সম্ভ্রম

চোখ খুলে তাকাতে পারছে না মরিয়ম। আসহ্য যন্ত্রনায় মাথা ঝিম ঝিম করছে। জ্বর এসেছে খুব। প্রচণ্ড শীত লাগছে। গায়ে একটা কাথা দিতে পারলে হতো। আগে জ্বর আসলে মা আর বোন সব সময় পাশে বসে থাকতো। বালতিতে করে পানি এনে মাথায় পানি দিয়ে দিত। সেবা শুশ্রূষার অভাব ছিল না। বাবা বারবার এসে দেখে যেতেন আর বলতেন আমার কিছু লাগবে কিনা, কিছু খেতে ইচ্ছে করছে কিনা। এখন পাশে কেউ নেই। কোথায় আছে বাবা মা বোন, জানা নাই। আদৌ বেঁচে আছে কিনা সেটাই তো জানে না। চোখের কোন দিয়ে এক ফোটা পানি গরিয়ে গেল মরিয়মের।


চোখ খুলে তাকাতে পারছে না মরিয়ম। আসহ্য যন্ত্রনায় মাথা ঝিম ঝিম করছে। জ্বর এসেছে খুব। প্রচণ্ড শীত লাগছে। গায়ে একটা কাথা দিতে পারলে হতো। আগে জ্বর আসলে মা আর বোন সব সময় পাশে বসে থাকতো। বালতিতে করে পানি এনে মাথায় পানি দিয়ে দিত। সেবা শুশ্রূষার অভাব ছিল না। বাবা বারবার এসে দেখে যেতেন আর বলতেন আমার কিছু লাগবে কিনা, কিছু খেতে ইচ্ছে করছে কিনা। এখন পাশে কেউ নেই। কোথায় আছে বাবা মা বোন, জানা নাই। আদৌ বেঁচে আছে কিনা সেটাই তো জানে না। চোখের কোন দিয়ে এক ফোটা পানি গরিয়ে গেল মরিয়মের।

সাহায্যের আশায় পাশে তাকাল। যদি কেউ একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। কে করবে সাহায্য। কে দেবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে। সবার অবস্থা যে তার চাইতেও করুন। কেউ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে রয়েছে, কেউ যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে, কারো মুখে শুধুই মৃত্যু না হওয়ার আক্ষেপ। চাপা কান্নার স্বর ভেসে আসছে। জ্ঞান সেও হারিয়েছিল। কিছুক্ষন আগে জ্ঞান ফিরেছে তার। প্রচণ্ড পানির তৃষ্ণা পেয়েছে। আসে পাশে পানির ছিটে ফোটাও নেই।

পাঞ্জাবি পড়া এক লোক ঘরের মদ্ধে ঢুকল। সাথে সাথে সম্পূর্ণ ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল, চাপা কান্নার শব্দ হাওয়ায় মিলিয়ে গেল, গোঙানির শব্দটা হঠাত করেই থেমে গেল। প্রতিটা মেয়ে দেয়ালের সাথে সেঁটে রইল। লম্বা, কালো মতন ষণ্ডা মার্কা লোকটা, সাদা সফেদ দাড়ি, চোখে সুরমা লাগানো, পান খাওয়া লাল ঠোঁট। ঘরে ঢুকে বিরক্ত মুখে কুঁচকানো কপালে পিচিক করে পানের পিক ফেলল। এক নজর বুলিয়ে দেখল ঘরের মদ্ধে পড়ে থাকা মেয়েগুলোকে। হয়তো একটু সুন্দর মেয়েটাকে খুঁজছে,অথবা একটু সুস্থ সবল কাওকে খুঁজছে যে তাদের রাত ভর আনন্দ দিতে পারবে, যে হবে তাদের পাশবিক আনন্দের নির্মমতার বলি। আস্তে আস্তে ছোট ছোট পায়ে ঘরের মদ্ধে ঘুরে ঘুরে দেখছে। মরিয়মের পাশে এসে দাড়িয়ে একটু যেন ভাল করে দেখল মরিয়মকে। তারপর চুলের মুঠি ধরে টেনে বাইরে নিয়ে এলো। মরিয়ম চিৎকার করে কাদতে লাগলো। তার অসুস্থতার দোহাই দিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলল। তার কথা যেন লোকটার কান পর্যন্তই যায় নি। বাইরে এসে দেখল ৮/৯ জন মিলিটারি দাড়িয়ে আছে। মরিয়মকে তাদের চোখ জ্বলজ্বল করতে লাগলো। মরিয়মের গায়ে থাকা এক মাত্র লুঙ্গি টাকে এক টানে ছিরে ফেলল এক মিলিটারি। তারপর চলতে থাকলো অত্যাচারের ঝড়। সেই মিলিটারির পর আরেকজন। তারপর আরেকজন। এরপর আর জ্ঞান রাখতে পারে নি মরিয়ম। জ্ঞান হারানো মেয়েটার দিকে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা আছে তাদের উন্মত্ততা নিয়ে। কামুক আগ্রহ নিয়ে একেকজন অপেক্ষা করতে লাগলো কখন তাদের সিরিয়াল আসবে।

এখন যদি একটু শান্তি নিতে না পারে তবে তো তারা এই পাকিস্তান মুলুকের জন্যে যুদ্ধ করার উৎসাহ পাবে না। তাদের উৎসাহ দরকার, মনের তেজ দরকার। এই দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করতে হলে, দেশে ইসলামের ঝাণ্ডা বজায় রাখতে হলে অবশ্যই দুই একটা মেয়ে মানুষকে এভাবে দেহ দিতে হবে। এই অবুঝ মেয়ে গুলা বুঝতে চায় না তাদেরকে ইসলাম রক্ষা করার জন্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। কবে যে এদের বোধোদয় হবে।

১৫ thoughts on “সম্ভ্রম

    1. গল্পটা যথার্থ… আর আতিক
      গল্পটা যথার্থ… আর আতিক ভাইয়ের লিঙ্কটা খাপের খাপ!!
      সৌরভের লিখার সৌরভ ফুটুক আরও… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
      চমৎকারভাবে রাজাকারের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। তবে ঐ সফেদ দাড়ির লোকটার হাতে একাটা মেসওয়াক হলে আরও দুর্দান্ত হত… 😉

  1. এই দৃশ্য গুলো ওই অমানুষদের
    এই দৃশ্য গুলো ওই অমানুষদের সামনে তুলে ধরতে ইচ্ছে করে যারা এখনো জামাতকে সমর্থন করে। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  2. অবুঝ মেয়ে গুলা বুঝতে চায় না
    অবুঝ মেয়ে গুলা বুঝতে চায় না তাদেরকে ইসলাম রক্ষা করার জন্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। কবে যে এদের বোধোদয় হবে।

    আসলেই তো। ভাই কান্তে ইচ্ছা করছে। আমাদের দেশ ধর্ষণ হয়েছে যাদের দ্বারা, আমরা আজ তাদের ফাঁসি দিতেও কার্পণ্য করি। হায় সেলুকাস! কি বিচিত্র এই দেশ, কী বিচিত্র এই জাতি !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *