তার শেষ হাসি দেখা হলো না

তোমার কি মনে আছে পাচ বছর আগে ঠিক এই রাতে তুমি কোথায় ছিলে?
একটা চলন্ত ট্রেনে, উপবন এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিলে। মনে আছে তোমার উল্টো দিকে গোলাপী জামা পড়া একটা সুন্দরী মেয়ে বসা ছিলো! অবশ্য প্রথমে তুমি খেয়াল করনি। তোমার দিকে তাকিয়ে মেয়েটি যখন খুব হাসছিলো তখন খেয়াল করলে। বয়স খুব একটা বেশি হবে না মেয়েটির। তোমার দিকে তার হাসি দেখে তুমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সিট থেকে উঠে গেলে মুখে পানি দিতে। তারপর আবার সিটে বসার পর তোমার দিকে তাকিয়ে সে আবারও হাসছে। তখন কি মনে করে যেন তুমি একটু ভাব নিয়েই বসলে। সদ্য স্কুল পাশ করা আর নতুন কলেজে ভর্তি হতে যাচ্ছ বুক ফুলিয়ে অনেক বেশি ভাব নিয়ে বসলে মনে হলো ।



তোমার কি মনে আছে পাচ বছর আগে ঠিক এই রাতে তুমি কোথায় ছিলে?
একটা চলন্ত ট্রেনে, উপবন এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিলে। মনে আছে তোমার উল্টো দিকে গোলাপী জামা পড়া একটা সুন্দরী মেয়ে বসা ছিলো! অবশ্য প্রথমে তুমি খেয়াল করনি। তোমার দিকে তাকিয়ে মেয়েটি যখন খুব হাসছিলো তখন খেয়াল করলে। বয়স খুব একটা বেশি হবে না মেয়েটির। তোমার দিকে তার হাসি দেখে তুমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সিট থেকে উঠে গেলে মুখে পানি দিতে। তারপর আবার সিটে বসার পর তোমার দিকে তাকিয়ে সে আবারও হাসছে। তখন কি মনে করে যেন তুমি একটু ভাব নিয়েই বসলে। সদ্য স্কুল পাশ করা আর নতুন কলেজে ভর্তি হতে যাচ্ছ বুক ফুলিয়ে অনেক বেশি ভাব নিয়ে বসলে মনে হলো । সম্ভবত তুমিও তার দিকে তাকিয়ে একটু একটু হাসছিলে! মেয়েটির পাশে বসা একজন মোটামোটি কমবয়সী মহিলাও মাঝেমাঝে তোমার দিকে তাকাচ্ছিলেন। সম্ভবত মেয়েটির মা ই হবেন! কিন্তু মেয়েটি কিছুক্ষন পরপর তার হাসি চালিয়েই যাচ্ছে তোমার দিকে তাকিয়ে। তুমি চিন্তিত কিন্তু বেশ মজাও পাচ্ছিলে মনে হয়।
মাঝরাতে মেয়েটা হাঁসতে হাঁসতেই ঘুমিয়ে পরে। তখন সম্ভবত তার বাবা এসে তোমাকে দুই মিনিট কথা বলার জন্য দরজার পাশে ডেকে নিয়ে যায়। তখন তুমি মনে হয় একটু ভয়ই পেয়েছিলে! লোকটি খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতেই তোমাকে বলে ওই মেয়ের ব্যাবহারে কিছু মনে না করতে। আমি লক্ষ্য করছিলাম অনেক্ষন মেয়েটা তোমার দিকে তাকিয়ে হাসছিলো। ও আসলে প্রায়ই এরকম করে। এমনি এমনিই মানুষের দিকে তাকিয়ে হাসে। এটা তার একটা রোগ। আমার মনে হলো তোমাকে বিষয়টা জানানো দরকার তাই বলছি – আমার মেয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী।
তুমি চিন্তা করলে অদ্ভুত ব্যাপার এতো সুন্দর একটা মেয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী কিভাবে হয়? অনেক্ষন ধরে চিন্তা করতে করতেই তোমার স্টেশন চলে আসলো। মেয়েটি এখনো ঘুমাচ্ছে! তার দিকে একটু তাকিয়েই তুমি ট্রেন থেকে নেমে গেলে। নামার পরে মনে হলো আহা মেয়েটার শেষ হাসিটা দেখা হলো না। তুমি সিলেট স্টেশনের ঠিক আগের স্টেশনে নেমেছ আর তারা নামবে ট্রেনের শেষ গন্তব্যে।
এটা ভাবতে ভাবতেই তুমি খেয়াল করলে তুমি স্টেশনের বাইরে খোলা রাস্তার উপর। বৃষ্টি হচ্ছে আর তাতে পুরোই ভিজে গেছো। একটা রিকশা ডাকলে কিন্তু যেতে রাজি হলো না। কি আর করা বাড়ি তো কাছেই——- দে দৌড়………

১৪ thoughts on “তার শেষ হাসি দেখা হলো না

  1. দে দৌড় কথাটা সম্পূর্ন পোস্টের
    দে দৌড় কথাটা সম্পূর্ন পোস্টের গাম্ভীর্য নষ্ট করছে .।

    ছোট্ট এই অনু গল্পের মাধ্যমে সুন্দর করে তুলে ধরেছেন .। লেখার পারদর্শীতা ভাল .। আসলেই কারো বাহ্যিক রূপ দেখে কাউকে চেনা যায় না

    1. যতদূর মনে পরে ৫ বছর আগে
      যতদূর মনে পরে ৫ বছর আগে কমবয়সী ছেলেটি দে দৌড় বলেই দৌড়টা দিয়েছিলো। তাই শব্দটা লিখতেই হলো। ধন্যবাদ :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  2. বিষয়বস্তু আর উপস্থাপনা খুব
    বিষয়বস্তু আর উপস্থাপনা খুব সুন্দর কিন্তু শেষ কথাটা গেল না। ভিন্ন ধাচ হিসেবে ধরে নিলাম

    1. ওইযে বয়স!! সবকিছুই ভালো লাগে
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: ওইযে বয়স!! সবকিছুই ভালো লাগে আবার কিছুক্ষনের মাঝেই হয়তো ভুলে যায়—- ধন্যবাদ :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *