আমাদের বল্টুর ব্যক্তিগত জীবন

অনেকদিন বেকার জীবন কাটাতে কাটতে অতীষ্ঠ হলো বন্ধু টাল্টু আর বল্টুর জীবন। যে কাজেই তারা নামে সেটাতেই লোকসান। কোন ব্যবসাই করতে পারেনা ওরা। শহরে গিয়ে এক বড়লোকের বাড়িতে মালির কাজ নিয়েছিল ওরা। কিন্তু বাগান পরিস্কার করতে গিয়ে কাটাওয়ালা সব গোলাপের চারা উপড়ে ফেলে দিলো বাইরে। কারণ ওগুলোতে কাঁটা। আর রেখে দিলো সব ঘাস লতাপাতা। বাড়ির মালকিন এসে ঝাঁটার বারি দিয়ে বিদেয় করলো ওদের তখনই।
:
এরপর কাজ নিলো শ্মশানে। চিতায় দেহ পোড়ানোর পর কান্নারত স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে বললো দুজনে – “আবার শীঘ্র আসবেন ভাই অন্য কাউকে নিয়ে ! বড়ই ভাল লাগলো আপনাদের শ্মশান যাত্রা”! শুনে স্বজনরা পেটালো দুজনকে আচ্ছা করে। শ্মশান থেকে ঐদিনই বিদেয় করলো তাদের।
:
দুই বন্ধু বল্টু আর টাল্টু এবার ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নিলো। দুজনে বাজার থেকে দই কিনে, মেলায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলো। দুজনেই পরিশ্রম বরাবর করবে, প্রফিট যা হবে হাফ-হাফ! কিন্তু একদিনের মেলা, বাকিতে বিক্রি করা চলবেনা। বাজারের দোকানদার তাদের পরিচিত, দূর সম্পর্কের আত্মীয়। কথা হলো, দই বিক্রি করে, মেলা থেকে ফেরত এসে, দইয়ের দাম চুকিয়ে দেবে বল্টুয আর টাল্টু। মেলার মাঠ বাজার থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে। বল্টুর মাথায় দইয়ের হাঁড়ি তুলে দিয়ে টাল্টু চেঁচিয়ে চলেছে — “দই চাই,, দই। মিষ্টি তাজা দই”!
:
কিছুক্ষণ হাঁকাহাঁকি করার পর টাল্টুর গলা শুকিয়ে কাঠ। টাল্টু বললো – “ভাই বল্টু – একটু দই খাবো! গলা শুকিয়ে গেছে!”
বল্টু বললো — “চুক্তি অনুযায়ী পয়সা দিয়ে খেতে হবে। ধার বাকি চলবে না”।
 
 
টাল্টু পকেট থেকে ১০ টাকার নোট বের করে বল্টুকে দিলো। বল্টু টাকাটা পকেটে রেখে,,টাল্টুকে দই খেতে দিলো।
চুক্তি অনুযায়ী দুজনেই সমান পরিশ্রম করবে। এবার টাল্টুর মাথায় দইয়ের হাঁড়ি,, বল্টু হেঁকে চলেছে – “দই চাই,, মিষ্টি দই,, তাজা দই, টাটকা দই।”
 
 
কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর, বল্টু গলা শুকিয়ে এলো। সে বললো -” ভাই টাল্টু,, গলা শুকিয়ে গেছে। একটু দই খেতে দে ভাই।”
টাল্টু বললো -“চুক্তি অনুযায়ী বাকিতে বা ধার খাওয়া চলবেনা। আগে টাকা দিতে হবে।”
এবার বল্টু টাল্টুর দেয়া ১০-টাকার নোটটা পকেট থেকে বের করে তাকেই দিয়ে দিলো। টাল্টু দই দিলো বল্টকুে। বল্টু খেলো মজা করে!
 
 
পর্যায়ক্রমে এভাবেই চলতে থাকে……………….! মেলার মাঠে পৌঁছে,, দুজনেই অবাক!! দইয়ের হাঁড়ি খালি !!! কিন্তু টাকা নেই কেন? এবার দুই বন্ধু ভাবতে থাকে! দুজনেই প্রচুর মেহনত করলাম, কেউ বাকি খেলাম না,সব দই শেষ, অথচ …..! টাকা নেই কেন? ওদিকে বাজারের দইওয়ালার টাকাও বাকি!
:
একদিন মাথায় মারাত্মক আঘাত নিয়ে বল্টু গেছে ডাক্তারের কাছে। ডাক্তারকে বললো বল্টু – “ডাক্তার সাব, তাড়াতাড়ি কিছু করুন! আহ্, শেষ হইয়া গেলাম”!
ডাক্তার বললো – “কিভাবে এমন হলো”?
বল্টু কাদো কাদো স্বরে বললো – “আর বইলেন না ডাক্তার সাব! বাড়ির কাজের জন্য পাথর দিয়ে ইট ভাঙছিলাম। সামনে দিয়ে এলাকার স্কুলের মাস্টার যাচ্ছিল। সে বলল – “বল্টু, মাঝে-সাঝে মাথাটাও কাজে লাগাও”।
ডাক্তার – তো কি হয়েছে?
বল্টু বললো – ” তার কথামতো পাথরের বদলে মাথা দিয়ে ইট ভাঙার চেষ্টা করেছিলাম ডাক্তার সাব”!
:
আবার একটা সোনার দোকানে চাকুরী নিলো বল্টু সেলসম্যানের। মালিক তার কর্মচারীটি বল্টুকে বোকাসোকাই জানত। আর তাই মালিক বলে গেলো “আমি বাইরে যাচ্ছি, যদি কোনো ক্রেতা আসে তাহলে বলবি, সোনার মূল্য দ্বিগুণ”!
কর্মচারী বল্টু বললো – “জি, ঠিক আছে”।
কিছুক্ষণ পর মালিক এসে জানতে চাইলো – ” আমি যেমন বলেছিলাম তেমন করেছিস তো”?
কর্মচারী বল্টু বললো – “হ, স্যার, এক লোক সোনা বিক্রি করতে আইছিলো। সে এক ভরি ৪৪ হাজার টাকা চাইল। আমি কইলাম – “৮৮ হাজারের এক টাকাও কম দেয়া সম্ভব না, মালিকের নির্দেশ। এই দরে ১০-ভরি কিনা ফালাইছি স্যার”!
:
চাকুরী হারিয়ে নিজ ক্ষেতে মূলার চোষ করলো বল্টু নিজে। কিন্তু বল্টুর মুলার ক্ষেত পোকায় খেয়ে শেষ করে দিচ্ছে। তাই সে গেল এলকার কৃষি বিশেষজ্ঞের কাছে। বললো – “স্যার, আমার মুলার ক্ষেত তো পোকায় খেয়ে শেষ করে দিল। এখন কি করি”?
কৃষি বিশেষজ্ঞ বললো “আপনি এক কাজ করুন। পুরো ক্ষেতে লবণ ছিটিয়ে দিন”!
বল্টু বিরক্ত হয়ে বললো – “আহা! কি পরামর্শ? নুন ছাড়াই খেয়ে শেষ করি ফেলাইছে, আর নুন দিলে তো কথাই নাই”!
 
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *