ফিলিং বৃষ্টিস্নাত

আজকে বৃষ্টি কেমন ছিল সেটা না বললেও হবে। এমন বৃষ্টির দিনে সাধারণত আমাকে হাতি দিয়ে টেনেও বাড়ি থেকে কেউ বেড় করতে পারে না। কিন্তু আজ নিজের কাজেই বেড় হতে হয়েছে। যেতে হবে ব্যাংকে। বাড়ি থেকে ছাতা নিয়ে বেড় হতে হতে ভাবলাম একটা রিকশা পেলেই হয়। ভাড়া যত লাগে লাগুক, একটুও হাঁটতে মন চাচ্ছে না। যাক একটু হাঁটার পর রিকশা একটা পাওয়া গেলো। পরিচিত রিকশাওয়ালা, নাম নূর হোসেন। নূর হোসেনের রিকশা দিয়ে একেবারে ডাচ বাংলা ব্যাংক এর সামনে নামলাম। ব্যাংকের কাজ সেরে আসার সময় আর কেন যেন রিকশাতে চড়তে মন চাইলো না। মনে হল হাঁটি একটু। অবশ্য একটু হাঁটতেই হতো। কারন ফার্মেসীতে যেতে হবে আব্বার ঔষধ কেনার জন্য, ব্যাংক থেকে ফার্মেসীর দূরত্ব খুবই সামান্য, হাঁটলে ৩-৪ মিনিট লাগবে। এত অল্প দূরত্বে তো আর রিকশা যাবে না। হাঁটতে হাঁটতে কিছু দৃশ্য দেখে আর রিকশা নিতে মন চাইলো না। মনঃস্থির করলাম হেঁটেই বাড়ি যাবো।

দৃশ্য-একঃ হাঁটছি মুন্সিগঞ্জের সদর রোড দিয়ে। পাল এর দোকানের সামনে। দুটো স্কুল পড়ুয়া মেয়ে আসছে ছাতা মাথায় করে। সম্ভবত কোচিং ফোচিং করে বাড়ি ফিরছে। আমি ভাবলাম এই বয়সে মনে নতুন রঙ লেগেছে তাই এত বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও কোচিং করতে এসেছে। কি হল জানিনা হঠাৎ করে একজনের ছাতা বন্ধ হয়ে গেলো। এমনিতেই কুত্তা-বিলাই বৃষ্টি হচ্ছে। তার উপর পাশের ছাতার সব পানিও গড়িয়ে পড়ে ঐ মেয়েকে সম্পূর্ণ ভিজিয়ে দিল। সিরাম দৃশ্য।

দৃশ্য-দুইঃ এবার আমি কাচারী চৌরাস্তার মোড়। স্পীড ব্রেকারের কারনে পানি জমে আছে কিছু। হঠাৎ করে একটা ইজি বাইক এসে একজন মাঝ বয়সী লোক কে ময়লা পানি ছিটিয়ে দিয়ে তার সাদা জামার দফা রফা করে দিল। ইজি বাইক তো বোঁ দৌড়। লোকটা বৃথাই গজর গজর করতে থাকলো। এই প্রথম মনে হল লোকটা আসলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নিজেকে ফিট রাখতেই গজর গজর করছে। একটু হাসি পেল…

দৃশ্য-তিনঃ আমি মুন্সির হাট চলে এসেছি। দেখলাম অনেকেই দুধ এর বালতি মাথায় নিয়ে অথবা হাতে নিয়ে বাজারে আসছে। কিন্তু কারও মাথাতেই ছাতা নেই। ভিজে যাচ্ছে তার জন্য কোন তাড়াও নেই। বৃষ্টির পানিতে যদি এক পোয়া দুধ বাড়ে তাতে ক্ষতি কি? এমন বিশুদ্ধপানি দুধে মেশালে ক্ষতি তো নেই :p

দৃশ্য-চারঃ আমি আমাদের বাড়িতে। আমাদের বাংলা ঘরটার একেবারে দরজার মুখে। হঠাৎ করে ছাতা বন্ধ হয়ে গেলো সেই প্রথম দৃশের মেয়েটির ছাতার মত। আর টিনের চালের গড়িয়ে পড়া পানিতে ভিজে আমি একাকার। মনে মনে ভাবলাম এন্ডিং টা একেবারে খারাপ হল না। আর মনঃস্থির করলাম আবার কবে মুষলধারে বৃষ্টি হবে, সেদিন অবশ্যই একটা ছাতাকে সঙ্গী করে বেড় হয়ে যাবো জীবনের কিছু কিছু ছবি দেখতে……

১২ thoughts on “ফিলিং বৃষ্টিস্নাত

  1. ভাল অভিজ্ঞতা শেয়ার
    ভাল অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।এবার সর্দি জ্বরের অভিজ্ঞতার জন্য অপেক্ষা করুন:-P

    1. মুনা আপুরে চিনেন না মিয়া,
      মুনা আপুরে চিনেন না মিয়া, আবার বাকের ভাইয়ের পোস্টে কমেন্টাইতে আসছেন। মাইরের উপ্রে ভাইটামিন নাই। :শয়তান: :টাইমশ্যাষ:

      1. এইবার চিনবার পারছি মাগার সেই
        :আমারকুনোদোষনাই: এইবার চিনবার পারছি মাগার সেই ডায়লগটা মনে করা দেওয়ার লাইজ্ঞা আপনারে :ধইন্যাপাতা:

        মাইরের উপ্রে ভাইটামিন নাই

        :bow:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *