নারীর মন এবং রহস্য (এক)

এক

নারীর মনের রহস্য বিশাল। সে রহস্য না জানে পুরুষ, না জানে
নারী নিজে। নারীর সৌন্দর্যই তার নারীত্ব। অথচ তার স্বভাব হলো মেয়েলিপনা।
পুরুষ এই দুয়ের মধ্যে সঙ্গতিবিধান না করতে পেরে নারীর প্রতি অবিচার করে। আসলে নারীর সৌন্দর্যের প্রতি বেশি মূল্য আরোপ করে পুরুষ নিজে। আর মেয়েলীপনা হলো নারীর নিজের। পুরুষের বড় ভুল হয় এখানে যে সে নারীর দেহ থেকে যা চায়, তার মন থেকেও তাই চায়। প্রথমটা সে পায়; দ্বিতীয়টা সে পায় না। অথচ সে দ্বিতীয়টার প্রতি বেশি গুরুত্ব আরোপ করে অনন্যোপায় কেবল প্রথমটা নিয়েই পড়ে থাকে।

এক

নারীর মনের রহস্য বিশাল। সে রহস্য না জানে পুরুষ, না জানে
নারী নিজে। নারীর সৌন্দর্যই তার নারীত্ব। অথচ তার স্বভাব হলো মেয়েলিপনা।
পুরুষ এই দুয়ের মধ্যে সঙ্গতিবিধান না করতে পেরে নারীর প্রতি অবিচার করে। আসলে নারীর সৌন্দর্যের প্রতি বেশি মূল্য আরোপ করে পুরুষ নিজে। আর মেয়েলীপনা হলো নারীর নিজের। পুরুষের বড় ভুল হয় এখানে যে সে নারীর দেহ থেকে যা চায়, তার মন থেকেও তাই চায়। প্রথমটা সে পায়; দ্বিতীয়টা সে পায় না। অথচ সে দ্বিতীয়টার প্রতি বেশি গুরুত্ব আরোপ করে অনন্যোপায় কেবল প্রথমটা নিয়েই পড়ে থাকে।
এবং এভাবেই নারী হয়ে যায় ভোগ্য বস্তুু। ভোগের যেহেতু সীমা আছে, ভোগের মাধ্যমেই যেহেতু উচ্ছিষ্ট সৃষ্টি হয়, সেহেতু নারী এক সময় হয়ে যায় উচ্ছিষ্ট। তখন সে স্বামীর সোহাগের তৃষ্ণাকে চাপা দিয়ে মাতৃত্বের তৃপ্তির ছায়ায় বেঁচে থাকে।
সে অবলা। তার কোনো যুক্তি নেই, আছে শুধু স্বভাব। তার স্বভাবের যুক্তিটাকে কেউ বোঝে না।

নারী এতই বোকা যে, সে “এত সুন্দর” হয়েও জানে না যে সে সুন্দর। তার নিজের কাছে তার সৌন্দর্যের কোনো মূল্য নেই। তার সৌন্দর্যকে সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল পুরুষের জন্য। পুরুষ তার মূল্যায়ন করলেই তার তৃপ্তি এবং সার্থকতা। তার সৌন্দর্যের ব্যাপারে তার আত্নবিশ্বাস এতই কম যে, পরমা সুন্দরী রমণীরও সন্দেহ জাগে তার সাজগোজ ঠিক হয়েছে কি না, তাকে সুন্দর দেখাচ্ছে কি না। পুরুষের প্রশংসাই তার সৌন্দর্যের সার্থকতা। সে শুধু ভোগের বস্তুু হয়ে পড়ে থাকলে নিজেকে ছোট এবং তুচ্ছ মনে করে। সে প্রশংসার পাত্রী হতে চায়। তার প্রশংসাকারীই তাকে ভোগ করুক—সে সেটাই চায়। তাতেই তার আত্নবিশ্বাস বেড়ে যায়। কারণ তখন সে নিজেকে দেহের অতিরিক্ত ভাবতে শেখে। যেহেতু তার নিজের কাছে তার দেহের কোনো মূল্য নেই,
সেহেতু যে ব্যাক্তি শুধু তার দেহকে ভালোবাসে, সে তার
ভালোবাসায় সংকীর্ণতা খুঁজে পায়।
অতএব আপনার স্ত্রীকে প্রশংসা করুন। তার সার্বিক রূপের প্রশংসা করুন। শুধু রূপ নয়, তার গুনেরও প্রশংসা করা চাই। পুরুষদের বোঝা উচিৎ যে সামান্য প্রশংসার বিনিময়েই দীর্ঘ-যুগের ঘরের বউও মাত্র কয়েক মিনিটের পরিচয়ের সূত্র ধরে পরপরুষের হাতে বিক্রি হয়ে যায়। কিছু লোচ্চা পুরুষ আছে যারা অন্যান্য বোকা পুরুষের এরূপ দুর্বলতারও সুযোগ নেয়। স্ত্রীকে যে প্রশংসা করে না সে অহংকারী এবং হিংসুক।

নারী এতই আত্নবিশ্বাসহীন যে তাকে প্রশংসা করলেও সে প্রথমত সন্দেহ করে। আবার সে এতই বোকা যে আঠালো প্রশংসার ফাঁদে আটকা না পড়ে পারে না—তা মিথ্যে প্রশংসা হলেও। সুতরাং কেবল সত্য প্রশংসাই করুন—এবং সঠিক মুহূর্তে।

নারীর বায়না এবং স্বভাবের ঝগড়াটে জটিলতা এক চমৎকার রহস্য…

…চলবে…

১০ thoughts on “নারীর মন এবং রহস্য (এক)

    1. লেখাটা পড়ে যদি কেউ এমনটা
      লেখাটা পড়ে যদি কেউ এমনটা ভাবেন, তাহলে ধরে নিতে হবে লেখার গভীরে সে ঢুকতে পারেনি 🙂

      1. আসলেই গভীরে ডুকতে পারেন নি!!
        আসলেই গভীরে ডুকতে পারেন নি!! একটা অতিকায় বিষয়ের শিশুসুলভ আলোচনা হয়েছে… 🙁
        আরও গভীরে অনেক রেফারেন্স দিয়ে ডীটেইলে লিখতে হবে! কেননা সমাজ দর্শন অনেক ব্যাপক আর জটিল বিষয়।। দৃশ্যত সহজ মনে হলেও ব্যাপক… লিখতে থাকুন…

        1. তারিক লিংকন ভাই,
          আমি সহজভাবেই

          তারিক লিংকন ভাই,

          আমি সহজভাবেই লিখেছি। পাঠক গভীরে ঢুকে মর্মার্থ উপলব্ধি করুক এটাই চাই 🙂 । লেখার অধিকাংশই জীবন থেকে নেয়া। আমাদের জীবনটাই একটা বড় রেফারেন্স। চেষ্টা থাকবে :)।

          গঠনমূলক সমালোচনার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    1. ব্রহ্মপুত্র
      ব্রহ্মপুত্র ভাই,

      ‘পুরুষতন্ত্র’ কোথায় পেলেন আমি জানিনা। হয়তো আমি ‘তন্ত্র-ই’ বুঝিনা। সে যা-ই হোক, নারী সহজাত স্বভাবে যে কাজগুলো করে থাকেন সেগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে পুরুষদের কি করণীয় তা আমরা অধিকাংশ পুরুষই করি না, পুরুষদের সেই ভুল গুলোই তুলে ধরা হয়েছে।

      আমি কোনো ‘তন্ত্রে’ বিশ্বাসী না। তারপরেও বলবো, আমার কাছে মনে হয়েছে—এই লেখাতে ‘তন্ত্র’ যদি থেকে থাকে তাহলে ‘নারীতন্ত্র’ই আছে।

      ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *