” হুমকির সম্মুখিন সুন্দরবন এর জীববৈচিত্র্য ”


সুন্দরবন সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে অখন্ড বন যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ । বাংলাদেশভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত এই অনন্য অসাধারন ম্যানগ্রোভ বনভুমি । সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার ,এবং এই মোট আয়তনের ৮১ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে , বাকি ১৯ শতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে । ১৯৯৭ সালে সুন্দরবন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায় ।

সুন্দরবন আমাদের গর্ব ও আমাদের অহঙ্কার। ১৯০৩ সালে প্রকাশিত প্রেইন এর হিসেব মতে সর্বমোট ২৪৫টি শ্রেণী এবং ৩৩৪টি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। সুন্দরবনের জলাভূমিতে প্রায় ১২০ প্রজাতির মাছ আছে , পাখি আছে ২৭০ প্রজাতির; স্তন্যপায়ী পশু আছে ৪২ প্রজাতির; সরীসৃপ আছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির , আর উভচর প্রাণী আছে প্রায় ৮ প্রজাতির। সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান মৌলিক প্রকৃতির এবং যা বন্য প্রাণীর বিশাল আবসস্থল। ২০০৪ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী , সুন্দরবনের বিশ্বখ্যাত রয়েলবেঙ্গল টাইগার এর সংখ্যা প্রায় ৪৪০ টি (এর মধ্যে পুরুষ বাঘ ১২১টি, বাঘিনী ২৯৮টি এবং বাঘ শাবকের সংখ্যা ছিল ২১টি), যা সারা বিশ্বে বাঘের একক অবস্থান হিসেবে সর্ববৃহৎ ।

সুন্দরবন দেশের মোট আয়তনের ৪.২ শতাংশ এবং মোট বনাঞ্চলের ৪৪ শতাংশ। গাছ-পালা, পশু-পাখি, সরীসৃপ, মৎস্য সম্পদের প্রার্চুতা ও নদ-নদীতে বিস্তৃত সুন্দরবন শুধু জীব বৈচিত্র্যের উৎস নয়, প্রত্যক্ষ
ও পরোক্ষভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার ১০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার উৎস হিসেবে অবদান রাখছে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছাসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতি থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করে আসছে। অথচ সুন্দরবন সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বৃক্ষ নিধন, নির্বিচারে মৎস্য সম্পদ আহরণ, পশু হত্যা ও পাচার করার কারণে হুমকির মুখে পড়ে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য।
সুরক্ষায় কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না থাকায় ইতোমধ্যে সুন্দরবন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে দু’প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৫ প্রজাতির পাখি ও ৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী।
গত একশ বছরে সুন্দরবন থেকে ইতো মধ্যে ২৯ প্রকার প্রাণি বিলুপ্ত হয়েছে । তার মধ্যে রয়েছে বাঘরোল, চিতা বিড়াল, বার্কিং হরিণ ,বন্য মহিষ, দু’প্রজাতির গন্ডার,ভোঁদড়, শুশুক(ডলফিন), সর্দার গুইসাপ, গুই সাপ, কাঠা, চিরুনি, কচ্ছপ, ময়াল, দৈত্য বক, সাদা পেচা ,সমুদ্র ঈগল, মেছো বাঘ, সাগর কাঁকড়া, সাগর কুসুম, সাগর শসা, শকুন, পেঁচা, রক্তবর্ণ মেছো শামুক, মিঠে পানির কুমির, নীল গাই, নেকড়ে, সোয়াম্প ডিয়ার, সরসপাখি । এসব প্রাণী বিলুপ্তির পেছনে মানুষের ভূমিকাই প্রধানকারন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে । এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন এবং চোরাকারবারী ও শিকারীদের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য । বিশেষ করে সুন্দরবন এর বাঘ এর সংখ্যা হ্রাস এর পেছনে মুল কারন এই জলবায়ু এবং চোরাকারবারি । ২০১২ এর বাঘশুমারি অনুযায়ী বাঘ এর সংখ্যা ২৫০ এর নিচে । অনুমেয়-২৪৬ ।
প্রানী বিজ্ঞানী ড. রেজা খান জানান, দেশে যে পরিমান বাঘই থাকুক দ্রুত এর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এর কারণ হিসেবে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জলবায়ু পরির্তনকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, এর প্রভাবে একদিকে বন ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে ধ্বংস হওয়া এলাকায় নতুন বসতি গড়ে উঠছে। এতে বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। আর এ কারণে বাঘের স্বাভাবিক চলাচলের স্থান ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে।

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। প্রকৃতি ও মানুষের নিষ্ঠুর আচরণে আমাদের গর্বের সুন্দরবন ক্রমেই শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি বনের অনেক প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হওয়া আশংকা দেখা দিয়েছে। এটি মোটেই কাক্সিক্ষত নয়। বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিতভাবে বনজসম্পদ আহরণের ফলেই যে এমন ভয়ংকর পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে বিশ্বখ্যাত সুন্দরবন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ধ্বংসলীলা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। গত এক দশকে সুন্দরবন এলাকায় লবণাক্ততা বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। এভাবে লবণাক্ততা বাড়তে থাকায় সুন্দরবনের বৃক্ষরাজি নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সুন্দরবনের অন্যতম উদ্ভিদ এবং যে গাছের নামে এ বনের নামকরণ হয়েছে, সেই সুন্দরী গাছও ব্যাপকভাবে আগামরা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশংকা, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার প্রভাবে আগামী দুদশকের মধ্যে সুন্দরবন থেকে সুন্দরী গাছ বিলীন হয়ে যেতে পারে। তখন হয়তো নতুন করে এ বনের নামকরণের প্রয়োজন হবে!
রকৃতির অনন্য উপহার অসংখ্য সম্পদরাজিতে ঐশ্বর্যমণ্ডিত সুন্দরবন কিছু মানুষের দুর্বৃত্তপনায় ধ্বংস হয়ে যাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু বাস্তবতা নির্মম । নিমেষে ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে সুন্দরবন এর ঐশ্বর্য , প্রাণী বৈচিত্র্য এবং উদ্ভিদ প্রজাতি হুমকির সম্মুখে পতিত ।

সুন্দরবন আমাদের অহঙ্কার , সুন্দরবন আমাদের গর্বের পরিচয় , একে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে হবে আমাদের । ইতোমধ্যে সুন্দরবন রক্ষায় ১০১ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালকে আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিনকে সদস্যসচিব করে ওই কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি সুন্দরবনের পাশে রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকারক অন্যান্য কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আন্দোলন করবে। প্রাথমিকভাবে তাঁরা এ আন্দোলন বিষয়ে একটি অবস্থানপত্র ও কর্মকৌশল তৈরি করবেন।
সুন্দরবন রক্ষার্থে এমন উদ্যোগ এর সাথে আমরা সম্যকভাবে পরিচিত । কিন্তু প্রশ্ন হল , পূর্বের বিফলতা নতুন উদ্যোগ কেও বাধাগ্রস্থ করবে না তো ?? মানবমনের সহজাত অবিশ্বাসের আশঙ্খা ।
সুন্দরবন রক্ষা করতে বন বিভাগের কর্মীদের আরও বেশি আত্মনিয়োগ করতে হবে । পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন সংগঠন এর । কতৃপক্ষের কড়া নজরদারি এবং প্রাণীবৈচিত্র্য ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য রক্ষার্থে এগিয়ে আসতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে । সর্বোপরি আমাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা পারে বাংলাদেশের গর্ব এই সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবনকে রক্ষা করতে ।

৪০ thoughts on “” হুমকির সম্মুখিন সুন্দরবন এর জীববৈচিত্র্য ”

  1. আমাদের সকলের আন্তরিক

    আমাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা পারে বাংলাদেশের গর্ব এই সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবনকে রক্ষা করতে

    এই প্রচেষ্টার ই অভাব আমাদের মধ্যে!! অন্যের ঘরে আগুন লাগলে তা দাঁড়িয়ে দর্শন করি যত ক্ষন না সেই আগুন নিজের ঘরে লাগে! এটা বুঝি না যে আগেই আগুন নিভাতে গেলে আগুন টা আর নিজের ঘর পর্যন্ত আসে না!!!

    1. প্রথমত আপনাকে আপনার মূল্যবান
      প্রথমত আপনাকে আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ । কিন্তু ভাই আশার পিঠে আশা তৈরি নাহ করলে সামনে এগুনো মুশকিল । আমরা জানি আমরা এমন , এই যে আমি বললাম আমি নিজেও হইত তেমন । তবুও আন্তরিক প্রচেষ্টা হবে এটা সবার কাম্য । দেখা যাক কি হয় । তবে সুন্দরবন এর বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন কে আরও জোরদার ভুমিকা নিতে হবে

      1. হ্যা আমিও আশাবাদী এই
        হ্যা আমিও আশাবাদী এই ব্যপারে
        আমাদের দেশের প্রশাসনের পকেট ভরলেই তারা খুশি, কার্যকরী পদক্ষেপ শুধু আশাই করে যাই আমরা কখনও কি পাই?

        1. হুম । প্রশাসন এর কথা ভাবলে
          হুম । প্রশাসন এর কথা ভাবলে ওদের নাহ নিজের মুখেই জুতাইতে মন চাই ।,কেননা লজ্জা আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বেবস্থায় আজও আমরা সরকারী দল এর হাত এর পুতুল হয়ে থাকি ।

    1. পোস্ট ভাল লাগার জন্য ধইন্না
      পোস্ট ভাল লাগার জন্য ধইন্না :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      :হাসি: :হাসি: :হাসি:

  2. কারো কোন মাথা ব্যথা নাই
    কারো কোন মাথা ব্যথা নাই সুন্দরবন নিয়ে.| যতক্ষণ প্রাকৃতিক সপ্তাচার্যে সুন্দরবন ছিল ততক্ষণ সুন্দরবন নিয়ে মাতামাতি ছিল সপ্তমে! যে জায়গায় একটা বাঘ গ্রামে আটকা পড়লে ট্রাংকুলাইজার গান ব্যবহার না করে কুড়াল দিয়ে সরাসরি কুপিয়ে বাঘ মারা হয়,যেখানে বাঘ ও মানুষকে একই সাথে নিরাপদ রাখা যায় না সেখানে প্রশাসনের কারো এতে আগ্রহ আছে বলে মনে হয় না.| সিডরের সময় যে ক্ষতি হয়েছিল তা এখনো পুষিয়ে উঠতে পারেনি সুন্দরবন,আর বাঘ আর প্রাকৃতিক সম্পদ যেভাবে বিলুপ্তি পাচ্ছে তাতে বাঘগুলো বাসায় এনে পোষার অনুমতি দিতে হবে :জলদিকর:

    1. আপনি নিশ্চিত ট্রাঙ্কুলাইজার
      আপনি নিশ্চিত ট্রাঙ্কুলাইজার গান ব্যবহৃত হয় না? গত তিন বছরে ৩টি বাঘকে নিরাপদে আবার জঙ্গলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর একটিকে পাঠানো হয়েছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে- কারণ তার একটা পা ছিল না। জঙ্গলে ফেরত গেলে মারা পড়ত।
      তবে হ্যা প্রশাসনের সমস্যা আছে- সে ব্যাপারে সহমত। কারণ ট্রাঙাকুলাইজার গান ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের লোকেরা চালায়। যদি তারা পৌছতে গড়িমসি করে তাহলে ত সেটা বাঘের জন্য হুমকিই হয়ে যায়।
      মানুষকে দায়ী করার আগে, তাদের সুন্দরবনের ওনারশিপ দেয়া দরকার। আপনি ওদের দায়ী করেই যাবেন- এলাকার মানুষ ভাল না, আর ওরা ভাল কাজ করবে!!! বন বিভাগের লোকজন এই কাজটাই করে এলাকায় গিয়ে।
      ড়্রামে এসে বাঘের মৃত্যুর সংখ্যা কিন্তু আগের থেকে অনেক কম। অথচ প্রতি মাসেই সুন্দরবনের আশেপাশের ৭৬ গ্রামের কোন না কোন গ্রামে বাঘ বেরোচ্ছে। গরু ছাগল কুকুর মারছে। এই বাঘগুলোকে রক্ষা করে এলাকার মানুষেরাই এখন। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী একটি দল রয়েছে সেখানে- ভিলেজ টাইগরি রেসপন্স টিম। বাঘ প্রবণ ৪৯টি গ্রামে প্রতি দলে ৭জন করে আছেন। এদের কজি নিয়ে সামনে লেখার ইচ্ছে আছে।

  3. আজ সারাদিন অনেক আজাইরা পোস্ট
    আজ সারাদিন অনেক আজাইরা পোস্ট হয়েছিল ইস্টিশনে; বেশ কয়েকটা ভাল পোস্টও ছিল!!
    তবে মোশফেক ভাই আমরা এমন উদ্যোগ চাই যা দেশে-দশের জন্যে কল্যাণকর…
    সুন্দরবনকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে, নিজেদের স্বার্থে- গোটা দুনিয়ার স্বার্থে…
    :bow: :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. হুম । চমৎকার সব উদ্যোগ এর
      হুম । চমৎকার সব উদ্যোগ এর জন্য লিঙ্কন ভাই আপনার মত কিছু লেখক চাই । ইতোমধ্যে তার প্রমান পেয়েছি ।কিন্তু ভাল উদ্যোগ এর মূল্যায়ন সবচেয়ে কম , হতাশা ঠিক এখানেই ।

      1. ধইন্যা… ; কিন্তু
        ধইন্যা… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: ; কিন্তু :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে:
        আর একটা কথা মনে পরে গেল বরাবরের মতঃ

        ‘বিধাতার জগতে ভাল জিনিস কম বলেই তা ভাল, না হয় ভীরের ঠেলায় মাঝারি হয়ে যেত…’

        —- রবীন্দ্রনাথ…
        মানবকল্যাণময় ব্লগের জয় হোক :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

    2. সবসময় সিরিয়াস হলে কি হয়? সব
      সবসময় সিরিয়াস হলে কি হয়? সব সময় সিরিয়াস হলে জীবনের আনন্দ টুকু ভোগ করা যায় না!! আমরা আজাইরা পোস্ট দিয়েই আপনাদের মনরঞ্জনের চেষ্টা করি মাত্র!!! :ভাঙামন:

  4. ছোট বেলায় একটা কথা শিখেছিলাম
    ছোট বেলায় একটা কথা শিখেছিলাম – ‘নিজের পায়ে কুড়াল মারা’।
    আমার তখন অবাক লাগতো, একটা মানুষ নিজের পায়ে কিভাবে কুড়াল মারতে পারে? ব্যথা পাবে না?
    এখন বুঝতে পারছি, ব্যাথা আসলে লাগে ঠিকই। কিন্তু কুড়াল মারার আগে না, ব্যাথা আসে কুড়াল মারার পরে।
    আমরা অলরেডি বিভিন্ন সাইজের কুড়াল হাতে নিয়ে রেডি হয়েছি দেশটার গোঁড়ায় আঘাত করতে। কত ব্যাথা পাবো সেটা নিয়ে আমি এখনো নিশ্চিত না। তবে ব্যাথার ধাক্কা সামলাতে গিয়ে আমার এই ছোট্ট দেশটা কোমায় চলে যায় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
    কি যে হবে কে জানে? কেউ কি আদৌ জানে?

    1. রূপকার্থে গুরুত্বপূর্ণ
      রূপকার্থে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য এর জন্য ধন্যবাদ । বাঙালি সর্বদা নিজের পায়ে কুরাল মারতে বেশি পছন্দ করে । হইত ছোট বেলায় শেখা উক্তিটা এর জন্য দায়ী । মজার ব্যাপার হল , আমরা এই কুরাল মারা ব্যাপারটাকে আবেগের আতিশয্যতার বশে গ্রহণ করি কিন্তু ফলাফল ভাবার সময় সুযোগ নাই ।

    2. মানুষের ডায়াবেটিস হলে
      মানুষের ডায়াবেটিস হলে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি নামক একটা রোগ হয়, ফলে ব্যাথার অনুভূতি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আঘাত লাগলেও টের পায়না, শরীরের বিভিন্ন স্থানে; বিশেষ করে পায়ে ঘা হয়ে জটিল আকার ধারন করে। এই দেশের সিস্টেমে নিউরোপ্যাথি হয়ে গেছে। তাই কুড়াল মারলেও টের পায়না।

  5. আপনার লেখনি ভাল, তথ্যগুলো
    আপনার লেখনি ভাল, তথ্যগুলো পুরোন। গত বছর বাঘশুমারিতে বাঘের সংখ্যা ২২০-২৭০টির বেশি নয়। সুন্দরবনে বাঘ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ এখন ক্লাইমেট চেঞ্জ নয়- পোচার। সুন্দরবনে প্রচুর বাঘ মারা হয় -কারণ বাঘের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের চাহিদার জন্য।
    বাঘ দিবস ২৯ জুলাই। ড, আলী রেজা খান ঢাকায় আছেন এখন। ওসমানী মিলনায়তনে চলে এসেন, কথা হবে- সকাল ৯টা।

    1. পোঁচার মুল কারন এটা আমি জানি
      পোঁচার মুল কারন এটা আমি জানি । আসলে একটা এভারেজ হিসাব নিয়ে লিখতে বসেছিলাম । ধন্যবাদ আপনাকে মূল্যব্যান মন্তব্য এর জন্য ।

  6. সুন্দর বন ধ্বংসের প্রধান কারন
    সুন্দর বন ধ্বংসের প্রধান কারন যদিও ধরা হয় জলবায়ুর পরিবর্তন কিন্তু আমি মনে করি বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভুমিকা আরো বেশি।এদের দৌরাত্ম্য নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার মত নয়।গাছ কেটে পাচার, জীবিত হরিণ পাচার, টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়ী শিকারীদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ ইত্যাদি সহ হেন কোন কাজ নেই যা তারা করে না।অন্যদিকে বনটির ক্ষতি সাধনে রামপালের মত সরকারী কিছু প্রজেক্ট তো আছেই ।

    সুন্দরবন আমাদের ঐতিহ্য ।এই বনটি রক্ষার্থে আমাদেরই এগিয়ে আসা উচিৎ ।

    দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।সাথে সাম্রতিক তথ্যগুলো সংযোজন করার অনুরোধ থাকল ।

    1. একতরফা ভাবে বন কর্মকর্তাদের
      একতরফা ভাবে বন কর্মকর্তাদের ধুয়ে লাভ নেই। প্রকৃতি নিয়ে কাজ করার সুবাদে অনেক অনেক সাধু ভালমানুষ বন কর্মকর্তার পরিচয় পেয়েছি। বাঘ গণনার সময় ছাতাচোর, তেলচোর,বন কর্মকর্তাদেরও দেখেছি। সমস্যা হল আমাদের নীতি নির্ধারকদের, বন রক্ষা করত হয় প্রকৃতিপ্রেমিকদের দিয়ে- বিশ্বব্যাঙ্ক বা আই্এমএফ এর ঋণের টাকায় সামাজিক বনায়ন নামের অঅগ্রাসী প্রজাতির গাছ দিয়ে নয়।
      আমাদের সমস্যা নীতি নির্ধারণে- সেটা হোক সো কল্ড বাগান- বনায়ন বা বনের মধ্যে উডলট তৈরি করা।

      1. আমাদের সমস্যা নীতি নির্ধারণে-

        আমাদের সমস্যা নীতি নির্ধারণে- সেটা হোক সো কল্ড বাগান- বনায়ন বা বনের মধ্যে উডলট তৈরি করা।

        সহমত ।

  7. সময়োপযোগী পোস্ট নিয়ে কাম
    সময়োপযোগী পোস্ট নিয়ে কাম ব্যাকের জন্য :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. প্রশাসন এড়িয়ে যাচ্ছে নাহ ,
      প্রশাসন এড়িয়ে যাচ্ছে নাহ , নিজেদের আখের গোছাতে বেস্ত তাই সুন্দরবন এর দিকে নজর দেওয়ার সময় তাদের নেই ।

  8. কমিটি সুন্দরবনের পাশে রামপালে

    কমিটি সুন্দরবনের পাশে রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকারক অন্যান্য কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আন্দোলন করবে।

    আন্দোলন করবে , ভালো কথা। কিন্তু এই আন্দোলনের ফল যে খুব আশানুরূপ হবে তা কিন্তু মনে হচ্ছে না।
    রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবন ধ্বংস হবে এ একজন কানা খোঁড়াও বুঝে। কিন্তু সরকার বুঝে না। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের জন্য বা অন্য জায়গায় করার জন্য বৃহৎ আন্দোলনের প্রয়োজন। যা সরকারকে সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য করে। যেমন ভাবে আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর ,রান ওয়ে নির্মাণ বন্ধ করা হয়েছিলো।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এখন সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ। এই খারাপ পরিবেশে জনগন বৃহৎ আন্দোলনে যাবে বলে মনে হয় না। এখন নির্বাচন নিয়েই সরকারের মাথা খারাপ। সুন্দরবন নিয়ে চিন্তা এরা করবে না।
    হায়… আমারা এমনই জাতি যারা প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্যায়ন করতে পারে না। যে সুন্দরবন আমাদের গর্ব তাকেই ধ্বংস করার কারসাজি চলছে।

    1. কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এখন

      কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এখন সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে এবং রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ। এই খারাপ পরিবেশে জনগন বৃহৎ আন্দোলনে যাবে বলে মনে হয় না। এখন নির্বাচন নিয়েই সরকারের মাথা খারাপ। সুন্দরবন নিয়ে চিন্তা এরা করবে না।

      এটাই তো সমস্যা । কিন্তু বিগত ৫ বছর এও সরকার কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেই নি । মুখের কিছু আওড়ানো মধুর বুলি আর গুটি কয়েক অকেজো কমিটি ছাড়া । আর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হবে নাহ । আর এটা ক্ষতিকর জেনেও নির্বাচন পূর্বে পাবলিক কে হালকা খুশি করার জন্য নতুন কমিটি করেছে । কাজের কাজ কিছুই হবে নাহ ।

  9. সুন্দরবন রক্ষা করতে বন

    সুন্দরবন রক্ষা করতে বন বিভাগের কর্মীদের আরও বেশি আত্মনিয়োগ করতে হবে । পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন সংগঠন এর । কতৃপক্ষের কড়া নজরদারি এবং প্রাণীবৈচিত্র্য ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য রক্ষার্থে এগিয়ে আসতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকে । সর্বোপরি আমাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা পারে বাংলাদেশের গর্ব এই সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবনকে রক্ষা করতে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *