একজন “নেমেসিস” এর কাছে উড়ো চিঠি

হুম, এই সম্প্রসারণশীল ইনফাইনাইট বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমি-ই একমাত্র যে তোমাকে “নেমেসিস” নামে ডাকার অধিকার রাখে। না, আর কেউ না!! আমি একই সাথে ভীত ও আশ্চর্য হই যখন দেখি অন্য কেউ আমার এই অধিকারে অনধিকার চর্চা করে! অন্য কেউ ডাকবে কেন??? কেউ কি আমার মত ১০৩ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে এই ইট-কাঠের প্রাচীরে ঘেরা অপরিচিত যান্ত্রিক শহরে কাঁচপোকাদের ভিড়ে তোমাকে খুঁজতে গিয়েছিলো?? তোমার কি মনে আছে, ১৩৬৬X৭৬৮ রেজ্যুলেশনের মনিটরের স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে আমরা পার করেছিলাম অসাধারণ কিছু মুহূর্ত!! তুমি পাশে ছিলে বলেই সেদিন বৃষ্টিতে ভিজে কাশিটাকে আরো গুরূতর করা স্পর্ধা দেখিয়েছিলাম!! শুধু তুমি আসবে বলেছিলে তাই আমি নীলক্ষেত মোড়ে ঘন্টার পর ঘন্টার দাঁড়িয়েছিলাম- বিশ্বাস করো, একটুও রাগিনি সেদিন। শুধু জন্মেছিলো একটু অধিকারবোধ! এই অধিকারবোধের কারণেই হয়তো তোমাকে বলার সাহস হয়েছিল অনেক গুরুগম্ভীর কথা যা শুনে তুমি হয়তো কষ্ট পেয়েছিলে! কালক্রমে সেই অধিকারবোধ একসময় অপ্রকাশিত ভালোবাসায় রুপ নিলো। কয়েক আলোকবর্ষ দূরে থাকা মিলিয়ন-বিলিয়ন বছর ধরে প্রজ্বলিত নক্ষত্র হয়তো আমাদের এই মৌন ভালোবাসা দেখে মুচকি হেসে বলছে, “তোদের দ্বারা হবে না রে বাছা!!”

নেমেসিস,সবার কাছে তুমি হয়তো অনন্তকাল ধরে ক্রোধের আগুনে পুড়তে থাকা গ্রীক হিংসার দেবী ,কিন্তু আমার কাছে তুমি এখনো সেই বৃষ্টিভেজা চশমার লেন্সের গা বেয়ে পড়া শেষ নরম জলবিন্দু। তাইতো গোটানো শার্টের হাতায় ও বুকপকেটে রাখা চিঠিতে তোমার জন্য ভালোবাসা রেখে গেলাম… ধোয়ার সময় মনে করে নিয়ে নিও।

নেমেসিস, তোমার মুখটা এখন কিছুতেই মনে পড়ছেনা। অজস্রবার তোমাকে খাতায় ও ইলাস্ট্রেটরে আঁকতে গিয়েও পারিনি। ফাঁকতালে পরে নষ্ট হলো সময়, কিছু কাগজ আর সঞ্চারণশীল ইলেক্ট্রনের অবিরাম প্রবাহ! ভালো লাগে না সীমাবদ্ধ চাতুর্ভৌজিক দেয়ালের এই ধরাবাঁধা জীবন! মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে দূরবর্তী কোন বালুচরে গিয়ে বালুর সাগরে গা এলিয়ে আকাশের তারা গুণতে। তারপর হঠাৎ তুমি আমার হাত ধরে বলবে “শেষ তারাটি না গোনা পর্যন্ত আমি এই হাত ছাড়বো না”। আমিও নাছোড়বান্দা।তোমার হাতটি শক্ত করে ধরে তারা গুণতে গুণতে বলবো,”এত সহজে আমিও ছাড়ছি না” আমাদের এসব পাগলামি দেখে হয়তো চন্দ্রশেখর লিমিট অতিক্রমকারী কোন মৃত প্রায় নক্ষত্র সুপারনোভা হয়ে জ্বলে ওঠার প্রস্তুতি নেবে তার অন্তিম লক্ষ্য ব্ল্যাকহোলে রুপান্তরিত হতে।

কে জানে হয়তো নিকটবর্তী কোন ভবিষ্যতে আমাদের দেখা হয়ে যাবে ব্ল্যাকহোলের সেই ঘটনা দিগন্তে!!!!অপেক্ষায় রইলাম!!

১৪ thoughts on “একজন “নেমেসিস” এর কাছে উড়ো চিঠি

  1. নেমেসিস,সবার কাছে তুমি হয়তো
    নেমেসিস,সবার কাছে তুমি হয়তো অনন্তকাল ধরে ক্রোধের আগুনে পুড়তে থাকা গ্রীক হিংসার দেবী ,কিন্তু আমার কাছে তুমি এখনো সেই বৃষ্টিভেজা চশমার লেন্সের গা বেয়ে পড়া শেষ নরম জলবিন্দু। তাইতো গোটানো শার্টের হাতায় ও বুকপকেটে রাখা চিঠিতে তোমার জন্য ভালোবাসা রেখে গেলাম… ধোয়ার সময় মনে করে নিয়ে নিও।
    — আসলেই চমৎকার লিখনি!! ভাল লাগছে… তবে অনু থেকে একটু বড় করলেই ভাল হত!
    :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

  2. মহাজাগতিক প্রেম। ভাল্লাগছে।
    মহাজাগতিক প্রেম। ভাল্লাগছে। এই লাইনটা বেশী ভাল্লাগছে-

    হঠাৎ তুমি আমার হাত ধরে বলবে “শেষ তারাটি না গোনা পর্যন্ত আমি এই হাত ছাড়বো না”

  3. আমার কাছে অসাধারনের মাঝে
    আমার কাছে অসাধারনের মাঝে অন্যরকম লাগছে। মহাজাগতিক প্রেম। মারাত্মক লাগলো। কিপ ইট আপ!!!

    1. ধন্যবাদ ইলেকট্রন!! জীবন থেকে
      ধন্যবাদ ইলেকট্রন!! জীবন থেকে নেয়া গল্প তো!! সম্ভবত তাই এত ভালো লেগেছে!! :মুগ্ধৈছি:
      ফেসবুক|পার্সোনাল ব্লগ

      Beneath the mask there is an idea and ideas are bullet-proof.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *