‘ সূর্য দীঘল বাড়ী ’ – চলচ্চিত্র আলোচনা ও পর্যালোচনা


বাংলা ১৩৫০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে অবিভক্ত ভারতের বাংলায় ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে পঞ্চাশের আকাল নামে যে দুর্ভিক্ষ হযেছিল তাতে প্রাণ হারায় বহু লক্ষ দরিদ্র মানুষ। যারা কোনমতো শহরের লঙ্গরখানায় পাত পেতে বেঁচে থাকতে পেরেছিল তদেরই একজন আকালের সময় স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুন। সঙ্গে তার মৃত প্রথম স্বামীর ঘরের ছেলে ও দ্বিতীয় স্বামীর ঘরের মেয়ে। আরো আছে মৃত ভাইয়ের স্ত্রী-পুত্র। তারা গ্রামে ফিরে এসে এমন একখণ্ড জমিতে ঘর ওঠায় যা অপয়া ভিটা বলে পরিচিত ছিল। জীবনের যুদ্ধে যখন সে প্রাণপণে লড়ছে তখন তার প্রতি দৃষ্টি পড়ে গাঁয়ের মোড়লের। দ্বিতীয় স্বামীও তাকে আবার ঘরে তুলতে চায়। সে কারো প্রস্তাবেই সায় দেয় না। কিন্তু বিয়ে প্রত্যাশী এই দুজনের সাক্ষাৎ ঘটে এবং মোড়ল তার প্রতিযোগীকে হত্যা করে। ঘটনার একমাত্র দর্শক হিসেবে জয়গুনকেও মূল্য দিতে হয় অন্যভাবে । সূর্য দীঘল বাড়ীতে আগুণ ধরিয়ে দেয় মোড়লের লোকেরা ।

সূর্য দীঘল বাড়ী ও এ সংক্রান্ত প্রচলিত মিথ –
‘ পূর্ব ও পশ্চিম সূর্যের উদয়াস্তের দিক। পূর্ব-পশ্চিম প্রসারি বাড়ীর নাম তাই সূর্য দীঘল বাড়ী। সূর্য-দীঘল বাড়ী গ্রামে ক্বচিৎ দু-একটা দেখা যায়। কিন্তু তাতে কেউ বসবাস করে না। কারণ, গাঁয়ের লোকের বিশ্বাস সূর্য-দীঘল বাড়ীতে মানুষ টিকতে পারে না। যে বাস করে তার বংশ ধ্বংস হয়। বংশে বাতি দে’য়ার লোক থাকে না। গ্রামের সমস্ত বাড়ীই উত্তর-দক্ষিণ প্রসারী।’

লোকায়ত জীবনে সূর্যের মিথ সংস্কারে রূপ নিয়েছে। আদি মানুষের সূর্য পূজার ভক্তির পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক ভীতি গ্রামীণ মানুষকে ভিন্নতর চেতনায় (ঔপন্যাসিকের ভাষায় ‘গাঁয়ের লোকের বিশ্বাসে’) উদ্দীপিত করেছে।
সূর্য-দীঘল বাড়ীর একটি ইতিহাস লিখেছেন ঔপন্যাসিক গ্রামীণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে। অনেক বছর আগে গ্রামের হাতেম ও খাদেম নামে দুই ভাই ঝগড়া করে পৃথক বসতি শুরু করে। খাদেম ঠাঁই নেয় সূর্য-দীঘল বাড়ীটায়। বাড়িটি বহুদিন ধরে খালি পড়ে আছে। একসময় এখানে লোকবসতি ছিল। কিন্তু তারা বংশ রক্ষা করতে পেরেছিল কি না কেউ জানে না। তবু গ্রামবাসীর ধারণা, যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে কেউ থাকে না সেহেতু সূর্য-দীঘল বাড়িতে নিশ্চয়ই বংশ লোপ পেয়ে থাকে। অর্থাৎ সূর্যের সঙ্গে মানুষের কৃষিকাজে যে উৎপাদনের সম্পর্ক ছিল তার পরিবর্তে এই গ্রামের মানুষগুলো ভাবছে ভিন্ন কথা। সূর্যের কারণে বংশ ধ্বংসের কথা ভাবছে তারা।

বাড়িটি সম্পর্কে মিথিক বিশ্বাসের কারণ হচ্ছে খাদেম সেখানে বসবাসের এক বছরের মধ্যে তার ছেলে-মেয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। সে সময় গ্রামবাসীর মনে হয় বংশ নির্বংশ হওয়ার পালা শুরু হলো। ‘বুড়োরা উপদেশ দিলেন, বাড়ীটা ছেড়ে দেয়ার জন্য। বন্ধু-বান্ধবরা গালাগালি শুরু করলÑ আল্লার দুইন্যায় আর বাড়ী নাই তোর লাইগ্যা। সূর্য-দীঘল বাড়ীতে দ্যাখ্ কি দশা অয় এই বার।’ খাদেম ভীত হয়ে বাড়িটা ছেড়ে দেয়।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জয়গুনের প্রপিতামহ বাড়িটি সস্তায় কিনে নিয়েছিল। এরই মধ্যে অনেক বছর পেরিয়ে গেছে কোন লোক ভুলেও সে বাড়িতে আসেনি। আকালের সময় জয়গুনরা বাড়িটা বিক্রি করতে চেয়েছিল। কেউ কিনতে এগোয়নি।

বংশ নির্বংশ হওয়ার মতো আরও অনেক সংস্কার-বিশ্বাসের জন্ম হয় বাড়িটাকে ঘিরে। বহুদিনের পরিত্যক্ত বাড়িটির চারপাশে আমগাছ, বাঁশঝাড়, তেঁতুল, শিমুল ও গাবগাছকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জীবনে বিভিন্ন (ভূত-পেত্নীর আড্ডাস্থল হিসেবে) অলৌকিক ঘটনার সৃষ্টি হয়। অনেক দিন আগে সন্ধ্যার পর গ্রামের গদু প্রধান সোনাকান্দার হাট থেকে একজোড়া ইলিশ মাছ কিনে সূর্য-দীঘল বাড়ীর পাশ দিয়ে নিজগৃহে ফেরার পথে শুনতে পায়, ‘অই পরধাইন্যা, মাছ দিয়া যা। না দিলে ভাল অইব না।’ প্রথমে ভ্রƒক্ষেপ না করলেও পরে যখন পায়ের কাছে ঢিল পড়তে শুরু করে তখন ভয়ে মাছ দুটি ফেলে গৃহে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে সে। উপন্যাসের শেষে এই গদু প্রধান জয়গুনদের গৃহে ঢিল মারে ও তার সাবেক স্বামী করিম বক্শকে গলা টিপে হত্যাও করে। এজন্য উপন্যাসের শুরুতে এই ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ।

জ্যোৎস্ন্যালোকিত রাতে সূর্য-দীঘল বাড়ীর গাবগাছে চুল ছেড়ে দিয়ে একটি বউ দুই পা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাত-দুপুরের পর তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য ওজু করতে বের হয়ে বরকত কাজী এই দৃশ্য দেখতে পায়। সে সময় একটা ঝড়ো বাতাস উত্তর-পশ্চিম কোনাকুণি গ্রামের অপর বাসিন্দা করম আলী হাজীর বাড়ির ওপর দিয়ে চলে যায়। পরের দিনই তার পুত্রবধূ কলেরায় মারা যায়। দু’দিন পরে তার হালের তিনটে তরতাজা গরু কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে পড়ে খতম হয়। সূর্য মিথে তৈরি বাড়িকে ঘিরে গ্রামীণ জীবনে ভূতের গল্পের অন্ত নেই। দিনের বেলাও পারতপক্ষে এ-বাড়ির পাশ দিয়ে কেউ হাঁটে না।

তবে মিথিক জগতের বাড়িটির বড় আকর্ষণ একটি প্রাচীন তালগাছ। কালের সাক্ষী হয়ে শত ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তালগাছটি। গ্রামের গর্ব ও গল্পের বিষয়ও তালগাছটি। অপর গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে তালগাছটি এই অঞ্চলের কৌলীন্যের সাক্ষ্য।

মিথ ও সংস্কারে ঘেরা গৃহটিতে ছেলে হাসু ও মেয়ে মায়মুনকে নিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের জীবন সংগ্রাম শুরু হয়। বাড়িটির প্রতিবেশী হয় ভাই-পো শফী ও শফীর মা। সূর্য-দীঘল বাড়ী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য করে তোলে ।

কৃষিভিত্তিক সমাজের গ্রামীণ জীবনে সূর্য মিথ অঙ্গীভূত হয়েছে অনেক কিছুর সঙ্গে। উপন্যাসে আছে মাছ ধরার দৃশ্য, ধান কাটার আয়োজন ‘কয়েক দিন ধরে ধান কাটার ধুম পড়েছে।’ জমি থেকে কৃষাণের সমবেত গান ভেসে এসেছে। ধানের ছড়া শোনা যায়; রয়েছে কেচ্ছা, ছড়া, ওঝার ভূত তাড়ানোর প্রচেষ্টা, মাদুলি তাবিজে বিশ্বাস প্রভৃতি প্রসঙ্গ ও জাদু টোনায় বিশ্বাসী কৃষিভিত্তিক সমাজের চিত্র। একাধিকবার লেখকের প্রেক্ষণবিন্দু থেকে উচ্চারিত হয়েছে ‘সূর্য-দীঘল বাড়ীর তালগাছটা’

বৃষ্টির সময় ‘এক মুহূর্তের জন্যেও সূর্যের মুখ দেখা যায় না। ‘বিলের শেষ প্রান্তে গাছের ফাঁক দিয়ে সূর্য উঁকি দিচ্ছে।’ কিন্তু এই সূর্য কোন আলোর সন্ধান দেয়নি জয়গুনের জীবনে। নিম্নবর্গের জীবনে শাস্ত্রীয় ধর্মের আচার সর্বস্বতা নেই। তাই ছড়া শোনা যায়, তাতে থাকে ‘আসমান বিবিক্ষির ফল,/তল নাই দীঘির জল,/যা খাইলে হয় অসুরের বল।’ মুসলিম সমাজে পঞ্জিকা ব্যবহারের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। লতিফ মিঞার কাছ থেকে মায়মুনের বিয়ের শুভ দিন জেনে এসেছে শফীর মা। ‘লতিফ মিঞা তার পকেট পঞ্জিকা বের করে একটা পাতার ওপর নজর দিয়ে সে আপন মনেই বলে চন্দ্র রাজ-বধূ মন্ত্রী ! তারপর শুভ কার্যের নির্ঘণ্ট দেখে বলে দেয় অঘ্রাণ মাসের ৯ তারিখে একটা শুভদিন আছে। আর একটা আছে শেষাশেষি ২৭ তারিখ। এ ছাড়া অঘ্রাণ মাসে আর দিন নাই।’ ( সূত্র – সূর্য মিথের উপন্যাস, মিলটন বিশ্বাস )

এই কাহিনীর বিচিত্রতার মধ্যে মূল বিষয় অভাব – অনটন, জীবন – সংগ্রাম ও বিদ্রোহ, ধর্ম, কুসংস্কার, মোড়ল – মেম্বার – হুজুরদের ক্ষমতা ও সামাজিক প্রতিপত্তি, পিতৃতান্ত্রিকতা, কাম – লালসা, সামাজিক বিধি-নিষেধ, জাতীয়তাবোধ । সর্বোপরি গ্রামীণ সামন্তবাদী শ্রেণী কর্তৃক শ্রমজীবী ক্ষুধার্ত মানুষদেরকে ক্রমাগত শোষন।

আবু ইসহাকের কালজয়ী উপন্যাস ‘ সূর্য দীঘল বাড়ী ’ উপন্যাস অবলম্বনে এই ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে ।

টাইটেল দেখানোর পূর্বে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ‘ দুর্ভিক্ষ চিত্র ’ দেখে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়না যে ছবিটিতে অভাব অনটনের চূড়ান্ত দেখান হবে। আসলেই তাই, শহরে টিকতে না পেরে শেষ আশ্রয় হিসেবে জয়গুণকে গ্রামে ফিরে আসতে হয় । ফিরে আসলেই কি শান্তি ফেরে । বিধবা জয়গুণকে কাজের সন্ধানে নামতে হয় । গ্রামের সম্পদশালীদের ঢেঁকিতে কাজ করে কিম্বা ঘর লেপে তিনজনের সংসারের অন্নের কোন রকম ব্যবস্থা হয় । এদিকে কিশোর হাসু ও কাজে লেগে যায় । কুলিগিরি, মোট বওয়া ইত্যাদি ছোট খাট কাজ করে সেও সংসারের বিপন্নতা রোধে ভূমিকা নেয় । এই হাহাকারের চিত্র শুধুমাত্র জয়গুনের পরিবারেই কেবল বিরাজ করছে এমনটি নয় । গ্রামের গুটিকয় মানুষ বাদ দিলে প্রায় সবার হাড়িতেই শুন্যতা মিছিল করে যায় । রাতের সামান্য বাসী ঠাণ্ডা পান্তা ভাত যেভাবে অমৃতজ্ঞানে হাসু, মায়মুন ও জয়গুন খায়। এই প্রেক্ষাপটে ‘ আর দুজ্ঞা ভাত দিবা মা ’ বলে হাসুর করুণ কণ্ঠ যেন সভ্যতাকেই প্রকারন্তরে ব্যাঙ্গ করে ।

ছবির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ধর্মীয় মৌলবাদ । গ্রামের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী মায়মুনের হাঁসের প্রথম চারটা ডিম হাসু হুজুরকে দিতে যায় । কিন্তু হুজুর তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় । কারণ, জয়গুন পর্দা করেনা । ‘ এই আণ্ডা হারাম চীজ ’ – এই ফতোয়া দিয়ে ফেরত দেওয়া হয় ।

এই হুজুরকেই আবার দেখা যায় গ্রামের মোড়ল গদু প্রধান, মাতব্বর খলিল খাঁ ’র হয়ে কাজ করতে । নাবালিকা মায়মুনের বিয়ের দিন জয়গুনকে ফাঁদে ফেলা হয় । তাকে তওবা করতে হয় সে আর গ্রামের বাইরে কাজ করতে যাবেনা । তওবা না করলে মেয়ের বিয়ে হবেনা । এমন পরিস্থিতে জয়গুন বাধ্য হয় তওবা করতে ।
ওদিকে ফকিরের আগমন ঘটে অপয়া সূর্য দীঘল বাড়ীর জ্বীন – ভূত তাড়াতে । ভিটের চারপাশে দণ্ডায়মান সরল গাছগুলোতে জ্বীন বাসা বানিয়েছে বলে মত ব্যাক্ত করে । হাসু যখন বলে, ‘ জ্বীনের বাসা, তো আমাগো কিছু অয় নাই। এই কয়দিন তো আমরা গাছের তলাতেই আছিলাম ’। কপট ফকির তখন বলে, দ্যাখতে চাও নাকি তাইলে ’। ফকির নতুন বাড়ীর চার দিকে তাবিজ পুঁতে দিয়ে যায় ( পাহারা বসানো ) আগামী এক বছর যাতে জ্বীনের আছর না পড়ে ।

অন্যদিকে জয়গুনের দ্বিতীয় স্বামীর কাছে থাকা তার শিশু ছেলে কাসুর অসুখ হলে আরেক কবিরাজ হাজির হয় । জ্বীন তাড়ানো মন্ত্র আওড়ানো এবং অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহনে যখন হাসুর অবস্থা চরম সঙ্কটাপন্ন হয় তখন জয়গুনের সিদ্ধান্তমতে ডাক্তার ডেকে আনা হয় । জয়গুনের দিবারাত্র সেবা শুশ্রূষা ও ওষুধে সে যাত্রায় কাসু রেহাই পায় ।

আরেক দৃশ্যে ‘ পাকিস্তান বড়ি খাইলে কৃমি সারে ’ – ট্রেনে ক্যানভাসারের বড়ি বিক্রি নেহায়েত একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ৪৭ পূর্ব সময়ে স্বার্থপর, নষ্ট রাজনীতির কালে মুসলিম লীগ জিগীর তোলে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের । পাকিস্তান কায়েম হলেই মুসলমানের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে – এরকম একটা উন্মাদনা তখন সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের মনে ছড়িয়ে দিতে পেরেছিল এবং তা মানুষের অন্তরে বিরাজ করতো । এর বিপরীত চিন্তার মানুষ যে ছিলোনা তা নয় ।

ট্রেনের দুই যাত্রীর কথোপকথন –
– পাকিস্তান যখন হচ্ছেই তখন জিনিস পত্রের হিন্দুয়ানী নাম বদলানো দরকার ।
– মুসলমানেরা যখন বাদশা ছিল তখন হিন্দু –মুসলমান নিয়ে এতো কথা উঠত না। এখন কেন ওঠে ? এটা ইংরেজের চালাকি ।
– চালাকি কিনা জানিনা । তবে মুসলমানের নিজেদের দেশ পাকিস্তান চাই ।
– পাকিস্তান হলে কি সব সমস্যা চুকে যাবে …

সমস্যা যে চুকে যায় না, সেই সকরুন বাস্তবতা একটু পরেই ছবিতে দেখতে পাই । এখানে একটা দৃশ্যে চমৎকারভাবে সেই ইংগিত দিয়ে দেওয়া হয়েছে । সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার পর উৎফুল্ল জনতা ট্রাকে করে মিছিল বের করে । পাকিস্তানপ্রেমী জাতিওতাবাদীরা শ্লোগান তোলে, ‘ পাকিস্তান জিন্দাবাদ, কায়েদে আযম জিন্দাবাদ, নারায়ে তকবীর ’ । পথচারীরা আগ্রহ নিয়ে দেখতে থাকে । এমন সময় ট্রাকটি পানি কাদাময় একটা রাস্তা দিয়ে দ্রুত বেগে যাওয়ার সময় দণ্ডায়মান এক পথচারীর জামাকাপড় জল কাদায় একেবারে মাখা মাখি করে দিয়ে যায় । অসহায়, ক্ষুব্ধ লোকটির অভিব্যাক্তি বলে দেয় আসন্ন সাধের পাকিস্তানী দিনগুলো কেমন হতে যাচ্ছে ।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট দেশ (পাকিস্তান) স্বাধীন হলেও চাল সস্তা হয় না, বরং নানা জায়গায় হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গায় বিধ্বস্ত হয় মানব সভ্যতা। পঞ্চাশের মন্বন্তরের রেশ লেগে থাকে নিম্নবর্গের জীবনে। মৌসুমের সময় চালের মূল্য বেশি হয়। রেলের ভাড়া বৃদ্ধি হয়ে যায়। কিন্তু এলিট দের তাতে সমস্যা হয়না । তাদের শ্রেণী সখ্যতায় এততুকু চিড় ধরে না ।

এই ছবির সব থেকে উল্লেখযোগ্য দিক আমার কাছে মনে হয়েছে জয়গুনের বেঁচে থাকার লড়াই । মাথা না নুয়ানো । হ্যাঁ, পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাকে তওবা পড়ে গ্রামবন্দী থাকতে হয়েছে কিছুকাল । কিন্তু সেই তওবা’কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুনরায় গৃহ ও গ্রামের বাইরে তাকে কাজ করতে যেতে দেখি আমরা ।
ক্ষমতাশালীরা এটা মেনে নেবে কেন ? তার এই ‘ অসামাজিক ’ কাজের শাস্তি বিধানে কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেই চিন্তায় ব্যাপক মাথা ঘামাতে দেখা যায় গ্রাম প্রধানদের । এজন্য হুজুরের পরামর্শ তারা জানতে চায় । হুজুরের চরিত্র ও আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি । আসলে ধর্ম ও ক্ষমতা একি সাথে হাত ধরাধরি করে চলে ।

গদু প্রধানের বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় এবং হত্যাদৃশ্য দেখে ফেলায় জয়গুনের ছোট্ট সংসারে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্যোগ । একরাতে আগুণ ধরিয়ে দেওয়া হয় ঘরে । দাউ দাউ আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যায় বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয় । যেন সূর্য দীঘল বাড়ী সংক্রান্ত মিথ কে আরও একবার প্রতিষ্ঠা দেওয়া হয় । সূর্য দীঘল বাড়ীতে মানুষ থাকতে পারেনা । নাকি থাকতে দেওয়া হয়না ?

শ্রেষ্ঠাংশে
• ডলি আনোয়ার –
• জহিরুল হক –
• রওশন জামিল –
• আরিফুল হক –
• কেরামত মাওলা –
• এ টি এম শামসুজ্জামান –
• হাসান ইমাম –
• ফখরুল হাসান বৈরাগী –
• নাজমুল হুদা বাচ্চু –
• লেনিন –
• ইলোরা গহর –
সম্মাননা
আন্তর্জাতিক সম্মাননা
সূর্য দীঘল বাড়ী ছবিটি (১৯৮০) সালের ম্যানহেইম চলচ্চিত্র উৎসব, জার্মানিতে অংশগ্রহণ করে এবং তিনটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে।
• বিজয়ী ফিল্ম ডুকাট্ পুরস্কার
• বিজয়ী ক্যাথটিক জুরি পুরস্কার
• বিজয়ী এভান্গেলিক্যাল জুরি পুরস্কার
সূর্য দীঘল বাড়ী ছবিটি ফিগুএরা দা ফোজ চলচ্চিত্র উত্সব (১৯৮০), পর্তুগাল এ একটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে।
• বিজয়ী ডন কিজোট পুরস্কার
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
সূর্য দীঘল বাড়ী ছবিটি শ্রেষ্ঠ পরিচালক সহ মোট ছয়টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
• বিজয়ী শ্রেষ্ঠ পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী ।
বাংলাদেশ সিনে-জার্নাল এসোসিয়েসন পুরস্কার
সূর্য দীঘল বাড়ী ছবিটি বাংলাদেশ সিনে-জার্নাল এসোসিয়েসন এর মোট ছয়টি বিভাগে পুরস্কার লাভ করে ১৯৭৯ সালে।
সংগীত
সূর্য দীঘল বাড়ী ছবিটির সংগীত পরিচলনা করেছেন আলাউদ্দিন আলী।

৪৪ thoughts on “‘ সূর্য দীঘল বাড়ী ’ – চলচ্চিত্র আলোচনা ও পর্যালোচনা

  1. সূর্য্যদীঘল নামের বাড়ী আসলেই
    সূর্য্যদীঘল নামের বাড়ী আসলেই ভুতড়ে কিংবা কোন না কোন মারাত্মক ঘটনা সম্পর্কিত!
    আমাদের সিলেটের টিলাগড়ের সূর্য্যদীঘল বাড়িটি থেকে ধরা হয়েছিল শায়খ আব্দুর রহমানকে।হায়রে দিনে দুপুরেও সেদিন সেখানকার মানুষ আর পুলিশের ভয়!যেন আব্দুর রহমান কোন মহাভুত! সরাসরি না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

  2. ছবি দেখা ভাল লাগে না ।তবে আবু
    ছবি দেখা ভাল লাগে না ।তবে আবু ইসহাকের কালজয়ী উপন্যাস ‘ সূর্য দীঘল বাড়ী ’ উপন্যাসটা বোধ করি পড়ে দেখতে হবে।

  3. চমৎকার একটি উপন্যাস,
    চমৎকার একটি উপন্যাস, সিনেমাটাও চমৎকার। আমার অবাক লাগে এতো আগে এতো সুন্দর সিনেমা আমাদের দেশে তৈরি হতো, অথচ আজ কি দশা? সবাই যেখানে এগিয়ে যায়, আমরা পিছাই।
    চমৎকার রিভিউয়ের জন্য রাহাত ভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। অসাধারণ লিখেছেন। এরকম রিভিউ সচারচর চোখে পরেনা। :bow: :bow: :bow:

  4. আবু ইসহাকের কালজয়ী উপন্যাস ‘
    আবু ইসহাকের কালজয়ী উপন্যাস ‘ সূর্য দীঘল বাড়ী ’ উপন্যাসটি পড়া আছে কিন্তু দেশের এমন একটা মাস্টারপিস দেখা হয় নাই… :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: রাহাত ভাই আমাকে অপরাধী করে দিলেন!!

    আপনার রিভিউ মুভি তো দেখি নাই তবে একটা সার্থক উপন্যাসের রিভিউ-এর মতই হয়েছে!! :bow: :bow: :bow: :bow:
    রাহাত ভাই একটা আবদার করব; আপনি ‘সত্যজিৎ রায়ে’র উপর একটা রিভিউ লিখেন…

    1. দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর

      দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হইতে শুধু দু’পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শীষের উপরে একটি শিশির বিন্দু

      —– আপনি দেখেন নি যেনে আমি সত্যি ভীষণ অবাক হয়েছি !!! দেখে ফেলেন আর আপনিও এই ফিল্মের উপর একটা লেখা লেখেন । সমালোচনা লেখেন । আমি প্রথমে সমালোচনা লিখবো ভেবেছিলাম । পরে মত পালটালাম।
      — আর বাংলার রেনয়া সত্যজিৎ সম্পর্কে লিখতে বলছেন । বাপরে, ওনার সম্পর্কে এতোজন এতো লিখেছে যে ওনাকে নিয়ে নতুন কিছু লেখার কি আছে এইটা নিয়ে একটা গবেষণা করা যায় । তবে হা, ওনার ফিল্ম নিয়ে একটা দ্বান্দ্বিক পর্যালোচনা লেখার ইচ্ছে রইলো । :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা:

      1. দিলেনতো রেনয়ার ভুত চাপাইয়া…
        দিলেনতো রেনয়ার ভুত চাপাইয়া… :ক্লান্তকাছিম: :ক্লান্তকাছিম: :ক্লান্তকাছিম:
        আপনার দ্বান্দ্বিক পর্যালোচনার :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  5. হাই স্কুলে যখন বাংলা পাঠ্য
    হাই স্কুলে যখন বাংলা পাঠ্য বইয়ে আবু ইসহাকের নাম পড়তাম আর পড়তাম তার রচিত উপন্যাসের নাম “সূর্যদীঘল বাড়ী” তখন মনে করতাম সূর্যদীঘল বাড়ি মনে সূর্যঘড়ি টাইপ কিছু একটা।। জমিদারদের বসতবাড়ির মত।। আপনার রিভিউ পড়ে জানতে পারলাম সূর্যদীঘল বাড়ি আসলে কি।। অনেক অনেক ধন্যবাদ।।

    আর আপনার রিভিউ অনেক ভালো লেগেছে।। এরকম রিভিউ আসলেই চোখে পড়েনা।। তবে স্ক্রীন-শট থাকলে আরো ভালো লাগত।।

    1. আপনাকে ধন্যবাদ !!!
      লেখাটা

      আপনাকে ধন্যবাদ !!! :গোলাপ:
      লেখাটা আরও ডেকোরেটেড করা যেত । স্ক্রীন শট এর ব্যাপারটা বুঝলাম না । আমি আবার প্রযুক্তি জ্ঞান লাভে বেশ অলস । রিভিউ’ টা আমার কাছে মোটামুটি মনে হয়েছে । আমি আসলে সন্তুষ্ট না । আরও অনেক ভাল লেখা যেত ।

  6. এই উপন্যাসটা আমার পড়া অন্যতম
    এই উপন্যাসটা আমার পড়া অন্যতম সেরা এক মাস্টারপিস :ভালুবাশি: :ভালুবাশি: … আর মুভিটা :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন: ঠিক যেরকম হবার দরকার ছিল,ঠিক তারচেয়েও বেশিরকমের চমৎকার ছিল। অনেক পিচ্চিকালে দেখছিলাম মুভিটা, প্রথমে তেমন বুঝি নাই। পরে উপন্যাসটা পড়ে যখন কাহিনী ক্লিয়ার হইল তখন মুভিটা আবার দেখছি, ইনফ্যাক্ট বারবার দেখছি। একটুও বোর লাগে নাই। এইরাম একখান মুভি নিয়া লেখার কারনে আগে আমার পক্ষ থেকে ইস্পিসাল :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: লন রাহাত ভাই… 😀

    আর রিভিউখানের কথা কি বলব… :গোলাপ: :গোলাপ: এই ধরনের রিভিউ শুধু লেখকের কাছ থেকে এক্সপ্যাক্টেশনই বাড়িয়ে দেয় না, তার কাছে আবদারেরও সুযোগ তৈরি করে। তাই লিংকন ভাইয়ের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই… “”জাতি অবিলম্বে আপনার কাছ থেকে সত্যজিৎ রায়ের উপর একটা লেখা প্রত্যাশা করতেছে”” :চিন্তায়আছি: :চোখমারা: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: … দয়া করে জাতিকে নিরাশ করবেন না… :জলদিকর: :জলদিকর:

      1. হ্যাঁ, পাওয়া যায় । তবে কেনার
        হ্যাঁ, পাওয়া যায় । তবে কেনার সময় ওখানে চালিয়ে দেখে তবে কিনতে বলবো । কারণ আমি ঠকেছি, অথবা আমার ল্যাপটপ সাপোর্ট করছে না । লেজার ভিসন এর সিডি( ১০০ টাকা) ও ডিভি ডি (১১০ টাকা ) দুটোই আছে ।

    1. রহমান রাআদ,
      সত্যি কথা কই

      রহমান রাআদ,
      সত্যি কথা কই আপনেরে – লিংকন ও আপনারে নিয়া আতংকে ছিলাম !!! এই দুই মুভিখোর লেখা পড়ে যে কী ফিডব্যাক দেয় সেই ব্যাপারে টেনশন এ ছিলাম ! আপনাদের ভাল লেগেছে জেনে কিছুটা আশ্বস্ত হলাম এবং সেই সাথে আত্মবিশ্বাসী হলাম ।

      চলচ্চিত্র বিষয়ে দেশের খ্যাতিমান পরিচালকদের সাথে কিছুটা আলাপ – আলোচনা , তাদের লেকচার পাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে । আর অল্প একটু পড়াশোনা আছে । আর এটি আমার অন্যতম আগ্রহের ও বিষয় । তবে আপনাদের মতো অতো বেশি ফিল্ম দেখার সুযোগ আমার এখনো হয়নি । চেষ্টা করছি দেখে নিতে ।
      আর মহান পরিচালক সত্যজিৎ রায় এর বিষয়ে লিংকন ভাইর কমেন্টে বলে দিয়েছি ।
      :গোলাপ: 😀 :ধইন্যাপাতা: :খুশি: :ফুল:

      1. মুভিখোর…

        মুভিখোর… :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
        ৫ ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত এমনও উইকেন্ড গেছে ২/৩ টা ভাল মুভি দেখেছি! আর তারপর শুধুমাত্র ‘লাইফ অফ পাই’ দেখলাম!! এই বছর আর মুভি দেখার সুযোগ হবে না হয়তো।। যদি পারি হয়তো ঈদে ভাইদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বেশ কিছু এনিমেশন ফিল্ম দেখে ফেলব!! তবে আমার আর রাআদের ফিডব্যাক আতঙ্কে ছিলেন শুনে :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:
        আমি খুব মুভি দেখতাম একসময়; আইএমডিবি’র সেরা ২৫০ এর ২০০+ এই আমার দেখার সুযোগ হয়েছে; চাকরীর প্যাটার্ন আর ইচ্ছার কারণে…
        তবে প্রকৃত চলচ্চিত্র সমঝদার হওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়! আমাদের দেশে কেউ এইসব নিয়ে পড়াশুনা করে লিখে নাতো তাই হয়তো ‘নাই দেশের ভেরন বৃক্ষ’ বানায় দিলেন আমাদের… আপনার বিনয় হতে পারে তবে ইস্টিশনের সকল পাঠক নির্দ্বিধায় স্বীকার করবে মুভির রিভিউতে আপনিই গুরু তা পরিমানে নয় একটার মানেই প্রমান করেছেন…
        ভাল থাকবেন…

      2. আপনে আতংকে ছিলেন আমার আর
        আপনে আতংকে ছিলেন আমার আর তারিক ভাইয়ের রিপ্লাইয়ের জন্য :মাথাঠুকি: তারিক ভাইয়েরটা না হয় মানা গেলো কিন্তু আমি??? :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: সত্যিকথা এইবার আমিও একখান কই, মুভি সিরিয়াসলি দেখা শুরু করছি ২০১০ এর মাঝামাঝি থেকে… আর যেই পরিমান মুভি দেখলে একজনরে পাঁড় মুভিখোর বলা যায়, আমি এখনও সেই পরিমান মুভি দেখতে পারি নাই। :কানতেছি: :কানতেছি: তার সবচেয়ে বড় প্রমান আমার ঢাকা টু নিউইয়র্ক :কানতেছি: দূরত্ব পরিমান ওয়াচলিস্ট :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: মাঝে মাঝে এই অদেখা মুভিলিস্টের দিকে তাকায়া ভাবি, আমার এই জীবনে কি এত্ত মুভি দেইখা সারতে পারুম… :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: তাই তারিক ভাইয়ের সাথে কষিয়া সহমত… :চশমুদ্দিন: :চশমুদ্দিন:

        তবে প্রকৃত চলচ্চিত্র সমঝদার হওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়! আমাদের দেশে কেউ এইসব নিয়ে পড়াশুনা করে লিখে নাতো তাই হয়তো ‘নাই দেশের ভেরন বৃক্ষ’ বানায় দিলেন আমাদের

        তবে মুভি নিয়া যে রাহাত ভাইয়ের সত্যিকারের ক্রেজ আছে, তা আপনার মুভি নিয়া পড়াশোনা আর পরিচালকদের সাথে আলাপ-আলচনা থেকেই বুঝতে পারা যায়। :bow: :থাম্বসআপ: :ধইন্যাপাতা: আর আপনার রিভিউ নিয়া সেই পুরান বানীটা আরেকবার বলা যায়… “পরিমানে নয়, গুণেই পরিচয়” :গোলাপ: :ফুল: সো, এক চমৎকার দ্বান্দ্বিক পর্যালোচনার জন্য :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  7. “”জাতি অবিলম্বে আপনার কাছ
    “”জাতি অবিলম্বে আপনার কাছ থেকে সত্যজিৎ রায়ের উপর একটা লেখা প্রত্যাশা করতেছে””
    দয়া করে জাতিকে নিরাশ করবেন না… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  8. বিজয়ী শ্রেষ্ঠ পরিচালক শেখ

    বিজয়ী শ্রেষ্ঠ পরিচালক শেখ নিয়ামত আলী

    —- দুঃখিত, আসলে ছবিটি যৌথ পরিচালনায় নির্মিত । মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী । সম্পাদনা করে ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে ।

    – আর একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়নি – বাংলাদেশের প্রথম অনুদানের ফিল্ম এটি । সরকার থেকে আড়াই লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়, যা ছিল খুবই অপ্রতুল । পরিচালকের ( মসিহউদ্দিন শাকের ভাই’র সাথে এক আলোচনায় তিনি জানিয়েছেন, তাদের ১০ লাখ টাকার উপরে খরচ হয়েছে ) । আরও একটি তথ্য হচ্ছে তিনি এই একটি মাত্র ছবি করেছেন । এফ ডি সি’র তিনি আজীবন সদস্য ।

    ২০০৪ সালে এই ছবিটি ২৫ বছরের সেরা বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে পুরুস্কার পায় ।

  9. বছর দশেক আগে ‘স্ক্রিনপ্লে
    বছর দশেক আগে ‘স্ক্রিনপ্লে রাইটিং’ এর ওপর একটা কোর্স করেছিলাম। তখন এই ফিল্ম নিয়ে অনেক কথা হয়েহচিল। এর পর থেকেই বইটা পড়ার শখ ছিল, আজকে আবার সার্চ করলাম, পেলাম, ডাউন লোড করলাম। বইটা পড়ার ইচ্ছা আবার জাগানোর জন্য ধন্যবাদ।

  10. অসাধারন রিভিউ।
    যেমন সাহিত্য

    অসাধারন রিভিউ।

    যেমন সাহিত্য তেমনি চলচ্চিত্র।

    আমার একটা ছোট্ট আবদার আছে।

    “কিম কি দুকের ওপর একটা রিভিউ চাই”

      1. বারো বাজাইনাই। লিস্টটা একটু
        বারো বাজাইনাই। লিস্টটা একটু বাড়ালাম। ভাই “কিম কি দুকের” স্বাদ সেইরকম। ওনারে(আসলে শিল্পমনা সকল পরিচালক) আসলে কোন দেশ,কাল,পাত্র দিয়ে বিবেচনা করা যায় না। অনবদ্য তার সৃষ্টি…।।

        এরপরও মন খারাপ থাকলে :মাথাঠুকি: আমার মনই খারাপ হয়ে যাবে।

    1. সাইকোডালিক নিন্দুক ,
      আপনাকে

      সাইকোডালিক নিন্দুক ,
      আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ !!!

      “কিম কি দুকের ওপর একটা রিভিউ চাই”

      —- হুম আধুনিক চিন্তার ফিল্ম মেকারদের মধ্যে বর্তমানে বিশ্বসেরা । দেখা যাক ।
      ওনার ও ওনার সৃষ্টির উপরে পড়াশোনা, সময় করে উঠতে পারলে :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: নিশ্চয়ই লিখব ।

  11. চমৎকার , অনবদ্য , অসাধারন ,
    চমৎকার , অনবদ্য , অসাধারন , খুব ভাল , – নাহ আর বিশেষণ মনে আসছে নাহ রাহাত ভাই । 😀 😀

    রিভিউ টা খুব খুব ভাল লাগল । আরও চাই এমন লেখা :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. রাহাত ভাই আমাদের কথাতো
      রাহাত ভাই আমাদের কথাতো বিশ্বাস করলেন না; এইবার দেখেন মোশফেক ভাইয়ের থাম্বস আপের পরিমাণ, এত থাম্বস আপ এর আগে কেউ পাই নাই উনার কাছে…
      আমিও আরও কয়েকটা এড করি :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: (৭টা আমার দেয়া সর্বোচ্চ…)

      1. তারিক লিংকন,
        হাহাহাহাহাহাহা

        তারিক লিংকন,
        হাহাহাহাহাহাহা …
        আপনার সর্বোচ্চ থাম্বস আপ পেয়ে আমিও যারপরনা আনন্দিত !!!
        :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

    2. মোশফেক আহমেদ,
      আপনাকে ধন্যবাদ

      মোশফেক আহমেদ,
      আপনাকে ধন্যবাদ ! এ মাসে ব্লগে আপ্নাকেম কম দেখছি ।
      চেষ্টা করি নিজের মেধার সর্বচ্চ প্রয়োগ ঘটাতে । আশা করি
      লেখার মান বজায় রাখতে পারবো … :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  12. উপন্যাসটা আগে পড়েছিলাম
    উপন্যাসটা আগে পড়েছিলাম ,কিন্তু সিনেমাটা দেখা হয় নি ।সিনেমায় সামাজিক বাস্তবতার খুব ভালো বিশ্লেষণ করেছেন ।ভালো লেগেছে ।

  13. মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত ছাড়া
    মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত ছাড়া রাজনৈতিক সিনেমা আমাদের সিনেমার ইতিহাসে তেমন একটা নেই। যে কয়টার নাম নেয়া যায় তাদের মধ্যে সবার আগেই বোধহয় ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র নাম উঠে আসে। আর তা শুধু তার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের জন্য নয়, বরং তার প্রকাশ ভঙ্গীই তাকে এই উচ্চতা দিয়েছে। যেমন দেখবেন, সিনেমাটির একেবারে প্রথম দিকে প্যরালাল শটে শহর ও গ্রামের দৃশ্য দেখাতে থাকে, আর ব্যকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে ভিন্ন দুই ধরনের মিউজিক, গ্রামের শটে গ্রামীণ সঙ্গীত আর শহরের শটে শহুরে সঙ্গীত। আর, এই দুই ধরনের সঙ্গীতের মিশ্রণ এমন খাপছাড়া ভাবে সিনেমায় এনেছেন পরিচালক, যার ফলে এই দুই স্থানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন-যাপনের বৈপরীত্য আমাদের কাছে ধরা দেয় কোনোরকম হীনমন্যতা ছাড়াই।
    এই সিনেমাটি আমি যখন দেখেছিলাম, আমার তখন বারবার কেন যেন ‘পথের পাঁচালি’র কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল।
    আপনার লেখাটি পড়ে ভালো লাগল। তবে, উপন্যাস আর সিনেমা তো দুটো আলাদা মাধ্যম, ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ উপন্যাস থেকে সিনেমায় রুপান্তরের ক্ষেত্রে কোথাও কি আপনার তারতম্য বা পার্থক্য (সঠিক কোন শব্দ মাথায় আসছেনা) ঘটেছে বলে মনে হয়েছে?

  14. সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের অপূর্ব
    সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের অপূর্ব মিথস্ক্রিয়ায় রচিত পর্যালোচনা ।
    লেখাটি পড়ে জ্ঞানের রাজ্য সমৃদ্ধ হল ।
    ধন্যবাদ লেখককে !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *