাবে মীরজাফর মীরজাফরই থাকবে।

    “পাকিস্তানিদের আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে তখনও”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *