‎গোপনে তোমারে সখা কত ভালোবাসি‬


মাটিতে শুয়ে শুয়ে আকাশের তারা গুনছে ধ্রুব। ঐযে তাঁর নামের সাথে মিল রেখে ধ্রুবতারা। কি সুন্দর ! কি সুন্দর !
কালপুরুষের দিকে এগোল। তাঁর কোমরবন্ধনীতে তিনটা তারা, এন্ড্রোমিডা, ভারগো। অতো চেনে না ধ্রুব। শুধু গুণে যেতে লাগল।




মাটিতে শুয়ে শুয়ে আকাশের তারা গুনছে ধ্রুব। ঐযে তাঁর নামের সাথে মিল রেখে ধ্রুবতারা। কি সুন্দর ! কি সুন্দর !
কালপুরুষের দিকে এগোল। তাঁর কোমরবন্ধনীতে তিনটা তারা, এন্ড্রোমিডা, ভারগো। অতো চেনে না ধ্রুব। শুধু গুণে যেতে লাগল।

একশটা তারা গোণা শেষ হচ্ছে, এ সময় ঘাড়ের কাছে মৃদু হাঁটার শব্দ। ঘাড় না ঘুরিয়েই শুনতে পেল। তাকালো না। কারণ কে এসেছে সে জানে।
-কি করছো?
-তারা গুণি।
-তাই? ক’টা গুণলে?
-এই সেঞ্চুরি করলাম…।
ধীরে ধীরে নারীকন্ঠ তার পাশে বসে পড়ে। পরণে শাড়ি। শাড়ির রঙ বেগুণী। ধ্রুবর খুব প্রিয় রঙ বেগুণী।
-তোমাকে বেগুণী শাড়িতে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে ফারিহা।
-তাই? তোমার জন্যেই পড়েছি। সাথে বেগুণী চুড়ি।

ঝনঝন করে কাঁচের চুড়ি বাজিয়ে ধ্রুবকে শোনালো ফারিহা। তারপর ধ্রুবর কপালে এঁকে দিল একটি চুমু। যে ঠোঁটে আগুনের রঙ, ঠোঁটটাও উত্তপ্ত আগুনের মতন। চোখ বুজে ধ্রুব অনুভব করল সেই চুম্বন-স্পর্শ।
ফিসফিস করে তাঁর কানে বলল ফারিহা, “ আমার সকল প্রেম তোমায় দিয়েছি ধ্রুব, হৃদয়ের জমানো সুখ তোমায় দিয়েছি। আমায় ছেড়ে যেও না”।
এরপর ধ্রুবর বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল সে।
-একটা গান শোনাবে।
-শোনাবো।
-গাও।
মৃদু কন্ঠে গাইতে লাগল ফারিহা,

“কতবারো ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া
তোমারো চরণে দিব হৃদয় খুলিয়া
কতবারো ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া।

চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি
গোপনে তোমারে,সখা,কত ভালোবাসি”।

আকাশের তারারাও যেন গাইতে লাগলো তাঁর সাথে সাথে। সেই মৃদু সংগীত শুনতে শুনতে চোখ বুজলো ধ্রুব।
যখন ঘুম থেকে উঠলো তখন আর ফারিহা নেই তাঁর পাশে। হঠাৎ বেজে উঠল তাঁর সেলফোন।
নাম্বারটা দেখল ধ্রুব। বাইরের। ইউ এস এ।
– হ্যালো।
– হ্যালো ধ্রুব, আমি ফারিহা।
– বল, কী খবর?
– এইতো ভালো। তোমাকে অনেক মিস করছি।
– আমিও অনেক মিস করছি।

একটু চুপ থেকে ফারিহা বলল,
– ধ্রুব, একটা কথা বলি?
– বল।
– আজকেও সেদিনের মতন স্বপ্ন দেখেছি।
– কী স্বপ্ন?
– আমি বেগুণী শাড়ি পরে, কাঁচের চুড়ি পরে তোমার পাশে। তোমাকে গান শুনাচ্ছি। দিনের বেলায় ঘুমের ভেতর স্বপ্ন।
– তাই? হতেও পারে তুমি আমাকে গান শুনিয়ে গিয়েছ। সাবকনসাস মাইন্ডে যে কোন কিছু ঘটতে পারে।
– যাহ। তুমি না আগের মতই আছো। আজব সব কথা বল। কিন্ত রোজ রোজ এই স্বপ্ন দেখার মানে কী?
– সবকিছুর মানে খোঁজার কি দরকার ফারিহা?
– আচ্ছা যাও। কাল কল দেব। কথা হবে। বাই।

চোখদুটো আবার বুজলো ধ্রুব। জানে আগামীকালও ফারিহা যথাসময়ে এসে পড়বে। তাকে স্পর্শ করে যাবে। কারণ সে নিজেই তাকে টেনে এনেছে। মানুষের মন খুব অদ্ভুত। শরীরকে আনতে না পারলেও মন দ্বিতীয় সত্তা তৈরি করতে পারে। ধ্রুবর টানে ফারিহা সেই দ্বিতীয় সত্তা তৈরি করেছে। যেখানে আসল সত্তা কখনো ধ্রুবকে “পছন্দ করি” এটুকু বলেনি, সেখানে আরেক সত্তা সবসময় “ভালোবাসি, ভালোবাসি” বলে যায়।
একটা নিঃশ্বাস ফেলে ধ্রুব। হালকা স্বরে এবার গুনগুণ করে নিজেই গান ধরে-“গোপনে তোমারে সখা কত ভালোবাসি…”।

১৬ thoughts on “‎গোপনে তোমারে সখা কত ভালোবাসি‬

  1. যদি অনুভূতি গুলো আসলেও এরকম
    যদি অনুভূতি গুলো আসলেও এরকম ভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারতো তাহলে কত ভালো হত । :p

  2. বালা লাগছে ম্যান মাগার একটা
    বালা লাগছে ম্যান মাগার একটা কুইশ্চেন আছিলো ………
    স্বপ্নের মাঝে কি চাঁদ মামারে দেখেন নাই খালি তারা মামীদের দেখছেন …………… :ভেংচি: ??

  3. চমৎকার টেলিপ্যাথি-প্রেম! ভালই
    চমৎকার টেলিপ্যাথি-প্রেম! ভালই লাগল… :রকঅন: :রকঅন:
    ছোট্ট একটা খটকা আছে বচন-ভাই! তাহলঃ
    “কোমরবন্ধনীতে তিনটা তারা, এন্ড্রোমিডা, ভারগো।”
    আমার জানা মতে তারা তিনটির নাম Alnilam, Alnitak & Mintaka বাংলায় অনিরুদ্ধ, ঊষা আর চিত্রলেখ (তথ্যসুত্রঃ আবদুল জব্বারের ‘তারা পরিচিতি’)

      1. (No subject)
        :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
        :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
        :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি:
        :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য:

        1. আরে তিনটা আলাদা আলাদা লেখসি।
          আরে তিনটা আলাদা আলাদা লেখসি। লেখার ভঙ্গিমাতে মনে হইসে ওই তিনটা তারার নাম লেখসি। আর লেইখাই তো দিসি, অটো চেনে না ধ্রুব -_-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *