কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ


বগি ঙ এর ৫০১ নম্বর শোভন চেয়ার। আকরাম সেখানে বসে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে। হাতের পাশে তাঁর একটা ব্যাকপ্যাক। কালো রঙের। একটু পর ট্রেনটা ছেড়ে দেবে। কিছুটা সময় তাই নীরবে কাটিয়ে নিচ্ছে আকরাম।

ট্রেন ছাড়তে আর পাঁচ মিনিট বাকি। হঠাৎ হাঁপাতে হাঁপাতে তাঁর পাশে এসে বসল একটি মেয়ে। বয়েস দেখে মনে হয় নতুন নতুন কলেজ পাশ বা ইউনিভার্সিটিটে পড়ে। মজার ব্যাপার হল তাঁর পিঠেও একটা ব্যাকপ্যাক। কালো। সেটাকে পিঠে নিয়েই বসে পড়ল মেয়েটি।
” হাই, আমি শিশির”। হাত বাড়িয়ে দিল মেয়েটি।
” আমি আকরাম”। কোনমতে হাতে হাতটা রাখে আকরাম।


বগি ঙ এর ৫০১ নম্বর শোভন চেয়ার। আকরাম সেখানে বসে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে। হাতের পাশে তাঁর একটা ব্যাকপ্যাক। কালো রঙের। একটু পর ট্রেনটা ছেড়ে দেবে। কিছুটা সময় তাই নীরবে কাটিয়ে নিচ্ছে আকরাম।

ট্রেন ছাড়তে আর পাঁচ মিনিট বাকি। হঠাৎ হাঁপাতে হাঁপাতে তাঁর পাশে এসে বসল একটি মেয়ে। বয়েস দেখে মনে হয় নতুন নতুন কলেজ পাশ বা ইউনিভার্সিটিটে পড়ে। মজার ব্যাপার হল তাঁর পিঠেও একটা ব্যাকপ্যাক। কালো। সেটাকে পিঠে নিয়েই বসে পড়ল মেয়েটি।
” হাই, আমি শিশির”। হাত বাড়িয়ে দিল মেয়েটি।
” আমি আকরাম”। কোনমতে হাতে হাতটা রাখে আকরাম।
” উফ, রাস্তায় যা জ্যাম” বলতে বলতে ব্যাগটা আকরামের ব্যাগের পাশেই নামিয়ে রাখে মেয়েটি।
” ঠিক বলেছেন”, একটু হাসে আকরাম।

ঠিক এই মুহূর্তেই কু ঝিক ঝিক করে ছেড়ে দিল ট্রেনটা।

ঢাকা থেকে ব্রাহ্মনবাড়ীয়া পর্যন্ত যেতে যেতে হাসিখুশি মেয়েটার আদ্যোপান্ত জানা হয়ে গেল আকরামের। নিজে সে মুখচোরা লাজুক মানুষ বলে মনে হল মেয়েটার, তাঁর ভেতরটাকে তাই খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করে আনছে মেয়েটা।

আকরাম জানতে পারে মেয়েটার বাড়ী সিলেট। ঢাকায় পড়াশুনা করে ইডেনে। আজই বাড়ী যাচ্ছে।
হবিগঞ্জের দিকে আসতে আসতে শিশিরের মোবাইল ফোন হঠাৎ বেজে উঠল। ব্যাগের ভেতর খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করল সে। মোবাইল এতো নিচে যে পাওয়াই যাচ্ছে না। এতো হন্যে হয়ে গেল যে আকরামের ব্যাগেও ধাক্কা খেতে লাগল। যাই হোক, শেষে অনেক কষ্টে খুঁজে পেল ফোনটা। মিনিট দশেক পর। ফোনে জানালো যে তাঁর পৌঁছুতেও আর মিনিট দশেক বাকি।

ফোনটা রাখতে নিচু হতেই খপ করে তাঁর হাতদুটো চেপে ধরল আকরাম। ব্যথা পেয়ে আহত দৃষ্টিতে তাঁর চোখে চোখ রাখলো শিশির। তাঁর কানে ফিসফিস করে বললো, “নড়বেন না, আমি পুলিশের লোক”।
শোনার সাথে সাথেই বিস্ফারিত হয়ে গেল শিশিরের টলটলে সুন্দর চোখের মণিগুলো। ঠোঁট নাড়লেও কিছু বলতে পারছে না।
“আপনি আপনার ব্যাগ খোঁজার ছলে আমার ব্যাগ কেটে সব জিনিস হাতিয়েছেন। জানি। সামনের দু’বগি ভর্তি পুলিশ আপনাদের চক্রকে ধরবার জন্যে বসে আছে। আমার মোবাইলে ম্যাসেজ এসেছে আপনাদের বারোজন আজ ধরা পড়েছে”।

শিশিরের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল মুক্তোর মতন অশ্রু। আশেপাশে কিছু মানুষ ফরমাল ড্রেসে জড়ো হচ্ছে। দেখে বুঝলো এরা পুলিশ।

হঠাৎ এক ঝটকায় তাকে নিজের বুকের ওপর টেনে আনলো আকরাম।
ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, “আসল নাম কী তোমার? কোথায় পড়ো?”
হতবিহবল শিশির বলে উঠল, “নায়লা, চিটাগং ইউনিভার্সিটি”।

পুলিশরা ইতঃস্তত করছে। তাদের দিকে তাকিয়ে হাসল আকরাম,
” বয়েজ, সারপ্রাইজ, বলিনি কে যাচ্ছে এই ট্রেনে, এই তোমাদের ভাবী”।

১২ thoughts on “কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ

  1. এইভাবে ঝোপ বুঝে কোপ মারলেন
    এইভাবে ঝোপ বুঝে কোপ মারলেন ??? কাজটা কি আপনার নামের সাথে মিল রেখেই করলেন নাকি ???

  2. শেসে চমক রাখতে গিয়ে একটু বেশি
    শেসে চমক রাখতে গিয়ে একটু বেশি করে ফেলছেন!
    :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:

  3. আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে
    আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে …………পড়ার সময় আমার চোখে ভেসে উঠল পুরা ব্যাপারটা আসলেই রোমাঞ্চকর……… :নৃত্য:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *