দ্বিধা

মহিলাকে দেখে বয়স আন্দাজ করা মুশকিল। সাধারণত নতুন কারো সাথে দেখা হলে তার চেহারা আচরণ দেখে তার সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করা আমার স্বভাব। সবসময় যে মিলে যায় এমন নয়। তবুও এটা একটা খেলার মতো মনে হয় আমার কাছে। মহিলাকে তার বাসার দরজায় প্রথম দেখে মনে হচ্ছিলো কোন এক অজানা কারনে উনি কিছুটা ভীত এবং বিভ্রান্ত। আরেকটু ভালোভাবে লক্ষ্য করার পর বুঝলাম উনি বয়সে আমার চেয়ে বড়ই হবেন। আমার বয়সীও নন, আবার আমার মায়ের বয়সিও নয়। আমার যদি কোন বড় বোন থাকত হয়ত এমনটাই দেখতে হতেন এতদিনে।


মহিলাকে দেখে বয়স আন্দাজ করা মুশকিল। সাধারণত নতুন কারো সাথে দেখা হলে তার চেহারা আচরণ দেখে তার সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করা আমার স্বভাব। সবসময় যে মিলে যায় এমন নয়। তবুও এটা একটা খেলার মতো মনে হয় আমার কাছে। মহিলাকে তার বাসার দরজায় প্রথম দেখে মনে হচ্ছিলো কোন এক অজানা কারনে উনি কিছুটা ভীত এবং বিভ্রান্ত। আরেকটু ভালোভাবে লক্ষ্য করার পর বুঝলাম উনি বয়সে আমার চেয়ে বড়ই হবেন। আমার বয়সীও নন, আবার আমার মায়ের বয়সিও নয়। আমার যদি কোন বড় বোন থাকত হয়ত এমনটাই দেখতে হতেন এতদিনে।

উনার বাসায় পৌছতে পৌছতে বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলো। অফিস থেকে বের হয়ে ঢাকার জ্যাম পেরিয়ে মতিঝিল থেকে মিরপুর অনেকটা দূরত্ব। বাসায় প্রবেশ করে একসাথে অনেকগুলো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। বাসাটা কি উনাদের নিজেদের, নাকি ভাড়া? বাসায় কি উনি একাই থাকেন? একা থাকলে উনার স্বামী আছেন, নাকি অন্য কোন মন খারাপ করা কাহিনী আছে এর পেছনে? ধুর… এতো প্রশ্ন কেন মাথায় আসছে? আমি এসেছি উনার কাছ থেকে একটা জিনিস কিনতে, পুরনো ব্যবহৃত জিনিস। এতো প্রশ্নের উত্তর জানার আমার কি দরকার? হয়ত সেই মধ্যবিত্ত কৌতূহল। অন্য মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নাক গলানো আমার একেবারেই অপছন্দের। কিন্তু এই মহিলাকে প্রথমে দেখেই উনার চোখে ভয় পাওয়া এবং বিভ্রান্তির একটা ছাপ দেখেই হয়ত কৌতূহল মাথাচাড়া দিয়েছে।

-ড্রেসিং টেবিলটা আমার নানা বিয়ের সময় আমার মা’কে উপহার দিয়েছিলেন। ওরিজিনাল বার্মা টিক। এখনও নতুনের মতো চকচক করে। সাথের আয়নাটাও ওরিজিনাল বেলজিয়ান আয়না।

হড়বড় করে বলে যাওয়া মহিলার কথাগুলো শুনে মনে পড়ল আমি উনার বাসায় এসেছি একটা পুরনো ব্যবহৃত ড্রেসিং টেবিল কিনতে। পুরনো এন্টিক কালেকশনের হালকা পাতলা একটা শখ আমার আছে। তাই অফিসের এক কলিগের কাছে এই ড্রেসিং টেবিলটার খোঁজ পেয়ে মহিলার ফোন নাম্বার যোগার করে ফোন দিয়ে আজকের এই এপয়েন্টমেন্ট। উনার কথাগুলো আমি খুব যে মনোযোগ দিয়ে শুনলাম সেটাও নয়। উনি কথাগুলো বলছিলেন চোখ নিচু করে অনেকটা অপরাধীর ভঙ্গীতে। চেহারায় এখনও সেই ভীতু এবং বিভ্রান্ত ভাবটা রয়েই গেছে।

-আমার বিয়ের বেশ কিছুদিন পর মায়ের মৃত্যুর পর ভাই বোনেরা যখন মায়ের জিনিসপত্র ভাগাভাগি করে নিয়েছিলো তখন অন্য অনেক কিছুর সাথে এই ড্রেসিং টেবিলটা আমার ভাগে পড়ে। অবশ্য এর জন্য আমার বড় আপার সাথে একটা দর কষাকষির মতো হয়েছিলো। অবশেষে মায়ের দুই ভরি ওজনের একটা গলার হারের মায়া ত্যাগ করে এই ড্রেসিং টেবিলটা আমার বাসায় নিয়ে আসি। এখনও নতুনের মতোই আছে। পলিশ করালে নতুনের মতোই চকচক করে। আয়ানাতেও এখনও কোন স্পট পড়েনি। রোজ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আমি মুছে রাখি এখনও।

আবারও চোখ নিচু রেখেই হড়বড় করে কথাগুলো বলে গেলেন মহিলা। উত্তরে কিছু একটা না বললে নিতান্তই অভদ্রতা হয়ে যায়, তাই ছোট্ট করে আমি বললাম- ও আচ্ছা।
মহিলা এবার চোখ তুলে আমার দিকে তাকালেন। সেই চোখে আরও খানিকটা ভয় এসে জমা হলো কি? মহিলা কি ভাবছেন ড্রেসিং টেবিলটা আমার পছন্দ হবেনা? আমি যদি না কিনি? এইজন্যই কি বারবার লজ্জা ভুলে উনি ড্রেসিং টেবিলটার প্রশংসা করে যাচ্ছিলেন? কেমন একটা মায়া এসে ভর করল। যদিও এখনও ড্রেসিং টেবিলটা দেখিনি তবুও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম ওটা কিনে ফেলব। মনে হয় খুব বিপদে পড়েই উনি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বেচারা। উনাকে অভয় দেওয়ার জন্যই আমি বললাম-

-ড্রেসিং টেবিলটার খুব প্রশংসা শুনেছি আমার বন্ধুর কাছে। নিশ্চয়ই ভালো জিনিস হবে। আর আপনিও যখন বলছেন… ওটা কি একবার দেখানো যাবে?

মহিলার চোখে এবার ভয়ের ছায়া আরও গভীর হতে দেখলাম। নার্ভাস ভঙ্গিতে মাথার এলোমেলো চুল ঠিক করে নিলেন বেশ কয়েকবার। এদিক সেদিকে কয়েকবার চোখ ঘুরিয়ে শেষে দৃষ্টিটা একবার আমার দিকে নিয়েই চোখ নিচু করে খুব নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করলেন আমি চা খাবো কিনা? উনাকে এই নার্ভাসনেস থেকে কিছুক্ষন মুক্তি দেওয়ার জন্যই অনিচ্ছা স্বত্বেও আমি রাজী হলাম। পাশের কিচেনে চা তৈরি করার মৃদু শব্দ ভেসে আসছিলো। এখনও বাসায় কেউ আসেনি। আমি চোখ ঘুরিয়ে উনার বসার ঘরের জিনিসপত্র দেখছিলাম। বেশ রুচির ছাপ আছে ঘর সাজানোয়।
-আপনি কি চায়ে চিনি খান? কতটুকু নেন সেটা জানিনা, তাই আলাদাভাবেই দিলাম, আপনি মিশিয়ে নিন।

মহিলার ভদ্রতা আমাকে মুগ্ধ করল। চায়ে চিনি মিশিয়ে চুমুক দিয়ে বুঝলাম চা’টা উনি ভালোই বানাতে পারেন। বুঝলাম চা পানের বেশ ভালোই অভ্যেস আছে উনার। পুরোটা সময় উনি বেশ আগ্রহ নিয়ে আমার দিকে একটু পরপর তাকিয়ে দেখছিলেন। মনে হচ্ছিলো চায়ের স্বাদ ভালো খারাপের উপরে ড্রেসিং টেবিলটার বিক্রয়ভাগ্য জড়িয়ে নিচ্ছেন উনি।

-চা ভালো হয়েছে?
-জী ভালো হয়েছে। আমরা কি এবার ড্রেসিং টেবিলটা একবার দেখতে পারি এখন?
মাথার চুলগুলো আবার আঙুল দিয়ে বেশ কয়েকবার ঠিক করে নিয়ে নার্ভাস ভঙ্গিতে উনি আবারও বললেন-

-ড্রেসিং টেবিলটা আমার মায়ের খুব পছন্দের ছিল। ছোট বেলায় আমারও খুব ভালো লাগত এর সামনে বসে মায়ের মতো সাজতে। মা অবশ্য খুব রাগ করতেন ড্রেসিং টেবিল এলোমেলো করে ফেলেছি এই অজুহাতে। আসলে মা চাইতেন না আমরা কেউ ওটা ইউজ করি। আমার অন্য দুই বোনের চেয়ে আমিই বেশী বকা খেয়েছি মায়ের কাছে এই বিষয়ে। একবার নেইল পলিশ ফেলে দিয়েছিলাম বলে শুধু বকুনি নয়, বেশ অনেকটা মার খেয়েছিলাম মায়ের হাতে। ঐ একবারই। তাই মায়ের মৃত্যুর পর যখন সব জিনিসপত্র ভাগাভাগি হচ্ছিলো তখন সোনার গয়নার চেয়েও এই জিনিসটার প্রতি আমার আগ্রহ ছিল বেশী। দেখবেন এখনও নতুনের মতোই আছে। একটুও স্পট পড়েনি।

-আচ্ছা আপনার বাসায় আর কেউ নেই?

আচমকা আমার এরকম প্রশ্নে মহিলা কিছুটা থতমত খেয়ে গেলেন। কিছুটা ভয়ের ছায়া সরে গেলো কি উনার চোখ থেকে? কি জানি?

-আমার মেয়ে আছে। ও ভার্সিটি থেকে এখনও ফেরেনি। ওরও ড্রেসিং টেবিলটা খুব পছন্দের। প্রায়ই বলে বিয়ের পর ওটা সঙ্গে করে নিয়ে যাবে।

মহিলার চোখ আনন্দে চকচক করছিল কথাগুলো বলার সময়। এবার আমার ভুল ভাঙল। আমি উঠতে উঠতে বললাম-

-অনেক দেরী হয়ে গেলো আজকে। রাত হয়ে যাচ্ছে। আমাকে আবার আজিমপুর যেতে হবে। আজ উঠি। আরেকদিন এসে দেখে যাবো আপনার ড্রেসিং টেবিল।
-আজকে দেখবেন না?

বিভ্রান্তি আর কিছুটা রিলিভড হওয়ার ভাবমিশ্রিত কণ্ঠে উনি জিজ্ঞেস করলেন। নাহ আমার বুঝতে ভুল হয়নি। আমি কণ্ঠস্বরে আরও খানিকটা জোর মিশিয়ে বললাম-
-না থাক, আজ দেরী হয়ে গেলো। আরেকদিন এসে ভালো করে সময় নিয়ে দেখব, আর আপনার কাছে ওটার আরও কিছু গল্প শুনব। তাড়াহুড়ার কি আছে?
-ঠিকই বলেছেন। তাড়াহুড়ার কিছু নাই। সেই ভালো।

অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার পর মানুষের চেহারায় যেমন রিলিভড একটা ছাপ পড়ে ওইরকম একটা মুখ পেছনে রেখে সদ্য সন্ধে পেরিয়ে রাতের নাগরিক অন্ধকারে আমি পা বাড়ালাম।

৭৬ thoughts on “দ্বিধা

    1. বুঝেন নাই?
      মহিলা বিপদে পড়ে

      বুঝেন নাই? :ভাঙামন:
      মহিলা বিপদে পড়ে উনার প্রিয় ড্রেসিং টেবিল বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু মনে ছিল নিরন্তর দ্বিধা।

        1. (No subject)
          :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
          :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
          :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:

          1. তারিক ভাই! আমিও আপনের সাথে…
            তারিক ভাই! আমিও আপনের সাথে…

            :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
            :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
            :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:

          2. সমস্যা নাই… হাইস্যা পুষায়া
            সমস্যা নাই… হাইস্যা পুষায়া দিছি! 😛

            জাস্ট কিডিং… ডোন্ট টেক ইট সিরিয়াস @রাইন
            😀

          3. এইখানে আর যাই হোক কোন কাজারে
            এইখানে আর যাই হোক কোন কাজারে কথা হইতেছে না। ধারনা করা হচ্ছে এইখানে সবার মাথা টেম্পোরারিলি লুজ হ​য়ে গেছে। আমি এই কারনে একটি তদন্ত কমিটি আহ্বান করছি।

          4. ডাক্তার মানুষের পোস্ট তো তাই
            ডাক্তার মানুষের পোস্ট তো তাই হয়তো হাসপাতালের বিলের ভয় নাই। :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  1. খুব ভালো লাগলো ।
    ড্রেসিং

    খুব ভালো লাগলো ।
    ড্রেসিং টেবিল কিভাবে মমতায় পরিনত হয়েছে , প্রিয় জিনিসকে হারানোর ভয় , সর্বোপরি অচেনা একজন মানুষের সেই ড্রেসিং টেবিল এর সুবোধে ঐ মহিলার আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা

    খুব সুন্দর

  2. পড়ে যা বুঝলাম, টাকার প্রয়োজনে
    পড়ে যা বুঝলাম, টাকার প্রয়োজনে টেবিলটা বেঁচতেই হবে কিন্তু টেবিলটার সাথে মায়ের স্মৃতি তো জড়িয়ে আছেই উপরন্তু টেবিলটা মেয়ের বিয়েতে উপহার হিসেবে দিবেন এই জন্যই টেবিলটা বেচঁতে এত দ্বিধা।
    সারমর্মটা ঠিকাছে আতিক ভাই?

    ভাল একটি গল্প লিখলেন।ধন্যবাদ ।

  3. আচ্ছা ভাই, এমন থিম মাথায় আসে
    আচ্ছা ভাই, এমন থিম মাথায় আসে কেমনে???
    একমাস লাগছে আমার একটা থিম নির্ধারণ করতে। :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

    1. থিম মাথায় হুট করেই চলে এলো
      থিম মাথায় হুট করেই চলে এলো ছোট কোন থিম নিয়ে গল্প লিখেই মজা পাই বেশী। এইজন্য আমার লেখায় ঝাকানাকা কিছু থাকে না। 😀

  4. গল্প ভালো লাগলো। খুবই সাবলীল
    গল্প ভালো লাগলো। খুবই সাবলীল ভঙ্গি, এক বসায় পড়ে শেষ করে ফেলার মতো। প্লটটা সুন্দর। ভাগ্যিস এই প্লট আমার হাতে পড়ে নাই, তাইলে গল্প ভিন্ন দিকে মোড় নিত.. :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান:

    1. (No subject)
      :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
      :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:
      :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:
      :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি:
      :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান:

    2. আহ অনেকদিন পর এই গল্পের
      আহ অনেকদিন পর এই গল্পের সুবাদে হলেও আপনারে ব্লগে টাইনা আনা গেছে। আপনার হাতে পড়লে এই গল্প আরও কাব্যিক হয়ে যেতো নিঃসন্দেহে। 😀

  5. আতিক ভাই জটিল লিখেছেন! তবে
    আতিক ভাই জটিল লিখেছেন! তবে আরও টানতে পারতেন মনে হয়…
    কেমন জানি একটা রেশ রয়ে গেল! আরেকটু জানতে ইচ্ছা করতেছিল।।
    এইখানেই হয়তো শিল্পীর সফলতা… চমৎকার লিখনি :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    আপনি দেখি দিন দিন গল্পের লিখক হয়ে যাচ্ছেন! রিভিউ বা প্রবন্ধ কি হবে না আর? :মনখারাপ: :মনখারাপ:

  6. আমার মাস্টার মশাই আসলেই গল্প
    আমার মাস্টার মশাই আসলেই গল্প টা অনেক ভাল .। এরিয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু দেখলাম আপনার লিখা না পড়ে পারি বলেন?

    পড়লাম খুবই ভাল লেগেছে ., আরো জানতে ইচ্ছা হচ্ছিল .। আগহ ফুরাবার আগেই গল্প ফুরিয়ে গেল!!

    কিন্তু দুই একটা ভুল তো করা উচিত নাকি!! চিন্তা করলাম আজ আমার মাস্টার মশাই এর ভুল ধরবই তাই খুব আস্তে আস্তে পড়লাম কিন্তু আমি ব্যর্থ.। আসলে আমার এই জায়গা টা পার হয়েই তো আপনি এখানে!!!!

        1. আমি ভাই লেখালেখির চেষ্টা শুরু
          আমি ভাই লেখালেখির চেষ্টা শুরু করছি বছর দুয়েক হবে মাত্র। মাস্টার টাস্টার এইসব কি কন? :চিন্তায়আছি: :মানেকি:

          1. দুই বছর???? অনেক বেশি আমি তো
            দুই বছর???? অনেক বেশি আমি তো দুই মাস

            না রিয়েলি ভাই পাম না আপনি অনেক উপকার করেন আমার…. :ফুল: :ফুল:

          2. হুম ভাইজান
            আরেক খান হেল্পান

            হুম ভাইজান
            আরেক খান হেল্পান গল্প লেখার থিম বলেন কিছু
            মাথায় আসতেছে না

  7. ভালো লেগেছে… তবে মহিলার
    ভালো লেগেছে… তবে মহিলার দ্বিধা বেশ ভালো ভাবেই কাজ করছিল। শেষমেশ আপনি তাকে দ্বিধামুক্ত করেছেন। বেচারি বেশ কিছুক্ষণ ভালোই কষ্টে ছিল বলা যায়।

  8. মহিলাকে দেখে বয়স আন্দাজ করা

    মহিলাকে দেখে বয়স আন্দাজ করা মুশকিল। সাধারণত নতুন কারো সাথে দেখা হলে তার চেহারা আচরণ দেখে তার সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করা আমার স্বভাব। সবসময় যে মিলে যায় এমন নয়। তবুও এটা একটা খেলার মতো মনে হয় আমার কাছে।

    প্রথমত এইটা পড়ে খুবই অবাক হইছি , কেননা আমি নিজেও এটা করি । ঠিক অনুরুপ ধারনা নিয়ে এটা করি আমি ।

    এর পর গল্প এগিয়েছে খুবই বাস্তব কিছু জীবন দর্শন এর ভিতর দিয়ে । মদ্ধবিত্তের আবেগের একটা কিঞ্চিত ছাপ আছে এখানে ।

    পরম ভালবাসার জিনিস , অর্থকষ্টের তাড়নায় অন্নের কাছে হস্তক্ষেপ এর সময় খুবই সাধারন জে দ্বিধা তৈরি হয় সেটা ফুতিয়ে তুলেছেন চমৎকার ভাবে – না বলা আবেগ দিয়ে , অনুভুতি দিয়ে ।

    মধ্যবিত্তের আবেগ ,জীবন এমনি । ছুঁয়ে গেছে লেখাটা আতিক ভাই ।

    অনবদ্য । :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  9. কাল জখন পোস্টটা দিয়েছিলেন তখন
    কাল জখন পোস্টটা দিয়েছিলেন তখন সময়ের অভাবে পড়তে পারিনি।
    আজ ব্লগে এসেই আপনার পোস্ট খোজে বের করে পড়লাম।
    লেখা পড়ে আমার কস্ট বিফল হয়নি।

    1. ধন্য হলাম। আমার লেখা কষ্ট করে
      ধন্য হলাম। আমার লেখা কষ্ট করে খুঁজে পড়েছেন জেনে খুবই খুশী হলাম। ধন্যবাদ। :খুশি:

  10. আমরা নাটকীয়তা খুব পছন্দ করি ।
    আমরা নাটকীয়তা খুব পছন্দ করি । তাই হয়তো ফিনিসিংটা মন ছুঁয়ে গেলেও তাকে হৃদয়ের নাগাল পেতে
    পরিশ্রম করতে হচ্ছে ।

    সে যাকগে, চমৎকার লেখনী আপনার । একটুও ক্লান্ত করেনা । তবে ভাই আপনি যেটা করলেন, সবাইকে অভিনবত্ব’ র দিকে প্রচণ্ড রকম ধাবিত করে যাপিত জীবনের রোজকার বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিলেন । হয়তো এটাই আপনার একধরণের অভিনব কায়দা ।

    চরিত্র দুটো যথাযথ সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছে । মহিলার প্রগলভতা মনে হচ্ছিলো কিছুটা অতিরঞ্জিত কিন্তু ভেবে দেখলাম – এতো প্রিয় একটা জিনিস একজন আগুন্তুক এসে নিয়ে যাবে আর মহিলা সাদরে সেই বিদায়ে সম্মতি জানাবে – তা কি করে হয় ! কতো সহস্র সুখ – দুঃখ, আনন্দ – বেদনার নিরব সাক্ষী হয়ে ড্রেসিং টেবিলটি তো আসলে পরিবারের একজন অন্যতম সদস্য হয়ে গেছে । একদিক দিয়ে বিচার করলে অস্তিত্বশীল প্রতিটি বস্তুর আসলে প্রাণ আছে । এমন প্রাণময় জিনিস কে হাতছাড়া করতে চায় …

    1. রাহাত ভাই, একেবারে জায়গামত
      রাহাত ভাই, একেবারে জায়গামত হাত দিয়েছেন। মহিলার চরিত্রে একাধারে দুঃখী, দ্বিধাগ্রস্থ, বিভ্রান্ত, নার্ভাস এইসব ভাব ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে বেশ কিছুক্ষন চিন্তা করতে হয়েছে লেখার সময়। হয়ত পুরোপুরি সফল হয়নি। আরও কিছুটা বিস্তারিত লিখলে হয়ত সেটা ফুটিয়ে তোলা যেতো। পরে মনে হোল থাকনা, কিছু দায়িত্ব তো পাঠকেরও থেকে যায়। 😀

  11. বিশ্বাস করেন ভাই- আমিও ভয়
    বিশ্বাস করেন ভাই- আমিও ভয় পাইছিলাম! শেষ মুহূর্তে একটা নিশ্বাস ফেলে বুকের ভার হালকা করলাম যেন!

    আপনি রহস্য গল্প বা থ্রিলার লেখেন না কেন বলুন তো?
    :থাম্বসআপ:

      1. বাপরে! এতো লোক আমার অপেক্ষায়
        বাপরে! এতো লোক আমার অপেক্ষায় থাকে তাইলে! শুনে আহ্লাদিত হইলাম!
        :লইজ্জালাগে: :ভালুবাশি:

        হ্যা, ব্যাক করলাম। আসলে কয়েকদিন নানা কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এই আরকি… 🙂

  12. ডাক্তার সাহেব লেখা পড়া শুরু
    ডাক্তার সাহেব লেখা পড়া শুরু করতেই শেষ হয়ে গেল মনে হয়। ভালই তো এগুচ্ছিল মনে হলো। হঠাৎই যেন থেমে গেল। আরও নম্বা করলে অনেক ভাল হতো। তারপরও আপনার লেখার জন্য অনেকত অনেক ধন্যবাদ।

    1. বেশী লম্বা লেখা লিখতে পারিনা
      বেশী লম্বা লেখা লিখতে পারিনা মুকুল ভাই। আপনি হাওয়া হয়ে গেছিলেন কেন? সব খবর ভালো তো

  13. প্লটটা সুন্দর| মনস্তাত্ত্বিক
    প্লটটা সুন্দর| মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ নিয়ে সুন্দর লেখা| আপনার লেখার কোয়ালিটি নিয়ে কোনো কথা বলা বাতুলতা| তবে এবার মনে হয় কিছুটা তারাহুরা করে ফেলেছেন| মহিলার দ্বিধা-দ্বন্দ নিয়ে আরো একটু কারু-কাজ করার সুযোগ ছিল মনে হয়|

    1. ঠিক ধরেছেন। একটু তাড়াহুড়া হয়ে
      ঠিক ধরেছেন। একটু তাড়াহুড়া হয়ে গেছে। মহিলার দ্বিধা-দ্বন্দ নিয়ে আরও কিছু কারুকাজ করার ইচ্ছে ছিল। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে হয়নি।

  14. নরেন্দ্রনাথ মিত্রের একটা গল্প
    নরেন্দ্রনাথ মিত্রের একটা গল্প আছে। নাম “আয়না।” অবচেতন মনে পড়তে গিয়ে আমি গুলিয়ে ফেলেছিলাম। আর মনে করেছিলাম, এটা বুঝি ওই গল্পের প্রিকুয়েল আর ওটাও আপনার লেখা। 😀

    যাই হোক… প্রথম বার মাথার ওপর দিয়ে গেছে… দ্বিতীয়বার মগজে ঢুকেছে। চমৎকার… 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *