কবিতার ছন্দ ( আনিসুল হক এর লেখা )

আনিসুল হক এর একটি লেখা কিছুদিন আগে পড়লাম। কবিতা নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য। যারা পড়েননি শুধুমাত্র তাদের জন্য। পরে মন্তব্য অবশ্যই করবেন। আসলে আমার কাছে কবিতা হচ্ছে নিজের অনুভূতি গুলো কে সঠিক শব্দচয়ন ও উপমা দিয়ে প্রকাশ করা। এতো নিয়মনীতি আমার মাথায় ঢোকেনা। তারপরও আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনাদের মতামত আশা করবো।

~কবিতার ছন্দ~
-আনিসুল হক।

পণ্ডিতদের জন্য নয়।



আনিসুল হক এর একটি লেখা কিছুদিন আগে পড়লাম। কবিতা নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য। যারা পড়েননি শুধুমাত্র তাদের জন্য। পরে মন্তব্য অবশ্যই করবেন। আসলে আমার কাছে কবিতা হচ্ছে নিজের অনুভূতি গুলো কে সঠিক শব্দচয়ন ও উপমা দিয়ে প্রকাশ করা। এতো নিয়মনীতি আমার মাথায় ঢোকেনা। তারপরও আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনাদের মতামত আশা করবো।

~কবিতার ছন্দ~
-আনিসুল হক।

পণ্ডিতদের জন্য নয়।

ছন্দ: সহজ পাঠ
ছন্দ শেখার প্রথাগত পদ্ধতিটা একটু কঠিন। খুব সহজ ভাষায় সহজ কথায় ছন্দ শেখার একটা ফন্দি হলো এই সহজ পাঠ।
কবিতায় ছন্দ থাকতে হয়। ছন্দ মানে মিল নয়। মিল ছাড়াও ছন্দ হয়।
(মিলকে অন্ত্যানুপ্রাস বলে)
যেমন: স্বাধীনতা তুমি রবি ঠাকুরের অজর কবিতা অবিনাশী গানÑ এই কবিতায় ছন্দ আছে। কিন্তু মিল নাই।
বাংলা কবিতার ছন্দ প্রধানত তিন প্রকার।
১. অরবৃত্ত
২. মাত্রাবৃত্ত
৩. স্বরবৃত্ত
ছন্দ জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে মাত্রা, পর্ব আর চরণ।
মাত্রা: মাত্রা হলো শব্দের সবচেয়ে ছোট একক।
পর্ব: কয়েকটা মাত্রা নিয়ে একটা পর্ব হয়।
চরণ: কয়েকটা পর্ব মিলে একটা চরণ হয়। চরণের শেষের পর্বটা অপূর্ণ থাকতে পারে।

বাংলা কবিতায় মাত্রা তিন ধরনের ছন্দে তিনভাবে মাপা হয়।
অরবৃত্ত:
অরবৃত্ত ছন্দে একটা অর এক মাত্রা।
যুক্তারও এক মাত্রা।
যেমন: চন্দন, এটায় আছে অরবৃত্তে তিন মাত্রা। আবির্ভাব, এটায় আছে চার মাত্রা।

অরবৃত্তে সাধারণত ৪ মাত্রায় একটা পর্ব ধরা হয়। একটা পঙ্ক্তি বা চরণে সাধারণত ৬ মাত্রা (৪+২), ১০ মাত্রা (৪+৪+২), ১৪ (৪+৪+৪+২), ১৮ (৪+৪+৪+৪+২), ২২ (৪+৪+৪+৪+৪+২), ২৬ টি মাত্রা থাকে।
এর মধ্যে বিখ্যাত হলো পয়ার। এক লাইনে ১৪টি মাত্রা বা ১৮ টি মাত্রা থাকে পয়ারে। আরো বেশি, ২২, ২৬ হলে তাকে মহাপয়ার বলে।
১৪ মাত্রার উদাহরণ:
লাখে লাখে সৈন্য মরে হাজারে হাজার।
শুমার করিয়া দেখে, চল্লিশ হাজার।
৮+৬ এই ভাবেই প্রধানত এটা ভাগ করা যায়।
প্রথম ৮ টা ৩+৩+২ করেও করা যায়। (৫+৩ হয়। বেশি ভালো হয় না।)
পয়ারের উদাহরণ:
মানুষ এমন তয় একবার পাইবার পর,
নিতান্ত মাটির মনে হয় তার সোনার মোহর।

পরাজিত নই নারী, পরাজিত হয় না কবিতা,
আহত দারুণ বটে আর্ত সব শিরা উপশিরা।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য
অতি দূর সমুদ্রের পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ….

(বি; দ্র:সংবাদ, এই শব্দে মাত্রা আছে তিনটা। ং কে মাত্রা ধরা হয় না। কিন্তু চরণের শেষ অর ং হলে আবার মাত্রা ধরা হয়। রং বা সং যদি চরণের শেষে থাকে, তখন এই শব্দ দুটোকে দুই মাত্রা করে ধরা হবে। মাভৈ তিন মাত্রা ধরা হতে পারে)

মাত্রাবৃত্ত।
চন্দনে মাত্রাবৃত্তে চার মাত্রা গোনা হয়।
প্রতিটা অর এক মাত্রা। যুক্তার দুই মাত্রা। (তবে শব্দের শুরুতে যুক্তার থাকলে এক মাত্রাই ধরা হবে। যেমন: স্থান দুই মাত্রা)

১. ৬ মাত্রায় একটা পর্ব ধরে লেখা:
যেমন:
স্বাধীনতা তুমি/ রবি ঠাকুরের/ অজর কবিতা,/ অবিনাশী গান,
স্বাধীনতা তুমি/ কাজী নজরুল/, ঝাকড়া চুলের/ বাবড়ি দোলানো/ মহান পুরুষ।
সৃষ্টিসুখের উল্লাসে/ কাঁপা। (কাঁপাটা অপূর্ণপদী পর্ব)

প্রেমিক মিলবে প্রেমিকার সাথে ঠিকই
কিন্তু শান্তি পাবে না পাবে না পাবে না…

একটি কথার/ দ্বিধা থরথর/ চূড়ে
ভর করেছিল/ সাতটি অমরা/বতী
একটি নিমেষ/ দাঁড়াল সরণী/ জুড়ে
থামিল কালের/ চির চঞ্চল/ গতি

৫ মাত্রের মাত্রাবৃত্ত:

রক্ত দিতে/ চেয়েছিলাম/ বলে
মোহিনী তোর/ এমনি ছল/ যে
সোনার থালে/ চাইলে টুক/টুকে
টুকরো করা/ আমার কলজে

ভোলো না কেন/ ভুলতে পারো/ যদি
চাঁদের সাথে/ হাঁটার রাত/গুলি
নিয়াজ মাঠে/ শিশির লাগা/ ঘাস
পকেটে কার/ ঠাণ্ডা অঙ্গুলি (অং/গুলি)
ঢুকিয়ে তুমি/ বলতে অভ্যাস (অভ/ ভাস)
বকুল ডালে/ হাসত বুল/বুলি

৪ মাত্রার মাত্রাবৃত্ত

আমাদের ছোট নদী চলে আঁকেবাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে

(বৈশাখ টা না থাকলে এটা পয়ারই হয়ে যেত)

৭ মাত্রার মাত্রাবৃত্ত: (৩+৪) মাত্রা

জেনেছি কাকে চাই/ কে এলে চোখে ফোটে/ খুশির জ্যোতিকণা

তোমার মুখ আঁকা/ একটি দস্তায়
বিকিয়ে দিতে পারি/ পিতার তরবারি
বাগান জোতজমি/ সহজে সস্তায়
পরীর টাকা পেলে/ কেউ কি পস্তায়

৩. স্বরবৃত্ত:

এটায় ইংরাজির সিলেব্লের মতো মাত্রা গোনা হয়। শব্দের যে অংশটি একবারে উচ্চারণ করা হয়, তাকে সিলেব্ল বলে। এক সিলেব্ল এক মাত্রা। সাধারণত চারমাত্রায় এক পর্ব ধরে স্বরবৃত্ত ছন্দে লেখা হয়। সাধারণত ছড়া লেখা হয়।
চন্দন: স্বরবৃত্তে দুই মাত্রা। চন আর দন।

আব্বা বলেন/ পড়রে সোনা,/ আম্মা বলেন/ মন দে
পাঠে আমার/ মন বসে না/ কাঁঠালচাপার/ গন্ধে
বা
যে টেলিফোন/ আসার কথা/ সেই টেলিফোন আসে না
একান্তে যার/ হাসার কথা
হাসে না
বা
আলো আমার/ আলো ওগো
আলো ভুবন/ ভরা
আলো নয়ন/ধোয়া আমার/ আলো হƒদয়/হরা
আলোর স্রোতে/ পাল তুলেছে/ হাজার প্রজাপতি

২১ thoughts on “কবিতার ছন্দ ( আনিসুল হক এর লেখা )

    1. আমি বুঝার ভয়ে পড়ার সাহস
      আমি বুঝার ভয়ে পড়ার সাহস করিনাই বসে বসে মুড়ি খাচ্ছি 😀 আপনি খাইলে বলেন হা এর ভিতর হান্দাই দিমু …… 😀

  1. কবিতা লিখতে এবং পড়তে ছন্দ
    কবিতা লিখতে এবং পড়তে ছন্দ জানাটা জরুরী। যদিও ছন্দ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞ্যান না নিয়েও দিব্যি কবিতা সম্পর্কে মতামত দিয়ে যাই। :ভেংচি:
    এই লেখাটা ছন্দ বুঝতে সাহায্য করবে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আমিও তাই!! সহমত… এই
      আমিও তাই!! সহমত… এই ব্যাপারে ভাল জ্ঞান রাখে রাহাত মুস্তাফিজ, আমজাদ ভাই আর অমিত লাবন্য… আমার ধারণা!! আমরা নিজের মত করে মাঝে মাঝে চেষ্টা করি আরকি!!
      ছন্দের তত্ত্বীয় দিক পড়লেই আসলেই মাথা ঘুরাই… :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :কল্কি: :হয়রান: :হয়রান: :হয়রান: :হয়রান: :হয়রান: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস: দিনশেষে কিছুই বুঝলাম না.. 🙁

      1. লিংকন,
        ধন্যবাদ এমন চমৎকার

        লিংকন,
        ধন্যবাদ এমন চমৎকার ধারণা রাখার জন্য !
        ইচ্ছে আছে এই জটিল বিষয়টা নিয়ে একটা সহজ লেখা লেখার ।
        ‘ সহজ কথা যায়না বলা সহজে … ‘
        — নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ” কবিতার ক্লাস ” বইটা পড়া যেতে পারে ।

    2. হুম। ব্লগ এ অনেকেই কবিতা
      হুম। ব্লগ এ অনেকেই কবিতা লেখেন, আমি নিজেও একটু আধটু লেখি। তবে ছন্দ জ্ঞান ছিল না। এই লেখা টি দ্বারা ছন্দ জ্ঞান মোটামুটি এসেছে বিধায় ব্লগ এ শেয়ার করলাম।

    1. আমার প্রথমবার মাথা ঘুরেছিল
      আমার প্রথমবার মাথা ঘুরেছিল :p কয়েকবার পরে মোটামুটি ধারণা পেয়েছি। এখনও ভাল মতে বুঝতে পারিনি।

  2. ওটা অক্ষর হবে দাদা। লেখাটি
    ওটা অক্ষর হবে দাদা। লেখাটি যেখান থেকে পড়েছি ওখানেই এভাবে ছিল। আমি আর বদলাই নি কিছু। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *