একটি মেয়ে ,একটু স্বপ্ন ,অতঃপর স্বপ্নের দগ্ধ ছাই

আমি তাকে চিনতাম না। প্রথম প্রথম তাকে নিয়ে দেখতাম অনেক কথা হত। একদিন তার
নাম দেখতে পেলাম। একটা রেকুয়েস্ট পাঠালাম। আমি তখন জানতাম না আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটা ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছিলাম। সে প্রথমে একসেপ্ট করেনি। এভাবে অনেক দিন কেটে গেল। একদিন আবার মনে পড়লো। আমি রিকুয়েস্ট ক্যানসেল করে আবার পাঠালাম। এইবার গ্রহন করলো। আমার ফ্রেন্ড লিস্টের প্রথম
মেয়ে। তখন বুঝিনি যে আমি নিজ হাতেই
রচনা করতে যাচ্ছি আমার ইতিহাস।

আমি তাকে চিনতাম না। প্রথম প্রথম তাকে নিয়ে দেখতাম অনেক কথা হত। একদিন তার
নাম দেখতে পেলাম। একটা রেকুয়েস্ট পাঠালাম। আমি তখন জানতাম না আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটা ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছিলাম। সে প্রথমে একসেপ্ট করেনি। এভাবে অনেক দিন কেটে গেল। একদিন আবার মনে পড়লো। আমি রিকুয়েস্ট ক্যানসেল করে আবার পাঠালাম। এইবার গ্রহন করলো। আমার ফ্রেন্ড লিস্টের প্রথম
মেয়ে। তখন বুঝিনি যে আমি নিজ হাতেই
রচনা করতে যাচ্ছি আমার ইতিহাস।
প্রথম প্রথম কথা হতো না। একদিন ওকে নক করলাম। কোনো মেয়ের প্রতি আমার প্রথম ম্যাসেজ। সে উত্তর দিলো। কখন যে আস্তে আস্তে ‘তুই’ হয়ে গেলাম বুঝিনি। দিন কাটতে লাগলো। সেই সাথে নির্বাক রাত। তাকে আমি আগে কখনো সামনা সামনি দেখিনি। আমার দেখতে ইচ্ছা করেনি। কারণ আমি সেভাবে কখনো মেয়েদের দিকে তাকাইনি। এর মধ্যে জৈনিক স্যারের কোচিং এ গেলাম। সেখানে আমার এক বন্ধু তাকে দেখিয়ে দিলো। আমি তার দিকে তাকালাম। শুরু হল আমার সর্বনাশের ইতিহাস।

আমি কখনো তার প্রিয় হতে পারিনি। খুব খারাপ লাগে আজকাল। যাকে আমি এতো মিস করি, আমার জন্য তার সময় নেই। তবুও সে ধ্রুব সত্য। আমি যখন তাকে নিয়ে কল্পনার ডানা মেলছিলাম, তখন বুঝলাম, আরেক জন আছে তার জীবনে। ভালোবাসা জিনিসটাকে আমি বুঝতাম না। মনে হতো ফালতু এক জিনিস। কিন্তু, মনের গভীরে আমি তার জন্য পুষে রেখেছিলাম প্রচণ্ড আকর্ষণ। এটাই হয়তো সেই ভালোবাসা;ডানা বিহীন সবাক পাখি, যার ইশারা নির্বাক…

মানুষ ভুলে যায়। ভুলে যাওয়ার জন্যই তার জন্ম। কিন্তু আমি তাকে ভুলতে পারিনা। আমি অমানুষ। আমি অনুভব করতাম তার কথা গুলো। সেগুলো দিনের পর দিন মলিন হচ্ছিলো। যেভাবে একটি ফুল ধীরে ধীরে মলিন হয়। আজ আমি সুন্দর কে খুব ঘৃণা করি। নিজের অস্তিত্বকে আমি অনেক আগেই
তার কাছে বিসর্জন দিয়েছি। মাঝে মাঝে তাকে স্বপ্ন দেখতাম। সে কাগজের বিমানে চড়ে চলে যাচ্ছে শত আলোক বর্ষ দূরে। আলোর বেগ এতো বেশি কেন? আর অথবা আমি কেন আলো হলাম না?

আমি কখনো তাকে বলতে পারিনি। জানি বলে লাভ নেই। সে কখনো বুঝবে না। আমার
মনে হয় সে জানে। কিন্তু না জানার ভান করে। যে ঘুমিয়ে থাকে তাকে জাগানো যায়। কিন্তু যে ঘুমের ভান ধরে, তাকে জাগানো যায় না। বিষে বিষক্ষয়। আমি চাই আমার বোবা কষ্ট গুলো পুড়ে যাক সিগারেটের নিকোটিনে,
কল্পনা গুলো মিলিয়ে যাক সিগারেটের
ধোয়াতে। সে খুব ভালো থাকবে আমায় ছাড়া, আর আমি পরাজিত হবো আমার কাছে। প্রথমে ভাবতাম এইটা বয়সের ভুল। কিন্তু না। বয়সের ভুল হয় নিষিদ্ধ বিষয়ে। কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা নিষিদ্ধ না,ভালোবাসা স্বর্গীয়।

প্রিয় জিনিস গুলো হারিয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। এখন আর ঘরে সময় কাটে না। আমার সন্তুষ্টি অল্পতে। আমি তার জন্য সৌধ নির্মাণ করতে পারব না, হৃদয়ের মাঝে আমি আমার অকাল মৃত্যু ধারণ করি। আমি ক্লান্ত। ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছা করা। বাসায় আম্মু
প্রায় ই জিজ্ঞেস করে,’তোর কি হয়েছে?’
আমি নিজেও জানিনা। কিন্তু উত্তর টা সম্ভবত
ভয়াবহ। আমার প্রিয় এক বন্ধু আমায় বুঝিয়েছিল। অনেক কথা। আমি বুঝতে চাইনা। আমি ধংসের কিনারায়। আমি জানি সে আসবেনা। তাও অপেক্ষা করতে ভাল লাগে। বাস্তবই সত্য কারন সত্য নির্মম।

আমার কোনো পৃথিবী নেই। চারিদিকে বালুচর। আর সেখানে মৃত্যুর দূত আমার অপেক্ষায়। খুব ইচ্ছা করে দেখতে যে আমার হাতের শিরা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে রক্তের ধারা;নীল রক্ত। নিজেকে শেষ করার কত উপায় আছে আশেপাশে। ছুরি, ব্লেড, দড়ি, ৬ তলার ছাদ, সার্জিক্যাল ক্লোরোফর্ম, বিদ্যুৎ। তবে সবচেয়ে মারাত্মক হল তোমার চোখ। সেখানেই আমার মৃত্যু লিখা। তোমার হাসি, সেখানেই আমার পঙ্গুত্ব লিখা, তোমার চুল, সেখানেই আমার ধ্বংস লিখা।

আমি পরাজিত। আমি তোমার জীবনে হঠাৎ ধূমকেতু। আমি নরক পাপী। কেমন হবে আমার নরক? কি হবে আমার সর্বোচ্চ শাস্তি?
আমি দেখছি তুমি আমার নয়, তুমি অন্যের জন্য স্বপ্ন দেখো। এটাই আমার সবচেয়ে বড় শাস্তি। কি করবো আমি এই সার্টিফিকেট দিয়ে?
আমি লক্ষহীন। আজ আর পাখি গান গায় না। আমার আর কিছু ভালো লাগে না। বেঁচে থাকা ভালো, মৃত্যুআরো ভালো, তবে সবচেয়ে ভালো হল না জন্মানো। আমি ভুল করেছি। প্রথম ভুল করেছি,তোমার সাথে কথা বলে। দ্বিতীয় ভুলকরেছি তোমার চোখে চোখ রেখে।জানি তুমি আমার বাস্তব মরীচিকা। তাও তৃতীয় ভুলটি করে ফেললাম- তোমায় ভালোবেসে।সবাইকে তুমি চাদেঁর নরম আলোয় ভরিয়ে দাও, আরআমায় দিয়েছ সূর্যের আগুন। তুমি আমায় স্থান দিয়েছ
মহাশূন্যে। তোমার বিশালতায় আমি ঠাঁই পাইনি।তুমি আমার বিশ্বাস ভেঙ্গে আমায় করেছ ঘাতসহ ইস্পাত। তোমার প্রতি আজও আমার অভিমান নেই। আমি কৃতজ্ঞ। তুমি আমার প্রথম, তুমি ই শেষ। ঘুমিয়ে পড়ার আগে আরো কিছুদুর যেতে চাই। আমি সামরিক কবি, বেসামরিক প্রেমিক। এখন
বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হব , হবে??

অপেক্ষার প্রহর এতো গভীর, এতো গভীর,
এতো গভীর……….

১২ thoughts on “একটি মেয়ে ,একটু স্বপ্ন ,অতঃপর স্বপ্নের দগ্ধ ছাই

  1. চমৎকার লেগেছে…।
    চমৎকার লেগেছে…। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    মানুষ ভুলে যায়। ভুলে যাওয়ার জন্যই তার জন্ম। কিন্তু আমি তাকে ভুলতে পারিনা। আমি অমানুষ। আমি অনুভব করতাম তার কথা গুলো। সেগুলো দিনের পর দিন মলিন হচ্ছিলো। যেভাবে একটি ফুল ধীরে ধীরে মলিন হয়। আজ আমি সুন্দর কে খুব ঘৃণা করি। নিজের অস্তিত্বকে আমি অনেক আগেই
    তার কাছে বিসর্জন দিয়েছি

    এখানে নিজের সাথে মিল খুঁজে পেলাম।

    শেষের দিকে হুমায়ুন আজাদ , আখতারুজ্জামান আজাদ মিলালেন কেন!

  2. হুমায়ূন আজাদের সাথে হয়ত মিলতে
    হুমায়ূন আজাদের সাথে হয়ত মিলতে পারে কিছুটা কিন্তু আখতারুজ্জামান আজাদ!! আসলে অনেক লিখা পড়ছি তো। তাই হয়তো মিলে গেছে।

    1. সামরিক কবি, বেসামরিক

      সামরিক কবি, বেসামরিক প্রেমিক

      আমি কখনো তার প্রিয় হতে পারিনি।

      বৃষ্টি হব , হবে?

      এগুলো মিলে গেছে আজাদ ভাইয়ের সাথে।

      ঘুমিয়ে পড়ার আগে আরো কিছুদুর যেতে চাই।

      শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন আজাদের উক্তি…

  3. ও! এই কথা! হ্যাঁ,এগুলা আমার
    ও! এই কথা! হ্যাঁ,এগুলা আমার খুব প্রিয় লাইন এই সিচুয়েশনের সাথে মিলে গেছে। তাই ইউজ করলাম।

  4. চমৎকার… আসলেই হু আজাদের
    চমৎকার… আসলেই হু আজাদের স্টাইলে লিখা মনে হচ্ছে!!
    ভালই, লিখতে থাকুন :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

    1. হুমায়ূন আজাদ স্যারের অনেক বই
      হুমায়ূন আজাদ স্যারের অনেক বই পড়লাম। তাই মোটিভেশন আছে হয়তো। ধন্যবাদ তারিক ভাই।

    1. প্রথম ছ্যাঁকা , দ্বিতীয়
      প্রথম ছ্যাঁকা , দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে। তাই হয়তো কলম ঝলসে উঠে হঠাৎ করে। নিভে যেতে পারে যেকোনো সময়। কোনো কিছু নিভে যাওয়ার জন্যই জ্বলে উঠে। ধন্যবাদ শহীদ ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *